ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন 

রায়হান রাশেদ

  ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩১
হিলাল বিন জাহাম মসজিদ, দোহা, কাতার। সংগৃহীত ছবি

মুমিনজীবনের একমাত্র লক্ষ্য আল্লাহকে খুশি করা। আল্লাহকে পেয়ে গেলে জীবন সুন্দর ও সার্থক। আল্লাহকে পেতে হলে তাঁর বিধান মানতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। আল্লাহর বিধান আর নবীজির আদর্শ ছাড়া আল্লাহর প্রিয় হওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন, এখানে তাদের কথা উল্লেখ করা হলো—

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মুমিন হতে হবে
জান্নাতে যাওয়ার প্রথম শর্ত হলো মুমিন বা এক আল্লাহ বিশ্বাসী হওয়া। কোরআন-হাদিস মেনে জীবন পরিচালনা করা। যারা মুমিন তাদের সঙ্গে আল্লাহর ভালোবাসা গভীর। তারা আল্লাহকে সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসে। আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা মুমিন আল্লাহর সঙ্গে তাদের ভালোবাসা প্রগাঢ়।’ (সুরা বাকারা, হাদিস : ১৬৫)

তওবাকারী
গোনাহ করা মানুষের স্বভাব। গোনাহের পর ভেতরে অনুশোচনা জাগলে মানুষ তওবা করে। যারা গোনাহের পর তওবা করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। তাদের গোনাহ মাফ করে দেন। কিন্তু যারা গোনাহের পর তওবা করে না, আল্লাহ তাদের প্রতি রাগান্বিত হন। তাদের দূরে ঠেলে দেন। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, হাদিস : ২২২)

নবীজির অনুসরণে আল্লাহর ভালোবাসা
মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীর সেরা মানুষ। তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণই মানুষের একমাত্র মুক্তির পথ। তাঁর অনুসরণ ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। আর যারা তাঁর অনুসরণ করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসুল, আপনি) বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো; তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ৩১)

পবিত্রতা অর্জনকারী
ইবাদত গ্রহণযোগ্য হওয়ার পূর্বশর্ত পবিত্রতা অর্জন। মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে পবিত্রতার বিষয়ে অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে বলেছেন। আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীকে ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের।’ (সুরা বাকারা, হাদিস : ২২২)

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী
নিজের অবস্থান অনুযায়ী মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পৃথিবীর কোনো সৃষ্টির ব্যাপারেই অন্যায় বিচার করা যাবে না। গরিব-অসহায়কে অবহেলা আর অন্যায়ভাবে শাস্তি দিলে আল্লাহ নারাজ হন। আল্লাহ ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারীকে ভালোবাসেন। ন্যারবিচারকের প্রতি খুশি হন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা ন্যায়বিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৯)

আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হওয়া
আল্লাহ সবকিছুর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক। আল্লাহ চান, তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন বান্দারা তাঁর ওপর নির্ভরশীল হোক। সবকিছুতে তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী হোক। তাঁর প্রতি নির্ভরশীল আর মুখাপেক্ষিতায় রয়েছে বান্দার জন্য কল্যাণের বিশাল ভান্ডার। তাঁর প্রতি নির্ভরশীল হলে তিনি খুশি হন। আল্লহ বলেন, ‘অতঃপর তুমি কোনো সংকল্প গ্রহণ করলে আল্লাহর প্রতি নির্ভর করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর ওপর) নির্ভরশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

