ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জগন্নাথপুরে বিয়ের দাওয়াত নিয়ে বিরোধ, হামলায় নিহত ১
জগন্নাথপুরের শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের নবীন বরণে এমপি কয়ছর আহমেদ
জগন্নাথপুরে ৩৯ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি
জগন্নাথপুরে ৩৯ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত চলবে পাঁচ দিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসব। এ উপলক্ষে উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপে চলছে নানা প্রস্তুতি। উপজেলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিজন কুমার দেব ও সাধারণ সম্পাদক বিভাশ দেবের নেতৃত্বে দুর্গোৎসব উদযাপনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিজন কুমার দেব জানান, এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩৬টি সর্বজনীন এবং ৩টি পারিবারিক পূজামণ্ডপ রয়েছে। উপজেলার সবকটি পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি অনুদান বরাদ্দ থাকবে বলেও তিনি জানান। উপজেলার সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুরের আখড়াবাড়ি পূজামণ্ডপ। প্রতিবছর এ মণ্ডপে বিপুলসংখ্যক ভক্ত, দর্শনার্থী ও পূজার্থীর সমাগম ঘটে। এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। পূজা শুরু থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলেও তিনি জানান। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় জগন্নাথপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উৎসবটি সবার মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের
জগন্নাথপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
জগন্নাথপুরের মিরপুর ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনী আমেজ
জগন্নাথপুরে পুলিশের অভিযানে পাচারকারী নারী গ্রেপ্তার
জগন্নাথপুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন সংসদ সদস্য কয়ছর আহমেদ 
‘আওয়ামী লীগের দোসররা দেশে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে’

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্ট থেকে প্রতিবাদ মিছিলটি শুরু হয়। পরে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি আবার পৌর পয়েন্টে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং জগন্নাথপুর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মিছিলটি বড় আকার ধারণ করে। জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হুরায়রা সাদ মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মিটু ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। বক্তব্যে মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ধূসররা দেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। আমরা আজকের এই প্রতিবাদ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশ থেকে জানিয়ে দিতে চাই, এই দেশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের স্থান আর হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে এ দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ ফাঁসির রায় অবশ্যই কার্যকর করবে। তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সজাগ থাকতে হবে। যারাই দেশে সন্ত্রাস করার চেষ্টা করবে এবং উন্নয়ন ও উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’ কয়ছর আহমেদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জও এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। সন্ত্রাস, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সুনামগঞ্জ দায়রা ও জেলা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সুহেল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মুকিত, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহিম শাহিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মুসাব্বির আহমদ, আব্দুস সোবহান, সুহেল আহমদ খান টুনু, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মতিন, দিলু মিয়া, শামসুল ইসলাম ও তকবুর মিয়া। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম খসরু, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সদস্য লুতফুর রহমান, সদস্য মির্জা আবুল কাশেম স্বপন, সানোয়ার হোসেন সুনু, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সদস্য মির্জা নিকছন, পৌর বিএনপির সদস্য আছকির আলী, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবুল হাশিম ডালিম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুবেদ আলী লখন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক লিটন মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাজী হারুনুর রশিদ হারুন, সদস্য সচিব নাসিম আহমেদ রুয়েল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরুল আমিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ মামুন, সদস্য সচিব শামসুল ইসলাম জাবির, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমন আহমেদ, সদস্য সচিব মোবারক হোসেন তুহিন, জগন্নাথপুর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাকারিয়া আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক সাখায়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‘একসাথে ভাবি, একসাথে গড়ি—উন্নত শ্রীরামসি’: প্রবাসী-স্থানীয়দের ঐক্যে এনআরবি ও গ্রামবাসীর মতবিনিময় সভা

