ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
মুকসুদপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিএনপির ৪১ সদস্যের মণ্ডপ পরিদর্শন কমিটি
মুকসুদপুরে সড়ক উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে তৎপর ইউএনও
মুকসুদপুরে ব্যবসা ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরল ইউনিটি গ্রুপ
মশিউর অর্ণব
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধান এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ‘বিজনেস অপরচুনিটি: এক্সপ্লোর মুকসুদপুর’ শীর্ষক বিশেষ সম্মেলন ও আলোচনা সভা করেছে ইউনিটি গ্রুপ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মুকসুদপুরের এভারগ্রীন হাইওয়ে ইন-এ আয়োজিত এ সম্মেলনে গ্রুপটির চলমান ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক উদ্যোগ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন খাতে নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ‘মেক ইউনিটি ভিশন-২০৩০’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল হাসান সুমন। সূচনা বক্তব্য ও বিশেষ আলোচনা করেন গ্রুপটির করপোরেট ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. হাফিজুর রহমান চাতক। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইউনিটি ট্যুরিজম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউনিটি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ কো-অর্ডিনেটর মো. হুমায়ুন কবির। সম্মেলনে ইউনিটি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ভূমি উন্নয়ন, আবাসন, প্রপার্টি সলিউশন, পর্যটন ও কৃষি খাতে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ এবং সম্ভাবনাময় উদ্যোগের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নাজমুল হাসান সুমন বলেন, “ইউনিটি গ্রুপ সবসময় পারস্পরিক আস্থা, অংশীদারিত্ব ও টেকসই ব্যবসায়িক ভবিষ্যতের ওপর বিশ্বাস করে। মুকসুদপুর ও গোপালগঞ্জ অঞ্চলে ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা ও যৌথ অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতেই আমাদের এই আয়োজন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে ইউনিটি গ্রুপের অন্যান্য পরিচালক ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, উদীয়মান উদ্যোক্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং গ্রুপটির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মুক্ত মতবিনিময় করা হয়। এ সময় ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, বিনিয়োগের ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মতামত ও ভাবনা তুলে ধরেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
মুকসুদপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত
মুকসুদপুরে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
মুকসুদপুরে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু
মুকসুদপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা
ডিসেম্বরেই শুরু মুকসুদপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌর এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সড়কের বেহাল দশায় নাগরিক দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এ অবস্থায় পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ আগামী ডিসেম্বর মাসেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদ আশিক কবির। বাংলাদেশ বুলেটিনকে মুঠোফোন বার্তায় ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির জানান, পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়নকাজ আগামী ডিসেম্বর থেকেই শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সড়কগুলোর উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এর আগে গত ৪ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার পৌরসভার সদর বাজার, গোপীনাথপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং চলমান ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির। এ সময় তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন এবং পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম রকিবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে প্রশাসক সদর বাজারের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন এবং নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে কাজের গতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় টেংরাখোলা চৌরঙ্গী থেকে আটাডাঙা বাঁওড় পর্যন্ত খাল পুনঃখননের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রশাসক জানান, খালটি পুনঃখননের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। খালটি পুনঃখনন করা হলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ফরিদমিয়া কমপ্লেক্স–উপজেলা পরিষদ–তেরাইসার মোড়–মিয়া বাড়ি মসজিদ হয়ে আটাডাঙা বাঁওড় সড়ক ব্যবহারকারী মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। পাশাপাশি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চালকদের নিয়মিত দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সড়কটির উন্নয়ন এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করা হোক। পরিদর্শনের সময় গোপীনাথপুরসহ পৌরসভার যেসব ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে, সেসব এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৌর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মুকসুদপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

‘শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের পাঠ দেন না, আলোর পথে এগিয়ে দেন একটি প্রজন্মকে’—এই ভাবনা সামনে রেখে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টায় উপজেলা চত্বর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবিরের সভাপতিত্বে এবং নওহাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবিরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু নাইম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল বাসার টুল্টু বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু শরীফ, মাধ্যমিক একাডেমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম শরীফ, উজানি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুজন বিশ্বাস, সরকারি মুকসুদপুর কলেজের প্রভাষক সনোজ কুন্ডু, এসজে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনিল মন্ডল, প্রভাকরদী আবুবকর সিদ্দিকী দাখিল মাদ্রাসার সুপার রবিউল ইসলাম এবং ১ নম্বর টেংরাখোলা সরকারি প্রাথমিক মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আছমা খানমসহ অনেকে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ছিরু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. ওহিদুল ইসলামসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সাংবাদিক। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, বরং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। আলোচনা সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের দায়িত্ব ও মর্যাদা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মুকসুদপুরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ সভা, ৩১৩ মণ্ডপে উৎসব

