পরীক্ষা এলে আমরা নানারকম প্রস্তুতি নিতে থাকি। বেশি সময় ধরে পড়ার টেবিলে থাকি। আলাদা করে প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে যাই। কারণ, আমাদের বিশ্বাস, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আমার এবং পরিবারে মুখে হাসি ফুটবে। জীবন বদলাবে। জীবনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভালো প্রস্তুতি থাকতে হয়। ভালো প্রস্তুতি ছাড়া জীবনে সফল হওয়া যায় না।
রমজান মাস আধ্যাত্মিক চর্চার সেরা মাস। এ মাসে আমল করে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। আল্লাহর রমহত লাভ করা যায়। গোনাহ থেকে দূরে থাকা যায়। জীবনের ভুল শোধরানো যায়। রমজানের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য ধারণ করতে আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। প্রস্তুতি ছাড়া রোজা বিফলে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘অনেক রোজাদার এমন আছে, রোজা থেকে তার প্রাপ্য শুধুই ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত থাকা।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩৪৮১)
কল্পনা করা যায়, ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টার রোজা তলাবিহীন পাত্রে পানি বহনের মতো নিস্ফল হয়ে যায়! রোজা নিস্ফল হওয়ার কারণ হলো, রোজার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা হয়নি। রোজা রেখে গিবত করা হচ্ছে। সুদ নেওয়া হচ্ছে। ঘুষ খাওয়া হচ্ছে। গোনাহের কাজ করা হচ্ছে।
রোজা শুধু খাওয়া-দাওয়া ও প্রবৃত্তিকে কামাচার থেকে বিরত রাখার নাম নয়। এগুলোর সঙ্গে জিব, কান ও চোখেরও রোজা আছে। তাই জিবকে মন্দ কথা থেকে, কানকে অশ্লীল শ্রবণ থেকে এবং চোখকে অশালীন দৃশ্য থেকে বিরত রাখতে হবে। তবেই রোজার পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যাবে।
রোজা রেখে যদি তাকওয়া বা আল্লাহভীতি না থাকে, পাপ থেকে দূরে থাকা না যায়, যদি হৃদয় পরিষ্কার না হয়, তাহলে রোজার মাহাত্ম ও তাৎপর্য হৃদয়ে ধারণ করা যাবে না। রমজানের অনেক বরকত মিস হয়ে যাবে।
এ কারণে মহানবী (সা.) আগে থেকেই রোজার প্রস্তুতি নিতেন। নিজেদের প্রস্তুত করে নিতেন সাহাবিরা। এ জন্য এখনই রমজানের প্রস্তুতি নিতে হবে।
রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে রমজানে বেশি বেশি ইবাদত করার নিয়ত করতে হবে। নামাজে মনোযোগ বাড়াতে হবে। রমজানের ফজিলত সম্পর্কে জানতে হবে। জানতে হবে মাসয়ালাও। কোরআন তেলাওয়াত এখনই বাড়াতে হবে। ছাড়তে হবে গোনাহ। আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বানের পাশাপাশি সামর্থ অনুযায়ী গরিব-অসহায়কে সহায়তা দিতে হবে।
মন্তব্য করুন








