ঢাকা, বাংলাদেশ ||
সোমবার
০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ||

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৭
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পর বৃহত্তম রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবার সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোটও। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। দলটি টানা দুই দশক পর বাংলাদেশের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ফলে দলটির জন্য এই নির্বাচনকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর গত বছরের শেষ দিকে দেশে ফেরেন। এর মাত্র দেড় মাসের মাথায় দলের এমন সাফল্য তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি এককভাবে বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কেড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এই নির্বাচন ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, দীর্ঘ নির্বাসনের পর তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও বিপুল বিজয় দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। জনগণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিএনপির সাফল্যকে ‘ভূমিধস জয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়, এই বিজয় দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও নির্বাচন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং ভোটাররা নির্দলীয়ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

অন্যদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, এই ফলাফল বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান বিশ্লেষণে বলেছে, বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের নীতিনির্ধারণে আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমের শিরোনামজুড়ে ছিল বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর। ভারতের পর্যবেক্ষক দল না এলেও দেশটির সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্র ঘুরে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

বিএনপির বিজয়কে ‘বিশাল জয়’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এনডিটিভি। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা হওয়ার আগেই জাতিসংঘ একে ঐতিহাসিক বিজয় বলে উল্লেখ করেছে বলে জানায় ভারতীয় এই গণমাধ্যম। তারেক রহমানকে জয়ী ঘোষণা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডনও।

