রাত পোহালেই দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এর মধ্যে অনেক কেন্দ্রে পৌঁছেছে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম। ভোটারদের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসবমুখর আয়োজন। ভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকা ছেড়ে মানুষের বাড়ি ফেরা ঈদ আনন্দে রূপ নিয়েছে।
এদিকে প্রার্থীরা নিজের ব্যালটে ভোট তুলতে বিভিন্ন রকম কসরত করছেন। দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি। প্রার্থীদের কেউ কেউ অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে আনছেন গুরুতর অভিযোগ। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ ইত্যাকার ট্যাগ দিচ্ছেন কারও কারও বিরুদ্ধে। ভোটারদের কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন, নির্বাচিত প্রার্থীর খারাপ কাজের দায় ভোটারের ওপর বর্তাবে কি না?
ইসলামী বিশ্বাস মতে, দুনিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে যে যেমন কাজ করবে, পরকালে সে তার কাজ অনুযায়ী ফল ভোগ করবে। সেখানে একজনের পাপের জন্য আরেকজনকে দায়ী করা হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে, সে তার শাস্তি পাবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১২৩)
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কেউ কারও পাপের বোঝা বইবে না।’ (সুরা ফাতির, আয়াত: ১৮)
তবে কোনো কাজে কাউকে সহযোগিতা করলে এর প্রতিদান পাওয়া যাবে। ভালো কাজে সহযোগিতা করলে সওয়াব পাওয়া যাবে। অন্যায় কাজে সহযোগিতা করলে আমলনামায় লেখা হবে গুনাহ। জেনে-বুঝে মন্দ প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর সে যদি নির্বাচিত হয়ে অপরাধ করে, তাহলে এর দায়ভার ভোটারের ওপর আসবে।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘মানুষের ব্যক্তিগত ভুল-বিচ্যুতি, খারাপ কাজ ও গুনাহর দায়ভার সম্পূর্ণ তার। আপনি জেনে-বুঝে দলীয় আনুগত্য বা কোনো স্বার্থে মাদকসেবী, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, খুনিকে ভোট দিলেন, সে নির্বাচিত হয়ে যদি অন্যায় কাজ করে, তাহলে এর একটা ভাগ আপনাকে বহন করতে হবে। কোনো কিছু না করেও শুধু ভোট দেওয়ার কারণে পাপের বোঝা আপনাকে নিতেই হবে।’
ভোট দেওয়ার সময় আমানতদারিতা রক্ষা করা ইমানি দায়িত্ব বলেও জানান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্ট্যাডিজ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. হাফেজ এ বি এম হিজবুল্লাহ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আপনার ভোটে নির্বাচিত প্রার্থী ভালো কাজ করলে এর সওয়াব পাবেন। তিনি অন্যায় করলে এর দায় আপনাকে নিতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থী অন্যায় কাজও করতে পারেন, সে জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে।’
মন্তব্য করুন








