ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ নড়াইল
কালিয়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি-ধূতি বিতরণ
নড়াইলে বিছালির দাম কম, লোকসানের মুখে বিছালি ব্যবসায়ীরা
নড়াইলে বিছালির দাম কম, লোকসানের মুখে বিছালি ব্যবসায়ীরা
গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত বিছালি বা খড়ের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন নড়াইলের সদর ও লোহাগড়া উপজেলার ব্যবসায়ীরা। কয়েক মাসের ব্যবধানে বিছালি বা খড়ের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মজুতদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। কৃষকের কাছ থেকে বিছালি কেনা, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও সংরক্ষণ খরচ মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বাজারে দাম কম থাকায় আগের দামে কেনা বিছালি খড় বিক্রি করে পুঁজি ফেরত পাওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়ীরা জানান, নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিছালি সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করা হয়। খুলনা, চুয়াডাঙ্গা,মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, পাঁচচর, সদরপুর, ভদ্রসন ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব খড়ের বাজার রয়েছে। তবে সম্প্রতি খড়ের দাম কমে যাওয়ায় ব্যবসায় তাদের লাভের পরিমাণ কমেছে। অনেক ক্ষেত্রে খরচ তুলতেও বেগ পেতে হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ আটি করে ১৩০ আটিতে এক কাউন বিছালি হয়। আগে মাণভেদে প্রতি কাউন বিছালির দাম ছিল ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে তা কমে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দুই-তিন মাস আগে ভালো মানের বিছালি প্রতি কাউন ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরেও কিনেছেন। ফলে আগের দামে কেনা বিছালি-খড় এখন কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের নখখালী গ্রামে বিছালি কেনার সময় কথা হয় মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বিছালি ব্যবসায়ী আরমানের সাঙ্গে। তিনি বলেন,‘আমি এলাকার ব্যাপারীদের কাছ থেকে বিছালি কিনে খুলনা, চুয়াডাঙ্গা,মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, পাঁচচর, সদরপুর, ভদ্রসন ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি। বর্তমানে প্রতি কাউন ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিছালি কিনছি। কিন্তু এখন বাজারে দাম কম। ব্যাপারীদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনলেও বিক্রি করতে গিয়ে সেই দাম পাচ্ছি না। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।, আরমান আরও বলেন, ‘দুই-তিন মাস আগেও প্রতি কাউন বিছালি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে কিনেছি। এখন দাম কমে যাওয়ায় আগের মজুত বিক্রি করে খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে দাম কমতে থাকলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান,‘বিছালি-খড় গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহের পর তা পরিবহন, শ্রমিক দিয়ে ওঠানো-নামানো এবং সংরক্ষণের জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু বিক্রির সময় দাম কম থাকায় এসব খরচ সমন্বয় করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে পুঁজি আটকে থাকছে, অন্যদিকে নতুন করে বিছালি কেনার অর্থ সংকট দেখা দিচ্ছে।’ স্থানীয় রেজুয়ান শেখ বলেন, ‘গ্রামের কৃষকের বাড়ি থেকে বিছালি কিনে পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রতি কাউনের খরচ পড়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বিছালির দাম কমে গেছে। হয়তো বা আগামী ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কৃষকেরা ধান কাটবে। নতুন বিছালি হলে পুরাতন বিছালির চাহিদা থাকবেনা। তাই এখন বিছালির দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে হচ্ছে। লোকসান হলেও বাধ্য হয়ে বিছালি বিক্রয় করে দিচ্ছি। প্রতি কাউন বিছালি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছি। যে দামে বিছালি কিনে মজুত করেছিলাম, বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই টাকাও উঠবে না। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।, গরুর খামারে খাদ্য হিসেবে বিছালি খড়ের চাহিদা কমে যাওয়া এবং এবং বিকল্প হিসেবে কাঁচা ঘাসের ব্যবহার বাড়ার কারণে বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিছালি খড়ের ব্যবসা সারা বছর চললেও বাজারদরের ওঠানামার কারণে লাভের নিশ্চয়তা নেই। বর্তমানে যে হারে দাম কমছে, তাতে সামনে আরও দাম কমলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
লোহাগড়ায় সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের শুভ উদ্বোধন 
নড়াইলে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীর
নড়াইলে ৫৪৩টি মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্ততি
নড়াইলে অনলাইন প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
দাফনের ছয় মাস পর কবর থেকে তোলা হলো কৃষকের মরদেহ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দাফনের প্রায় ৬ মাস পর মফিজার মোল্যা নামে এক কৃষকের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে করা মামলার দেড় মাস পর তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ঈশানগাতী কবরস্থানে দাফনকৃত মরদেহটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মন্ডল ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) কুমারেশ বিশ্বাস ও অন্যান্য পুলিশের উপস্থিতিতে কবর থেকে উত্তলোন করা হয়। মরদেহ উত্তোলনের সময় কবরস্থান এলাকায় উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দাফনের পর এভাবে মরদেহ উত্তোলনের ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তবে যদি সত্যিই কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ২৬ এপ্রিল রাতে কৃষক মফিজার মোল্যাকে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও বেয়াই মশিয়ার রহমান বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফাতেমা ও মশিয়ারের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি। ঘটনার কয়েক দিন পর তারা দুজন বিয়ে করে সংসার শুরু করেন । বিষয়টি জানাজানি হলে ২৯ আগষ্ট দুপুরে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানকে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের মারধোর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নেওয়া হয়। একই দিন দিবাগত রাতে  নিহত মফিজার মোল্যার মেয়ে মনিকা বেগম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় তার মা ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমানের নাম উল্লেখ করে আরও ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এ মামলায় মফিজার মোল্যার স্ত্রী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ভাটগাতী গ্রামের নিহত মফিজার মোল্যার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং নিহতের বেয়াই একই ইউনিয়নের ঈশানগাতী গ্রামের শওকত রহমানের ছেলে মশিয়ার রহমানকে গ্রেফতার দেখিয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ তাদের আদালতে পাঠায়। সেই সময়ে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে ফাতেমা বেগম ও মশিয়ার রহমান মফিজার মোল্যাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাদের ভাষ্য, গত ২৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টার দিকে তারা মফিজারকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। হত্যার কারণ জানতে চাইলে ফাতেমা বলেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাননি। এ কারণে মশিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে তার স্বামীকে হত্যা করেন। তবে পরে তারা মফিজারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন এবং পরদিন সকালে তার মরদেহ দাফন করা হয় বলে জানান। মৃত ব্যক্তির মেয়ে মনিকা বেগম অভিযোগ করেন, 'তার মায়ের পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এমন অভিযোগের পর ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথমত এটা ইউডি মামলা হয়েছিল, পরে এই বিষয়ে তথ্য উদঘাটন হয় যে এটি হত্যা এবং বর্তমান এটি হত্যা মামলায় রুপান্তরিত হয়েছে। আদালতের অনুমতিক্রমে  মরদেহটি উত্তোলন করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পুনরায় দাফন করা হবে।  

কালিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, সচেতনতামূলক মহড়া

‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যে নড়াইলের কালিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র‍্যালি শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, আগাম প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোস্তফা কামাল ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী খালিদ আহমদ উসমানীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্র/ ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতার বিকল্প নেই। দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, স্থানীয় জনগণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা আরও বলেন, দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পরিবার থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা জরুরি। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। আলোচনায় দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সহায়তা গ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের অংশগ্রহণে দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের সচেতন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হলো দুর্যোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল সমাজ গড়ে তোলা।

কালিয়ায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে ৬ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ 

নড়াইলের কালিয়ায় মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত ও নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় উদ্ধার করা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার নবগঙ্গা নদীর বিভিন্ন এলাকায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর আওতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে সহযোগিতা করেন বড়দিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং মাছের প্রজনন পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে নবগঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে আটটি অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। জালগুলোর মোট দৈর্ঘ্য আনুমানিক ছয় হাজার মিটার। অভিযান শেষে নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম,  এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা চয়ন বিশ্বাসের উপস্থিতিতে জব্দ করা জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে অভিযানে উদ্ধার করা মাছ স্থানীয় এতিমখানার শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।  জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার শুধু মা ইলিশের জন্যই নয়, নদীর অন্যান্য প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ক্ষতিকর। তিনি আরও বলেন, নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য বিভাগের এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম সফল করতে জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

