মানিকগঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক সিংগাইর থানার তদন্ত ওসি মো. রেজাউল করিম
সিংগাইরে কৃতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা
রাস্তায় খাবার চাইছিলেন নারী, ফেসবুকে ভিডিও দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলেন স্বামী
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে রাস্তার পাশে বসে মানুষের কাছে খাবার চাইছিলেন এক নারী। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে তার এই ভিডিও। সেই ভিডিও দেখে নিজের স্ত্রীকে চিনে ফেললেন স্বামী। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর সেই ভিডিওর সূত্র ধরেই স্ত্রী আলেয়াকে ফিরে পেলেন আলী হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে অসহায় এক নারী হিসেবে ধরা পড়েছিলেন আলেয়া। কখনো রাস্তার পাশে বসে থাকতেন, আবার কখনো মানুষের কাছে খাবার চাইতেন। নিজের নাম-ঠিকানাও ঠিকমতো বলতে পারছিলেন না তিনি।
এমন সময় স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রবিউল হক তার অসহায়ত্বের বিষয়টি তুলে ধরে একটি ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
একপর্যায়ে সেই ভিডিও পৌঁছে যায় আলেয়ার স্বামী আলী হোসেনের কাছে। ভিডিওটি দেখেই তিনি বুঝতে পারেন, রাস্তার পাশে বসে থাকা ওই নারী আর কেউ নন—তারই স্ত্রী।
এরপর আর দেরি করেননি আলী হোসেন। ভিডিওতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দ্রুত সিঙ্গাইরের গোবিন্দল এলাকায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে স্ত্রীকে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন পর স্বামীকে দেখে আলেয়াও তাকে চিনতে পারেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে আলেয়াকে বিয়ে করেন ধামরাইয়ের বালিয়া এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন। প্রায় ছয় বছর আগে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন আলেয়া। পরে রাজধানীর একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন তিনি।
প্রায় তিন বছর আগে অসুস্থ হয়ে একবার নয় দিন নিখোঁজ ছিলেন আলেয়া। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে পান। সম্প্রতি আবার অসুস্থ হয়ে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। এবার প্রায় দুই মাস ২৩ দিন ধরে তাকে খুঁজছিল পরিবার।
নিখোঁজের পর আলেয়া সিঙ্গাইরের গোবিন্দল গ্রামের রাস্তার পাশে দিন কাটাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা কয়েক দিন ধরে তাকে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখেন। কখনো মানুষের কাছে খাবার চাইতেন, আবার কখনো রাস্তার পাশে চুপচাপ বসে থাকতেন।
আলী হোসেন ও আলেয়া দম্পতির তিন সন্তান। বড় ছেলে ২৩ বছর বয়সী এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আট বছর বয়সী আরেক ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করে। তাদের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে।
স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে আলী হোসেন বলেন, ‘ভিডিওতে স্ত্রীকে দেখার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। দ্রুত সেখানে (গোবিন্দল) চলে যাই। কাছে গিয়ে দেখি, সত্যিই আমার স্ত্রী। আমাকে দেখেই সে চিনতে পারে। এত দিনের কষ্ট যেন এক মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল। আমি তাকে ফিরে পেয়েছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
সিংগাইরের ৮৪ টি পূজা মণ্ডপে জিআর চাল বিতরণ করলেন এমপি শান্ত