ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ব খাদ্য দিবসে মানিকছড়িতে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
দুর্গাপূজা ঘিরে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ২৩ বিজিবি
মাটিরাঙ্গায় সরকারি রেশনের ১৬ বস্তা চাল ও গম জব্দ, দোকান মালিককে জরিমানা
মাটিরাঙ্গায় সরকারি রেশনের ১৬ বস্তা চাল ও গম জব্দ, দোকান মালিককে জরিমানা
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে  গুচ্ছগ্রামের সরকারি রেশনের ১৬ বস্তা চাল ও গম জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দোকান মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়ন এর ডাকবাংলা বাজারের ব্যবসায়ী হুমায়ুন স্টোরের স্বত্বাধিকারী নুর হাসান এর  দোকানে সরকারি সিলযুক্ত খাদ্য সামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে দোকানে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৩০কেজি ওজনের চাল ১০ বস্তা ও ৫০ কেজি ওজনের গম ৬ বস্তা সহ মোট ১৬ বস্তা জব্দ করেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে তাহমিনা মিতু। এ ঘটনায় দোকান মালিক নুর হাসান'কে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুদ, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও কার্যক্রম প্রতিরোধ আইন, ২০২৪-এর ৬ ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন-২০২৩ ০৬ ধারায় সরকারি সিলযুক্ত বস্তাসহ ১৬ বস্তা গম ও চাল জব্দ ও নুর হাসানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাজার মনিটরিং ও সরকারি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
মাটিরাঙ্গায় ৪১ বৌদ্ধ মন্দিরে খাদ্যশস্য বিতরণ
হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা
মাটিরাঙ্গায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
মাটিরাঙ্গায় পাহাড় কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
মাটিরাঙ্গায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত

‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্ব জয়’ প্রতিপাদ্যে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুল হক সবুজ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাহমিনা মিতু।  এ সময় মাটিরাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল মুন্না, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা রাজীব রায় চৌধুরী,  মাটিরাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।  অনুষ্ঠানে কন্যাশিশুর অধিকার, সুরক্ষা, শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের সম্ভাবনার বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।

মানিকছড়িতে হু হু করে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব; ঔষধ সংকটে ব্যহত চিকিৎসা সেবা

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা  আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। কর্তৃপক্ষ বলছেন অতিরিক্ত রোগীর চাপে বছরের ৫ মাস আগেই ঔষুধ সংকট! এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা! আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম ইউনিটে রোগী ১৭ জন। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে ৫২ জন। তবে হামে আক্রান্ত রোগীদের ঔষুধের ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দরিদ্র পরিবারগুলো। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু এবং দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন অভিভাবকেরা। এর মধ্যে এন্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, স্যালাইনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় রোগীদের স্বজনদের নিজেদের খরচে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। স্বামী ও পরপর দুই কন্যা সন্তানের হাম হওয়ায় গত ১০ দিন টানা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২৮/৩০ হাজার টাকার ঔষুধ কিনে খুঁয়েছেন বিবি জতি! নিতে হয়েছে রোগী কল্যাণ ফান্ডের সহায়তাও। এছাড়া শুক্রবার সকালে উপজেলার মুসলিম পাড়ার সুমি আক্তার তাঁর শিশু কন্যা মীম(৭) কে হামের উপসর্গ নিয়ে হসপিটালে ভর্তি হয়। গৃহকর্তা আবুল কালাম কাজের সন্ধানে যায় পাশ্ববর্তী ফটিকছড়ি উপজেলায়। ফলে সন্তানের অসুস্থতা সারতে হাসপাতালে এনেও ওষুধ না পেয়ে এই দুই দিনে সুমিকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। আবেদন করতে হয়েছে রোগী কল্যাণ ফান্ডেও। শনিবার রাতের ওষুধ ক্রয়ে হাতে টাকা না থাকায় সুমি রাত ৯ টায় মানিকছড়ি বাজারে সন্তানের চিকিৎসায় সাহায্য চাইতে আসেন! তাৎক্ষণিক কিছু টাকা তুলে রাতের ডোজ কিনে মেয়েকে বাঁচাতে মায়ের প্রাণপণ চেষ্টা! শনিবার রাত ১০টায়  হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ৪র্থ তলায় হামের ওয়ার্ডে ১৩জন শিশু, ১জন পুরুষ, ১জন নারী। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২ জন শিশু। এসময় সিনিয়র নার্স রাশেদা আক্তার বলেন, গত দেড় মাস ধরে হামের প্রার্দুভাব বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। কিন্তু দুই মাসের অধিক সময় হাসপাতালে ওষুধ সংকট প্রকট! ফলে ভর্তি রোগীরা এন্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, স্যালাইন কিনে আনতে হয়! আমরা যৎসামান্য দিতে পারছি। দায়িত্বরত সিস্টার (নার্স) কল্পনা চাকমা বলেন, শনিবার রাত ১০ টা নাগাদ ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত ১৭জন। ঔষুধ সংকট থাকায় রোগীর গার্ডিয়ানের কাছে জবাব দিতে দিতে হয়রান! রোগীর স্বজনরা জানান, হামে আক্রান্তের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ঔষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিল্লাত শাহ বলেন, প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ঔষুধের সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এসব ঔষুধের খরচ রোগীর অভিভাবকদেরই বহন করতে হচ্ছে। এসময় তিনি শিশুদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেন।  তিনি আরও বলেন, শিশুদের হামের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

