ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক: চুনারুঘাটের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নানা আলোচনা
চা বাগানে পূজার আনন্দ, শ্রমিকদের পাশে এমপি ফয়সল
চুনারুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ৫০হাজার টাকা জরিমানা 
চুনারুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ৫০হাজার টাকা জরিমানা 
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে হাবিবুর রহমান (৩০) নামে এক যুবককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।  বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে চুনারুঘাট উপজেলার বদরগাজী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গালিব চৌধুরী। দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান উপজেলার পঞ্চাশ এলাকার বাসিন্দা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুনারুঘাট উপজেলার বদরগাজী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।  এ সময় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর বিধান অনুযায়ী অবৈধভাবে বালু তোলার অপরাধে হাবিবুর রহমানকে আটক করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে চুনারুঘাট থানা-পুলিশের একটি দল সহায়তা করে। ইউএনও মোহাম্মদ গালিব চৌধুরী জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চুনারুঘাটে ঘুষকাণ্ডে আরেক এএসআই প্রত্যাহার
চুনারুঘাট হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, আধাঘণ্টায় দুই রোগীর মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় চুনারুঘাটের আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিহত 
চুনারুঘাটে সাহিত্য-সংস্কৃতির উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা: জহির উদ্দিন স্বপন
চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম বর্ষ উদযাপন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। গৌরবে-সৌরভে ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর)  বিকালে  উপজেলা পরিষদ  প্রাঙ্গণে "বৈচিত্র্যের উৎসব" শিরোনামে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কেক কেটে ৩৭তম বর্ষের শুভ সূচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী ,সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দীন সামসু,পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের  নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন,  হবিগঞ্জ জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আ: হাই, গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী,পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় পাল,আমিনুল ইসলাম সুজন সহ পরিষদের উপদেষ্টা, কার্যকরী সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা। বক্তারা বলেন, "শিল্প-সংস্কৃতি-সংগ্রাম আমাদের মুক্তির অভিযাত্রা" এই স্লোগানকে ধারণ করে ৩৭ বছর ধরে চুনারুঘাটে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি সংস্কৃতি লালনে এই পরিষদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হয় তারপর কেক কাটা শেষে শিশুদের নিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি জানায়, চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ কোনো নিছক বিনোদনমূলক সংগঠন নয়; সমাজ, মানুষ, দেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি দায়বদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান। সব ধরনের অসুন্দর, অপসংস্কৃতি ও অশুভের বিরুদ্ধে তাদের সাংস্কৃতিক সংগ্রাম অবিরাম। ৩৭তম বর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে পাহাড়, সমতল ও ইতিহাসমৃদ্ধ চুনারুঘাটের বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকে ধারণ করে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে চুনারুঘাটে বসবাসকারী ৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মিলনের বন্ধন দৃঢ় করাই অন্যতম প্রত্যয়। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ২ অক্টোবর  আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম,পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. ফয়সল। দ্বিতীয় পর্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন নিউ এজ সম্পাদক নুরুল  কবীর, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ ও পুলিশ সুপার জনাব মো. তারেক মাহমুদ। সুর, নৃত্য, ঐতিহ্য ও আনন্দের এই মিলনমেলায় সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পরিষদ।

চুনারুঘাটে বৈচিত্র্যের উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সাহিত্য - সংস্কৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’-এর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।  বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অক্টোবর চুনারুঘাটে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল থেকে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।  উৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে সাজসজ্জা, মঞ্চ প্রস্তুতিসহ সার্বিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে তদারকি করছে চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন। আয়োজকরা জানান, চুনারুঘাটের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশের লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা ও নানা কর্মসূচি থাকবে।  উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিতি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, হবিগঞ্জ -৪ আসেন এমপি এস এম ফয়সল।    আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

চুনারুঘাটে পোল্ট্রি ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা, বাড়ছে কর্মসংস্থান