প্রবাসে থেকেও শিকড়ের টান—আর নিজের গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয়। এই ভাবনা থেকেই ‘একসাথে ভাবি, একসাথে গড়ি—উন্নত শ্রীরামসি’ স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবি। বৃহত্তর শ্রীরামসি গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটির লক্ষ্য—প্রবাসী ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শ্রীরামসি গ্রামকে জগন্নাথপুর উপজেলার একটি আধুনিক ও মডেল গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা এ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকার উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। শুধু উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নয়—শ্রীরামসি গ্রামকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং যুবসমাজকে অতিথেও খেলাধুলা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ট্রেজারারসহ প্রবাসী সদস্যরা দেশে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে থেকে যারা গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির কার্যক্রম পরিচালনা ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন, তাদের নিয়ে একটি নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে প্রবাসী ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি বাজারে বৃহত্তর শ্রীরামসি যুবসমাজ ও গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই মতবিনিময় সভা। গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির চেয়ারম্যান দরছ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সমাজসেবক আনাছুর রহমান আনাছের পরিচালনায় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক শেরীন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, ট্রেজারার সালা উদ্দিন, সমাজসেবক পারবেজ তালুকদার, আনোয়ার আলী, সমাজসেবক আব্বাছ মিয়া, ফরহাদ চৌধুরী, আবুল মনসুর খাঁন মাসুম, সাবেক মেম্বার শাহাব উদ্দিন , রুনু মিয়া, কমর উদ্দিন, প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সালিশি ব্যক্তিত্ব সজিদ আলী, সুনাহর আলী, হিরন মিয়া, আমির আলী, আওয়াল মিয়া, আরশদ আলী, ছান মিয়া, সাবেক ফুটবলার বদরুল ইসলাম, হাফিজ আব্দুল করিম, সফিক আলী, আব্দুস সালাম ও আব্দুল মুমিন, জাহেদ মিয়া, আফজল মিয়া,আলি আহমদ ,হায়দার আলী,  নাজিম উদ্দিন, তাসিন কামালি,কাউছার আহমদ, সাইফুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান শামীম, শিপন আহমদ,শান্ত,রাব্বি, হাসান মিয়া, তুফায়েল আহমদ, মাহফুজ, সামি, এলাকার যুব সমাজ ও  গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মতবিনিময় সভায় শ্রীরামসি গ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, অসহায় মানুষের সহযোগিতা, যুবসমাজকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আর স্থানীয়দের শ্রম, মেধা ও ঐক্য—এই সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে শ্রীরামসির উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিতে।

প্রবাস থেকে শিকড়ের টানে দেশে ফিরলেন গ্রেটার শ্রীরামশী এনআরবি নেতৃবৃন্দ

প্রবাসে থাকলেও ভুলে যাননি নিজের শিকড়। দেশের উন্নয়ন, এলাকার অগ্রগতি আর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির তিন জন সমাজ সেবক।  গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির নতুন কমিটি গঠনের পর প্রথমবারের মতো দেশে ফিরেছেন সংগঠনটির তিন শীর্ষ নেতা। তাদের দেশে আগমনকে ঘিরে শ্রীরামশীতে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও উৎসবের আমেজ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির চেয়ারম্যান দরছ মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ও কোষাধ্যক্ষ সালা উদ্দিন। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম দেশে আগমন। প্রবাসে থাকাকালে তারা শ্রীরামসির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, সামাজিক কার্যক্রম ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করার পাশাপাশি, অতীতেও গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের দেশে ফেরার খবরে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শ্রীরামসি গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয় উষ্ণ অভ্যর্থনা। ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় প্রবাসী তিন জনকে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর মীরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মাহবুবুল হক শেরীন, তাহের চৌধুরী, সমাজসেবক দুলাল মিয়া, ফরহাদ চৌধুরী, আব্দুল কুদ্দুস, নুনু মিয়া, আব্বাছ মিয়া, জাহেদ আহমদ, জয়নাল হুসেইন, তাসলিমুল হক জুমন, আলী আহমেদ, শিপন আহমদ, হাসান মিয়া ও জাহিদুর রহমান শামীমসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে শ্রীরামসি যুবসমাজের উদ্যোগে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির চেয়ারম্যান দরছ মিয়ার বাড়িতে তিন প্রবাসী নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবসমাজের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং খেলাধুলার প্রসারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। শ্রীরামসির তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং গ্রামের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কারণে স্থানীয়দের মাঝেও রয়েছে তাদের নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তরুণ সমাজসেবক আব্বাছ মিয়া, শ্রীরামসি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক সভাপতি আনোয়ার আলীসহ যুবসমাজের জাহেদ মিয়া, আনাসউর রহমান আনাস, পারভেজ তালুকদার, ফাহমিদুল ইসলাম তুহিন, আফজল মিয়া, আলী আহমদ, হায়দার আলী, নাজিম উদ্দিন, তাসিন কামালী, কাউছার আহমদ, সাইফুল ইসলাম, জাহিদুর রহমান শামীম, শিপন আহমদ, শান্ত, রাব্বি, হাসান মিয়া, তুফায়েল আহমদ, মাহফুজ ও সামিসহ অনেকে। প্রবাসে থেকেও জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা—আর সেই দায়বদ্ধতা থেকেই এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে দেশে ফিরেছেন গ্রেটার শ্রীরামসি এনআরবির নেতৃবৃন্দ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও প্রবাসী এই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রীরামশীর উন্নয়ন, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

