ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, অনিয়ম ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণে ফলাফল প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছেন এ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা বাজারে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে প্রিন্স বলেন, নির্বাচনের আগের দুই রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছে। এ সময় স্থানীয় জনগণ কয়েক স্থানে তাদের আটক করলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গ্রহণের দিন ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ভোট গণনার আগেই জোরপূর্বক তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের ব্যালট পেপার অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ধানের শীষের ভোট স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে গণনা করা হয়েছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রিন্স আরও বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা, হামলা, হুমকি, মারধর এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। অবিলম্বে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে এই বিএনপির প্রার্থী বলেন, ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের মাধ্যমে যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, তা জনগণের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন নয়। আমরা এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি এবং অবিলম্বে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশিত ফলাফলে ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর রুবেল। প্রার্থী হওয়ার পর দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও সালমান ওমর রুবেল ছাড়াও আরও ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ২২২ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. জিল্লুর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ১২৫ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ রাশেদুল হক পেয়েছেন ২৭৪ ভোট, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. আ. রাজ্জাক পেয়েছেন ২২৪ ভোট ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ১৭৪ ভোট।
মন্তব্য করুন