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় রয়েছে প্রায় সহস্রাধিক পোল্ট্রি ফার্ম। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মত লাভজনক ব্যবসায় স্বাবলম্বী হয়েছে অনেকেই। উন্মুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি এ উপজেলার মুরগীর মাংসের ও ডিমের সংকটও পূরন হচ্ছে।  অত্র উপজেলায় শত শত বেকার এ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন, মুক্ত হয়েছে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে। শত শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।  সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় সহস্রাধিক লেয়ার প্রজাতি ও ব্রয়লার প্রজাতির পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। ২০০০ সালের শেষের দিকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পোল্ট্রি শিল্প লাভজনক ব্যবসায় পরিনত হয়ে এ অঞ্চলের মানুষ এ ব্যবসার দিকে আধুনিক প্রযুক্তিতে ঝুঁকে পড়ে।  তাছাড়া ১ কেজি দেশীয় মুরগীর দাম যেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা সেখোনে ১ কেজি ব্রয়লার মুরগীর দাম বর্তমানে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। অপর দিকে দেশী মুরগীর ডিমের তুলনায় হাইব্রিড প্রজাতির লেয়ার স্ট্রেইন মুরগীর ডিম অনেক বড় হয়। ফলে আর্থিক দিক থেকে লাভবান হওয়ার আশায় ক্রেতারা পোল্ট্রির ডিম বেশী কিনে থাকেন।  এ উপজেলায় মাংস ও ডিমের চাহিদা পুরনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ সব ব্রয়লার মুরগী ও ডিম চালান দিয়ে থাকে এ সব পোল্ট্রি মালিকরা। দেশের হবিগঞ্জ, মৌলভী বাজার, বি-বাড়ীয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুরগী ও ডিমের আড়ৎদারগণ ফার্ম মালিকদের অগ্রিম বুকিং মানি দিয়ে থাকেন এবং প্রয়োজন অনুসারে নিয়ে যান মুরগী ও ডিম। ফলে পোল্ট্রি মালিকদের বিক্রির ব্যাপারে মাথা ঘামাতে হয় না।  এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলার পোল্ট্রি মালিক সমিতির সদস্য সচিব উপজেলার সীমান্তবর্তী ২নং আহম্মদাবাদ ইউনিয়স্থ বগাডুবি গাউছিয়া বহুমূখী পোল্ট্রি স্বত্বাধিকারী  শফিকুল ইসলাম তালুকদার (দুলাল) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি এ সমস্ত পোল্ট্রি ফার্ম ব্যবসার উন্নয়ন এর পদ্ধতি দেখে অল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হওয়া যায় বলে জানান। সেই সুবাদে তিনিও ঐ পোল্ট্রি ফার্ম তৈয়ার করে ব্রয়লার মুরগী বিক্রয় করে অল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

চুনারুঘাটে খাল থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় খালের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই যুবকের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চুনারুঘাট উপজেলার ৭ নম্বর উবাহাটা ইউনিয়নের দুর্গাপুর বাজারসংলগ্ন ‘অনন্যা ইটভাটার’ বিপরীত পাশে নোয়াগাঁও এলাকার বন্দের বাড়ির পাশে একটি খালে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হলে চুনারুঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, খালের পানি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তকরণসহ ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত পুলিশ কাজ করছে।

চুনারুঘাটে বাড়ছে শকুনের সংখ্যা

দেশের আকাশ থেকে যখন হারিয়ে যেতে বসেছে একসময়ের অতিপরিচিত শকুন, তখন উল্টো চিত্র দেখা গেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা বনে। দীর্ঘদিনের সংরক্ষণ উদ্যোগে এই বনাঞ্চলে শুধু শকুনের সংখ্যা বাড়েনি, বেড়েছে তাদের প্রজনন সফলতাও। ২০১৪ সালে যেখানে চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গায় শকুনের সংখ্যা ছিল ৭৮টি, সর্বশেষ শুমারিতে সেখানে অস্তিত্ব পাওয়া গেছে ১১০টি বাংলা শকুনের। শকুন পরিবেশ-প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। মৃত প্রাণীর দেহ খেয়ে রোগজীবাণুর বিস্তার ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই পাখি। কিন্তু খাদ্যসংকট, আবাসস্থল ধ্বংস, গাছ কাটা এবং গবাদিপশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর ব্যথানাশক ওষুধের কারণে দক্ষিণ এশিয়াজুড়েই ভয়াবহভাবে কমেছে শকুনের সংখ্যা। বাংলাদেশেও পড়েছে এর প্রভাব। ১৯৭০ সালের শকুনশুমারি অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ছিল প্রায় ৫০ হাজার শকুন। ২০০৮-০৯ সালের শুমারিতে বাংলাদেশে সে সংখ্যা নেমে আসে ১ হাজার ৯৭২টিতে। ২০১১-১২ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ৮১৬টিতে। এমন পরিস্থিতিতে শকুন রক্ষায় ২০১৪ সাল থেকে যৌথভাবে কাজ শুরু করে বন বিভাগ ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)। ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে ঘোষণা করা হয় শকুনের জন্য ‘নিরাপদ এলাকা’। একই উদ্যোগে সুন্দরবনকেও নির্ধারণ করা হয় শকুনের নিরাপদ এলাকা হিসেবে। রেমা-কালেঙ্গায় গড়ে তোলা হয় শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্র। সেখানে শকুনের জন্য তৈরি করা হয় নিরাপদে বিশ্রাম ও প্রজননের সুযোগ। পরে প্রজনন মৌসুমে খাবারের জোগান নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয় ফিডিং সেন্টার বা শকুনের ‘রেস্তোরাঁ’। ২০১৫ সালে রেমা-কালেঙ্গা ও সুন্দরবনে চালু করা হয় দুটি ফিডিং সেন্টার। এসব উদ্যোগের প্রভাব পড়েছে শকুনের প্রজননেও। ২০১৪ সালের শুমারি অনুযায়ী, রেমা-কালেঙ্গায় শকুনের প্রজনন হার ছিল ৪৪ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ শতাংশে। এরপর থেকে বাড়তে থাকে প্রজনন সফলতার হার। ২০২১-২২ মৌসুমে রেমা-কালেঙ্গায় ১৪টি শকুনের বাসার মধ্যে সফল প্রজনন হয় ১০টিতে। এতে প্রজনন সফলতার হার দাঁড়ায় ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ। পরের মৌসুমে, অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালে ১৮টি বাসার মধ্যে ১৩টিতে সফলতা পাওয়া যায়। প্রজনন সফলতার হার বেড়ে হয় ৭২ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। সবশেষ ২০২৩ সালের আইইউসিএনের শুমারিতে রেমা-কালেঙ্গায় অস্তিত্ব পাওয়া যায় ১১০টি বাংলা শকুনের। দেশে বর্তমানে প্রায় ২৪৮টি শকুন রয়েছে বলে উঠে এসেছে পরিসংখ্যানে। এসব শকুন মূলত রয়েছে সুন্দরবন ও সিলেট অঞ্চলে। শকুন গবেষকেরা বলছেন, গবাদিপশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডাইক্লোফেনাক ও কিটোপ্রোফেনজাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ শকুন বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এসব ওষুধ খাওয়া গবাদিপশুর মৃতদেহ শকুনের জন্য হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী। শকুন রক্ষায় বাংলাদেশে গরুর চিকিৎসায় কিটোপ্রোফেনজাতীয় ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বন বিভাগ ও আইইউসিএন পরিচালিত শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের মুখ্য বন্যপ্রাণী গবেষক সীমান্ত দীপু জানালেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে শকুনের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এখন দেশে শকুনের সংখ্যা আর আগের মতো কমছে না, এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তিনি। শকুন রক্ষায় তাঁদের সব কার্যক্রম চলমান আছে। সরকার দেশে গরুর ক্ষেত্রে কিটোপ্রোফেনজাতীয় ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে উল্লেখ করে সীমান্ত দীপুর ভাষ্য, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয় শকুন সংরক্ষণ কার্যক্রম। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত খাবার দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ থাকে, যাতে শকুন মানুষের দেওয়া খাবারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে তাদের খাবার দেওয়া হয়। রেমা-কালেঙ্গায় শকুনের জন্য তৈরি করা হয়েছে খাবারের ‘রেস্তোরাঁ’। সেখানে মাসে দুটি গরু জবাই করে শকুনকে খাবার দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার সরবরাহের পাশাপাশি তাদের চলাচল, খাবার গ্রহণ ও প্রজনন কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হয়—যোগ করলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে আমরা শকুনের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এটা আমাদের বড় সফলতা। নেপাল ও ভারতও শকুন রক্ষায় আমাদের পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। আমাদের দেখাদেখি তারাও এ ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে।’ শকুন নিয়ে কাজ করেন জেনিফার নামের একজন। তিনি জানান, রেমা বনাঞ্চলে শকুনের বংশবিস্তার নিয়ে কাজ করছেন তাঁরা। যে হারে শকুনের সংখ্যা কমতে শুরু করেছিল, সেটি এখন থেমে গেছে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বীকৃতিসহ ৬ দফা দাবি চা শ্রমিকদের

ভাষা, সংস্কৃতি, ভূমি ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও নতুন গেজেট সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন হবিগঞ্জের চা শ্রমিকরা। এ দাবিতে মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি ও চুনারুঘাট উপজেলার ১৮টি চা বাগানে বসবাসরত চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সলের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে (১৬ সেপ্টেম্বর) মাধবপুরে সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কার্যালয়ে তাঁর কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম, ঝাড়খণ্ডসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে এ অঞ্চলে চা শ্রমিক হিসেবে আসেন তারা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। চা শ্রমিকরা তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির স্বীকৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট সংশোধনের দাবি তোলা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করে সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল বলেন, চা শ্রমিকরা যেন নিজেদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে বাংলাদেশে সমান সুযোগে সুনাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি জাতীয় সংসদে তাদের অধিকার নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, চা বাগানের শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

হাজী ইয়াছিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দিনের মৃত্যু বার্ষিকী পালন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ৬নং সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মুসলিম উদ্দিনের ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে হাজী ইয়াছিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুসলিম উদ্দিনের ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সমাজ সেবক মোঃ নাসির উদ্দিন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পৌর মেয়র নাজিম উদ্দিন শামসু। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব আলী বিশিষ্ট মুরুব্বি মোঃ আলাউদ্দিন ও আলী হোসেনসহ অনেকেই। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিলে মোনাজাত করেন উত্তর বড়াইল গাউসুল আজম জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ আব্দুল হামিদ।  

আরও
X