জগন্নাথপুরে কুশিয়ারায় বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ৪ লাখ টাকা জরিমানা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়ন সংলগ্ন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কুশিয়ারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে অনুমোদিত এলাকার বাইরে থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি ড্রেজার ও দুটি বলগেট নৌকা আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় কুশিয়ারা নদীতে এ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীনের নেতৃত্বে থানার এসআই ওমর ফারুক, উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী ফারুক আহমদ, পাইলগাঁও রানীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) সেলিম মিয়া। অভিযান সূত্রে জানা যায়, পাইলগাঁও ইউনিয়ন সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীর এতবারপুর মৌজা এলাকায় অনুমোদিত বালুমহালের বাইরে থেকে একটি ড্রেজার ও দুটি বলগেট নৌকার মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বালু উত্তোলনরত অবস্থায় একটি ড্রেজার ও দুটি বলগেট নৌকা আটক করা হয়। এসময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোবাইল কোর্টে দুই আসামির প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুশিয়ারা নদী থেকে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে অবৈধ বালু উত্তোলন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা জানান, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কিংবা নির্ধারিত বালুমহালের বাইরে থেকে বালু উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারি সম্পদ সুরক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা ভাল। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টে দুই আসামির প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রত্যেককে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি আইন অমান্য করে কেউ বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জেরে তামান্না আক্তার জলি (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।  রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের নিউমার্কেট কাঠালখাই (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে বাবার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত তামান্না আক্তার জলি ওই গ্রামের আব্দুল মজিদ ও নাসিমা বেগম দম্পতির মেয়ে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে জগন্নাথপুর উপজেলার আলমপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মারুফ আহমেদের (৩২) সঙ্গে তামান্না আক্তার জলির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আয়াত বেগম নামের ১৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর তার স্বামী সৌদি আরব চলে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একাধিকবার বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসাও করা হয়। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হলে গত ৬-৭ দিন আগে জলি তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ঘটনার দিন রোববার সারাদিন মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে জলির তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে জলি বসতঘরের শোয়ার ঘরের চালের তীরের লোহার আংটার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। এ সময় তার ১৩ মাস বয়সী শিশু সন্তান চিৎকার করে উঠলে বাবা আব্দুল মজিদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা দৌড়ে ঘরে যান। তারা জলিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট জেলার গোয়ালাবাজারস্থ ডাক্তার ইকবাল মাহমুদের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে এনে জগন্নাথপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তালাবদ্ধ ঘর নারীর পচাগলা মরদেহ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবের বাজার ২নং ইনাতনগর এলাকায় একটি বন্ধ ঘর থেকে আসিয়া বেগম (৫৫) নামের এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ঘরের ভেতর থেকে তীব্র পচা গন্ধ ভেসে আসলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। নিহত আসিয়া বেগম ওই এলাকার মৃত আব্দুল মালিকের স্ত্রী। তিনি একাই বাড়িতে বসবাস করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসিয়া বেগমের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তিনি একাই ওই ঘরে থাকতেন। সোমবার রাতে নিহতের দেবরপুত্র সুজাত ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ পেয়ে দরজায় জোরে ধাক্কা দেন। এতে দরজা সামান্য ফাঁক হলে ভেতরে পচাগলা দেহ দেখতে পান। তবে ঘরের বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগানো ছিল। পরবর্তীতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় বিশিষ্ট মুরুব্বি, কবি ও লেখক শাহ্ মাহফুজুল করিম জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে যান। দরজায় তালা ঝুলছিল এবং তা যেন কোনোভাবে ফাঁক করা না যায়, সেজন্য তালা লাগানোর স্থানে কৌশলে একটি বাঁশের লাঠিও গুঁজে রাখা হয়েছিল। নিহত আসিয়া বেগমের মেয়ে কল্পনার স্বামী দিলশাদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, "আমার শাশুড়ির কাছে চিকিৎসার জন্য রাখা প্রায় ৪০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই টাকার লোভেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু হলে বাইরে থেকে তালা দেওয়া সম্ভব হতো না, কারণ চাবি সবসময় তার কোমরেই ঝুলানো থাকত।" ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, "প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। দ্রুতই তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

