ভোট পুনর্গণনার দাবিতে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের হারাগাছ এলাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার নেতাকর্মীরা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় অবরোধ স্থলে উপস্থিত হয়ে ভোট পুনর্গণনার আশ্বাস প্রদান করেন কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ শুরু হলে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় হারাগাছ এলাকায়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসাকে বলেন, আপনার পুনর্গণনার অভিযোগপত্র আমরা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছি। নির্বাচন কমিশন আমাদের লিখিত নির্দেশনা দিলেই সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ইউএনওর জবাবে এমদাদুল হক ভরসা বলেন, আপনারা আগে পুনর্গণনার ব্যবস্থা করেন, তারপর আমার জনগণকে শান্ত করে ফিরে যাবে। ইউএনও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পুনর্গণনার আশ্বাস প্রদান করলে বিকেল ৩টায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন এমদাদুল হক ভরসা।
এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়ার পর জেলা প্রশাসক না আসায় বিকাল ৩টায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভোট পুনর্গণনার অভিযোগপত্র জমা দিয়ে হারাগাছ এলাকায় সড়ক অবরোধ শুরু করে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে অঝোরে কেঁদে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, নির্বাচনের দিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনকে ব্যবহার করে মব সৃষ্টি করে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জয়লাভ করেছেন।
অপরদিকে রাত ১০টায় রংপুর নগরীর জুলাই চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, হারাগাছে এনসিপি নেতাকর্মীদের মারধর করে বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। বিএনপি হাইকমান্ডের ইশারায় এ বিষয়ে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা এশিয়া পোস্টকে জানান, হারাগাছ এলাকায় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য করুন








