সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। মনোনয়ন বাজেয়াপ্ত হওয়া ১০ জন প্রার্থী কাস্টিং ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট পাননি। এর মধ্যে বেশি প্রার্থী রয়েছে হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের।
জানতে চাইলে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। কক্সবাজারে চারটি আসনে এ রকম ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন।’
এর আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গত ১৩ ডিসেম্বর ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, কাস্টিং ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট কোনো সংসদ সদস্য প্রার্থী না পেলে উক্ত প্রার্থী জামানত ফিরে পাবে না। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। অন্যথায় জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হবে।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়। এ অর্থ নগদ, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ইসির অনুকূলে জমা দেন প্রার্থীরা।
জেলা রিটার্নিং অফিসারের ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জামানত হারানো ১০ জন প্রার্থী ও তাদের প্রাপ্ত ভোটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। এর মধ্যে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সরোয়ার আলম কুতুবী পেয়েছেন ভোট ৪,৫২৮ ভোট। এ আসনে বিজয়ী ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামানত হারিয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী জিয়াউল হক পেয়েছেন ৮,৭৯৯ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কার প্রার্থী এস এম রুকুনুজ্জামান খান পেয়েছেন মাত্র ১৫৭ ভোট। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল করিম পেয়েছেন ৯,৭৫৭ ভোট।
অথচ, এ আসনে বিজয়ী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট।
কক্সবাজার-সদর-রামু-ঈদগাঁও আসন থেকে জামানত হারিয়েছেন সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থী। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ১৪৯ ভোট। লেবার পার্টির প্রার্থী জগদীশ বড়ুয়া আনারস প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬০২ ভোট। আমজনতা দলের প্রার্থী নুরুল আবছার প্রজাপতি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ মিয়া ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৪৭ ভোট।
এ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪০৭ ভোট। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকের নুরুল হক। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট। এ আসনে জামানত হারানো অপর প্রার্থী হলেন এনডিএম এর সিংহ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩৭৯ ভোট। আসনটিতে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নূর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট।
মন্তব্য করুন








