রাগ মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। রাগ কমবেশি সবার আছে। কথায় কথায় রাগ করা কিংবা রাগ ধরে রাখা নিন্দনীয় কাজ। এটি নিয়ন্ত্রণে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আছে সওয়াবও।
প্রকৃত বীর কে?
রাগের সময় মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পায়। ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত বহু ঘটনা। এর জন্য পরে আফসোস করতে হয়, কিন্তু লাভ হয় না। তাই যথাসময়ে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাগ নিয়ন্ত্রণকারীই প্রকৃত বীর। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ‘প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই প্রকৃত বীর, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৮৪)
উৎকৃষ্ট-নিকৃষ্ট কে?
মানুষের মধ্যে রাগ থাকা স্বাভাবিক বিষয়। রাগ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে কে উৎকৃষ্ট আর কে নিকৃষ্ট। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শুনে রাখ, মানুষের মধ্যে কেউ তো এমন আছে, যার দেরিতে রাগ আসে আর তাড়াতাড়ি তা প্রশমিত হয়ে যায়, কেউ তো আছে যার ক্রোধ আসেও তাড়াতাড়ি আবার তা প্রশমিতও হয় তাড়াতাড়ি। সুতরাং ওইটার পরিবর্তে এটা। কেউ তো আছে এমন—যার ক্রোধ সঞ্চার হয় তাড়াতাড়ি কিন্তু প্রশমিত হয় দেরিতে। তাদের মধ্যে উত্তম হলো—যার ক্রোধ সঞ্চার হয় দেরিতে প্রশমন হয় তাড়াতাড়ি। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো—যার ক্রোধ সঞ্চার হয় তাড়াতাড়ি কিন্তু প্রশমন হয় দেরিতে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২১৯১)
আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন
রাগ দমনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা পাওয়া যায়। কোরআনে আছে, ‘যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা নিজের রাগ হজম করতে ও মানুষকে ক্ষমা করতে অভ্যস্ত। আল্লাহ এমন পুন্যবানদের ভালোবাসেন। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
রাগ নিয়ন্ত্রণ সর্বোত্তম কাজ
রাগ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি সামগ্রিক কল্যাণ লাভের সুযোগ পায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার রাগ সংবরণে যে মহান প্রতিদান রয়েছে, তা অন্য কিছু সংবরণে নেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৮৯)
জান্নাতি হুর লাভের উপায়
রাগ দমনের অন্যতম পুরস্কার জান্নাতের অপূর্ব অনিন্দ্য সুন্দরী নারী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে রাগ সংবরণ করে, অথচ সে কাজ করতে সক্ষম। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সবার সামনে ডেকে বলবেন, তুমি যে হুরকে (জান্নাতি নারী) চাও, পছন্দ করে নিয়ে যাও।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭০২)
রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায়
রাগ দমনের বেশ কিছু উপায় বা কৌশলের কথা বলেছে ইসলাম। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও কিছু কার্যকর পদ্ধতির বিবরণ পাওয়া যায়। এখানে হাদিসে বর্ণিত রাগ নিয়ন্ত্রণের তিনটি কার্যকরী উপায় উল্লেখ করা হলো—
আউজুবিল্লাহ পাঠ করা
সুলাইমান ইবনে সুরাদ (রা.) বলেন, ‘একবার দুই ব্যক্তি নবী (সা.)-এর সামনে পরস্পর গালাগালি করছিল। তাদের একজনের চোখ লাল হয়ে যায়। গলার রগ ফুলে ওঠে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি এমন একটা দোয়া জানি, যদি কেউ রাগের সময় তা পাঠ করে, তবে তার রাগ চলে যায়। তা হলো—
বাংলা উচ্চারণ : আউজুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির রাজিম।
বাংলা অর্থ : আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাই।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭০৬)
অজু করা
আবু ওয়ায়েল কাস (রা.) বলেন, ‘একবার আমরা উরওয়া ইবনে মুহাম্মাদ সাদি (রা.)-এর কাছে যাই। সে সময় তার সঙ্গে কোনো এক ব্যক্তি এরূপ কথা বলে, যাতে তিনি রাগান্বিত হন। তখন তিনি উঠে গিয়ে অজু করেন। বললেন, আমার বাবা আমার দাদা আতিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, শয়তানের কারণে রাগের সৃষ্টি হয়। শয়তানকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। পানি দিয়েই আগুন নির্বাপিত হয়। কাজেই তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হয়, তখন সে যেন অজু করে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭০৯)
জায়গা পরিবর্তন করা
আবু জার (রা.) বলেন, ‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের বললেন, যদি তোমাদের কেউ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাগান্বিত হয়, তবে সে যেন বসে পড়ে। যদি এতে রাগ চলে যায় তবে ভালো, নয়তো সে শুয়ে পড়বে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭০৭)
মন্তব্য করুন








