ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন দিন বাকি। প্রার্থীরা শেষ সময়ের তোড়জোড় প্রচার চালাচ্ছেন। গত মাসের ২২ তারিখ থেকে শুরু হওয়া প্রচারণা শেষ হবে চলতি মাসের ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়। নির্বাচনের পালে হাওয়া লাগার শুরু থেকেই মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। এ ছাড়া দীর্ঘ পৃষ্ঠার নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করেছে দলগুলো।
প্রচার-প্রচারণা নিয়ে প্রার্থীদের পরস্পরের প্রতি অভিযোগের কমতি নেই। এর মধ্যে দলগুলোর অভিযোগ, নামের আগে পরে ‘ইসলাম’ লাগানো রাজনৈতিক দলগুলো ধর্ম ব্যবহার করে ভোট চাচ্ছেন। তারা ভোটের মাধ্যমে ‘জান্নাতের টিকিটের’ গ্যারান্টি দিচ্ছেন। তাদের ভোট দিলে ইসলামকে বিজয় করার সমতুল্য বলে দাবি করছেন।
এদিকে কেউ কেউ আবার বলছেন, ‘অমুক দল ইসলামি দল নয়। ইসলাম নাম ব্যবহার করে। তাদের ভোট দেওয়া হারাম। অমুক দলকে ভোট দেওয়া মুসলমানদের জন্য জায়েজ নেই। তারা ক্ষমতায় গেলে ইসলামের গোড়া কেটে ফেলবে।’
এমন প্রচার-প্রচারণার নানামাত্রিক আয়োজনে ভোটাররা পড়েছেন মুশকিলে। তারা প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোট দেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছেন। ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কাকে ভোট দেওয়া উচিত? ভোটের সঙ্গে কি জান্নাতের সম্পর্ক আছে।
নেতা নির্বাচনে ইসলাম কী বলছে
ইসলামি বিধান মতে, ভোট আমানত। সৎ, যোগ্য, দক্ষ এবং দায়িত্বপালনে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে ভোট দিতে হবে। নির্বাচিত হলে যে মানুষ, সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধ করবে না। যার কাছে নিরাপদ থাকবে দেশ, ধর্ম এবং ইমান। গোষ্ঠী বা দলীয় স্বার্থের কারণে অসৎ, অযোগ্য, অদক্ষ ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিনিধিকে ভোট দেওয়া যাবে না।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে অবশ্যই পরিপূর্ণ দ্বীনদার (সার্বিকভাবে যিনি ইসলাম পালন করেন) ও আমানতদার (বিশ্বস্ত) হতে হবে। সমাজ ও দেশে শৃঙ্খলা রক্ষার যোগ্যতা থাকতে হবে। সৎ, যোগ্য, যার কাছে জনগণের জীবন ও সম্পদ এবং দেশ নিরাপদ থাকবে, তাদের ভোট দিতে হবে।’
ভোট দেওয়া নিয়ে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. হাফেজ এবিএম হিজবুল্লাহ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘দল, মত ও গোষ্ঠীর বাইরে গিয়ে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। চাঁদা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্তদের ভোট দেওয়া যাবে না। যারা ধর্মবিরোধী আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসানো যাবে না।’
ভোট সদকায়ে জারিয়া
যে কাজের সওয়াব অব্যাহত থাকে, তা সদকায়ে জারিয়া। মৃত্যুর পরও এর সওয়াব পাওয়া যায়। ইসলামে সদকায়ে জারিয়ার বেশ গুরুত্ব আছে। মহানবী (সা.)-ও সদকায়ে জারিয়ার কাজে উৎসাহিত করেছেন। ড. হিজবুল্লাহ’র মতে ভোট হলো সদকায়ে জারিয়া। তিনি বলেন, ‘আপনার ভোটে নির্বাচিত প্রার্থী ভালো কাজ করলে এর সওয়াব পাবেন। তিনি অন্যায় করলে এর দায় আপনাকে নিতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থী অন্যায় কাজও করতে পারেন, সে জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। তাহলে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন।’
ভোটের সঙ্গে জান্নাতের সম্পর্ক আছে?
নির্বাচনি জনসংযোগে প্রায় সব দলের প্রার্থীদের পোশাকে পরিবর্তন আসে। সেই সঙ্গে ভোট প্রার্থনায় থাকে সর্বোচ্চ নমনীয় ভাব। অভিযোগ উঠেছে, প্রার্থীদের কেউ কেউ ধর্মের নামে চান ভোট আর ভোটের বিনিময়ে দিয়েছেন জান্নাতের টিকিটের প্রতিশ্রুতি । এ বিষয়ে মাওলানা আজিজুল হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ভোট আমানত ও সাক্ষী। দেশের সংবিধান অনুযায়ী ভোট দেওয়া অধিকারও। এ ক্ষেত্রে ভোটার তার পছন্দনীয় প্রার্থীকে ভোট দেবে। ভোট দিলে জান্নাত পাওয়া যাবে, এসব অযৌক্তিক কথা। জান্নাতের সঙ্গে ভোটের সম্পর্ক নেই।’
এ ছাড়া ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করা প্রতারণা বলে মনে করেন এবিএম হিজবুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এটার যুক্তি নেই। যিনি জান্নাত দেওয়ার কথা বলছেন, তিনি কি জান্নাতের মালিক। জান্নাতের মালিক তো আল্লাহ।’
মন্তব্য করুন