৪৮ কোটি টাকার সংস্কারেও টেকেনি সড়ক, দুর্ভোগে দুই উপজেলার মানুষ

২৬ কিলোমিটারজুড়ে খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতা, অনিয়মের অভিযোগ—দ্রুত সংস্কার না হলে পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সঙ্গে সিলেট বিভাগীয় শহর ও রাজধানী ঢাকার সড়কপথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর আঞ্চলিক সড়ক। জনগুরুত্বপূর্ণ এই ২৬ কিলোমিটার সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখলেই গা শিউরে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র ৩ বছর আগে সংস্কার করা সড়কের বেহাল চেহারা প্রমাণ করে কী পরিমাণ লুটপাট চালানো হয়েছে সে সময় পাঠানো বরাদ্দ থেকে। জনগুরুত্বপূর্ণ ২৯ কিলোমিটার এই সড়কের ২৬ কিলোমিটারজুড়ে শুধুই খানাখন্দ আর ভাঙা অংশ। দেখে বোঝার উপায় নেই ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র ৩ বছর আগে এই সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। টেকসই সংস্কারের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। দাপ্তরিক তথ্য অনুসারে, ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আঞ্চলিক সড়কের জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্ট থেকে রশিদপুর পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার অংশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন। দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙা অংশ আর খানাখন্দে ভরা সড়কে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের এক উপজেলার অংশ ভালো থাকলে অন্য উপজেলার অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকে। এই দুর্ভোগ থেকে নিষ্কৃতি পেতে ২০১৮ সালে সড়কটি এলজিইডি থেকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরে হস্তান্তরে জোরালো দাবি ওঠে। পরে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের হস্তক্ষেপে এলজিইডি সড়কটি মানসম্মতভাবে করার অঙ্গীকার দিয়ে নিজেদের অধীনেই রাখে। সুপারিশের ভিত্তিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে ২৬ কিলোমিটার অংশের জন্য ৪৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় (২০ শতাংশ অতিরিক্ত দরে)। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কাজ পান দুই ঠিকাদার-জগন্নাথপুরের ১৩ কিলোমিটার অংশের কাজ ২৫ কোটি ৮ লাখ টাকা নিজেদের ভাগে নেয় হামীম সালেহ জেভি। বিশ্বনাথ অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাজ পায় শাওন এন্টারপ্রাইজ। অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরুতেই পুরোনো পাথর তুলে বালু ও ইটের খোয়া মিশিয়ে কার্পেটিং করা হয়। সেই সময়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করা হলেও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঠিকাদারের পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে ২০২৩ সালে কাজ শেষ হতে না হতেই ফের সড়কের বিভিন্ন স্থান ভাঙতে শুরু করে। ইতোমধ্যে আরও প্রায় ৮০ লাখ টাকা (উভয় অংশে ৪০ লাখ টাকা করে) জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের নামে ব্যয় করা হলেও সড়কের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী রজত গোপ বলেন, জরুরি কাজে সিলেট যেতে হলে এই ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বৃদ্ধ ও রোগীদের অবস্থা নাজুক হয়ে যায়। জগন্নাথপুর বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি নিজামুল করিম আক্ষেপ করে বলেন, লুটপাটের স্বার্থেই এলজিইডি সড়কটি নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিল। বাসচালকরা এখন আর এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে চান না। বিশ্বনাথ যানবাহন মালিক-শ্রমিকনেতা নজরুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দ্রুত সড়ক সংস্কার করা না হলে তারা কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবেন। অন্যদিকে, জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক অধিকার ফোরামের আহবায়ক এম এ কাদির আঞ্চলিক এই সড়কটিকে দ্রুত সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরে হস্তান্তরের দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডি সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন দাবি করেন কাজে অনিয়ম হয়নি। তবে সিলেটের এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান জানান, তিন বছরের মাথায় সড়কটি কেন ভেঙে গেল, তা দেখা হবে।

আরও
X