মহান আল্লাহর নামে ভালো কাজ শুরু করা সুন্নত। আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করাও মুমিনের ইমানি দায়িত্ব। আউজুবিল্লাহ পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়। আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। ‘আউজুবিল্লাহ’ আরবি শব্দ। এর অর্থ আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। এর পূর্ণ বাক্য—
বাংলা উচ্চারণ : ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’।
বাংলা অর্থ : আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
আউজুবিল্লাহকে ‘তায়াউজ’ বলা হয়। আউজুবিল্লাহ পাঠের অনেক জায়গা আছে, এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ ও আশ্রয় পাওয়া যায়। এখানে আউজুবিল্লাহ পাঠের কয়েকটি স্থান উল্লেখ করা হলো—
কোরআন পড়ার শুরুতে
কোরআন তেলাওয়াত সর্বোত্তম জিকির ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তেলাওয়াতের সময় শয়তান পাঠকারীকে ধোঁকা দিতে চায়। তাই পড়ার শুরুতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। আউজুবিল্লাহ পড়তে হবে। এ বিষয়ে কোরআনে নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘যখন তুমি কোরআন তেলাওয়াত করবে, তখন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।’(সুরা নাহল, আয়াত : ৯৮)
নামাজে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে
নামাজ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। নামাজ পড়ার সময় শয়তান নানাভাবে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে। নামাজে শয়তান কুমন্ত্রণা দিলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। আউজুবিল্লাহ পড়তে হবে। উসমান বিন আবুল আস (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, শয়তান আমার, আমার নামাজ ও কিরাতের মধ্যে বাধা হয়ে কিরাতে জটিলতা সৃষ্টি করে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, এ হচ্ছে শয়তান, যাকে ‘খানজাব’ বলা হয়। তুমি তার আগমন অনুভব করলে আল্লাহর কাছে তিনবার আশ্রয় প্রার্থনা করবে (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম পাঠ করবে) এবং বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলবে। উসমান (রা.) বলেন, এরপর থেকে আমি এমনটি করি। ফলে আল্লাহ তাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২০৩)
রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায়
রাগ আসে শয়তানের পক্ষ থেকে। রাগান্বিত করে মানুষকে ধোঁকায় ফেলে শয়তান। লিপ্ত করে পাপেও। তাই রাগ আসলে শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করতে হবে। আউজুবিল্লাহ পড়তে হবে। সুলায়মান ইবনে সুরাদ (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন দুজন লোক গালাগালি করছিল। একজনের চেহারা লাল হয়ে রগগুলো ফুলে গিয়েছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি এমন একটি দোয়া জানি, এই লোকটি তা পড়লে রাগ দূর হয়ে যাবে। সে যদি পড়ে ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম’ তাহলে তার রাগ চলে যাবে।’ তখন সুলায়মান তাকে বলল, নবী (সা.) বলেছেন, তুমি আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাও। সে বলল, আমি কি পাগল হয়েছি?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৮)
শয়তান প্ররোচিত করলে
প্রতিটি মানুষকে শয়তানের কুমন্ত্রণার মোকাবিলা করতে হয়। কারণ, শয়তান মানুষকে সবসময় ধোঁকা দিতে চায়। মানুষকে গুনাহে লিপ্ত রাখতে চায়। ভালো কাজে বাধা দিতে চায়। মনের মধ্যে খারাপ কাজের চিন্তা আসলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। তাঁর সাহায্য কামনা করতে হবে। কোরআনে আছে, ‘শয়তানের কুমন্ত্রণা যদি তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২০০)
মসজিদে প্রবেশের সময়
জামাতে ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যান মুসলিমরা। নামাজ ছাড়াও বিভিন্ন আমল-ইবাদত করতে অনেকে মসজিদে যান। শয়তান মসজিদে যেতে বাধা দেয়। মসজিদে প্রবেশের সময় সে কুমন্ত্রণা দেয়। বের হওয়ার সময় একই কাজ করে সে। তার কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে যেন নবীর ওপর দরুদ পড়ে, অতপর বলে— ‘হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন। আর বের হওয়ার সময় যেন নবীর ওপর দরুদ পড়ে বলে— হে আল্লাহ, আপনি আমাকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করুন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৭৭৩)
মন্তব্য করুন