আল্লাহকে ভয় করা
দুনিয়া-আখেরাতে মুত্তাকিরাই (আল্লাহকে ভয়কারী) সফল। মুত্তাকিরাই আল্লাহর ভালোবাসা পায়। যে আল্লাহকে ভয় করে পৃথিবীর কোনো কিছুই তাকে ভীত কিংবা বিচলিত করতে পারে না। তাকে পর্যুদস্ত করতে পারে না; বরং পৃথিবীর সবকিছু তাকে শ্রদ্ধা ও ভয় করে। তার সামনে মাথানত করে। আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই যে তার অঙ্গীকার পালন করে এবং সংযত হয়ে (আল্লাহকে ভয় করে) চলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ৭৬)

ধৈর্যধারণ করা
আল্লাহ মাঝেমধ্যে মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলেন। দুঃখ ও অসুখ দেন। বান্দার ধৈর্য পরীক্ষা করেন। যারা বিপদে ধৈর্যধারণ করেন আল্লাহ তাদের মঙ্গল করেন। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন। আর বিপদে পড়ে বান্দা আল্লাহকে স্মরণ করে, তাঁকে হৃদয় দিয়ে ডাকে, ফলে সে আল্লাহর প্রিয় হয়, তার গোনাহ ক্ষমা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিপদ যত তীব্র হবে, প্রতিদানও তত বিরাট হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতিকে ভালোবাসলে তাদের পরীক্ষা করেন। যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর যে তাতে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য আছে অসন্তুষ্টি।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৩১)

সৎকর্মশীল হওয়া
অন্যায় মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। মানুষ ও সভ্য সমাজে অন্যায়কারী অপ্রিয় ও ঘৃণার পাত্র হয়ে ওঠে। সে যদি ক্ষমতাবান হয়—তার ক্ষমতার কাছে হয়তো কেউ তাকে কিছু বলে না— কিন্তু পেছনে ঠিকই তার মন্দাচার করে। তাই মানুষের উচিত, সভ্য হওয়া। সৎকর্মশীল হওয়া। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং (ব্যয় না করে) নিজেরা নিজেদের সর্বনাশ কোরো না। আর তোমরা সৎ কাজ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকাজকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)

মন্তব্য করুন

দেশে রোজা কবে থেকে শুরু, জানা যাবে আজ
দেশে কবে থেকে রোজা শুরু হবে ও কোন রাতে সেহরি খেতে হবে, তা জানা যাবে আজ (বুধবার)। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় রমজান মাসের চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চাঁদ দেখা গেলে সেই তথ্য জানাতে ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে সেই বিজ্ঞপ্তিতে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীর সভাপতিত্বে বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ টেলিফোন নম্বর অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, বুধবার চাঁদ দেখা গেলে দেশে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রমজান মাস গণনা শুরু হবে। বুধবার রাতে তারাবির নামাজ পড়ে শেষ রাতে সেহরি খেয়ে রোজা রাখবেন। আর বুধবার চাঁদ দেখা না গেলে বৃহস্পতিবার শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। রমজান মাস গণনা শুরু হবে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে।
দেশে রোজা কবে থেকে শুরু, জানা যাবে আজ
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। জামাতে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের সঙ্গে তুলনীয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরেও ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আছে। নামাজ আদায়কারী আল্লাহর প্রিয়। তার জন্য রয়েছে বহু পুরস্কার। নামাজ পড়া ছাড়া কোনো মুসলিম পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না। কোরআনের অনেক জায়গায় নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নামাজের আদেশ করা হয়েছিল পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও। তাই সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ইমানি দায়িত্ব। আজ মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বাংলা, ২৮ শাবান ১৪৪৭ হিজরি। এখানে ঢাকা বিভাগের আজকের নামাজের সময়সূচি উল্লেখ করা হলো— নামাজের সময়সূচি— জোহর—১২:১৩ মিনিট আসর—৪:১৮ মিনিট মাগরিব—৫:৫৬ মিনিট এশা—৭:০১১ মিনিট ফজর (বুধবার)—৫:১৭ মিনিট   অন্যান্য বিভাগে নামাজের সময়সূচিতে কয়েক মিনিট যোগ/বিয়োগ করতে হবে। উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে কোনো বিভাগের সময় যোগ করতে হবে, কোনোটা করতে হবে বিয়োগ। যেমন— বিয়োগ চট্টগ্রাম : ৫ মিনিট সিলেট : ৬ মিনিট যোগ খুলনা : ৩ মিনিট রাজশাহী : ৭ মিনিট রংপুর : ৮ মিনিট বরিশাল : ১ মিনিট সূত্র : ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আজকের নামাজের সময়সূচি
যে কাজ করলে জান্নাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম
ধোঁকায় মানুষের জীবন ক্ষয় হয়। জীবন ধ্বংস হয়। সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয়। ধোঁকার ফাঁদে পড়ে পৃথিবীর অনেক ইতিহাসের বাঁক বদল হয়েছে। অনেক রাষ্ট্রের সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল আলোর ঝলমলে ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়েছে। তাই মানুষের কল্যাণের ধর্ম ইসলাম ধোঁকাবাজিকে চিরতরে নিষিদ্ধ করেছে। ইসলামে নবী মুহাম্মদ (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘ধোঁকাবাজ আমার উম্মত নয়।’ হাদিসে আছে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর যে আমাদের ধোঁকা দেবে সেও আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৪)  মুহাম্মদ (সা.) উম্মতের প্রতি ধোঁকাবাজি না করার উদার্থ আহ্বান জানিয়েছেন। কাউকে ধোঁকা নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পরকে হিংসা করবে না, একে অপরের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবে না, সুপ্তদোষ সন্ধান করবে না, গুপ্ত ভুল-ভ্রান্তি অনুসন্ধান করো না এবং পরস্পরকে ধোঁকায় ফেলবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৪৩২)  ধোঁকায় পাপ লেখা হয় ছলচাতুরি করেও কাউকে ধোঁকা দেওয়া যাবে না। মায়ের জন্য সন্তানকে সান্তনার ছলেও ধোঁকা দেওয়া নিষেধ। পশু-পাখিকেও ধোঁকা দেওয়া পাপ। ধোঁকায় সৃষ্টির মন ভাঙে। বিশ্বাস চৌচির হয়। জীবন বিপদে পড়ে। ধোঁকা দেওয়া মিথ্যাচারের মতো। ধোঁকায় মিথ্যাচারের পাপ লেখা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আমির (রা.) বলেন, ‘একদিন রাসুল (সা.) আমাদের ঘরে বসাবস্থায় আমার মা আমাকে ডেকে বলেন, ‘এই যে, এসো, তোমাকে দেব।’ রাসুল (সা.) তাকে প্রশ্ন করেন, ‘তাকে কি দেওয়ার ইচ্ছা করেছ?’ তিনি বলেন, ‘খেজুর।’ রাসুল (সা.) তাকে বলেন, ‘যদি তুমি তাকে কিছু না দিতে, তাহলে এ কারণে তোমার আমলনামায় একটি মিথ্যার পাপ লেখা হতো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৯১)  কিয়ামত দিবসে ধোঁকাবাজির অবস্থা ধোঁকার জালে বন্দি হয়ে মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে। নিঃস্ব হয়েছে জীবন থেকে। প্রাণবায়ু বেরিয়েছে বিশ্বাসঘাতকতার মায়াজালে পড়ে। বিশ্বাসঘাতকতা ইতিহাসের চরিত্রে কালেপা লেপন করেছে। ইতিহাসের মোড় পাল্টে দিয়েছে। ধোঁকাবাজকে কিয়ামতের দিনে সবাই চিনবে। তার দেহ বিশ্বাসঘাতকতা অনুযায়ী উঁচু থাকবে। সবচে বড় ধোঁকাবাজ হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে যে বিশ্বাসঘাতকতা করে। যে জনগণের বিশ্বাস ভাঙে। তাদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করে। সাইদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক ধোঁকাবাজের জন্য কিয়ামতের দিনে একটি পতাকা থাকবে। আর তা তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিমাণ অনুযায়ী উঁচু করা হবে। সাবধান, জনগণের শাসক হয়ে যে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তার চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর নেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৪৩০)    ধোঁকাবাজি শয়তানের কাজ শয়তান মানুষের রক্তের শিরা-উপশিরায় চলে। মানুষকে সবসময় খারাপ কাজে লিপ্ত রাখতে চায় সে। তার কাজই মানুষকে ধোঁকায় ফেলে আল্লাহবিমুখী করে রাখা। আর শয়তানের ধোঁকায় পড়া ব্যক্তি আমলে, সত্য ও সভ্যতায় শক্তিশালী হতে পারে না। শয়তানের প্রিয় সেই ব্যক্তি যাকে সে সবচে বড় ধোঁকায় ফেলতে পারে। বড় ধোঁকাবাজি লোকটার ঘাড়ে সওয়ার হওয়া শয়তানও তার মালিক ইবলিশের কাছে প্রিয়মুখ। হাদিসে আছে, ইবলিশ এমন শয়তানের সঙ্গে আলিঙ্গন করে। জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইবলিশ পানির ওপর তার আরশ স্থাপন করে বাহিনী প্রেরণ করে। এর মধ্যে তার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জনকারী সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। তাদের একজন এসে বলে, ‘আমি অমুক কাজ করেছি।’ সে বলে, ‘তুমি কিছুই করনি।’ অন্যজন এসে বলে, ‘অমুকের সঙ্গে আমি সব প্রকার ধোঁকার আচরণই করেছি। এমনকি তার থেকে তার স্ত্রীকে আলাদা করে দিয়েছি।’ তারপর শয়তান তাকে তার নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে, ‘হাঁ, তুমি খুব ভালো।’ আমাশ বলেন, ‘আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, অতঃপর শয়তান তার সঙ্গে আলিঙ্গন করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৯৯৯)  ধোঁকাবাজ জান্নাতে যাবে না জান্নাত হচ্ছে মুমিনের জন্য। ঈমানদারের জন্য। সৎ চরিত্র মানুষের জন্য। জান্নাতে চিরস্থায়ী সুখময় জীবন উপহার দেওয়া হবে মুমিনকে। ধোঁকাবাজ জান্নাতে যেতে পারবে না। তার জন্য জান্নাতের দরজা বন্ধ। ধোঁকার হৃদয় জান্নাতে প্রবেশের ন্যূনতম যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো কৃপণ, ছদ্মবেশধারী ধোঁকাবাজ, খিয়ানতকারী ও অসচ্চরিত্র ব্যক্তি জান্নাতে যেতে পারবে না। প্রথম জান্নাতের দরজার কড়া নাড়বে আল্লাহ ও তাদের মনিবের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণকারী দাস-দাসী।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৩২) 
যে কাজ করলে জান্নাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কম
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। জামাতে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের সঙ্গে তুলনীয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরেও ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আছে। নামাজ আদায়কারী আল্লাহর প্রিয়। তার জন্য রয়েছে বহু পুরস্কার। নামাজ পড়া ছাড়া কোনো মুসলিম পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না। কোরআনের অনেক জায়গায় নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নামাজের আদেশ করা হয়েছিল পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও। তাই সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ইমানি দায়িত্ব। আজ সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২, ২৭ শাবান ১৪৪৭। ঢাকা বিভাগের আজকের নামাজের সময়সূচি উল্লেখ করা হলো— জোহর—১২:১৩ মিনিট আসর—৪:১৮ মিনিট মাগরিব—৫:৫৭ মিনিট এশা—৭:১১ মিনিট ফজর (মঙ্গলবার)—৫:১৪ মিনিট আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত  ৫টা ৫৪ মিনিটে এবং মঙ্গলবার সূর্যোদয় ৬টা ৩০ মিনিটে। 
আজকের নামাজের সময়সূচি
দরুদে ইবরাহিমের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ 