কালিয়ায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত

শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নড়াইলের কালিয়ায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা কেয়া দাশ, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী খালিদ আহমদ উসমানীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, নারী ও শিশুরা। আলোচনা সভায় বক্তারা কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনে কন্যাশিশুদের সুশিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি শিশুকে দেশপ্রেমিক, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং সামাজিক কুসংস্কার প্রতিরোধে অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, কন্যাশিশুরা সমাজের বোঝা নয়, বরং দেশের সম্ভাবনা ও উন্নয়নের অন্যতম শক্তি। তাদের সুশিক্ষা, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বাল্যবিয়ে একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা। তাই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নির্ভয়ে বেড়ে উঠতে পারে এবং নিজের মেধা ও যোগ্যতায় দেশ ও বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।  

লোহাগড়ায় যুবলীগের সহ-সভাপতি পেল ডিলারশীপ , বিএনপির বিক্ষোভ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মো: শাহাদাত হোসেন সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকালে সাড়ে পাঁচটার দিকে  উপজেলার লাহুড়িয়ার কালিগঞ্জ  বাজারের  বাসস্ট্যান্ডে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।  বিক্ষোভ মিছিলটি বাজারের বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লাহুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিল্টন জমাদ্দার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মুন্সি মফিজুর রহমান, যুবদল নেতা মিজানুর রহমান, লাহুড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো. আলী মিয়াসহ প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ও যুবলীগের চিহ্নিত নেতাকে কীভাবে সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়। অবিলম্বে যুবলীগের নেতাকে বাদ দিয়ে নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগ দিতে হবে।  দলের ত্যাগী ও যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। তারা আরও বলেন, কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে ও সময়মতো সার পায় তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।  এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা বলেন, সার ডিলার নিয়োগে উপজেলা ভিত্তিক একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে আমার অর্থাৎ কৃষি অধিদপ্তরের কোন ভূমিকা নেই।

নড়াইলে একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

নড়াইলে স্ত্রীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মারা গেলেন স্বামীও। বাড়িতে স্ত্রীর মরদেহ রেখে মসজিদে ফজরের আজান দিতে ও নামাজ পড়তে গিয়ে সেখানে নামাজের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ৬০ বছর বয়সী রোমান মোল্যা। স্ত্রীর মৃত্যুর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের মালিডাঙ্গা গ্রামে। তাদের ছেলে জসিম কুয়েত থেকে দেশে ফেরার পর সোমবার (১২ অক্টোবর) দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালিডাঙ্গা গ্রামের রোমান মোল্যার স্ত্রী প্রায় সাত বছর ধরে প্যারালাইসিস রোগে ভুগছিলেন। মাঝে-মধ্যে একটু সুস্থ হলেও প্রায় সময়ই অসুস্থ থাকতেন তার স্ত্রী। শনিবার রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান রোমান মোল্যা স্ত্রী। স্ত্রীর মৃত্যুর পর বাড়িতে মরদেহ রেখে ফজরের নামাজের আজান দিতে ও নামাজ আদায় করতে মালিডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে যান রোমান মোল্যা। তিনি ওই মসজিদের নিয়মিত মুয়াজ্জিন ছিলেন। নামাজের মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। এদিকে, রোববার (১১ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর স্বামী-স্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার ছেলে জসিম বিদেশ (কুয়েত) থেকে দেশে আসার পর সোমবার দাফন করার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন নড়াইল জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও তুলারামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শিহাবুর রহমান শিহাব। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর এমন মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নড়াইলে এস্কাফ ও প্রাইভেটকার জব্দ, যুবক আটক

নড়াইল সদর উপজেলায় ৫০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরাপসহ এক প্রাইভেট কারের চালককে আটক করেছে পুলিশ। আটক ওই যুবকের নাম মো. ইমরান হোসেন (২৯)।  তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহী গ্রামের শফিউল্লাহর ছেলে। এ সময় একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যশোর-নড়াইল-কালনা মহাসড়কের মালিবাগ মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।  পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে যশোর-নড়াইল-লোহাগড়া-কালনা মহাসড়কের মালিবাগ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল নড়াইল সদর থানা পুলিশ। এ সময় নড়াইল থেকে লোহাগড়ার দিকে যাওয়া একটি প্রাইভেট কারের গতিরোধ করা হয়। পরে গাড়িটি তল্লাশি করে পেছনের ডিকিতে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে ৫০ বোতল ভারতীয় এস্কাফ উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা ইমরান হোসেনকে আটক করা হয়। নড়াইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু বলেন, মালিবাগ এলাকায় চেকপোস্টে একটি প্রাইভেট কার তল্লাশি করে ৫০ বোতল এস্কাফ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইমরান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও
X