মুসলমান ভাই ভাই। সে সবসময় তার ভাইয়ের কল্যাণ চাইবে। বিপদে এগিয়ে আসবে। শত্রুর হাত থেকে বাঁচাবে। সহযোগিতা করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করতে পারে না, তাকে অপমানিত করতে এবং শত্রুর হাতে তুলে দিতে পারে না। আর যে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন। যে (দুনিয়াতে) কোনো মুসলমানের একটি বিপদ ও দুশ্চিন্তা দূর করে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার বিপদ ও দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪২)
ভালো কাজে সুপারিশ করা সওয়াব
অনেক ভালো কাজ সুপারিশের কারণে আটকে থাকে। সুপারিশ করলে দ্রুতই সে কাজ সমাধান হয়ে যায়। মানুষকে ভালো কাজে সহযোগিতা করা সওয়াবের কাজ। ভালো কাজে অন্যের জন্য সুপারিশ করা মহৎ কাজ। ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো কাজের জন্য সুপারিশ করা সুন্নত এবং কখনো তা ওয়াজিবও হতে পারে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কেউ ভালো কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে। কেউ মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে। আল্লাহ সব বিষয়ে নজর রাখেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৮৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন মুমিনের জন্য ভবনের মতো, যার একাংশ অপর অংশকে সুদৃঢ় করে। এরপর তিনি (হাতের) আঙুলগুলো (অপর হাতের) আঙুলগুলোর (ফাঁকে) ঢুকালেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি কিছু প্রশ্ন করার জন্য অথবা কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য এলো। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন, তোমরা তার জন্য (কিছু দেওয়ার) সুপারিশ করো। এতে তোমরা সওয়াব পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৮০)
অন্যায় কাজে সুপারিশ করা গুনাহ
অন্যায় কাজে সুপারিশ করা যাবে না। অন্যায় কাজে সুপারিশ করলে গুনাহ হয়। এতে যোগ্য ব্যক্তি বঞ্চিত হয়। সেবাগ্রহীতা সাধারণ মানুষ যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। সমাজে অন্যায়-অবিচার বেড়ে যায়। মানুষের জীবন, সম্পদ ও অধিকার নষ্ট হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এক নারীর ব্যাপারে চুরির প্রমাণ সত্য হয়। ওই নারীর গোত্রের লোকেরা তার কাছে শাস্তি মওকুফের সুপারিশ নিয়ে এলে তিনি বলেন, ‘তোমাদের আগের লোকেরা ধ্বংস হয়েছে এ জন্য যে, তাদের কোনো ধনী লোক চুরি করত, তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন কোনো দুর্বল লোক চুরি করত, তারা তার ওপর হদ বা দণ্ড বাস্তবায়ন করত। আল্লাহর কসম, যদি ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদও চুরি করত, তাহলে আমি তার হাতও কাটার নির্দেশ দিতাম।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৪৯০১)
অর্থের বিনিময়ে সুপারিশ করা পাপ
অনেকে আছেন, অর্থের বিনিময়ে সুপারিশ করেন। অর্থের বিনিময়ে সুপারিশ করা যাবে না। চাই সেটা ভালো কাজে হোক বা মন্দ কাজে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের জন্য কোনো বিষয়ে সুপারিশ করার কারণে যদি সে তাকে কিছু উপহার দেয় এবং সে তা গ্রহণ করে, তাহলে সে সুদের এক বড় দরজা দিয়ে প্রবেশ করল।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৪১)
ইসলামে সুদ হারাম। সুদের রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। কোরআনে আছে, ‘যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির মতো হয়ে উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে উদ্ভ্রান্ত করে দিয়েছে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৫)
অর্থের বিনিময়ে সুপারিশ করা ঘুষ। ঘুষখোরের শাস্তি জাহান্নাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুষদাতা ও গ্রহীতাকে অভিসম্পাত করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৩৫৮০)
অনেকে নাম বদল করে ঘুষকে হালকাভাবে দেখতে চান। কিন্তু ঘুষ ঘুষই—যে নামেই ডাকা হোক না কেন। আবু হুমায়দ সাইদ (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) আজদ গোত্রের ইবনে উতবিয়া নামের এক লোককে সদকা সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, ‘এগুলো আপনাদের আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে।’ নবীজি বললেন, ‘সে তার বাবা-মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না। তখন সে দেখত পেত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয় কি দেয় না?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৯৭)
মন্তব্য করুন








