পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন, চমৎকার স্থাপত্য এবং বৃহৎ আয়তনের বহু মসজিদ। এগুলো নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও আগ্রহের শেষ নেই। এখানে ১০ দেশের সেরা ১০ মসজিদের কথা তুলে ধরা হলো—
মসজিদ আল-হারাম, সৌদি আরব
পৃথিবীর প্রথম ঘর ও প্রথম মসজিদ হলো মসজিদুল হারাম। সৌদি আরবের মক্কায় এর অবস্থান। এটি মুসলমানদের প্রাণকেন্দ্র। মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। মসজিদের বর্তমান কাঠামো প্রায় ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ বর্গমিটার (৮৮.২ একর)। একসঙ্গে ১০ লাখ মানুষ নামাজ পড়তে পারেন এখানে। প্রতিবছর এখানে হজ ও উমরা পালনে অসংখ্য মুসলিম আসেন। এই মসজিদে আছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—হাজরে আসওয়াদ, মাকামে ইবরাহিম, জমজম কূপ ও সাফা-মারওয়া পাহাড়।
বাংলাদেশের জাতীয় মসিজদ বায়তুল মোকররম ঢাকার প্রাণকেন্দ্র পল্টনে অবস্থিত। পাকিস্তান আমলে ঢাকার বড় শিল্প উদ্যোক্তা বাওয়ানি পরিবারের পক্ষ থেকে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। প্রায় সাড়ে আট একর জমির ওপর নির্মিত এটি। মসজিদের প্রবেশদ্বার রয়েছে বেশ কয়েকটি। মসজিদের মূল ভবনটি আটতলা, যা মাটি থেকে ৯৯ ফুট উঁচু। এর নিচতলায় মার্কেট এবং গুদামঘর রয়েছে। তিনতলার উত্তরপাশে নারীদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা আছে। মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার লোক নামাজ পড়তে পারেন।
আয়া সুফিয়া মসজিদ, তুরস্ক
তুরস্কের ইস্তানবুলের বসফরাস প্রণালীর পাশে অবস্থিত আয়া সোফিয়া মসজিদ। ১৬০০ বছরের পুরোনো এটি। শাসকের সেন্টার, গির্জা থেকে শুরু করে জাদুঘর আর মসজিদ হিসেবে কালে কালে সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এটি। ৫৫ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন এই মসজিদ ৭৩ মিটার প্রশস্ত। আছে বেশ কয়েকটি গম্বুজ। গম্বুজগুলো নকশা করা। রয়েছে কোরআনের আয়াতও। বিশাল গম্বুজের দেয়ালে সামনের অংশে লাগানো আছে আল্লাহ ও মুহাম্মাদ লেখা দুটি বোর্ড। এর নির্মাণশৈলী এখনো দর্শকদের মুগ্ধ করে। এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ইউনেস্কো থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে।
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, ইউনাইটেড আরব আমিরাত
শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদের অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে। এটি আমিরাতের সর্ববৃহৎ মসজিদ। ১৯৯৬ সালে এর কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০০৭ সালে। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪২০ মিটার, প্রস্থ ২৯০ মিটার। ৭ আকারের ৮২টি গম্বুজ ও ১০৭ মিটার উঁচু চারটি মিনার আছে। বৃহত্তম গম্বুজের উচ্চতা ২৭৯ ফুট। মেঝেতে রয়েছে চোখধাঁধানো মার্বেল মোজাইকের কারুকাজ। এর খুঁটি, দেয়াল, মেঝে, সিলিংসহ অভ্যন্তরীণ কারুকাজে ইউরো, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা সোনা, মার্বেলসহ মূল্যবান পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে ৪০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। নারীদের জন্য রয়েছে নামাজের আলাদা ব্যবস্থা। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে রয়েছে এর নাম।
