ইবাদতের জন্য দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা হলো অজু। অজু ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এতে সওয়াব পাওয়া যায়। নামাজের আগে অজু করা বাধ্যতামূলক। নামাজ ছাড়াও অনেক ইবাদতের জন্য অজু করতে হয়। যেমন হজ ও কোরআন স্পর্শ করতে অজুর প্রয়োজন হয়। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা মাসেহ করবে আর পা টাখনু (গ্রন্থি) পর্যন্ত ধৌত করবে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৬)
অজুর শুরুতে ও অজুর সময়ে প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় প্রচলিত কিছু দোয়া আছে। এগুলো পড়া আবশ্যকীয় নয়। তবে পড়লে সওয়াব হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিরা পড়েছেন।
অজুর আগের দোয়া
অজুর শুরুতে بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْم বলা মুস্তাহাব।
বাংলা উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
বাংলা অর্থ : পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি।
শুধু ‘বিসমিল্লাহ’ বললেও চলবে। শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে ভুলে গেলে মাঝখানে পড়ে নেবে। অজুর শেষে মনে হলে পড়তে হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলবে না, তার অজু পরিপূর্ণ হবে না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৫)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) অজুর শুরুতে এই দোয়া পড়তে বলেছেন—
বাংলা উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল আজিমি, ওয়াল হামদু লিল্লাহি আলাল ইসলামি।
বাংলা অর্থ : মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে ইসলামের ওপর রেখেছেন।
অজুর সময়ের দোয়া
অজু করার সময় এ দোয়াটি পড়তে থাকা—
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগ ফিরলি জামবি, ওয়া ওয়াসসিলি ফি দারি, ওয়া বারিক লি ফি রিজকি।
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমার গুনাহ মাফ করে দাও। আমার জন্য আমার বাসস্থান প্রশস্ত করে দাও। এবং আমার রিজিকে বরকত দিয়ে দাও। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৯৯০৮)
অজু শেষের দোয়া
অজু শেষে কালেমায়ে শাহাদাত পড়া উত্তম। এটি পড়লে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে, সেটা দিয়ে সে প্রবেশ করতে পারবে। শাহাদাতটি হলো—
বাংলা উচ্চারণ : ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
বাংলা অর্থ : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ, আপনি আমাকে তওবাকারী এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৯৯১২)
মন্তব্য করুন








