মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসে পবিত্র মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম ঘিরে পৃথিবীতে অনেক আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছে। যা জাতিকে বিমোহিত করেছে। আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তৎকালীন আরবে। এখানে সাতটি ঘটনা উল্লেখ করা হলো—
এক. নবীজির (সা.) জন্মের আগে বেশ কয়েক বছর ধরে আরবে দুর্ভিক্ষ চলছিল। তার জন্মের বছর আরবের সেই দুর্ভিক্ষ কেটে যায়। (আস-সিরাতুল হালাবিয়া, ১/৭৮)
দুই. নবীজির (সা.) জন্মের ৪০ থেকে ৫০ দিন আগে আবরাহার হস্তী বাহিনীর ধ্বংসের ঘটনা ঘটে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ক্ষুদ্র কিছু পাখির মাধ্যমে বিনাশ করে দেন। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৩২৪)
তিন. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের সময় পারস্যের কিসরার রাজপ্রাসাদে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। এতে রাজপ্রাসাদের ১৪টি গম্বুজ ভেঙে যায়। পারস্যের অগ্নিকুণ্ড—যা হাজার বছর ধরে জ্বলছিল, নিভে যায়। (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৩২৮)
চার. নবীজির (সা.) মা আমেনা বিনতে ওয়াহাব বলেছেন, ‘মুহাম্মদ আমার গর্ভে আসার পর থেকে প্রসব পর্যন্ত আমি কোনো কষ্ট অনুভব করিনি। প্রসবের সময় তার সঙ্গে একটি আলো বের হয়, যা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সব আলোকিত করে তোলে। আমার গর্ভ থেকে বের হওয়াকালে সে মাটিতে হাত দেয়। এরপর এক মুঠো মাটি নিয়ে আসমানের দিকে উঁচু করে।’ (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২/৩২৩)
পাঁচ. ফাতেমা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের মুহূর্তে আমি আমেনার কাছে ছিলাম। দেখলাম, আমেনার ঘরটি আলোয় আলোকিত হয়ে গেল। আকাশের তারকা নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ল। আমার মনে হতে লাগল, তারকাগুলো যেন আমার ওপর এসে পড়বে।’ (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২/৩২২)
ছয়. মুআবিয়া ইবনে সালিহ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মানিত মা তার জন্মক্ষণে এক নুর বা আলো দেখেন, যা দিয়ে সিরিয়া এলাকার প্রাসাদগুলো উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।’ (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৩৭৫)
সাত. আয়েশা (রা.) বলেন, ‘নবীজি (সা.)-এর জন্মের সময় এক ইহুদি মক্কায় ব্যবসা করত। সে মক্কায় থাকত। যে রাতে নবী পৃথিবীতে আগমন করেন, সে রাত-পরবর্তী সকালে সে কুরাইশদের কাছে জিজ্ঞেস করল, গত রাতে এ এলাকায় কোনো শিশুর জন্ম হয়েছে? তারা বলল, এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। লোকটি বলল, তোমরা সন্ধান করো। এ রাতে বর্তমান উম্মতের নবীর জন্ম হয়েছে। তার কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে একটি বিশেষ নিদর্শন (মোহরে নবুয়ত) রয়েছে। কুরাইশের লোকেরা খবর নিয়ে জানতে পারল, আবদুল মুত্তালিবের প্রিয় ছেলে আব্দুল্লাহর এক ছেলে হয়েছে। খবর পেয়ে ইহুদি দেখতে এলো। শিশু মুহাম্মদের দুই কাঁধের মাঝে মোহরে নবুয়তের নিদর্শন দেখে ইহুদি অজ্ঞান হয়ে গেল। জ্ঞান ফিরে আসার পর সে বলল, বনি ইসরায়েলে নবী আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। হে কুরাইশ সম্প্রদায়, ভবিষ্যতে এই শিশু তোমাদের প্রতি এমন এক আক্রমণ পরিচালনা করবে, যার সংবাদ পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।’ (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২/৩২৬)
মন্তব্য করুন








