মুমিনজীবনের একমাত্র লক্ষ্য আল্লাহকে খুশি করা। আল্লাহকে পেয়ে গেলে জীবন সুন্দর ও সার্থক। আল্লাহকে পেতে হলে তাঁর বিধান মানতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। আল্লাহর বিধান আর নবীজির আদর্শ ছাড়া আল্লাহর প্রিয় হওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন, এখানে তাদের কথা উল্লেখ করা হলো—
মুমিন হতে হবে
জান্নাতে যাওয়ার প্রথম শর্ত হলো মুমিন বা এক আল্লাহ বিশ্বাসী হওয়া। কোরআন-হাদিস মেনে জীবন পরিচালনা করা। যারা মুমিন তাদের সঙ্গে আল্লাহর ভালোবাসা গভীর। তারা আল্লাহকে সবকিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসে। আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা মুমিন আল্লাহর সঙ্গে তাদের ভালোবাসা প্রগাঢ়।’ (সুরা বাকারা, হাদিস : ১৬৫)
তওবাকারী
গোনাহ করা মানুষের স্বভাব। গোনাহের পর ভেতরে অনুশোচনা জাগলে মানুষ তওবা করে। যারা গোনাহের পর তওবা করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। তাদের গোনাহ মাফ করে দেন। কিন্তু যারা গোনাহের পর তওবা করে না, আল্লাহ তাদের প্রতি রাগান্বিত হন। তাদের দূরে ঠেলে দেন। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, হাদিস : ২২২)
নবীজির অনুসরণে আল্লাহর ভালোবাসা
মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীর সেরা মানুষ। তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণই মানুষের একমাত্র মুক্তির পথ। তাঁর অনুসরণ ছাড়া কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। আর যারা তাঁর অনুসরণ করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসুল, আপনি) বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো; তবেই আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ৩১)
পবিত্রতা অর্জনকারী
ইবাদত গ্রহণযোগ্য হওয়ার পূর্বশর্ত পবিত্রতা অর্জন। মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে পবিত্রতার বিষয়ে অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করতে বলেছেন। আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীকে ভালোবাসেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের।’ (সুরা বাকারা, হাদিস : ২২২)
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী
নিজের অবস্থান অনুযায়ী মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পৃথিবীর কোনো সৃষ্টির ব্যাপারেই অন্যায় বিচার করা যাবে না। গরিব-অসহায়কে অবহেলা আর অন্যায়ভাবে শাস্তি দিলে আল্লাহ নারাজ হন। আল্লাহ ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারীকে ভালোবাসেন। ন্যারবিচারকের প্রতি খুশি হন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা ন্যায়বিচার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৯)
আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হওয়া
আল্লাহ সবকিছুর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক। আল্লাহ চান, তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন বান্দারা তাঁর ওপর নির্ভরশীল হোক। সবকিছুতে তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী হোক। তাঁর প্রতি নির্ভরশীল আর মুখাপেক্ষিতায় রয়েছে বান্দার জন্য কল্যাণের বিশাল ভান্ডার। তাঁর প্রতি নির্ভরশীল হলে তিনি খুশি হন। আল্লহ বলেন, ‘অতঃপর তুমি কোনো সংকল্প গ্রহণ করলে আল্লাহর প্রতি নির্ভর করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর ওপর) নির্ভরশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৫৯)
আল্লাহকে ভয় করা
দুনিয়া-আখেরাতে মুত্তাকিরাই (আল্লাহকে ভয়কারী) সফল। মুত্তাকিরাই আল্লাহর ভালোবাসা পায়। যে আল্লাহকে ভয় করে পৃথিবীর কোনো কিছুই তাকে ভীত কিংবা বিচলিত করতে পারে না। তাকে পর্যুদস্ত করতে পারে না; বরং পৃথিবীর সবকিছু তাকে শ্রদ্ধা ও ভয় করে। তার সামনে মাথানত করে। আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই যে তার অঙ্গীকার পালন করে এবং সংযত হয়ে (আল্লাহকে ভয় করে) চলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ৭৬)
ধৈর্যধারণ করা
আল্লাহ মাঝেমধ্যে মানুষকে কষ্টের মধ্যে ফেলেন। দুঃখ ও অসুখ দেন। বান্দার ধৈর্য পরীক্ষা করেন। যারা বিপদে ধৈর্যধারণ করেন আল্লাহ তাদের মঙ্গল করেন। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন। আর বিপদে পড়ে বান্দা আল্লাহকে স্মরণ করে, তাঁকে হৃদয় দিয়ে ডাকে, ফলে সে আল্লাহর প্রিয় হয়, তার গোনাহ ক্ষমা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিপদ যত তীব্র হবে, প্রতিদানও তত বিরাট হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতিকে ভালোবাসলে তাদের পরীক্ষা করেন। যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর যে তাতে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য আছে অসন্তুষ্টি।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০৩১)
সৎকর্মশীল হওয়া
অন্যায় মানুষের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। মানুষ ও সভ্য সমাজে অন্যায়কারী অপ্রিয় ও ঘৃণার পাত্র হয়ে ওঠে। সে যদি ক্ষমতাবান হয়—তার ক্ষমতার কাছে হয়তো কেউ তাকে কিছু বলে না— কিন্তু পেছনে ঠিকই তার মন্দাচার করে। তাই মানুষের উচিত, সভ্য হওয়া। সৎকর্মশীল হওয়া। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং (ব্যয় না করে) নিজেরা নিজেদের সর্বনাশ কোরো না। আর তোমরা সৎ কাজ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকাজকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৫)
মন্তব্য করুন