ক্রিস্টাল মসজিদ, মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার তেরেনগানু এলাকায় ‘পোলা ও ওয়ান ম্যান’ দ্বীপে ক্রিস্টাল মসজিদ অবস্থিত। ২০০৬ সালে মালয়েশিয়ার রাজার আদেশে এ মসজিদের কাজ শুরু হয়, শেষ হয় ২০০৮ সালে। মূল্যবান ক্রিস্টাল আর সঙ্গে স্বচ্ছ কাচ ও স্টিলের দণ্ড দিয়ে বানানো হয়েছে মসজিদটি। মসজিদটির কিছু অংশ সমুদ্রে আর কিছু অংশ স্থলে হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে এক অনিন্দ্য সুন্দর পরিবেশ। মসজিদের চারপাশে চারটি মিনার আছে। ১ হাজার ৫০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন।
আন-নুর গ্রেট মসজিদ, ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার রিআউ প্রদেশের রাজধানী পেকানবারুতে অবস্থিত আন-নুর গ্রেট মসজিদ। ১৯৬৮ সালে এর কাজ সমাপ্ত হয়। মসজিদটির নির্মাণশৈলী ভারতের তাজমহল, মালয়, তুর্কি ও আরবীয় স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মসজিদটি তিনতলা বিশিষ্ট। শীর্ষ তলাটি নামাজের জন্য, নিচতলা দুটি অফিস ও সভাকক্ষের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে আছে প্রাথমিক ও হাইস্কুল বিদ্যালয় এবং গ্রন্থাগার।
ইসলামিক সেন্টার অব আমেরিকা, মিশিগান
ইসলামিক সেন্টার অব আমেরিকার অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে। এটিকে উত্তর আমেরিকার বৃহত্তম মসজিদ বলা হয়। ২০০৫ সালে এর উদ্বোধন করা হয়। ডেভিড ডনেলন এর স্থপতি। এতে চারটি গম্বুজ ও দুটি মিনার রয়েছে। ইমাম মোহাম্মদ জাওয়াদ সিরির উদ্যোগে এটি নির্মাণ করা হয়। এর নির্মাণ ব্যয় ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একসঙ্গে তিন হাজারের বেশি মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন।
কুল শরিফ মসজিদ, রাশিয়া
তাতারিস্তানের কাজানে আছে মুসলমানদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ কুল শরিফ মসিজদ। ভলগা নদীর তীরে এর অবস্থান। খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত, এর আয়তন ১৯ হাজার বর্গমিটার। এর চারপাশ দেয়ালঘেরা। বেশ উঁচুতে হওয়ায় সিড়িঁ ভেঙে মসজিদের ভেতরে যেতে হয়।
মসজিদটির কেন্দ্রীয় গম্বুজের উচ্চতা ৩৯ মিটার। বড় চারটি মিনারের উচ্চতা ৫৭ মিটার করে। শুধু জোহর ও আসর নামাজ পড়া হয় এখানে। মসজিদের ভেতরে ৫ হাজার ও প্রাঙ্গণে ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।
দিল্লি জামে মসজিদ, ভারত
মোগল বাদশাহ শাহজাহান নির্মাণ করেন দিল্লি জামে মসজিদ। ১৬৫০ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়, শেষ হয় ১৯৫৬ সালে। লাল বেলে পাথর আর সাদা মার্বেল দিয়ে তৈরি করা হয় এটি। মসজিদটির তিনটি প্রকাণ্ড দরজা আছে; উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকে। রয়েছে দুটি বিশাল মিনার। এর ভেতরে ৮৫ হাজার ও চত্বরে ২৫ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন।
বাদশাহী মসজিদ, পাকিস্তান
বাদশাহী মসজিদ নির্মাণ করেন মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব। ১৬৭১-১৬৭৩ সালের মধ্যে পাকিস্তানের লাহোরে নির্মাণ করা হয়। মসজিদটির আয়তন প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার স্কয়ার ফুট। সিঁড়ির ২২টি ধাপ পেরিয়ে মূল ফটকে পৌঁছাতে হয়। বর্গাকৃতির মসজিদটির প্রতিটি পাশের দৈর্ঘ্য ১৭০ মিটার। মসজিদের মূল চত্বরের ওপরিভাগে আছে তিনটি বিশাল গম্বুজ। মাঝখানের গম্বুজটি তুলনামূলক বড়। বড় গম্বুজটির ব্যাস প্রায় ১০ মিটার এবং ছোট দুটির ব্যাস প্রায় সাড়ে ছয় মিটার করে। গম্বুজগুলোর শীর্ষদেশে শ্বেতপাথর দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পদ্মফুল। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে লাইব্রেরি। ১ লাখ মুসল্লি এখানে নামাজ পড়তে পারেন।
মন্তব্য করুন








