লজ্জা ইমানের অংশ। যার লজ্জা কম, তার ইমানও কম। কারণ, ইমান ও লজ্জা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি আরেকটির পরিপূরক। আল্লাহ তাআলা নিজেও এ গুণে গুণান্বিত। তিনি লজ্জাশীল বান্দাকে ভালোবাসেন। লজ্জা মানুষকে পাপ ও কদর্যতা ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করে। সৎকাজে উৎসাহিত করে। লজ্জাশীলতার গুরুত্ব নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইমানের ষাটেরও বেশি শাখা আছে। আর লজ্জা ইমানের একটি শাখা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯)
লজ্জা ও শালীনতা বজায় রাখতে সাহাবিদের উৎসাহিত করেছেন নবীজি (সা.)। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘একবার আল্লাহর রাসুল (সা.) এক আনসার সাহাবির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার ভাইকে (অধিক) লজ্জা ছাড়তে উপদেশ দিচ্ছিলেন। নবীজি (সা.) তাকে বললেন, ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ইমানের অঙ্গ। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪)
নবীজি (সা.) খুব লাজুক ছিলেন। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘নবী (সা.) অন্দর মহলের পর্দানশিন কুমারী মেয়ের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোনো কিছু অপছন্দ করলে তাঁর চেহারা দেখে আমরা তা বুঝতে পারতাম। (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৬০২)
নির্লজ্জ ব্যক্তি যা ইচ্ছে করতে পারে। তার চোখে প্রায় সব কাজই বৈধ ও ভালো। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নবুওয়াতি কথার মধ্যে মানুষ যা পেয়েছে, তাতে এ-ও আছে, নির্লজ্জরা যাচ্ছে তাই করতে পারে।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৬০০)
লজ্জাশীলতা কল্যাণ বয়ে আনে। এটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। কারণ ইমান ও লজ্জার সম্পর্ক মাথা ও দেহের মতো। তাই লজ্জাশীল ব্যক্তি কদর্য ও যাবতীয় অনাচার থেকে দূরে থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার লাভে সক্ষম হয়, যা সবচেয়ে বড় কল্যাণ বা সফলতা। লজ্জাশীল ব্যক্তিকে মানুষ শ্রদ্ধা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘লজ্জা মঙ্গলই বয়ে আনে। মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, লজ্জার সবটুকু মঙ্গল। (রিয়াদুস সালেহিন, হাদিস : ৬৮৭)
সুন্দর পোশাকে যেমন দেহের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, তেমনি লাজুকতায় প্রকাশ পায় মুমিনের চারিত্রিক ও আত্মিক উৎকৃষ্টতা। সৌন্দর্য ও মাধুর্যতা।
আনাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা শুধু কদৰ্যতাই বৃদ্ধি করে। আর লজ্জা সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৬০৪)
বিশেষ প্রয়োজন পূরণে লজ্জাশীলতা বাধা হওয়া উচিত নয়। সাহাবিরা পবিত্রতাসংক্রান্ত খুঁটিনাটি নানা বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) জিজ্ঞেস করেছেন। তিনিও নিঃসংকোচে জবাব দিয়েছেন। অথচ তিনি ছিলেন পর্দানশিন কুমারীর চেয়েও বেশি লাজুক।
মন্তব্য করুন








