দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু, সৈয়দপুরে মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ
১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। তাই, সারাদেশের ন্যায় নীলফামারীর সৈয়দপুরেও হিন্দু ধর্মাবলন্বির মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সারা বছরের অপেক্ষা শেষ হওয়ার আকাংখা, চারদিকে সাজ-সাজ রব। অবশেষে দুয়ারে পা ফেলবেন দেবী, মাঝে আর কয়েকদিন বাকি। তাই ঘিরে সৈয়দপুরে ৮০টি মন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুুতি।
প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে শিল্পীরা এখন রং-তুলির শেষ আঁচড় লাগাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দম ফেলার ফুরসত নেই যেনো তাদের। তোরণ নির্মাণ ও মন্ডপ নানা রঙে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পূজা উদযাপন কমিটি।
এদিকে পূজা চলাকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে পূজামন্ডপ গুলোতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নজরদারি। সৈয়দপুরের পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, এবার সৈয়দপুর উপজেলায় শহর ও গ্রাম মিলে ৮০টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবার ঘোড়ায় চড়ে কৈলাস থেকে দেবী দুর্গা আসছেন পৃথিবীতে, আর চলে যাবেন নৌকায় চড়ে। এখন পূজা ঘিরে মন্ডপে সাজ-সাজ রব। ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনী বার্তা জানিয়ে দেওয়া হবে সবাইকে। এখন মন্ডপগুলো আলোক-সজ্জায় সাজানো হচ্ছে। দুর্গাদেবীকে সাজিয়ে তুলতে মৃতশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। খড়কুটো ও কাদামাটির কাজ প্রায় শেষ, চলছে শুধু রং-তুলির শেষ আঁচড়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কারিগর জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিমা তৈরিতে কোনও সমস্যা হয়নি। তাই রং-তুলির কাজও দ্রæত হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে কাদা-মাটি দিয়ে দেবীকে সাজানোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। এখন এটাই আমার পেশা।’
এসময় তিনি জানান, প্রতিমা তৈরি করা ভীষণ ধৈর্য্য ও মনোযোগের কাজ। যদি একবার ভুল হয়ে যায়, তা’হলে আবার নতুন করে সেটা তৈরি করতে হয়। মায়ের কাজ মন দিয়ে করতে হয়। সঠিকভাবে করতে গেলে একেকটি মন্ডপের প্রতিমা বানাতে প্রায় তিন থেকে চার মাস লেগে যায়।’
তিনি আরো জানান, চুক্তি অনুযায়ী তারা মজুরি পান। উপকরণ ও মালামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাজ শেষে হাতে কিছুই থাকে না। এখন এই পেশায় জীবন-জীবিকা চলে না। অনেকেই অন্য পেশায় চলে গেছেন। বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে কাজটি করছেন তারা।
অপরদিকে একটি মন্ডপের সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপকরণ এবং কারিগরদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এবার প্রতিমা তৈরি ও পূজামন্ডপের সামগ্রিক খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এজন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্য খরচ বাদে শুধু কারিগদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। যা’ আগে এক লাখে করেয়েছি। তবু সবমিলিয়ে আশা করছি, পূজা সুন্দরভাবে শেষ হোক।’
নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন সংবাদকর্মীদের জানান, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে ? সে ব্যাপারে জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি, কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পূজা সুন্দরভাবে শেষ হবে।’