দরুদে ইবরাহিম বেশ ফজিলতপূর্ণ দরুদ। প্রত্যেক নামাজের বৈঠকে এই দরুদ পড়তে হয়। নামাজের বৈঠকে এ দরুদ পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। নামাজ ছাড়াও যেকোনো সময়ে দরুদ ইবরাহিম পড়া যায়। নবীজি (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ইমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৬)। দরুদে ইবরাহিম اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْت َعَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ  اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ দরুদে ইবরাহিমের বাংলা উচ্চারণ আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহহিমা, ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা কারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ। দরুদে ইবরাহিমের বাংলা অর্থ হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে রহমত বর্ষণ করো, যেমনভাবে করেছ ইবরাহিম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের ওপর এমনভাবে বরকত দাও, যেমনভাবে দিয়েছ ইবরাহিম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।’ আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহ.) বলেন, ‘আমার সঙ্গে কাব ইবনু উজরার সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, আমি কি সেই হাদিয়াটুকু তোমার কাছে পৌঁছাব না; যা আমি নবী (সা.) থেকে শুনেছি? আমি বললাম, অবশ্যই আপনি আমাকে সেই হাদিয়া দেন। তারপর বললেন, আমরা রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এবং আহলে বাইতের (আপনার পরিবার) ওপর কিভাবে সালাত বা দরুদ পাঠ করব? কেননা আল্লাহ তাআলা আমাদের আপনাকে কিভাবে সালাম জানাব তা বলে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তোমরা বলো, ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহহিমা, ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন, ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা কারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৬৯)
দরুদে ইবরাহিমের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ 
রোজা কী, ইসলামে যেভাবে এলো 
রোজা ফারসি শব্দ। এর আরবি শব্দ সাওম বা সিয়াম। অর্থ কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক (রাতের শেষ দিকে পূর্ব দিগন্তের উভয় দিকে ক্ষীণ (দিগন্তের সঙ্গে ভার্টিক্যালি) প্রশস্ত আকারে যে আলো প্রকাশ পায়) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও যাবতীয় যৌনাচারসহ অশ্লীলতা, অপচয়-অপব্যবহার, অন্যায় আচরণ ও অত্যাচার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ওপর রোজা ফরজ। এটি ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি।   প্রথম কখন ও কোন রোজা ফরজ ছিল—এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, ১০ মহররম বা আশুরার রোজাই সর্বপ্রথম ফরজ ছিল। আবার কারও কারও মতে, আইয়ামে বিজ অর্থাৎ প্রত্যেক চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা ফরজ ছিল। রোজা রাখার বিধান সব যুগেই ছিল। আদম (আ.) থেকে শুরু করে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সব নবী-রাসুলের যুগেই রোজার বিধান ছিল।  ইতিহাসে প্রথম রোজা রোজার সূচনা কবে থেকে হলো, সে বিষয়ে ধর্মীয় ইতিহাসের বাইরে খুব একটা জানা যায় না। আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-এর ওপর রোজার বিধান আরোপ করে মানব ইতিহাসে প্রথম রোজার প্রচলন শুরু করেন। কোরআনে আছে, ‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা খোদাভীরু হতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা আলুসি (রহ.) বলেন, এখানে আদম (আ.) থেকে শুরু করে  ইসা (আ.) পর্যন্ত সব নবী-রাসুলের যুগ বোঝানো হয়েছে। কোরআন ও হাদিস গবেষণা করলে রোজার ইতিহাস সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, আল্লাহ তাআলা আদমকে (আ.) জান্নাতে প্রেরণ করে একটি গাছের ফল খেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশেষ এক ধরনের রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করলেন।  