ইসলামে অন্যের ব্যক্তিগত গোপন কথা প্রকাশের অনুমতি নেই। অন্যের গোপন কথা ও তথ্য আমানত। আমানতের খেয়ানত করা যাবে না। কারও গোপন কথা কানে চলে আসলেও সেটি প্রকাশ করা যাবে না। গোপন কথা প্রকাশ করা হক বা অধিকার নষ্টের মতো। কারও হক নষ্ট করা ইসলামে বৈধ নয়। এটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ব্যক্তি যদি অপরাধ ক্ষমা না করেন, তাহলে গুনাহগার হতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ তোমরা অনুমতি না নাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা স্মরণ রাখো।’ (সুরা নুর, আয়াত : ২৭)
গোপনীয়তা রক্ষায় আবু বকর (রা.)-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘উমর ইবনে খাত্তাবের (রা.) মেয়ে হাফসা। তার বিয়ে হয় খুনায়স ইবনে হুজাইফা সাহমি (রা.)-এর সঙ্গে। তিনি সাহাবি ও বদরযোদ্ধা। মদিনায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে বিধবা হয়ে পড়েন হাফসা (রা.)। উমর (রা.) বলেন, তখন আমি উসমান ইবনে আফফানের (রা.) সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। তার কাছে হাফসার কথা উল্লেখ করে বললাম, আপনি চাইলে আপনার সঙ্গে উমরের মেয়ে হাফসার বিয়ে দেব। উসমান (রা.) বললেন, ব্যাপারটি আমি একটু চিন্তা করে দেখি। উমর (রা.) বলেন, আমি কয়েকদিন অপেক্ষা করলাম। পরে উসমান (রা.) বললেন, এ সময় আমি বিয়ে করব না। উমর (রা.) বলেন, আমি আবু বকরের (রা.) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে বললাম, আপনি চাইলে উমরের মেয়ে হাফসাকে বিয়ে করতে পারেন। আবু বকর (রা.) চুপ রইলেন। জবাব দিলেন না। এতে আমি উসমানের (রা.) চেয়েও বেশি দুঃখ পেলাম। এরপর আমি কয়েকদিন চুপ থাকলাম। এ সময় হাফসার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই প্রস্তাব দিলেন। আমি তাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে বিয়ে দিলাম। একদিন আবু বকর (রা.) আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমার সঙ্গে হাফসার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর উত্তর না দেওয়ার কারণে সম্ভবত আপনি মনোকষ্ট পেয়েছেন। আমি বললাম, হ্যাঁ। আবু বকর (রা.) বললেন, আপনার প্রস্তাবের জবাব দিতে একটি বিষয় আমাকে বাধা দিয়েছিল যে, আমি জানতাম, রাসুলুল্লাহ (সা.) হাফসা (রা.) সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তাকে নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গোপনীয় বিষয়টি প্রকাশ করার ইচ্ছে আমার ছিল না। যদি তিনি তাকে গ্রহণ না করতেন, তাকে অবশ্যই আমি গ্রহণ করতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪০০৫)
গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করতে কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে ইসলাম। স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয় বিষয় প্রকাশে সতর্ক করেছে। স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করা ভয়াবহ গুনাহ। আল্লাহর কাছে সে নিকৃষ্ট ব্যক্তি। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট সে ব্যক্তি হবে, যে স্ত্রীর সঙ্গে মিলন করার পর গোপন কথা প্রকাশ করে দেয়।’ (রিয়াজুস সালেহিন, হাদিস : ৬৯০)
অন্যের গোপনীয়তা প্রকাশে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। অতর্ক, ঠাট্টা কিংবা খোশগল্পেও কারও গোপনীয়তা প্রকাশ করা যাবে না।
অন্যের গোপনীয়তা রক্ষায় আছে সওয়াব। এর সুফল দুনিয়াতেও পাওয়া যায়। বিশ্বস্ত হয়ে ওঠা যায় মানুষের কাছে। পাওয়া যায় মানুষের ভালোবাসা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি, ভুলভ্রান্তি খুঁজে বের করো না। যে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় ও প্রকাশ করে দেয়, স্বয়ং আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। আর আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করেন তাকে নিজের বাড়িতেই লাঞ্ছিত করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ,হাদিস : ৪৮৮০)
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫১০)
মন্তব্য করুন








