বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিল যুক্তরাষ্ট্র। ফলে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি তার বৃহত্তম দাতা সংস্থা হিসেবে আর কোনো সাহায্য পাবে না।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
এক বছর আগে নিজের দেশকে সংস্থাটি থেকে প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনা মহামারির সময় সংস্থাটিকে খুব বেশি ‘চীন-ঘেঁষা’ বলে সমালোচনা করেছিলেন তিনি।
মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, মহামারির সময়ের ‘ভুল ব্যবস্থাপনা’, সংস্কারে অক্ষমতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডব্লিউএইচও এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, এই প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য ক্ষতি।
সংস্থাটি পোলিও, এইচআইভি, মাতৃমৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে ডব্লিউএইচও সদস্য রাষ্ট্রগুলো ভবিষ্যতের মহামারি প্রতিরোধ, প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে একটি আন্তর্জাতিক মহামারি চুক্তি তৈরির জন্য কাজ করেছে, যার মধ্যে ভ্যাকসিন এবং ওষুধ আরও ন্যায্যভাবে ভাগাভাগি করা অন্তর্ভুক্ত। গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ডব্লিউএইচও’র সব সদস্য রাষ্ট্র এই চুক্তিতে সম্মত হয়।
ঐতিহ্যগতভাবে ডব্লিউএইচও’র অন্যতম বৃহৎ দাতা যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেনি। এর ফলে সংস্থাটিতে ইতোমধ্যেই বিশাল কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। যদিও ডব্লিউএইচও’র আইনজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার, তারা এই অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য। তবে ওয়াশিংটন বলছে, বকেয়া পরিশোধ করার কোনো কারণ তারা দেখছে না।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও’কে মার্কিন সরকারের সমস্ত তহবিল বন্ধ করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সংস্থাটির সদর দপ্তর ও বিশ্বব্যাপী কার্যালয়গুলো থেকে মার্কিন কর্মী এবং ঠিকাদারদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও’র সঙ্গে শত শত মার্কিন কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন





