ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
লৌহজংয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের অনুকূলে চাল বিতরণ
লৌহজংয়ে বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
লৌহজংয়ের পয়শা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেন মো. আবুল কাশেম খাঁন
লৌহজংয়ের পয়শা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেন মো. আবুল কাশেম খাঁন
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের পয়শা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো.আবুল কাশেম খাঁন। শনিবার সকাল ১০ টায়  বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সদস্যদের ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। এ সময় লৌহজং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার মনিরা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, নির্ধারিত পদগুলোতে একাধিক প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং অফিসার মনিরা আক্তার। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা হলেন—দাতা সদস্য হাজী শহিদুল ইসলাম রনি। অভিভাবক সদস্য শাহিন খান, সাংবাদিক তাজুল ইসলাম রাকিব, মো. রিয়াজুল বেপারি ও মো. হানিফ শেখ। সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক সদস্য শারমিন আক্তার। শিক্ষক প্রতিনিধি মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হক ও মো. আব্দুল খালেক এবং সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি পলি রানী সেন। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে পয়শা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রামপ্রসাদ পাল। নতুন কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পেল ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স-২০২৬’
লৌহজংয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
লৌহজংয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মা ও নবজাতক স্বজনদের কাছে হস্তান্তর
লৌহজংয়ে গাঁজা সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড
লৌহজংয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ৩১ আগষ্ট  সকাল ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নির্মূল ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বক্তারা মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন, লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান, লৌহজং উপজেলা স্বাস্হ্য কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন রাজিব, উপজেলা প্রানীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কালী শংকর পাল, লৌহজং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ্দৌলা, লৌহজং থানা অফিসার ইনচার্জ মো. বোরহানুল ইসলাম, পদ্মা সেতু (উত্তর) থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আক্তার হোসেন, লৌহজং উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরা আক্তার, লৌহজং পল্লী বিদ্যূৎ সমিতির (ডিজিএম) মো. মনসুর হোসেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আরাধনা রানী কর্মকার, লৌহজং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল মুন্সি,উপজেলা মহিলা বিনপি নেত্রী রোকেয়া বেগম, নৌ পুলিশ কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা, ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্মকর্তা, কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা, গ্রাম আদালত লৌহজংয়ের সমন্বয়কারী শিলা আক্তার, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা ইভা পারভীন, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আঙ্গুরা বেগম, আনসারের কর্মকর্তা, উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি, বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাসুদ খান, লৌহজং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু নাসের লিমন, লৌহজং প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শওকত হোসেন, লৌহজং প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মো. মানিক মিয়া, সাংবাদিক মিজানুর রহমান ঝিলু প্রমূখ। এছাড়াও লৌহজং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন সভায় উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা সেতুর ঢালে বাস উল্টে গিয়ে ৮ জন আহত

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর ঢালে (র‌্যামে) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ের সাথে ধাক্কা লেগে ‘নিউ গ্রিন লাইন এক্সপ্রেস’র একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে সেতুর মাওয়া প্রান্তের ঢাকামুখী লেনে মাওয়া টোল প্লাজার কিছুটা দক্ষিণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন, মাগুরা সদর এলাকার সাইফুল্লাহ (৮০), লুৎফর (৬৩); চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা এলাকার রেবেকা খাতুন (৪০); দামুড়হুদা এলাকার নূর ইসলাম (৪৬), রশিদা (৪০); মাগুরার মোহাম্মদপুরের ৭ বছর বয়সী ফাতেমা; শ্রীপুরের সাইফ (২৩) এবং ফরিদপুরের মধুখালী এলাকার আরাফাত (১৩)। মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মাগুরা থেকে ঢাকাগামী নিউ গ্রিন লাইন এক্সপ্রেসের বাসটি পদ্মা সেতুর ঢাল থেকে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বাসটি সড়কের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি সড়কের পাশে উল্টে পড়ে থাকায় ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার কারণ ও বাসটির প্রকৃত গতিবেগসহ বিস্তারিত কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে বলে জানান ফায়ার কর্মকর্তা। পদ্মা সেতু উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আক্তার হোসেন জানান, ৭-৮ জন সামান্য আহত হয়েছে। তেমন বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বাসটি পদ্মা সেতুর র‌্যাম্প দিয়ে নামার সময় দ্রুত গতি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

প্রথম জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে মুন্সিগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করছেন লৌহজংয়ের হাসিবুর রহমান

বাংলাদেশ স্কাউটসের আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে অংশ নিয়ে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে শিক্ষার্থী মো. হাসিবুর রহমান। গত ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই, বান্দরবান ও কক্সবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হাসিবুর রহমান লৌহজং উপজেলার সরকারি হলদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত ৬০ জন স্কাউটার এ প্রথম জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছে। স্কাউটিংয়ে হাসিবের রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০১৯ সালে সে প্রধানমন্ত্রী পদক (শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড) অর্জন করে। এরপর ২০২৪ সালে লাভ করে রাষ্ট্রপতি পদক (পি এস অ্যাওয়ার্ড)। চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। এরই মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন স্কাউট ক্যাম্পে অংশ নিয়ে সফলভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে হাসিব। এবার প্রথম জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পেও অংশ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে যোগ করছে নতুন অর্জন। হাসিবের বাবা মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সরকারি লৌহজং কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান। মা রেশমা আখতার বেজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। হাসিবের বাবা-মা বলেন, স্কাউটিংসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে ছেলের এগিয়ে চলায় তাঁরা গর্বিত। তার এই পথচলায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ঢাকা অঞ্চলের কর্মকর্তাসহ জাতীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতার জন্য তাঁরা কৃতজ্ঞ। তাঁদের প্রত্যাশা, হাসিব ভবিষ্যতে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে। এ জন্য তাঁরা সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন। হাসিবের এই সাফল্যকে লৌহজংয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

লৌহজংয়ে অস্বাস্হ্যকর পরিবেশে গরু জবাইয়ের প্রস্তুতি, দুই মাংস বিক্রেতাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অসুস্থ গরু জবাইয়ের প্রস্তুতি এবং বাসি মাংসের সঙ্গে তাজা মাংস মেশানোর অভিযোগে দুই মাংস প্রক্রিয়াজাতকারীকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভক্ষণঅযোগ্য মাংস জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার কনকসার বাজার ও মালিরঅংক বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ববি মিতু ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন। অভিযানকালে কনকসার বাজার সংলগ্ন এলাকায় ইব্রাহীম মুন্সির বসতবাড়ির এক পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি অসুস্থ গরু জবাইয়ের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তিনি জবাই করা পশুর বর্জ্য পাশের খালে ফেলে দেওয়ার কথা জানান। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এ ঘটনায় পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ধারা ৩(১) ও ৫(২) লঙ্ঘনের দায়ে ধারা ২৪(১) অনুযায়ী ইব্রাহীম মুন্সিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অসুস্থ গরুটি জব্দ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অপরদিকে, মালিরঅংক বাজারে মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী মো. নাদিম মৃধার দোকানে অভিযান চালিয়ে জবাইকৃত মাংসের সঙ্গে বাসি মাংস মেশানোর চিত্র দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়নি। এছাড়া মাংসে প্রচুর পোকামাকড়ের উপস্থিতিও পাওয়া যায়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কসাইয়ের লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ধারা ৫(২), ৭ ও ৮(১) লঙ্ঘনের দায়ে ধারা ২৪(১) অনুযায়ী মো. নাদিম মৃধাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী ভক্ষণঅযোগ্য মাংস জব্দ করে ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে প্রসিকিউশন প্রদান করেন ডা. কালীশংকর পাল, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, লৌহজং এবং আবুল কাসেম, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (কৃত্রিম প্রজনন)। অভিযানে স্থানীয় জনগণও উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