দূর্গম পাহাড়ে শিশুদের মাঝে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা-সামগ্রী বিতরণ

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের দূর্গম পাহাড়ি এলাকা রেম্রাপাড়ার দুই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা-সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে প্লাকশ্যে উচ্চ বিদ্যালয় হল কক্ষে স্থানীয় সংগঠন ‘আকুংসু প্যগেমি আফোই’-এর উদ্যোগে এবং প্রবাসী মংমাংপ্রু মারমা ও ম্যামাচিং মারমার সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পাইওয়া মারমার সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক অংসা মারমার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মংসাপ্রু চৌধুরী।  উদ্বোধন করেন প্রধান শিক্ষক রামপ্রু মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা চাইরিপ্রু মারমা, ইউপি সদস্য ম্রাসাজাই মারমা, স্থানীয় বিহার সভাপতি সুফউ মারমা, সাংবাদিক রিপন সরকার ও শিক্ষানুরাগী রাজু মারমা। আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ। পরে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে প্লাকশ্যে উচ্চ বিদ্যালয় ও রেম্রাপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা-সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।  

দেড় কিলোমিটার সড়কে কমেছে ৪০ বছরের ভোগান্তি

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা-বাটনাতলী সংযোগ সড়কের যোগ্যাছোলা-আছাদতলী-ছদুরখীল অংশে দীর্ঘ ৪০ বছরের ভোগান্তির অবসান হতে শুরু করেছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বরাদ্দে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক পিচঢালাই করে পাকাকরণ করা হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে। স্থানীয়রা জানান, যোগ্যাছোলা-বাটনাতলী সংযোগ সড়কের ছদুরখীল, ঘোরখানা, আছাদতলী, তুলাবিল, বড়বিল, খাড়িছড়াসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কাদামাটি ও পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর এই এলাকার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তেন কৃষকরা। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ত। অনেক সময় কাঁচা সড়কে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় মাথায় কিংবা কাঁধে করে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে হতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৯ সালে তৎকালীন সরকার সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও পরবর্তীতে বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়ায় কাজ আর বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর প্রায় ছয় বছর ধরে সড়কটির দুরবস্থা আরও প্রকট হয়। অবশেষে সম্প্রতি এলজিইডির উদ্যোগে দেড় কিলোমিটার অংশ পাকা হওয়ায় দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার এম. আমিরুল ইসলাম রকি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি আমাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ ছিল। বর্ষাকালে কাদা ও পানি জমে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ত। এখন সড়কটি পাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকসহ সবাই উপকৃত হচ্ছেন। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া থেকে শুরু করে বাজারে যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি ছিল। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যেত। সড়কটি পাকা হওয়ায় মানুষের চলাচলে স্বস্তি এসেছে। আছাদতলী এলাকার বাসিন্দা কৃষক মো. গাজী মিয়া বলেন, এই এলাকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক কষ্ট হতো। এখন পাকা সড়ক হওয়ায় সহজে কৃষিপণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে এবং পরিবহন খরচও কমবে বলে আশা করছি। খাগড়াছড়ি জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান মুঠোফোনে জানান, প্রায় ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে। প্রোমা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাকি অংশের সড়কও দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ করে দীর্ঘদিনের এই যোগাযোগ সংকট পুরোপুরি দূর করা হবে। পাশাপাশি সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাটিরাঙ্গায় সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে সিএনজি চালকদের মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সমিতির নিয়ম বহির্ভূত অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাংক জালিয়াতি ও বিভিন্ন অনিয়মের সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন এবং সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন এর  পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে মাটিরাঙ্গা উপজেলা অটোরিক্সা ও সি.এন.জি চালক সমবায় সমিতি লি: এর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা-তানাক্কাপাড়া সড়ক অবরোধ করে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এসময় সভাপ‌তির ছ‌বি সম্ব‌লিত ব্যানার ও পেস্টু‌নে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করে সিএন‌জি চালকরা। জানা যায়, এর আগে সিএনজি সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মাটিরাঙ্গা তবলছড়ি চত্বরে মিলিত হয়। মাটিরাঙ্গা উপজেলা অটোরিক্সা ও সি.এন.জি চালক সমবায় সমিতি লি: এর সদস্যদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সমিতির সদস্য কামাল হোসেন ও তাজুল ইসলাম। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সভাপতি আক্তার হোসেন সাংগঠনিক নিয়ম ভঙ্গ করে সমিতির টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। এসময় সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতা সহ একাধিক অভিযোগ তুলে সমিতির ন্যায্য হিসাব ও সভাপতির পদত্যাগের দাবি করেন বক্তারা। পরে, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি শীঘ্রই পূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ ছেড়ে দেন। এতে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এসময় সমিতির সদস্য মো: ইকবাল, মো: মাসুদ, মনির হোসেন, রফিকুল ইসলাম, শাহীন শেখ, আলম সহ প্রায় শতাধিক সিএনজি চালক এতে অংশগ্রহণ করেন।

