ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ

এশিয়া পোস্ট নিউজ

  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০০
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি রয়েছে কি না— এই প্রশ্নে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল নির্বাচন কমিশন গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৬ ধারার (৩) উপধারা অনুসারে এতদ্বারা প্রকাশ করেছে।

গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ভোট দিয়েছেন সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন (৬৮.৫৯ শতাংশ)। বাকি ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন (৩১.৪১ শতাংশ) ‘না’ ভোট দিয়েছেন।

জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য এই গণভোটের আয়োজন করা হয়।

এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

গেজেটে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর-১৫৫) এর অনুচ্ছেদ ৩৯ এর দফা (৪) অনুসারে নির্বাচনি এলাকাসমূহ থেকে জাতীয় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম, পিতা/স্বামীর নাম, মাতার নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতা ও প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, গণঅধিকার পরিষদ একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে কাস্ট হওয়া ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

মন্তব্য করুন

জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করল বিএনপি: সারজিস
জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করল বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সারজিস আলম ওই পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সাথে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হলো!’   এদিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনও এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।    
জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি করল বিএনপি: সারজিস
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি, নেপথ্যে যেসব কারণ 
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এর কারণ ব্যাখা করেন। তিনি বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনও এটা ধারণ করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে। এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন সেটার বিধান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এমন ফরম সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে। আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলেছি। আশা করি সামনের দিনেও চলবো। সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওনার উপস্থিতিতে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানালাম।’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি, নেপথ্যে যেসব কারণ 
শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা
প্রথম ধাপে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন।  মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।  সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা প্রথমে শপথ নেন। কিছুক্ষণের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ অন্য দল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এদিকে, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি বিএনপি। এ নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।  জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানান, বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা
সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজিবি জানায়, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়াতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেক রোড এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।  শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন দেশি-বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি রয়েছেন।  
সংসদ ভবন এলাকায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
সংসদ ভবনে আসছেন নবনির্বাচিত এমপিরা
শপথ নিতে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে সংসদ ভবনের গেটে নবনির্বাচিত এমপিদের গাড়ি প্রবেশ করতে দেখা গেছে।  শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংসদ ও তার চারপাশের ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখা গেছে। যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া সংসদ ভবনের আশপাশে যান চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক স্মারকপত্র থেকে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথগ্রহণ কক্ষে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথগ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথপাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথপাঠ করাবেন। এদিকে বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকবেন। আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। এ ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রারও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
সংসদ ভবনে আসছেন নবনির্বাচিত এমপিরা
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ আজ
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক স্মারক পত্র থেকে জানা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথগ্রহণ কক্ষে পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথগ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। এদিকে বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকবেন। আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। এ ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রারও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দলভিত্তিক হিসেবে—বিএনপি ২০৯টি আসনে, জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, বিজেপি, খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ আজ
নাটোরে বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০
নাটোরের লালপুরে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।  শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ওয়ালিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থকেরা বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের দুই কর্মীকে মারধর করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির শতাধিক সমর্থক ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপুর অন্তত আটজন সমর্থক আহত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ কর্মীরা টিপুর দুই সমর্থককে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরুদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান এশিয়া পোস্টকে জানান, নির্বাচনি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি থেকে ঘটনার সূত্রপাত। প্রথমে পুতুল গ্রুপের দুই সমর্থককে মারধর করা হয়। যার জেরে পরবর্তীতে সংঘর্ষ বাধে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাটোরে বিএনপি-স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০
কক্সবাজারে জামানত হারালেন ১০ প্রার্থী, বেশি হাতপাখা প্রতীকের
সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হওয়া ১০ জন প্রার্থী কাস্টিং ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট পাননি। এর মধ্যে বেশি প্রার্থী রয়েছে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। কক্সবাজারে চারটি আসনে এ রকম ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন।’ এর আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ১৩ ডিসেম্বর ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, কাস্টিং ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট কোনো সংসদ সদস্য প্রার্থী না পেলে উক্ত প্রার্থী জামানত ফিরে পাবে না। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। অন্যথায় জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়। এ অর্থ নগদ, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ইসির অনুকূলে জমা দেন প্রার্থীরা। জেলা রিটার্নিং অফিসারের ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জামানত হারানো ১০ জন প্রার্থী ও তাদের প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। এর মধ্যে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সরোয়ার আলম কুতুবী পেয়েছেন ভোট ৪,৫২৮ ভোট। এ আসনে বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামানত হারিয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউল হক পেয়েছেন ৮,৭৯৯ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কার প্রার্থী এস এম রুকুনুজ্জামান খান পেয়েছেন মাত্র ১৫৭ ভোট। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল করিম পেয়েছেন ৯,৭৫৭ ভোট। অথচ, এ আসনে বিজয়ী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। কক্সবাজার-সদর-রামু-ঈদগাঁও আসন থেকে জামানত হারিয়েছেন সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থী। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৯ ভোট। লেবার পার্টির প্রার্থী জগদীশ বড়ুয়া আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬০২ ভোট। আমজনতা দলের প্রার্থী নুরুল আবছার প্রজাপতি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ মিয়া ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৪৭ ভোট। এ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪০৭ ভোট। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকের নুরুল হক। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট। এ আসনে জামানত হারানো অপর প্রার্থী হলেন এনডিএম এর সিংহ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩৭৯ ভোট। আসনটিতে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নূর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট।
কক্সবাজারে জামানত হারালেন ১০ প্রার্থী, বেশি হাতপাখা প্রতীকের
হাতিয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তিন সন্তানের জননীকে (৩২) নিজ ঘরে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা একাধিক বাড়িতে হামলা চালায় বলে জানা গেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এ তথ্য জানান ভুক্তভোগী নারী। পরে তাকে ইমার্জেন্সি বিভাগে চিকিৎসা শেষে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।  এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ভুক্তভোগী নারী।  স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার পর আজ শনিবার সকালে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার ঘরের মূল দরজা এবং ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ভুক্তভোগীকে তারা ঘর থেকে টেনে বের করে আনে এবং কটাক্ষ করে শারীরিক নির্যাতন করে। এ সময় তারা আশপাশের বাড়িঘরেও হামলা চালায়। এ বিষয়ে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার কাছে হাতিয়া থেকে ৩২ বছর বয়সি এক নারী রোগী এসেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন (যৌন হয়রানি) করা হয়েছে। আমরা তৎক্ষণাৎ রোগীকে ভর্তি করেছি এবং শারীরিক পরীক্ষার জন্য আমাদের গাইনি বিভাগে পাঠিয়েছি। বাকিটা গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত ফলাফল জানাবেন। ভুক্তভোগী নারী জানান, গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করেন। এদের মধ্যে কালা এমরান নামের একজন এবং অজ্ঞাতনামা আরেকজন দরজায় পাহারায় ছিলেন। তখন রহমান নামের এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। তাকে লাথি মেরে গুরুতর আহত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি বর্তমানে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেন না। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখলেও পরবর্তীতে চিকিৎসা নিতে এসে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।  ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তরা আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সরকার পরিবর্তনের পর এখন বিএনপির পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। এলাকায় এ সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের চাঁদা দিতে হয়। এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন ইমরান এশিয়া পোস্টকে বলেন, এ যুগে এসে ভোট দেওয়া নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।   এ বিষয়ে হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিষয়টি শুনে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে, হাসপাতালেও আমার প্রতিনিধি রয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে। এ বিষয়ে হাতিয়া থেকে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি এ ঘটনাটি সঠিক নয়। এটি একটি সাজানো ঘটনা। এ ঘটনায় নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকে সদ্য বিজয়ী প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ ভুক্তভোগী ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীর সুচিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  হান্নান মাসউদ অভিযোগ করে বলেন, পুরো হাতিয়াতে বিএনপি নেতাকর্মী এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালাচ্ছে। গত চার দিনে প্রায় পাঁচ শতাধিক বাড়িঘরে হামলা করেছে, লুটপাট করেছে। অনেক মহিলাদের নির্যাতন করেছে। তার মধ্যে আজ আমি ধর্ষণের খবর পেলাম। ২নং চানন্দী ইউনিয়নে দুই দুইটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে শুধু শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপরাধে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে হান্নান মাসুদ বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বারবার বলার পরেও প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হাতিয়াতে অতি দ্রুত সেনাবাহিনী মোতায়েন করে অস্ত্র উদ্ধার করা দরকার। আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হামলা করছে। অস্ত্রশস্ত্র, বগি দা (দেশীয় অস্ত্র), গুলি নিয়ে একেবারে ভয়াবহ অবস্থা শুরু হয়েছে হাতিয়াতে। এই তান্ডব থেকে হাতিয়ার মানুষকে রক্ষা করতে হবে। ঘটনা জানার পর হাসপাতালে ছুটে যান নোয়াখালী জামায়াতে ইসলামীর আমির ইসহাক খন্দকার। তিনি বলেন, সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। এর বিচার দেখে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এদিকে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধর্ষণ অভিযোগের এ ঘটনায় আবদুল হান্নান মাসউদকে ভিডিও কল দিয়ে ধর্ষণে ভুক্তভোগীর খোঁজখবর নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি এ ঘটনায় নিজে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের নেবেন বলে আগামী সোমবার হাতিয়ায় যাওয়ার কথা জানান। ভিডিও কলে কথা বলার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের এ ঘটনা তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়ে ভিডিও কলে জামায়াত আমির বলেন, সহ্য হয় না এসব, ফ্যাসিবাদ বিদায় করলাম এগুলো দেখার জন্য। একটা মানুষ নির্বাচনে ভোট দেবে সে যাকে পছন্দ করে তাকে। তাকে অত্যাচার নির্যাতন করা মানুষের কার্যকলাপ হয় না, অন্য প্রাণীরও হয় না এ রকম। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ তাকে এখনই ধরে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাই। এটা ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এ পরিবারের পাশে আছি। এর আগে শনিবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘নোয়াখালীর হাতিয়ায় ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেওয়ায়, তিন সন্তানের এক জননীকে ধর্ষণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা শুনে আমি হতবাক, স্তম্ভিত।’ তিনি লেখেন, ‘অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে বেঁধে ফেলে এবং এনসিপিকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তাকে পাশবিক নির্যাতন চালায়। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার চিকিৎসা চলছে।’ ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির জানান, ‘কিছুক্ষণ আগে ফোনে আমি ভুক্তভোগী নারী এবং তার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বললাম। তাদের এই অসহনীয় যন্ত্রণা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। কোনো ভাষা দিয়ে তাদেরকে সান্ত্বনা দিতে পারিনি। আমার পুরো নির্বাচনি প্রচার জুড়ে আমি কথা দিয়েছিলাম যে— প্রতিহিংসার রাজনীতি আর থাকবে না এবং আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই, এটিই আমাদের ভিত্তি। যা ঘটেছে তা রাজনীতি নয়, এটি চরম ঔদ্ধত্য এবং এখনই এর অবসান হতে হবে। বিশেষভাবে নারীদের নিরাপত্তা সবার আগে।’
হাতিয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