দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র রমজান মাস। আর কদিন পর আকাশে উঠবে রমজানের বাঁকা চাঁদ। রমজান মাস গুনাহ মাফের মাস। আল্লাহকে কাছে পাওয়ার মাস। তাকওয়া অর্জনের শুভক্ষণ। ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সাহরি থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরতির মাধ্যমে রোজা পালন করেন।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা রাখা শুরু হয়। জোতির্বিদ্যা অনুযায়ী, এ বছরের রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)। বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময়ের পার্থক্য দেখা দেয়। এতে রোজা রাখার সময়ও কমবেশি হয়।
দেশে দেশে রোজার সময় ভিন্ন হয় কেন?
এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের রোজার সময় মেলে না। রোজার সময় নির্ভর করে ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন দেশে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময়ের পার্থক্য দেখা যায়। তাই রোজা রাখার সময়ও কমবেশি হয়। যেসব দেশের অবস্থান বিষুবরেখার কাছে, সেসব দেশে অল্প সময় রোজা রাখতে হয়। অপরদিকে উত্তর এবং দক্ষিণ অক্ষাংশে ঋতুর ওপর নির্ভর করে রোজা রাখার সময় বাড়তে পারে। অতিক্রম করতে পারে ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত।
আরব দেশে রোজার সময়
এ বছরের রমজান বসন্ত বিষুবের আগেই শুরু হয়েছে। তাই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে মাসের শুরুতে দিন তুলনামূলক ছোট থাকবে। শেষের দিকে ধীরে ধীরে বড় হবে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার মধ্যেই রোজার সময় সীমাবদ্ধ থাকবে। মিসরে রোজার সময় শুরুতে ১২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট হবে। মাসের শেষের দিকে হবে ১৩ ঘণ্টার কাছাকাছি। লেভান্ট অঞ্চল ও ইরাকেও প্রায় একই ধারা থাকবে। উত্তর আফ্রিকার মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ায় সূর্যাস্তের সময় ও দ্রাঘিমার কারণে সামান্য পার্থক্য দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে সময়ের পরিসর একই থাকবে।
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার রোজার সময়
আরব বিশ্বের তুলনায় রোজার সময় তুলনামূলক বেশি হবে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চলে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রমজানের শুরুতে রোজার সময় হবে প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টা। মার্চের শুরুতে তা ১৩ ঘণ্টা বা তার সামান্য বেশি হতে পারে। অন্যদিকে সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনে রোজার সময়সীমা একই রকম থাকবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে আগের রমজানে রোজার সময় ১৬ ঘণ্টারও বেশি হয়েছে। এমন এলাকায় মুসলমানরা সাধারণত নিকটবর্তী মধ্যম দেশ বা মক্কার সময়সূচি অনুসরণ করেন।
যেসব দেশে সূর্যাস্ত হয় না সেসব দেশে রোজা
ইসলামিক স্কলারদের মতে, গ্রিনল্যান্ড এবং আলাস্কার মতো যেসব দেশে সূর্য কখনো অস্ত যায় না, এসব দেশের মুসলমানরা মক্কা ও সৌদি আরবের সময় অনুপাতে রোজা রাখবে।
মন্তব্য করুন