মুফাসসিরে কেরাম বলেন, এটাই ছিল মানব ইতিহাসের প্রথম রোজা। আদম (আ.) ও  হাওয়া (আ.) শয়তানের প্ররোচনার শিকার হয়ে ওই গাছের ফল ভক্ষণ করেছিলেন এবং এর পরিণামে মহান আল্লাহ তাআলা তাদের ভূপৃষ্ঠে পাঠিয়ে দিলেন। পরে তারা ওই ভুলের জন্য যারপরনাই অনুতপ্ত হন, তওবা-ইসতেগফার করেন। এর কাফ্ফারাস্বরূপ ধারাবাহিক ৪০ বছর রোজা রেখেছিলেন।    অন্যান্য নবীদের সময়ে রোজা আদম (আ.)-এর পর অন্য সব নবী-রাসুলের সময়ে রোজার বিধান ছিল। তবে তাদের রোজা পালনের পদ্ধতি ভিন্নতর ছিল। নুহ (আ.)-এর ওপরও রোজা ফরজ ছিল; রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নুহ (আ.) ১ শাওয়াল ও ১০ জিলহজ ছাড়া সারা বছর রোজা রাখতেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৪) মুসা (আ.)-এর ওপর তাওরাত কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার আগে তিনি ৩০ দিন রোজা রেখেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তার ওপর ওহি বা প্রত্যাদেশ নাজিল করে আরও ১০ দিন রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। ইদরিস (আ.) বছরজুড়ে প্রতিদিন রোজা রাখতেন। দাউদ (আ.) একদিন পর পর রোজা রাখতেন। ইসলামে রোজা মহানবী (সা.) মদিনায় আগমনের পর শুধু আশুরার রোজা রাখতেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করে দেখলেন, মদিনার ইহুদিরা মহররমের ১০ তারিখে রোজা রাখেন। তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, আজকে তোমরা কিসের রোজা রাখছ? উত্তরে তারা বলল, আজ সেই দিন যেদিন মহান আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তার জাতিকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং ফেরাউনকে সদলবলে নীল নদে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। ফলে শুকরিয়াস্বরূপ এ দিন মুসা (আ.) রোজা রেখেছিলেন। তাই আমরাও এ দিন রোজা রাখি। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমরা তোমাদের থেকে মুসা (আ.)-এর অনুসরণের অধিক হকদার। এরপর তিনি আশুরার দিন রোজা রাখলেন এবং সাহাবিদের রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৩০)  ১০ শাবান দ্বিতীয় হিজরিতে আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজা ফরজ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারি (তাকওয়া) অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩) 
রোজা কী, ইসলামে যেভাবে এলো 
নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে?
জামাতে নামাজ আদায় করার সময় নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। জামাতের নামাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় মুসল্লি মসজিদে সুন্নত ও নফল নামাজ পড়েন। এ অবস্থায় নামাজির সামনে দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয় কখনো। তখন নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে? নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত, এতে তার জান্য কী অপেক্ষা করছে, তাহলে ৪০ পর্যন্ত ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকাও ভালো মনে করত।’ আবুন নাজর (রহ.) বলেন, ‘আমার জানা নেই—হাদিসে চল্লিশের অর্থ কী; ৪০ দিন, ৪০ মাস নাকি ৪০ বছর।