ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
লাখাইয়ে সন্ধ্যার পর লোকালয়ে শেয়ালের তাণ্ডব, নারী ও শিশুসহ আহত ৩২
লাখাইয়ে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ​
গুলিতে হত্যা ১৮৭ / লাখাইয়ে ‘কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস’ 
লাখাইয়ে ‘কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস’ 
 ১৮ সেপ্টেম্বর লাখাই উপজেলার কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত কৃষ্ণপুর গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে ৫০ জন নিহত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিত এ ঘটনায় ভোরে পাকিস্তানি সেনারা লাখাই, নাসিরনগর ও অষ্টগ্রাম থানার রাজাকারদের সহযোগিতায় গুলি চালিয়ে একসঙ্গে ১২৭ জন বাঙালি হিন্দুকে হত্যা করে। পরে তাদের লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। তখন কৃষ্ণপুর ছিল বৃহত্তর সিলেট জেলার একটি প্রত্যন্ত হাওরগ্রাম। বর্তমানে এটি লাখাই উপজেলার দক্ষিণে, থানা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। গ্রামের দক্ষিণে বলভদ্র নদী, যার ওপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত চণ্ডীপুর গ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ছয় মাস কৃষ্ণপুরের মানুষ অনেকটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বহু সনাতন ধর্মাবলম্বী সেখানে আশ্রয় নেন। তাদের ধারণা ছিল, হাওরের প্রত্যন্ত এই গ্রামে পাকিস্তানি সেনারা আসবে না। লাখাইয়ে পাকিস্তানি সেনাদের প্রথম ক্যাম্প ছিল মানপুরে। পরে স্বজনগ্রামের টাউনশিপে ক্যাম্প করা হয়। মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ ও যোগাযোগের অসুবিধায় পরে তারা লাখাই ছেড়ে অষ্টগ্রামে চলে যায়। স্থানীয় প্রবীণ ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর রাজাকাররা কৃষ্ণপুরে গণহত্যার পরিকল্পনা করতে অষ্টগ্রামের পাকিস্তানি ক্যাম্পে জড়ো হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে তারা নৌকা, স্পিডবোট ও লঞ্চ নিয়ে গ্রামটি ঘিরে ফেলে। ১৮ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা থেকে ৫টার দিকে অষ্টগ্রাম সেনাক্যাম্প থেকে একটি স্পিডবোট ও ১০ থেকে ১২টি বড় নৌকায় পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল কৃষ্ণপুরে আসে। তাদের সঙ্গে ছিল লাখাইয়ের মুরাকরি গ্রামের খেলু মিয়া, লিয়াকত আলী ও বাদশা মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফান্দাউকের আহাদ মিয়া ও বল্টু মিয়া, অষ্টগ্রামের লাল খাঁ, আমিনুল ইসলাম ওরফে রজব আলী এবং লাখাইয়ের সস্তোষপুরের মোর্শেদ কামাল ওরফে শিশু মিয়াসহ ৪০ থেকে ৫০ জন রাজাকার-আলবদর। গ্রামে ঢুকেই পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে গুলি চালায়। রাজাকাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। পরে গ্রামে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় কমলাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ১৩১ জন হিন্দুকে চক্রাকারে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করলে ১২৭ জন নিহত হন। প্রিয়তোষ রায়, নবদ্বীপ রায় ও হরিদাস রায় গুলিবিদ্ধ হয়েও বেঁচে যান। তাদের মধ্যে হরিদাস রায় এখনো সেই স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন। এ ছাড়া লালচাঁদপুরে মধু নমঃশুদ্রের বাড়িতে ৫১জনকে এবং গোকুলনগরে ৮জন হিন্দুকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়। তিন স্থানে মোট ১৮৬ জন নিহত হন। ২০১০ সালের ৪ মার্চ হরিদাস রায় রাজাকার লিয়াকত আলীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। হত্যার হুমকি পেয়ে ৭ জুন লাখাই থানায় জিডি করেন তিনি। ১২ আগস্ট কৃষ্ণপুর গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গৃহীত হয়। লিয়াকত আলী ও রজব আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও লুটপাটের সাতটি মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। লিয়াকত আলী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এবং রজব আলী পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছর শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হলেও এবছর সেরকম কোন খবর পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার রাতে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান জানান, তিনি ঢাকায় রয়েছেন এবং দিবসটি সম্পর্কে অবগত নন।  
কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবসে উপজেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা
লাখাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক্টর উল্টে চালক নিহত
হবিগঞ্জে মাদক উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ লাখাই থানা, শ্রেষ্ঠ অফিসার এসআই আবু কাউছার
লাখাইয়ে নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন
লাখাইয়ে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক মাদক ব্যবসায়ী মো: আবদাল মিয়াকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মোড়াকরি মহাসংকীর্তন মন্দিরের সামনের মাঠের পূর্ব পাশের একটি ডোবা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আবদাল মিয়া মোড়াকরি (পূর্বপাড়া) গ্রামের অনু মিয়ার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাখাই থানার ২০২৩ সালের ১৫ জুলাইয়ের একটি মাদক মামলায় [জিআর-৭৯/২৩ (লাখাই), ধারা- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ১০(ক)] বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আবদাল মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সাজা ঘোষণার পর থেকেই সে গ্রেফতার এড়াতে পলাতক ছিল। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাখাই থানার এসআই মো: আবু কাউসার ও এএসআই ওয়াসিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ওয়ারেন্ট তামিল অভিযান পরিচালনাকালে ওই ডোবা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। লাখাই থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আজ বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় অপরাধ ও মাদক দমনে পুলিশের এমন বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কে পিকআপ-টমটম সংঘর্ষে মাছ ব্যবসায়ী নিহত

লাখাই - হবিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে মাছবাহী পিকআপ ও যাত্রীবাহী ব্যটারী চালিত  টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো: বাচ্চু মিয়া (৪০) নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাখাই থানার তিসকার পুল এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত বাচ্চু মিয়া লাখাই উপজেলার মুড়িয়াউক গ্রামের আবু তালেবের পুত্র বলে যানা গেছে।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওদিন  সকালে লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের তিসকার পুল এলাকায় একটি মাছবাহী পিকআপের সাথে বিপরীতমুখী একটি যাত্রীবাহী টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, এতে পিকআপের চালকের পাশের সিটে বসা মাছ ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ সময় টমটমে থাকা আরও চার যাত্রী গুরুতর আহত হন।  স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পাশের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন।  দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপ চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে লাখাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: শাহআলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং লাশ উদ্ধার করেন। লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এঘটনায় পিকআপের চালক পলাতক রয়েছে। এই দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও
X