ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ডিমলা থেকে টাঙ্গাইলের রাকিবের লাশ উদ্ধার
ডিমলা থেকে টাঙ্গাইলের রাকিবের লাশ উদ্ধার 
ডিমলায় পাম্প মালিকের রডের আঘাতে গ্রাহক গুরতর আহত
ডিমলায় পাম্প মালিকের রডের আঘাতে গ্রাহক গুরতর আহত
নীলফামারীর ডিমলায় পাম্প মালিক ও গ্রাহকদের মধ্যে বাক-বিতন্ডার একপর্যায়ে মেসার্স আলম ফিলিং ষ্টেশনের মালিক শাহ্ আলমের রডের আঘাতে এক গ্রাহক গুরতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে  মাহবুবুর রহমান (২৭) নামের এক যুবক আহত হলে তাকে ডিমলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে।  রোববার  রাত ১০টায় ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেসার্স আলম ফিলিং ষ্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। পরে থানা পুলিশ পৌঁছে পাম্পটির যাবতীয় কার্যক্রম ও জ্বালানি তেল বিক্রি সাময়িককভাবে স্থগিত করেন।  গ্রাহকগণ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, রোববার রাতে সরকারের তেলের দাম পুননির্ধারনের ঘোষণার পরপরই মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে মোটরসাইকেল ও  প্রাইভেটকারসহ যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে। রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ১০টা থেকেই পাম্প বন্ধ করে ওই পাপ্মের কর্মচারীরা কেটে পড়েন।  পরে রাত ১২টায় পাম্প মালিক শাহ আলম মেশিনে নতুন বর্ধিত মূল্য সেটআপ শুরু করলে গ্রাহকেরা প্রতিবাদ জানান এবং আগের নির্ধারিত মূল্যে তেলের দাবি তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে একটি ভারী লোহার অ্যাঙ্গেল এনে গ্রাহকদের ওপর চড়াও হন। এ প্রসঙ্গে পাম্প মালিক শাহ আলম এর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, গ্রাহকরা রাত ১০ টার পর পূর্বের মুল্যে জ্বালানী তেলের মুল্য দিতে চাইলে তাদের সাথে আমার হাতাহাতি হয়। তিনি আরও জানান, তার পাম্পে  ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছেন।  
এক ঝুড়ি বাদাম আর এক বাবার হাজার স্বপ্ন
ডিমলা উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট কমিটি গঠন
মা'দকসেবনের ভিডিও ভাইরাল, ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
ডিমলায় পুলিশ সদস্য ক্লোজড, মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল
ডিমলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান   

ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নীলফামারীর ডিমলায় "ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু করা হয়েছে। শনিবার সারাদেশের ন্যায়  ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থানীয় পর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়। এ আয়োজিত কর্মসূচিতে  ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কমর্কতার্ মো: ইমরানুজ্জামান, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইছুল আলম চৌধুরী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন,, গোলাম রব্বানী প্রধান,উপজেলা ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী রুকুজ্জামান বকুল উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম কর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।  অভিযানের শুরুতে উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, ময়লা-আবর্জনা ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা দেন বক্তারা। তারা আরও বলেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এ কাজে জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে। নিজ নিজ বাড়ি ও কর্মস্থলের চারপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, "ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান এর কার্যক্রম ৩ মাসব্যাপী চলবে। এ সময়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সাথে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানান। 

ডিমলায় তিনদিন পর নিখোঁজ যুবকের লাশ ভেসে উঠল নদীতে

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজের তিনদিন পর তিস্তা নদীেত ভেসে উঠলো যুবকের গলিত লাশ।  জানা যায়  আরমান ইসলাম (২২) নামের এক যুবক বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর)বিকেলের দিকে তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। সে উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দোহলপাড়া গ্রামের হালিম ইসলামের পুত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজের দিন আরমান কয়েকজনসহ তিস্তা নদীতে গোসল করতে নামলে প্রবল পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে সে নিখোঁজ হন। পরে স্থানীয়রা অনেক চেষ্টা করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে রংপুর থেকে ডুবুরি দলকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে দিনব্যাপী খোজাখুজি শেষে না পেয়ে খোজাখুজি বন্ধ করেন। নিখোঁজের তিনদিন পর শুক্রবার বিকেলর দিকে স্থানীয় লোকজন আরমান হোসেনের লাশ তিস্তা নদীর ভাটিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আশরাফুল আলম সংবাদকর্মীকে বলেন, পরিবারের লোকজনের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  

