চট্টগ্রাম ১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনে প্রশাসনের যোগসাজশে ভোট কারচুপি হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ভিডিও বক্তব্যে এলডিপি চেয়ারম্যান এ অভিযোগ করেছেন। এ আসন থেকে তার ছেলে ওমর ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদের কাছে এক হাজার ২৪ ভোটে তিনি পরাজিত হয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় কর্নেল অলি আহমদ বলেন, বিশেষ করে তিনটি জায়গায়—হাসিমপুর তরুণ সংঘ স্কুল, হাসিমপুর বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দোহাজারী আবদুর রহমান হাইস্কুলে সাড়ে ৪টার পরে অপরিচিত কয়েকশ লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে। হয়তো ওইখানে যারা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ছিল, তাদের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পিত ছিল এভাবে কাজ করার জন্য। তারা অনেকগুলো ব্যালেট পেপার সেখানে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণের অসঙ্গতি ছিল উল্লেখ করে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আড়াইটা-তিনটার পর থেকে আমাদের যারা নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের বাইরে দায়িত্বরত ছিলেন, তাদেরকে পিটিয়ে বের করে দিয়েছে। প্রশাসনকে বারবার বলা সত্ত্বেও আমাদের যারা কাজ করছিলেন, তাদের মারপিট করেছে। অন্যদিকে জসিম ৬-৭টা মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেছেন এবং সন্ধ্যার আগে-পরে প্রায় ৩০-৪০টা মাইক্রোবাস, ট্রাক নিয়ে মিছিল করে উপজেলা সদরে এসেছেন। এখানে আর্মি ক্যাম্প, পুলিশের ক্যাম্প ছিল, পুলিশের থানা ছিল, প্রশাসন ছিল; তাকে বারণ করে নাই। আমার কর্মীদের আমি অনেক কষ্টে সুশৃঙ্খল রাখার চেষ্টা করেছি। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যারা নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন, তারা একতরফাভাবে কাজ করেছেন। এ ছাড়াও ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল বলে গণ্য করেছে। এজেন্টেরা যখন এটা চ্যালেঞ্জ করেছেন, তাদেরকে কেন–কীভাবে করা হয়েছে, এইগুলো দেখানো হয় নাই।
সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ওমর ফারুককে পরাজিত করা হয়েছে অভিযোগ করে এলডিপি সভাপতি বলেন, ওমর ফারুকসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রার্থীরা যারা এক থেকে দেড় হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন, এটা সুপরিকল্পিতভাবে, অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এ কাজটা করা হয়েছে। আমরা পরাজিত হয় নাই। পরাজিত হয়েছে আমার নির্বাচনি এলাকার জনগণ।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, এখন কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা তাদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে; এ ক্ষেত্রে প্রশাসন নীরব। অথচ প্রশাসনের উচিত দু-দিন এখানে বসে প্রত্যেকটা জায়গায় টহল দেওয়া এবং দেখা কোনো জায়গা সমস্যা হচ্ছে কি না। তারা এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
মন্তব্য করুন








