নড়াইলে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ, চলছে রং-তুলির শেষ আঁচড়
শরতের হিমেল হাওয়া, মাঠজুড়ে কাশফুলের দোলা আর শিউলির সুবাস, প্রকৃতিতে বইছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। আর সেই উৎসবকে ঘিরে নড়াইলে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। খড় ও মাটির কাঠামো পেরিয়ে প্রতিমাগুলো এখন পেয়েছে পূর্ণ অবয়ব। কোথাও চলছে রংয়ের কাজ, কোথাও দেবীর চোখ আঁকায় ব্যস্ত শিল্পীরা।
উৎসব নির্বিঘ্নে করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকরাও। দেবী দুর্গার আগমন ঘিরে নড়াইলের পালপাড়ায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। খড়ের কাঠামোতে মাটির প্রলেপ, এরপর শুকানো, রং করা আর নিপুণ হাতে সাজসজ্জা সব মিলিয়ে শেষ পর্যায়ে প্রতিমা তৈরির কাজ। শিল্পীর রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমার সৌন্দর্য। শুধু প্রতিমা তৈরিই নয়, পূজাকে ঘিরে মন্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতিও চলছে সমানতালে।
প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা জানান, সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ। জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজা উদযাপন কমিটির কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে তৈরি করছেন প্রতিমা। কাজের ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে প্রতিমার দাম। দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি তারা সরস্বতী ও কার্তিক প্রতিমাও তৈরি করে থাকেন।
তবে প্রতিমা তৈরি ও পূজার সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজেট নিয়ে কিছুটা বাড়তি হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে আয়োজকদের।
ব্রক্ষানীনগর পূজা মন্দিরের সভাপতি মিন্টু দত্ত বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের পূজার বাজেট বেড়েছে। অন্য বছর আমরা বাইরে থেকে প্রতিমা তৈরি করে নিয়ে আসতাম। এ বছর আমাদের মন্দিরেই পাল এনে প্রতিমা তৈরি করাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর পূজামন্ডপের ডেকোরেশন ও সাজসজ্জার খরচও অনেক বেড়েছে। ফলে এবারের পূজার বাজেটও গত বছরের তুলনায় বেশি হবে। তারপরও ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দর ও আকর্ষণীয় পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নড়াইল জেলার তিন উপজেলায় মোট ৫৪৩টি মÐপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় ২৪৯টি, কালিয়া উপজেলায় ১৪৪টি এবং লোহাগড়া উপজেলায় ১৫০টি মন্ডপ রয়েছে।
নড়াইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট পংকজ বিহারী ঘোষ বলেন, ‘আমরা নড়াইল জেলার সকল পূজামন্ডপ পরিদর্শন করছি, যাতে শারদীয় দুর্গাপূজা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়। এ লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুন্দর ও উৎসবমুখর দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারব বলে আশা করছি। সবাইকে জানাই শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা।,
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে নড়াইলে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সবাই। শিল্পীর নিপুণ হাতে মাটির প্রতিমা যেমন ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে, তেমনি মন্ডপে মন্ডপে বাড়ছে উৎসবের আমেজ। অপেক্ষা এখন দেবী দুর্গার আগমনের, আর আনন্দ-সম্প্রিতিতে শারদীয় উৎসব উদযাপনের।