কারানির্যাতিত ছাত্রনেতা রাসেলকে সভাপতি চেয়ে সরব ডিমলা ছাত্রদলের তৃণমূল

ডিমলা উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান সদস্য সচিব বারবার কারানির্যাতিত ছাত্রনেতা হালিমুল হোসেন রাসেলকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসাবে দেখতে চেয়ে তৃনমুল কর্মীর ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা ছাত্রদলের পূর্নাঙ্গ কমিটির বিষয় নিয়ে বর্তমান সময়ে বেশ আলোচনা শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তৃনমূলের পছন্দ ও অঙ্গ সংগঠনের  নেতাকর্মিদের মনে জায়গা করে নিয়েছে একটি নাম-বর্তমান উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব হালিমুল হোসেন রাসেল। রাজনৈতিক ধারাবাহিকিতায় তৃনমূল ছাত্রদলের  নেতাকর্মিদের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। তাকেই তৃনমুলের ছাত্রদল নেতাকর্মিরা আসন্ন আগামী দিনের ডিমলা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দেখতে চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন পোষ্ট নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তৃনমূলের আবেগঘন পোষ্টটি হুবহু তুলে ধারা হলোঃ   আসন্ন ডিমলা উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অনেকেই শুধু ভিউ বাড়ানোর জন্য ফেসবুকে সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন নামের প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু তৃণমূলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে আমি বলতে চাই—পদ-পদবির প্রচারণা নয়, নেতৃত্বের মূল্যায়ন হওয়া উচিত ত্যাগ, সংগ্রাম, কর্মীদের পাশে থাকা ও রাজপথের পরীক্ষিত ভূমিকার ভিত্তিতে। বিগত সময়ে যখন অনেকেই কমিটিতে নাম থাকলে ভালো চাকরি হবে না, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কায় দূরে সরে ছিলেন, তখন নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা না ভেবে রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো তৎকালীন সময়ে সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে সক্রিয় ছিলেন হালিমুল হোসেন রাসেল ভাই।নিজস্ব প্রচেষ্টায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর্মী সংগ্রহ করেছেন, প্রতিটি কর্মসূচি সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন  প্রিয় নেতা প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ভাইয়ের আস্থাভাজন ছাত্রনেতা হিসেবে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা উপেক্ষা করে বিগত দিনের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সক্রিয়। ২০১৮ সালের পোস্টারিং থেকে শুরু করে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে ছাত্রলীগের হামলায় নির্যাতিত হওয়া, ছাত্রলীগ অফিসে রমজান মাসে রোজা থাকা অবস্থান মেরে রক্তাক্ত দেখা,ভাইয়ের সাথে সর্বদাই যোগাযোগ থাকায়,এসব নিচ চোখে দেখা, ২০২২ সালে যখন তৎকালীন আন্দোলন বেগবান হচ্ছিল, তখন রাসেল ভাই আমাদের সকলকে সুসংগঠিত করে ডিমলার বুকে ঐতিহাসিক মিছিলের নেতৃত্ব দেন এবং নতুন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করেন— “তুহিন ভাই কথা দিলাম, রাজপথ দখল নিলাম।” “তুহিন ভাই বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশ।” ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ঢাকায় মিছিলে স্লোগান দিয়ে নেতৃত্ব, পরবর্তীতে হরতাল-অবরোধে রাজপথের কর্মসূচি পালন এবং পরবর্তীতে পুলিশের হাতে গ্রেফতার—কোনো কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। জামিনের পরও তিনি আরও উজ্জীবিত হয়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন, সাহস জুগিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুলাই RAB-13 তুলে নিয়ে যায় রাসেল ভাইকে,দীর্ঘ সময় গুম অবস্থায় থেকে,অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে জুলাই আন্দোলনের মামলায় কারাবরণ করেছেন। ভাই যখন কারাগারে, তখন আমরা সহযোদ্ধারাও রাজপথে আপসহীন ছিলাম। ৫ আগস্ট পরবর্তী দেশের কঠিন সময়ে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন ভঙ্গুর—তখন প্রিয় নেতা তুহিন ভাইয়ের নির্দেশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত মন্দির পাহারা, মানুষের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। পরবর্তীতে বন্যার সময়ও তুহিন ভাইয়ের নির্দেশে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, ত্রাণ বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। আজকের দিনে রাসেল ভাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তাঁর রাজনৈতিক ত্যাগ নয়—তিনি সৃজনশীল চিন্তা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছেন। ডিমলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন সুযোগের অভাবে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্যও তিনি নিজ উদ্যোগে বিনামূল্যে যাতে পড়াশোনা করতে পারেন,এই জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানেও গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং নিষিদ্ধ লীগের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন রাসেল ভাই। আমরা তৃণমূল পর্যায়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটাই প্রত্যাশা— ছাত্রদলের নিবেদিতপ্রাণ, তৃণমূলের আস্থা ও ভরসার প্রতীক, প্রিয় নেতা প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ভাইয়ের আস্থাভাজন ও প্রিয় ছাত্রনেতা হালিমুল হোসেন রাসেল ভাইকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দেখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, রাসেল ভাইয়ের সৃজনশীল পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ডিমলা উপজেলা ছাত্রদল একটি মডেল ছাত্রদল হিসেবে গড়ে উঠবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে পৌঁছে যাবে অনন্য উচ্চতায়। তৃণমূলের একটাই দাবি— হালিমুল হোসেন রাসেল ভাইকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি চাই। 

