বিষণ্নতাও একটি মানসিক অবস্থা। মন তো আর সবসময় একরকম থাকে না। এই ভালো তো এই খারাপ। সবারই কমবেশি মন খারাপ হয়। জীবনের তাগিদে সময়ের বাস্তবতায় সেগুলোও ভুলে যেতে হয় আমাদের। কিন্তু অনেকেই আছেন, মন খারাপ হলে সহজে সেখান থেকে বের হতে পারেন না। দীর্ঘসময় মন খারাপ নিয়ে পড়ে থাকেন। এই মন খারাপ ক্রমশই বাড়তে থাকে। বিষণ্নতা ভয়াল আকার ধারণ করে। কেউ কেউ আত্মহত্যার মতো জঘন্যতম সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেন।
পার্থিব জীবনে বিষণ্নতা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কোরআন-হাদিসের সঠিক চর্চা, পরকালের চিন্তা ও আল্লাহর ভয় না থাকার কারণে বিষণ্নতা আমাদের ওপর জেঁকে বসে। কিন্তু আল্লাহর ওপর ভরসা করলে আমাদেরকে বিষণ্নতা গ্রাস করতে পারবে না। স্পর্শ করতে পারবে না হতাশা। আল্লাহ বলেন, ‘যে কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ নিজের কাজ সম্পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য করেছেন একটা সুনির্দিষ্ট মাত্রা।’ (সুরা তালাক, আয়াত : ৩)
জীবনে দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ আসবেই। হতাশ হওয়া যাবে না। হাল ছাড়া যাবে না। ভরসা করতে হবে আল্লাহর ওপর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। যে আল্লাহকে বিশ্বাস করে তিনি তার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ সব বিষয়ে সম্যক অবহিত।’ (সুরা তাগাবুন, আয়াত : ১১)
দুঃখ বা বিপদ হলো আল্লাহর পরীক্ষা। এ সময় ধৈর্য ধরতে হবে। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই যারা বিপদকালে বলে থাকে, আমরা আল্লাহরই আর আমরা তারই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৬)
যেকোনো বিপদ-আপদে আমাদের ফিরে যেতে হবে আল্লাহর দিকে। তার কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হবে। তিনিই আমাদের প্রকৃত উদ্ধারকারী। তিনিই আমাদের শান্তি দানকারী। সুতরাং অযথাই বিষণ্নতাবোধ করা, হাতাশ হওয়া ও ডিপ্রেশনে ভোগার কারণ নেই।
হতাশায় পড়লে যা করবেন
বিষণ্নতা, মনখারাপ ও হতাশায় পড়লে বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। তার কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরের সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়।’ (সুরা রাদ, আয়াত : ২৮)। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তোমরা নামাজ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সেসব বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৫)
বিপদে নামাজ আদায়
রাসুলুল্লাহ (সা.)ও কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাজ আদায় করতেন। সাহাবিরাও এ আমলে অভ্যস্ত ছিলেন। ছোট থেকে ছোট কোনো বিষয়ের জন্যও তারা নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন।
হতাশায় যে দোয়া পড়বেন
হতাশা ও বিপদে কী দোয়া পড়তে হবে, নবীজি (সা.) আমাদের তা শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দোয়া হলো—
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাহমাতাকা আরজু, ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আইনি, ওয়া আসলিহ লি শানি কুল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, ওয়া বাজুম য়াজিদু আলা সাহিবিহি।’
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার রহমত প্রার্থী। কাজেই আমাকে এক পলকের জন্যও আমার নিজের কাছে সোপর্দ করবেন না এবং আমার সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে দিন। আর আপনিই একমাত্র উপাসক।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯০)
মন্তব্য করুন