রামগ‌ড়ে তিন কো‌টি টাকার মাদক বিনষ্ট করল বি‌জি‌বি

খাগড়াছ‌ড়ির রামগ‌ড়ে বিপুল প‌রিমাণ অ‌বৈধ মাদকদ্রব‌্য বিনষ্ট ক‌রে‌ছে বর্ডার গার্ড বাংলা‌দেশ (বি‌জি‌বি)।যার আনুম‌নিক বাজার মূল‌্য প্রায় তিন কো‌টি টাকা। বুধবার (৭ অ‌ক্টোবর )বি‌জি‌বির রামগড় ব‌্যাটা‌লিয়‌নের সদর দপ্ত‌রে বিজ্ঞ জু‌ডি‌শিয়াল ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট মোঃমা‌জেদ হোসাই‌নের উপ‌স্থি‌তি‌তে আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে রোলার দি‌য়ে পি‌শে এবং আগু‌নে পু‌ড়ি‌য়ে বি‌ধি‌ মোতা‌বেক এসব মাদক বিনষ্টকরণ করা হয়।‌বিনষ্টকরণ অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অ‌তি‌থি হি‌সে‌বে উপ‌স্থিত ছি‌লেন,চট্রগ্রাম রি‌জিয়ন কমান্ডার ব্রি‌গেডিয়ার জেনা‌রেল সো‌হেল আহ‌মেদ।বি‌শেষ অ‌তি‌থি‌ ছি‌লেন গুইমারা সেক্টর কমান্ডার ক‌র্নেল মোঃ মিজানুর রহমান,রামগড় ব‌্যাটা‌লিয়ন অ‌ধিনায়ক লে.ক‌র্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম,খেদাছড়া ব‌্যাটা‌লিয়ন অ‌ধিনায়ক লে. ক‌র্নেল মুহাঃশাহীনুল ইসলাম,যা‌মিনী পাড়া ব‌্যাটা‌লিয়ন অ‌ধিনায়ক (ভা.)মেজর মোঃ মঈনুল আলম,রামগড় উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার কাজী শামীম,জেলা মাদকদ্রব‌্য নিয়ন্ত্রণ অ‌ধিদপ্ত‌রের সহকা‌রী প‌রিচালক আব্দুল হা‌মিদ,রামগড় থানার ও‌সি মোঃ না‌জির আলম । বি‌জি‌বি জানায়,ধ্বংসকৃত মাদ‌কের ম‌ধ্যে ছিল চোরাই প‌থে অ‌বৈধভা‌বে আনা ভারতীয় বি‌ভিন্ন ব্রা‌ন্ডের মদ,সি‌গে‌রেট,ইয়াবা,গাঁজা ও তামাকজাত পন‌্য।বি‌জি‌বি আ‌রো জানায় ,গুইমারা সেক্ট‌রের অধীনস্থ রামগড়,খেদাছড়া ও যা‌মিনীপাড়া এ তিন‌টি ব‌্যাটা‌লিয়‌নের জোয়ানরা ফেব্রুয়ারী ২০২২ সা‌ল হ‌তে চল‌তি বছ‌রের ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত সীমা‌ন্তের বি‌ভিন্ন স্থা‌নে অ‌ভিযান প‌রিচালনা ক‌রে মা‌লিক‌বিহীন এসব মাদক আটক ক‌রেন।বি‌জি‌বির কর্মকর্তা,প্রশাস‌নের প্র‌তি‌নি‌ধি ,হেডম‌্যান কার্বা‌রী,গনমাধ‌্যমকর্মী,এবং শিক্ষার্থীরা‌ মাদক বিনষ্টকরণ এ অনুষ্ঠা‌ন প্রত‌্যক্ষ  ক‌রেন।

মানিকছড়িতে হালদা'র জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মৎস্য চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে তিনদিনব্যাপী (৫-৭ অক্টোবর) মাছের পোনা পরিবহন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, হালদা নদীর গুরুত্ব, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে জেলা মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারে মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য ভবনের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. রাজু আহমেদ ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. সুমন বড়ুয়া। এর আগে গত সোমবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রশিক্ষনের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভুঁইয়া।  তিনব্যাপী প্রশিক্ষণে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, রামগড় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, জেলা মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক শরৎ কুমার ত্রিপুরা ও উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মিলন কৃষ্ণ চাকমা প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এতে উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ের ২৫ জন উদ্যোগী মৎস্যচাষি অংশ নেন। প্রশিক্ষণে আদর্শ পুকুর ব্যবস্থাপনা, পোনা পরিবহন পদ্ধতি, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, হালদা নদীর গুরুত্ব, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হালদার উজানের বাসিন্দাদের করণীয় ও বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ বিষয়ে চাষিদের ধারণা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে জেলা মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারে মৎস্য হ্যাচারীসহ বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন প্রশিক্ষনার্থীরা।

আরও
X