বাংলাদেশ বুলেটিনে সংবাদ প্রকাশের পর খাদ্য বিভাগের দুই কর্মকর্তার স্ট্যান্ড রিলিজ

নীলফামারীর ডিমলায় খাদ্য গুদামের দুই কর্মকর্তা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ এবং ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নবাব আলীর বিরুদ্ধে (গত ২৪ আগষ্ট ২০২৬) বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্ণীতির সংবাদ বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং একটি তদন্তটিম গঠন করে। তদন্দটিম তদন্তকালে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্ণীতির প্রাথমিক সত্যতার প্রমান পাওয়ার নথি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করেন। তারই ধারাবাহিকতায় (৩ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ চন্দ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বদলির আদেশ দেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মামুনার রশিদকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এবং নবাবকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়ায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

তিস্তায় পাথর উত্তোলনে প্রশাসনের অভিযান

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানে ১৬টি নৌকা ও ৪টি ইঞ্জিন ধ্বংস করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরানুজ্জামান, রংপুর বিজিবির মেজর জুলকার নাঈন ও ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকারের নেতৃত্বে এ অভিযান চালায়। অভিযানে পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত নৌকা ও ইঞ্জিন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইমরানুজ্জামান সংবাদকর্মীকে বলেন, ‘তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে টাস্কফোর্স গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের তালিকা করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তদন্ত ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ‘এটি এককালীন অভিযান নয়। তিস্তা নদী রক্ষায় টাস্কফোর্সের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ জড়িত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ভারী যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে গভীর খাদ সৃষ্টি ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তনের পাশাপাশি তীরভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে।

ডিমলা খাদ্য গুদামে ঘুষের বানিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

