আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত করার জন্য। আল্লাহ বলেন, আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য। (সুরা জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)। তাই আল্লাহর ইবাদতে মানুষের জীবন কাটানো উচিত। আল্লাহর নির্দেশনা মেনে প্রতিটি মুহূর্ত চলা প্রয়োজন। আমল ও ইবাদত ছাড়া সময় কাটানো ঠিক নয়। সবসময় আমল করা যায়। তবে ফরজ নামাজের পর আমল করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক ফরজ নামাজের শেষে কিছু দোয়া আছে, যে ব্যক্তি দোয়াগুলো পড়ে বা কাজে লাগায়, সে কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১২৩৭)।
এখানে কয়েকটি আমল উল্লেখ করা হলো—
আয়াতুল কুরসি পাঠ করা
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমল। এতে জান্নাতে যাওয়া যায়। আবু উমামা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জন্য মৃত্যু ছাড়া আর অন্য কিছু জান্নাতে প্রবেশের পথে বাধা হবে না।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৯৯২৮)
তাসবিহে ফাতেমি পড়া
ফরজ নামাজের পর তাসবিহে ফাতেমি পড়লে আল্লাহ খুশি হন। তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তাসবিহে ফাতেমি হলো, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পড়া। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে প্রত্যেক নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবে। এভাবে ৯৯ বার হওয়ার পর শততম পূর্ণ করতে বলবে—
বাংলা উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহ দাহু, লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইন কাদির’।
বাংলা অর্থ : (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো উপাসক নেই। তিনি একক ও তার কোনো অংশীদার নেই। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র তিনিই। সব প্রশংসা তারই প্রাপ্য। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম)।
তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১২৩৯)
দোয়া
ফরজ নামাজের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশ কিছু দোয়া ও আমল করতেন। এখানে কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—
এক. তিনি প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে ৩ বার ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ বলতেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১২২২)
দুই. আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজের সালামের পর এই দোয়া বলতেন—
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম।’
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আপনি সব অপূর্ণতা থেকে মুক্ত। আপনার কাছে আমরা সব অকল্যাণ থেকে মুক্তি চাই। (দুনিয়া ও আখেরাতে) আপনি (কল্যাণ) বৃদ্ধি করুন, হে সম্মান ও বড়ত্বের অধিকারী।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৫১২)
তিন. ফজর ও মাগরিব নামাজের পর সাতবার ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার’ পড়া। হাদিসে আছে, ‘সে দিন বা সে রাতে ওই ব্যক্তি মারা গেলে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮০)
চার. ফজর ও মাগরিব নামাজের পর এ দোয়া তিনবার পড়া—বাংলা উচ্চারণ : ‘রাদিতু বিল্লাহি রাব্বা, ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনাও, ওয়া বি মুহাম্মাদিন নাবিইয়া’। হাদিসে আছে, ‘যে এ দোয়া পড়বে, সে দিনরাত আকস্মিক বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮৮)
পাঁচ. মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-কে একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘হে মুয়াজ, ফরজ নামাজগুলোর পর এ দোয়া পাঠ করো।
বাংলা উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আ ইন্নি আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।’
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমাকে আপনার জিকির ও শোকর আদায় করার তাওফিক দিন এবং উত্তমরূপে আপনার ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৯)
মন্তব্য করুন