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৭০১)  প্রয়োজনে যাওয়া যাবে? প্রয়োজনে নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা যাবে। সেক্ষেত্রে সুতরার ব্যবস্থা করতে হবে। সুতরা হলো এক হাত বা এর চেয়ে দীর্ঘ কোনো বস্তু। চেয়ার, টুল, কাঠ বা প্লাস্টিকের স্ট্যান্ড সুতরা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সুতরা নামাজির সামনে দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে। নামাজ আদায়কারীর উচিত, মসজিদে নামাজ পড়াকালে নিজের সামনে সুতরা ব্যবহার করা। আওন ইবনে আবু জুহাইফা (রহ.) বলেন, ‘আমি বাবার কাছ থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, একবার দুপুরে আমাদের সামনে আল্লাহর রাসুল (সা.) আসলেন। তাকে অজুর পানি দেওয়া হলো। অজু করে আমাদের নিয়ে জোহর ও আসর নামাজ পড়লেন। নামাজের সময় তাঁর সামনে ছিল বল্লম, এর বাইরের দিক দিয়ে নারী ও গাধা চলাচল করত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৬৯)  সুতরা ছাড়া নামাজির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা যায়? নামাজির সামনে যদি সুতরা না থাকে এবং মসজিদ বেশ বড় ও অনেক প্রশস্ত হয়, তাহলে নামাজি ব্যক্তির দুই কাতার সামনে দিয়ে অতিক্রম করা যাবে। তবে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এভাবে অতিক্রম করা ঠিক নয়। (আল-মাবসুত, সারাখসি, খণ্ড : ১, পৃষ্ঠা : ১৯২) নামাজির সামনে বসা থাকা ব্যক্তি যেতে পারবে? প্রয়োজনে নামাজির সামনে উপস্থিত ব্যক্তি ডানে বা বামে সরে যেতে পারবে। কারণ, সামনে থেকে সরে যাওয়া অতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয়। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি নবী (সা.)-কে দেখেছি, তিনি নামাজ আদায় করছেন। আমি তাঁর ও কিবলার মাঝে খাটে শুয়ে থাকতাম। কোনো কোনো সময় আমার বের হওয়ার দরকার হতো। কিন্তু আমি তার সামনে দিয়ে যেতে অপছন্দ করতাম। তাই আমি চুপে চুপে সরে পড়তাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫১১) সুতরা কি, সুতরার পরিমাণ কতটুকু? নামাজির সামনে দিয়ে মানুষের যাতায়াতের সম্ভাবনা থাকলে নামাজের শুরুতে সুতরা রেখে নামাজ শুরু করা সুন্নত। সুতরা সর্বনিম্ন এক হাত হতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সুতরার পরিমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বললেন, ‘হাওদার লাঠির মতো।’এর ব্যাখ্যায় হজরত আতা (রহ.) বলেন, হাওদার লাঠির দৈর্ঘ হলো, এক হাত বা এর চেয়ে একটু বেশি ।
নামাজরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে?
মৃত্যুর পর কি ভাই-বোনের আর দেখা হবে না, যা বলে ইসলাম
পৃথিবীতে সবচেয়ে চির ও অনড় সত্য মৃত্যু। মৃত্যু অবধারিত। মত্যুর পর প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হবে কি না, এ বিষয়ে অনেকে জানতে চান। আমাদের সমাজে অনেককে বলতে শোনা যায়, মৃত্যুর পর ভাই-বোনের আর দেখা হবে না। কিছুদিন আগে এরকম একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তখন এ বিষয়টি তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। ‘মৃত্যুর পর ভাই-বোনের আর দেখা হবে না’ এ কথা সঠিক নয়। ইসলামে এর ভিত্তি নেই। কোরআন-হাদিসে এ কথার সত্যতা নেই। কোরআনে আছে, ‘যখন মহা শব্দকারী (বিকট আওয়াজ) আসবে, যেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে, তার মা ও বাবার কাছ থেকে এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের কাছ থেকে। সেদিন তাদের প্রত্যেকের এমন এক গুরুতর অবস্থা থাকবে—যা তাকে অন্য সবকিছু থেকে উদাসীন করে দেবে।’ (সুরা আবাসা, আয়াত : ৩৩-৩৭) এই আয়াতে কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতার বর্ণনা করা হয়েছে। সেই ভয়ংকর দিনে মানুষ এতটাই ভীতসন্ত্রস্ত থাকবে যে, তারা তাদের প্রিয়জন, যেমন—ভাই-বোন, মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের থেকে দূরে পালাবে। সবাই নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে। অন্য কারও দিকে তাকানো বা সাহায্য করার সুযোগ পাবে না। এই আয়াত দিয়ে এটাও প্রমাণিত হয়, মৃত্যুর পর ভাই-বোন, মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী প্রত্যেকেরই একে অপরের সঙ্গে দেখা হবে। সবাই সবাইকে চিনতে পারবে। কিন্তু ভয় ও আতঙ্কের কারণে কেউ কারও দিকে ফিরেও তাকাবে না। সাহয্যও করবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘(আখেরাতে) মানুষ থাকবে তার প্রিয়জনের সঙ্গে।’ (সহিহ বুখারি)। দুনিয়াতে মানুষের প্রিয়জন বলতে যাদের ধরা হয়, এর মধ্যে ভাই-বোন অন্যতম। তাই আখেরাতে ভাই-বোনের দেখা হবে।  আল্লাহ জান্নাতে মুমিনদেরকে তাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে একত্রিত করবেন। কোরআনে আছে, ‘স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল, তারাও তাদের সঙ্গে প্রবেশ করবে।’ (সুরা রদ, আয়াত : ২৩) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ জান্নাতে মুমিনদেরকে তাদের প্রিয়জনদের বা বাবা-মা, স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে যারা জান্নাতে প্রবেশের যোগ্য, তাদের সঙ্গে একত্রিত করবে, যাতে তাদের চোখ জুড়িয়ে যায়।’ জালাল উদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ জানতেন যে, মুমিন ব্যক্তি দুনিয়াতে তার পরিবার-পরিজনকে একত্রিত করতে ভালোবাসে। তাই তিনি আখেরাতেও তাদের একত্রিত করতে পছন্দ করেন।’  মৃত্যুর পর ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা একে অপরকে চিনতে পারবে। তারা জান্নাতে দেখা-সাক্ষাৎ করবে। নানা ধরনের খোশ-গল্প করবে।
মৃত্যুর পর কি ভাই-বোনের আর দেখা হবে না, যা বলে ইসলাম
কবর জিয়ারতের দোয়া ও নিয়ম
কবর জিয়ারত করা মহানবী (সা.)-এর সুন্নত। এটা ইবাদতও। এতে অন্তর নরম হয়। মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়। আখেরাতের কথা মনে পড়ে। দুনিয়াবিমুখতা তৈরি হয়।  কবর জিয়ারতে মানুষ আল্লাহমুখী হয়। আমল-ইবাদতের দিকে আকৃষ্ট হয়। গুনাহ ছাড়তে মন উদ্বুদ্ধ হয়।  ইসলামের শুরুর দিকে কবর জিয়ারতের অনুমতি ছিল না। পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) কবর জিয়ারতের অনুমতি দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কবর জিয়ারতে নিষেধ করেছিলাম, এখন থেকে কবর জিয়ারত করো। কারণ, তা দুনিয়াবিমুখতা এনে দেয় এবং আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৭১) কবর জিয়ারতের দোয়া আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার কবরবাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই দোয়া পড়েন— السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالأَثَرِ বাংলা উচ্চারণ : আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম। আংতুম সালাফুনা, ওয়া নাহনু বিল আসার। বাংলা অর্থ : হে কবরবাসী, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন, তোমরা আমাদের আগে কবরে গিয়েছ এবং আমরা পরে আসছি। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৫৩)   আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি কবর জিয়ারতে গিয়ে বলেন— السَّلامُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤمِنينَ وإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاحِقُونَ বাংলা উচ্চারণ : আসসালামু আলাইকুম দারা কাওমিম মুমিনিন, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকুন। বাংলা অর্থ : মুমিন এই ঘরবাসীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের সঙ্গে মিলিত হব। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪৯) কবর জিয়ারতের নিয়ম প্রথমে কবর জিয়ারতের দোয়া পড়তে হবে। পরে তাদের জন্য ইসালে সওয়াবের নিয়তে দরুদ শরিফ ও বিভিন্ন সুরা পড়া উত্তম। কবরবাসীর মাগফেরাতের জন্য দোয়া করতে হবে। কবর জিয়ারতের সময় আল্লাহর কাছে সব মুসলমানের জন্য ক্ষমা চাওয়া ইমানদারের নৈতিক দায়িত্ব। 
কবর জিয়ারতের দোয়া ও নিয়ম