খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। কর্তৃপক্ষ বলছেন অতিরিক্ত রোগীর চাপে বছরের ৫ মাস আগেই ঔষুধ সংকট! এতে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা! আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম ইউনিটে রোগী ১৭ জন। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে ৫২ জন। তবে হামে আক্রান্ত রোগীদের ঔষুধের ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দরিদ্র পরিবারগুলো।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু এবং দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন অভিভাবকেরা। এর মধ্যে এন্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, স্যালাইনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় রোগীদের স্বজনদের নিজেদের খরচে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
স্বামী ও পরপর দুই কন্যা সন্তানের হাম হওয়ায় গত ১০ দিন টানা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২৮/৩০ হাজার টাকার ঔষুধ কিনে খুঁয়েছেন বিবি জতি! নিতে হয়েছে রোগী কল্যাণ ফান্ডের সহায়তাও।
এছাড়া শুক্রবার সকালে উপজেলার মুসলিম পাড়ার সুমি আক্তার তাঁর শিশু কন্যা মীম(৭) কে হামের উপসর্গ নিয়ে হসপিটালে ভর্তি হয়। গৃহকর্তা আবুল কালাম কাজের সন্ধানে যায় পাশ্ববর্তী ফটিকছড়ি উপজেলায়। ফলে সন্তানের অসুস্থতা সারতে হাসপাতালে এনেও ওষুধ না পেয়ে এই দুই দিনে সুমিকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। আবেদন করতে হয়েছে রোগী কল্যাণ ফান্ডেও। শনিবার রাতের ওষুধ ক্রয়ে হাতে টাকা না থাকায় সুমি রাত ৯ টায় মানিকছড়ি বাজারে সন্তানের চিকিৎসায় সাহায্য চাইতে আসেন! তাৎক্ষণিক কিছু টাকা তুলে রাতের ডোজ কিনে মেয়েকে বাঁচাতে মায়ের প্রাণপণ চেষ্টা!
শনিবার রাত ১০টায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ৪র্থ তলায় হামের ওয়ার্ডে ১৩জন শিশু, ১জন পুরুষ, ১জন নারী। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২ জন শিশু। এসময় সিনিয়র নার্স রাশেদা আক্তার বলেন, গত দেড় মাস ধরে হামের প্রার্দুভাব বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। কিন্তু দুই মাসের অধিক সময় হাসপাতালে ওষুধ সংকট প্রকট! ফলে ভর্তি রোগীরা এন্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, স্যালাইন কিনে আনতে হয়! আমরা যৎসামান্য দিতে পারছি।
দায়িত্বরত সিস্টার (নার্স) কল্পনা চাকমা বলেন, শনিবার রাত ১০ টা নাগাদ ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত ১৭জন। ঔষুধ সংকট থাকায় রোগীর গার্ডিয়ানের কাছে জবাব দিতে দিতে হয়রান! রোগীর স্বজনরা জানান, হামে আক্রান্তের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ঔষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মিল্লাত শাহ বলেন, প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ঔষুধের সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এসব ঔষুধের খরচ রোগীর অভিভাবকদেরই বহন করতে হচ্ছে। এসময় তিনি শিশুদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের হামের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামের উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।