সুখ মূলত অন্তরের অনুভূতি। সুখ চোখে দেখা যায় না। কথায় পরিপূর্ণভাবে বোঝানো যায় না। টাকা-পয়সা দিয়ে কেনা যায় না, দুর্গ বা প্রাচীর দিয়েও ধরে রাখা যায় না। তবে এর স্পষ্ট প্রভাব ও উজ্জ্বল চিহ্ন আছে। মুমিন তা অনুভব করে মনের প্রশান্তি, আত্মার তৃপ্তি, সচ্ছলতা, হৃদয়ের শান্তি ও আনন্দের মাধ্যমে। কোরআনের বেশ কিছু আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সুন্দর জীবনের রহস্য তুলে ধরেছেন। কারণ, ইসলাম দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক দিক ও বস্তুগত উপকরণ উপেক্ষা করে না। ইসলাম বাস্তব জীবন ও এর আনন্দ থেকে বিচ্ছিন্ন ধর্ম নয়।
পৃথিবীর সাজসজ্জা, আনন্দ কোলাহল মানুষকে প্রশান্তি দিতে পারে না। শুধু পৃথিবীর উপকরণ থেকে প্রকৃত সুখ আসে না। প্রকৃত সুখ ও হৃদয়ের শান্তি আল্লাহর প্রতি খাঁটি ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে আসে। পৃথিবীর জীবনকে আখেরাতের ওপর প্রাধান্য দিয়ে সুখী হওয়া যায় না। মনে প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। আল্লাহ বলেন, ‘কেউ ইমান গ্রহণের পর আল্লাহকে অবিশ্বাস করলে এবং কুফরির জন্য তার হৃদয় খুলে দিলে তার ওপর আল্লাহর গজব পতিত হবে। তার জন্য আছে মহা শাস্তি। তবে তার জন্য নয়, যাকে (কুফরির জন্য) বাধ্য করা হয় অথচ তার অন্তর ইমানের ওপর অবিচল থাকে। এটা এজন্য যে, তারা দুনিয়ার জীবনকে আখেরাতের ওপর প্রাধান্য দেয়। আল্লাহ কাফেরদের হিদায়াত করেন না।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১০৬-১০৭)
আয়াতে বোঝানো হয়েছে, তারা শুধু বস্তুগত কারণের ওপর নির্ভর করেছে। জীবনের আসল উদ্দেশ্য ভুলে গেছে। এরপর আল্লাহ নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতার ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে বলেন, ‘আল্লাহ এক জনবসতির দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছেন, যা ছিল নিরাপদ, চিন্তা-ভাবনাহীন। সব জায়গা থেকে সেখানে আসত জীবন ধারণের পর্যাপ্ত উপকরণ। সে জনপদ আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করল। আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের কারণে ক্ষুধা ও ভয়ভীতির বিপদ দিলেন। তাদের কাছে তাদের মধ্য থেকেই রাসুল এসেছিল কিন্তু তারা তাকে মিথ্যা মনে করে প্রত্যাখ্যান করল। তারা সীমালঙ্ঘনে লিপ্ত হওয়ার কারণে শাস্তি পাকড়াও করল।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১১২-১১৩)
জীবনে বৈধ আনন্দ ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে ইসলাম উৎসাহিত করেছে। তবে কখনো সীমানা লঙ্ঘন করা যাবে না। আল্লাহর স্মরণ থেকে অমনোযোগী হওয়া যাবে না। সবসময় তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে। কোরআনে আছে, ‘আল্লাহ তোমাদের হালাল ও পবিত্র যা দিয়েছেন, তা থেকে তোমরা আহার করো। আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, যদি তোমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করো।’(সুরা নাহল, আয়াত : ১১৪)
মুমিনের জীবন তখনই ভারসাম্যপূর্ণ হয়, যখন আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হয়। আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয়। পাশাপাশি আল্লাহর বিধানাবলি মেনে জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ গ্রহণ ও আনন্দ উপভোগ করে।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ঐশী জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের জীবনের সব দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। মানুষকে তার স্রষ্টা ও চিরস্থায়ী আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
মন্তব্য করুন