লৌহজংয়ের মাওয়া চৌরাস্তা-পুরাতনঘাট সড়কটির বেহাল অবস্হা

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া চৌরাস্তা থেকে পুরাতন ঘাট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। চার বছর আগে ইট বিছিয়ে সাময়িক সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো পাকা বা স্থায়ী মেরামতের কাজ হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাতায়াতকারী মানুষজন। মেরামত করার দ্বায়িত্ব নিচ্ছেন না কোন বিভাগ। স্হানীয় সরকার, নৌ পরিবহন এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয়ের স্হানীয় দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের কেউ এর দ্বায়িত্ব না নিয়ে অনেকটা উদাসীন।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে এই সড়ক ব্যবহার করেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হতো। পরে ফেরী ঘাট শিমুলিয়ায় স্থানান্তরিত হলে এ সড়কটির গুরুত্ব কিছুটা কমলেও বর্তমানে কান্দিপাড়া, যশলদিয়া, কবুতরখোলা, মাদ্রা, ভাগ্যকুল, বালাসুর, কামারগাঁও ও দোহার এলাকার মানুষের আসা যাওয়ার শহরমুখী ও আশেপাশের এলাকার একমাত্র সহজ পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধনের আগের দিন তৎকালীন সংসদ সদস্যের অনুরোধে তড়িঘড়ি করে মাওয়া চৌরাস্তা থেকে সুপার মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কে ইট বিছিয়ে সংস্কার করা হয়। তবে এরপর চার বছর পার হয়ে গেলেও আর কোনো উন্নয়ন বা পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে। প্রায়ই এখানপ ছোট খাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। স্থানীয় অটোরিকশা চালক সুরুজ মিয়া বলেন, “পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগের দিন প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর জন্য হঠাৎ করে একদিনে ইট বিছানো হয়েছিল। কিন্তু এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। আমরা প্রায় দুই আড়াইশ’ অটোচালক এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। রাস্তার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, গর্তে পরে প্রায়ই অটো উল্টে গিয়ে যাত্রীরস আঘাত পান।” স্হানীয় এলাকাবাসী মো. পরশ জানান, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ পুরাতন ঘাটে পদ্মার তীরে ঘুরতে আসে। এছাড়া কান্দিপাড়া গ্রামের দুটি রিসোর্টেও পর্যটকদের যাতায়াত এই পথেই। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেকটা কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। কিন্তু এই রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে অত্র এলাকার জনসাধারণের অনেক ভোগান্তি বাড়ছে।” তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে শুক্রবার বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকদের গাড়ি আসলে যানজট সৃষ্টি হয়। ভাঙা সড়কের কারণে এক পাশ দিয়ে দুই দিকের যান চলাচল করায় ৫০০ মিটার রাস্তা পার হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।” বিশেষ করে বৃদ্ধ ও রোগী বহনকারী যানবাহনগুলোকে পড়তে হয় বিপাকে। এই সড়কটির সংস্কারের বিষয়ে লৌহজং উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর অফিস থেকে জানানো হয় এলজিইডি'র সড়কের নির্দিষ্ট একটি কোড নাম্বার থাকে। তবে এই সড়কে এলজিইডির কোন কোড নাম্বার পরে নাই। যেহতু এই সড়কটি এলজিইডি'র আওতায় নেই তাই এখানে আমাদের কিছু করার সুযোগ নেই। সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (শ্রীনগর অফিস) এমএম হানিফ বলেন, এ রাস্তাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন নয়। এ সড়কটি বিগত দিনে বিআইডব্লিউটিএ ব্যাবহার করেছে। তবে পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন হওয়ার আগে তৎকালীন সাংসদের অনুরোধে সড়ক ও জনপদ বিভাগ মাওয়া চৌরাস্তা থেকে মাওয়া সুপার মার্কেট পর্যন্ত ইট বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছিলো। এর পর আর আমাদের পক্ষ থেকে কোন কাজ করা হয়নি। তবে উপর মহল থেকে যদি কোন নির্দেশনা আসে এবং বাজেটে যদি এর ব্যায় ধরা হয় তাহলে হয়তো সড়ক ও জনপদ বিভাগ এর মেরামতের ব্যবস্হা করতে পারে। বিআইডব্লিউটিএ'র শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান জানান, এ সড়কটি পুরনো ফেরীঘাট চলমান সময় আমাদের আওতায় ছিলো। তবে ফেরীঘাট শিমুলিয়াতে স্হানান্তর হওয়ার পর ঐ সড়কটি আর আমাদের মধ্যে নেই। এটি এখন পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন রয়েছে। পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় যতগুলো রাস্তা আছে তার সবগুলোই ঠিক আছে। কোন রাস্তায় খানাখন্দ দেখা দিলে তা সাথে সাথেই মেরামত করা হয়। এই সড়কটি যেহেতু পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নয় তাই এর বিষয়ে আমাদের আপাতত কিছু করা নেই। তবে উপর মহলের কোন নির্দেশনা আসলে তখন একটা ব্যাবস্হা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সড়কটি পাকা ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

আরও
X