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, পূজা উদযাপন কমিটি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবিরুল ইসলাম, মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ভীষ্মদেব মন্ডল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম খান, সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু, উজানী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দিনেশ মন্ডল, বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা, গোপালগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব বদরুজ্জামান ইজাজ, গোপালগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মিহির বিশ্বাস, মুকসুদপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মনোরঞ্জন বিশ্বাস এবং উজানী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম বাবু। সভায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং কোনো ধরনের গুজব বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, এ বছর মুকসুদপুর উপজেলায় মোট ৩১৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। সভায় বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যেরও প্রতীক। তাই ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সভা শেষে সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে মুকসুদপুরে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সম্প্রীতির পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সুন্দরবন ভ্রমণ উপলক্ষে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রেসক্লাবের উপহার

মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত মংলা-সুন্দরবন আনন্দ ভ্রমণ-২০২৬ উপলক্ষে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ভীষ্মদেব মণ্ডলকে উপহার দিয়েছে মুকসুদপুর প্রেসক্লাব। সম্প্রতি মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে এ উপহার তুলে দেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ছিরু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. ওহিদুল ইসলাম। এ সময় প্রেসক্লাবের অন্যান্য সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উপহার প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান লেবু, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন এবং কার্যকরী সদস্য নূর আলম শেখসহ অন্যান্য সাংবাদিক। প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানান, সম্প্রতি সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মংলা ও সুন্দরবন আনন্দ ভ্রমণ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নিদর্শন হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে উপহার প্রদান করা হচ্ছে। উপহার গ্রহণকালে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ভীষ্মদেব মণ্ডল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

মুকসুদপুরে বাসচাপায় পথচারী নিহত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে যাত্রীবাহী বাস ও কন্টেনারবাহী গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাসের চাপায় আকরাম বিশ্বাস (৫০) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আকরাম বিশ্বাস মুকসুদপুর উপজেলার সালিনাবক্সা গ্রামের হাসেম বিশ্বাসের ছেলে। মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ওয়েলকাম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস গেড়াখোলা ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গোপালগঞ্জগামী একটি কন্টেনারবাহী গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা পথচারী আকরাম বিশ্বাসকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আকরাম বিশ্বাসকে উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গেড়াখোলা ব্রিজ এলাকায় ওয়েকাম পরিবহনের একটি বাস ও কন্টেনারবাহী গাড়ির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাসের চাপায় এক পথচারী গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।’ তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের পুকুরে পোনা অবমুক্ত

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেড সংলগ্ন পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ মাছের পোনা অবমুক্ত করেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবীবুল্লাহ। মাছের পোনা অবমুক্তকালে পুলিশ সুপার জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ ছাড়েন। এ সময় তিনি জলাশয়ের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাশয়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ। এ ছাড়া পুলিশ লাইন্সে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে জলাশয়ে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

মুকসুদপুরে যানজটে নাকাল মানুষ, কবে নড়বে প্রশাসনের টনক?

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার সোনালী ব্যাংক এলাকা থেকে কমলাপুর ব্রিজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অটোরিকশার যত্রতত্র অবস্থান ও যানজটে প্রায়ই অচল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোয় সড়কের একটি বড় অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্যস্ত সময়ে চৌরঙ্গী মোড়সহ আশপাশের সড়কে অটোরিকশার জট তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোনালী ব্যাংক থেকে কমলাপুর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের অন্যতম পথ। ফলে প্রতিদিন রোগী ও তাঁদের স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন অংশে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, চৌরঙ্গী মোড়ের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধ ও পাশাপাশি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেক চালক সড়কের ওপরই যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। এতে একদিকে সড়কের জায়গা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে পেছনে থাকা যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে একাধিক দিক থেকে আসা যানবাহন একই জায়গায় আটকে গিয়ে যানজট আরও বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা যাত্রী ওঠানামার স্থান না থাকায় চালকেরা সুবিধামতো জায়গায় দাঁড়াচ্ছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, ‘এই সড়কে প্রতিদিনই অটোরিকশার কারণে যানজট হয়। এ নিয়ে আগেও সংবাদ হয়েছে। কিছু সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’ আরেক পথচারী বলেন, ‘হাসপাতালের দিকে যাওয়ার এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।  যানজটের কারণে রোগী বহনকারী গাড়িকেও অনেক সময় ধীরগতিতে যেতে হয়। ব্যস্ত সময়ে রাস্তা পার হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।’ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন সড়কের ওপর অবস্থান করায় তাঁদের দোকানের সামনে চলাচল ব্যাহত হয়। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সময় নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, সড়কের অব্যবস্থাপনার সঙ্গে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান মিলিয়ে সমস্যাটি আরও প্রকট হচ্ছে। সড়কের যেসব অংশ ভাঙাচোরা বা চলাচলের জন্য সংকুচিত, সেসব জায়গায় যানবাহনের চাপ বাড়লে দ্রুত যানজট তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্ধারিত স্থান ছাড়া সড়কের ওপর অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তাঁরা আরও বলেন, শুধু সাময়িকভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। হাসপাতালমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও অটোরিকশা সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কের অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, অটোরিকশার নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করবে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমবে।

আরও
X