নীলফামারীর ডিমলায় খাদ্য গুদামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের চাল সরবরাহে ঘুষ আদায়, চাল কম দেয়া, নিম্নমানের চাল সরবরাহ ও সরকারি নতুন বস্তাবিক্রি করে পুরোনো ছেঁড়া-ফাটা বস্তায় বোরো ধান সংগ্রহসহ ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে খাদ্য গুদামের দুই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এর আগেও ডিমলা খাদ্য গুদামের এই দুই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কোটি টাকা ক্ষতি করে ঘুষ বাণিজ্য, টিসিবির ডিলারদের নিম্নমানের চাল সরবরাহ, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের চাল সরবরাহে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে পাওয়া  গেলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিন-দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।   অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের আগস্ট মাসে উপজেলার ৪১ জন খাদ্যবান্ধব ডিলারের মধ্যে চারজনকে ৩০ কেজির ছোট বস্তায় ও ৩৭ জনকে ৫০ কেজির বড় বস্তামোট ৬৪০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করা হয়। এসব ৩৭ জন ডিলারকে ৫০ কেজির বস্তায় চাল সরবরাহের সময় খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নবাব ডিলার প্রতি সর্বনিম্ন ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন।   ডিলারদের কম চাল ও নিম্নমানের চালও সরবরাহ করেন। এছাড়া চাল সরবরাহের আগে হাইকোর্টের রিট সংক্রান্ত অনুমতিপত্রে জেলা সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অথবা পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) অনুমতি নেওয়ার কথা বলে খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ ডিলারদের কাছ থেকে কৌশলে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এক ডিলার বলেন, বড় বস্তায় চাল নিতে গিয়ে ওসিএলএসডিকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।   পাশাপাশি হাইকোর্টের কাগজে পিপি অথবা জিপির অনুমতি নেওয়া ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসের খরচ বাবদ সব ডিলারের পক্ষ থেকে খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়াও তাকে ডিলার প্রতি দেড় হাজার টাকা করে অফিস খরচ বাবদ দেয়া হয়েছে।   অপর দুই ডিলার অভিযোগ করে বলেন, বড় বস্তায়য় চাল নেওয়ায় ডিলার প্রতি ওসিএলএসডিকে ৫ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন চাল কম পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। আরেক ডিলার বলেন, বড় বস্তায় চাল নেওয়ার কারণে আমাকেও ওসিএলএসডিকে ৪ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।   শুধু চাল সরবরাহে অর্থ আদায়ের অভিযোগই নয়, গুদামের কাগজপত্রে প্রায় ৪২ হাজার বস্তা পুরোনো দেখিয়ে ৯ হাজারের বেশি ৫০ কেজি ধারণক্ষমতার নতুন বস্তা (ক্যালেন্ডার) গোপনে বেশি দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে কম দামে পুরোনো, ছেঁড়া ও ফাটা বস্তা কম মুল্যে কিনে সেগুলোতে বোরো ধান সংগ্রহের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এসব বস্তার মধ্যে গত ৫ ও ৬ জুলাই ভোরে গোপনে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বস্তা সরিয়ে নেওয়া হয়।   পরে গত ১৩ জুলাই ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৫৮৮৫ নম্বরের একটি ট্রাকে করে আরও আড়াই হাজার বস্তাসরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে আগস্ট মাসের চাল ডিলারদের বিক্রি শেষ হওয়া মাত্রই সেপ্টেম্বর মাস শুরু হতে আরও বেশকিছু দিন বাকি থাকলেও তড়িঘড়ি করে আগে ভাগেই গত মাসের মতই ঘুষ নিয়ে সেপ্টেম্বরের চাল খাদ্য গুদাম থেকে ডিলারদের সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও খাদ্য গুদাম থেকে লোক দেখানো আংশিক ধান সরবরাহ করে অধিকাংশ ধানের মান যাচাই-বাছাই না করে ও গুদামে উত্তোলন না করেই বাহির থেকে সরাসরি ছাটাইয়ের জন্য ঘুষের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ মিলারকে দেয়া হচ্ছে। তারপর সেইসব ধান গুদামে উত্তোলন দেখিয়ে বিভিন্ন কৃষকের নামে বিল করার অভিযোগও রয়েছে ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।   এসব মিলের মধ্যে শুধু সালভি অটো রাইস মিলকে গুদামের বাহির থেকে সরাসরি ১ হাজার ২শত বস্তা ধান দেয়া হয়েছে। খাদ্য গুদাম পরিমানে কম ধান ছাটাইয়ের জন্য বের হয়ে তারও কয়েক গুন বেশি চাল গুদামে সরবরাহের জন্য আনলে লেবাররা বঞ্চিতর কারণে কয়েকটি ট্রাকের চাল কয়েকদিন খালাস না করে আটকিয়ে রাখেন। পরে এই দুই কর্মকর্তা লেবারদের সাথে সমঝোতা করে চাল খালাস(গুদামে উত্তোলন)করান।   অভিযোগ রয়েছে, ডিমলা খাদ্য গুদামের এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং দায়সারা তদন্তের জন্য সমমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে প্রধান করে এর আগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো।   এ বিষয়ে স্থানীয় ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বারবার অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠলেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? তাই বিষয় গুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।   এ বিষয়ে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নবাব বলেন, কে আপনাকে অভিযোগ করেছে তাকে আপনি অফিসে নিয়ে আসেন।   খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ বলেন, আমরা এবার পিপির নয়, জিপির অনুমতি নিয়েছি। এবার আমি কোনো রকম কারো সাথে কথা বলিনি ও কোনো রকম কোনো লেনদেনে থাকিনি। আর হয়তোবা গুদামে ৪২ হাজার বস্তার মধ্যে কিছু নতুন ছোট বস্তা বেড়িয়েছে তা বিক্রি করতে পারেন ওসিএলএসডি।   জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক ফোন রিসিভ না করলেও ক্ষুদে বার্তার উত্তরে বলেন, ম্যাসেজ দেখে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি। দু-তিন দিন অপেক্ষা করুন।   ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, আর্থিক সংশ্লিষ্টতা যদি কারো পাওয়া যায়, যদি কেউ অন্যায় করে থাকেন ও আর্থিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   

আরও
X