ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
মানিকগঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক সিংগাইর থানার তদন্ত ওসি মো. রেজাউল করিম
সিংগাইরে কৃতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা
রাস্তায় খাবার চাইছিলেন নারী, ফেসবুকে ভিডিও দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন স্বামী
রাস্তায় খাবার চাইছিলেন নারী, ফেসবুকে ভিডিও দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন স্বামী
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে রাস্তার পাশে বসে মানুষের কাছে খাবার চাইছিলেন এক নারী। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে তার এই ভিডিও। সেই ভিডিও দেখে নিজের স্ত্রীকে চিনে ফেললেন স্বামী। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর সেই ভিডিওর সূত্র ধরেই স্ত্রী আলেয়াকে ফিরে পেলেন আলী হোসেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে অসহায় এক নারী হিসেবে ধরা পড়েছিলেন আলেয়া। কখনো রাস্তার পাশে বসে থাকতেন, আবার কখনো মানুষের কাছে খাবার চাইতেন। নিজের নাম-ঠিকানাও ঠিকমতো বলতে পারছিলেন না তিনি। এমন সময় স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক তার অসহায়ত্বের বিষয়টি তুলে ধরে একটি ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। একপর্যায়ে সেই ভিডিও পৌঁছে যায় আলেয়ার স্বামী আলী হোসেনের কাছে। ভিডিওটি দেখেই তিনি বুঝতে পারেন, রাস্তার পাশে বসে থাকা ওই নারী আর কেউ নন—তারই স্ত্রী। এরপর আর দেরি করেননি আলী হোসেন। ভিডিওতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দ্রুত সিঙ্গাইরের গোবিন্দল এলাকায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে স্ত্রীকে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন পর স্বামীকে দেখে আলেয়াও তাকে চিনতে পারেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে আলেয়াকে বিয়ে করেন ধামরাইয়ের বালিয়া এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন। প্রায় ছয় বছর আগে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন আলেয়া। পরে রাজধানীর একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি। প্রায় তিন বছর আগে অসুস্থ হয়ে একবার নয় দিন নিখোঁজ ছিলেন আলেয়া। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে পান। সম্প্রতি আবার অসুস্থ হয়ে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। এবার প্রায় দুই মাস ২৩ দিন ধরে তাকে খুঁজছিল পরিবার। নিখোঁজের পর আলেয়া সিঙ্গাইরের গোবিন্দল গ্রামের রাস্তার পাশে দিন কাটাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা কয়েক দিন ধরে তাকে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখেন। কখনো মানুষের কাছে খাবার চাইতেন, আবার কখনো রাস্তার পাশে চুপচাপ বসে থাকতেন। আলী হোসেন ও আলেয়া দম্পতির তিন সন্তান। বড় ছেলে ২৩ বছর বয়সী এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আট বছর বয়সী আরেক ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করে। তাদের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে। স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে আলী হোসেন বলেন, ‘ভিডিওতে স্ত্রীকে দেখার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। দ্রুত সেখানে (গোবিন্দল) চলে যাই। কাছে গিয়ে দেখি, সত্যিই আমার স্ত্রী। আমাকে দেখেই সে চিনতে পারে। এত দিনের কষ্ট যেন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল। আমি তাকে ফিরে পেয়েছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
সিংগাইরের ৮৪ টি পূজা মণ্ডপে জিআর চাল বিতরণ করলেন এমপি শান্ত
পরিবেশ দূষণের দায়ে সিংগাইরে গ্রীন এনার্জি লিমিটেডকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
সিংগাইরে গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন
পানি প্রবাহ সচল ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সিংগাইরে চান্দহর নদীর কচুরিপানা অপসারণ শুরু
বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিংগাইরে বৃক্ষরোপণ

বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোনো জাতি পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারেনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন, নির্বচারে গাছ কাটা, পাহাড় কাটা এবং জলাভূমি ও নদী ভরাট করাসহ পরিবেশ বিধ্বংসী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দেশের জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস করে গেছে। একারণে দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে। তাই এখনই দেশবাসীকে সচেতন হতে হবে এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। এবং প্রত্যেক মানুষকে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তারই উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে সারা দেশের ন্যায় সিংগাইরে বৃক্ষরোপণ করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সুস্থ-সুন্দর জীবনের জন্য বর্তমান সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী সফল করার লক্ষ্যে সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো: আলাউদ্দিন, আব্দুল মান্নান, পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নুর উদ্দীন, যুগ্ম-সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক নুর আলম বাবুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম, সদস্য সচিব ইসমাইল হোসেন ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম শফিকসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জামিনে মুক্ত সিংগাইরের সাংবাদিক-শিক্ষক পীর ইয়াকুব

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা প্রতিনিধি ও সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন আইসিটি শিক্ষক পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লা (২৯) জামিনে মুক্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বোন জিয়াসমিন আক্তার। পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লা দৈনিক নিরপেক্ষ ও জাতীয় নিউজ পোর্টাল একুশে সংবাদের সিংগাইর উপজেলা প্রতিনিধি। তিনি সিংগাইর প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সায়েস্তা ইউনিয়নের টান গোপালনগর গ্রামের মৃত হায়দার দেওয়ানের ছেলে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানি শেষে বিচারক এসকে এম তোফায়েল হাসান তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুলসুম আক্তার ইতি। জামিন শুনানিতে পীর ইয়াকুবের পক্ষে আরও অংশ নেন অ্যাডভোকেট মো. জসিমউদ্দীন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মেজবাহ উল হক মেসবাহ, অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান, অ্যাডভোকেট মসিউর রহমান শামীম ও অ্যাডভোকেট শেখ আসাদ শাহ প্রামাণিক। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ. এফ. এম. নূরতাজ আলম বাহার। একই দিন মামলার ৪ নম্বর আসামি সুজন ও ৫ নম্বর আসামি রাসেলও জামিন পেয়েছেন। এর আগে গত ২ আগস্ট মামলার ১৩ নম্বর আসামি সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান। এছাড়া মামলার ১ নম্বর আসামি আলিফ হোসেন (১৬) হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক হিসেবে সন্তানতুল্য একজন ছাত্রীকে হত্যার মতো অভিযোগ আমার হৃদয়কে ভেঙে দিয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি।’ মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নিহত মাহিয়া মাহি ও দশম শ্রেণির ছাত্র আলিফের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুজনকে টিসি দেয়। এরপর মাহিয়া মাহি নিখোঁজ হন। গত ২১ জুন বিকেলে পার্শ্ববর্তী জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর কবরস্থানের পাশের একটি বাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ প্রধান শিক্ষক, আইসিটি শিক্ষকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লা জামিনে মুক্ত হয়ে পরিবারের কাছে ফিরলেও মাহিয়া মাহির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তে বেরিয়ে আসা এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জামিনে মুক্ত পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

আরও
X