মন্তব্য করুন

রোজা শুরুর তারিখ জানাল ৬ দেশ
পবিত্র মাহে রমজান শুরুর তারিখ ঘোষণা করেছে ছয় মুসলিম দেশ। এসব দেশে রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি বিধায় তারা আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু করবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এসব তথ্য জানিয়েছে খালিজ টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। দেশগুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা শুরু হবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ভারত জানিয়েছে, তারা আগামীকাল আকাশে চাঁদের অনুসন্ধান চালাবে। যদি চাঁদ দেখা যায় তাহলে বৃহস্পতিবার থেকে, নয়তো শুক্রবার থেকে রোজা শুরু করবে। এবারের রমজান শুরুর তারিখ নির্ধারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঐতিহ্যগত চাঁদ দেখার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা অনুযায়ী, কোনো কোনো দেশে ১৮ ফেব্রুয়ারি, আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দেশভেদে চাঁদ দেখার পদ্ধতি ও মানদণ্ডে পার্থক্য থাকায় রোজা শুরুর তারিখেও ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে।
রোজা শুরুর তারিখ জানাল ৬ দেশ
বিশ্বব্যাপী এক্স বিভ্রাট
বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের বিভ্রাটের মুখে পড়েছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এক্স (সাবেক টুইটার)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার পর পরই হঠাৎ করে ব্যবহারকারীরা নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট হয়ে যান। বারবার লগইন করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। কেউ কেউ লগইন করতে পারলেও ব্রাউজিং করতে পারছিলেন না নিউজফিড। ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা লগ ইন করতে, ফিড রিফ্রেশ করতে ও পোস্ট দিতে সমস্যার কথা জানান। বাংলাদেশের প্রায় ৭৪ জন ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশ ওয়েবসাইট এবং ২৭ শতাংশ লগইনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। ভারতে প্রায় ৩ হাজার ৩৫৭ ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন; এর মধ্যে ৪৬ শতাংশ ওয়েবসাইট, ৪৫ শতাংশ অ্যাপ এবং ৯ শতাংশ ফিড রিফ্রেশ সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রায় ২৬৬ জন অভিযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ অ্যাপ, ২২ শতাংশ ওয়েবসাইট এবং ১০ শতাংশ ফিড রিফ্রেশ করতে ও পোস্ট করতে সমস্যায় পড়েন। বিভ্রাটের শিকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীরাও। ডাউনডিটেক্টরের মতে, যুক্তরাজ্যে সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রিপোর্টের সংখ্যা সর্বোচ্চে পৌঁছে ১০ হাজার ৯৫৮ জনে দাঁড়ায়। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ অ্যাপ, ২১ শতাংশ টাইমলাইন ও ১৭ শতাংশ ওয়েবসাইট সমস্যার কথা জানান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪১ হাজার ৩৬৯টি রিপোর্ট আসে। তাদের সিংহভাগই এক্স অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে সমস্যার কথা জানান। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২ লাখ ব্যবহারকারী এক্সের বিভ্রাট নিয়ে অভিযোগ করেছেন। পরে এক্স আংশিক স্বাভাবিক হলেও কোম্পানির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।  উল্লেখ্য, গত মাসেও হাজার হাজার ব্যবহারকারী একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। সেসময় প্রায় ২ লাখ রিপোর্ট জমা পড়েছিল। ভ্যারাইটি জানায়, অধিকাংশ সমস্যা (৫৬ শতাংশ) ছিল অ্যাপ সংক্রান্ত, ৩৩ শতাংশ ওয়েবসাইট এবং ১০ শতাংশ সার্ভার সংযোগ নিয়ে। সূত্র: ফোর্বস, দ্য হিন্দু, সাবা নিউজ
বিশ্বব্যাপী এক্স বিভ্রাট
ভয়ভীতিমুক্ত ভোট চায় জাতিসংঘ
জাতিসংঘ চায় আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি বাংলাদেশি যেন ভয়ভীতিমুক্ত হয়ে ভোট দিতে পারে। নারীসহ সব ভোটার যেন বৈষম্য, অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় এই আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বার্তায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার। এর মধ্যে সব নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষ ও সমাজে যারা বেশি বাধা, বৈষম্য বা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাদের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। নির্বাচনের আগে নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা-হয়রানি, বিশেষ করে অনলাইন সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ। এসব বিষয়েও জাতিসংঘ অবগত আছে। জা‌তিসংঘ বল‌ছে, রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার রক্ষাকারীসহ জনজীবনে কর্মরত নারীরা সাইবার বুলিং, ডিপফেক, পরিকল্পিত হয়রানির শিকার হচ্ছে। ছবি বিকৃত করে অপব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবর্তিত বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্টের ঘটনা বাড়ছে। জাতিসংঘ সব অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নারীদের অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি নারীদের নির্বাচনি অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান করছে। নারীসহ সব ভোটার যেন ভয়ভীতি, বৈষম্য, অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ সব অংশীদার, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা, তাদের দল ও সমর্থকদের আহ্বান জানাচ্ছে যেন - নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো না হয়। এটি নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি সমানভাবে প্রযোজ্য, যাদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করে সংস্থাটি।  জা‌তিসংঘ আরও বলেছে, আমরা বিশ্বাস করি যে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং প্রতিটি ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ দেবে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সবসময় সরকারের পাশে থেকে সহায়তা করবে।
ভয়ভীতিমুক্ত ভোট চায় জাতিসংঘ
পানি দেউলিয়াত্বের যুগে বিশ্ব, জাতিসংঘের সতর্কতা
পৃথিবীতে এখন শুধু আর পানির সংকটই নয়, বরং পৃথিবী ‘পানি দেউলিয়াত্বের’ বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। নদী-নালা, খাল-বিল, এমনকি হ্রদ শুকিয়ে মরুভূমি হওয়ার উপক্রম প্রায়। কোথাও কোথাও পানির এতটাই সংকট যে, মাটি ফেটে চৌচির। ক্রমেই সুপেয় পানির অভাব প্রকট হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটা ভয়াবহ সংবাদ বটে। যদিও এই ভোগান্তির ধকল পোহাবে গোটা বিশ্বই। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে পানি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার এই কঠিন চিত্র উঠে এসেছে। বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বিশ্ব আর সাময়িক পানিসংকটে নেই; বরং ‘পানির দেউলিয়াত্বের’ যুগে প্রবেশ করেছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, প্রকৃতি বৃষ্টি ও তুষারের মাধ্যমে যে পরিমাণ পুনর্নবীকরণযোগ্য পানি সরবরাহ করে, তার তুলনায় মানুষ এখন বছরে বেশি পানি ব্যবহার করছে। জাতিসংঘ জানায়, ১৯৯০-এর দশক থেকে বিশ্বের অর্ধেক বড় হ্রদের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। এসব হ্রদের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ। গত ৫০ বছরে প্রায় ৪১ কোটি হেক্টর প্রাকৃতিক জলাভূমি হারিয়ে গেছে, যার আয়তন প্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমান। মূলত বিশ্বজুড়ে গৃহস্থালি পানির প্রায় অর্ধেক আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। আবার সেচের কাজে ব্যবহৃত পানির ৪০ শতাংশের বেশি নেওয়া হচ্ছে এমন ভূগর্ভস্থ জলাধার থেকে, যেগুলো ক্রমেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের প্রধান জলাধারগুলোর ৭০ শতাংশেই দীর্ঘমেয়াদি পানির স্তর হ্রাসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রতিবছর অন্তত এক মাসের জন্য প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ তীব্র পানিসংকটে ভোগে। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ এমন দেশে বাস করে, যেগুলো ‘পানি অনিরাপদ’ বা ‘চরম পানি-অনিরাপদ’ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২২০ কোটি মানুষের নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই এবং ৩৫০ কোটি মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১৮০ কোটি মানুষ খরার কবলে পড়েছিল। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর জলাভূমি ধ্বংসের ফলে পরিবেশগত সেবার ক্ষতি হয় প্রায় ৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। আর খরার কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০৭ বিলিয়ন ডলার। জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (ইউএনইউ-আইএনডব্লিউইএইচ) তাদের সর্বশেষ প্রধান প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্ব এখন ‘বৈশ্বিক পানিদেউলিয়াত্বের’ যুগে প্রবেশ করেছে। ‘গ্লোবাল ওয়াটার ব্যাংকরাপ্সি: লিভিং বিয়ন্ড আওয়ার হাইড্রোলজিক্যাল মিনস ইন দ্য পোস্ট-ক্রাইসিস ইরা’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও ইনস্টিটিউটটির পরিচালক কাবেহ মাদানি বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন আর্থিক দৃষ্টান্ত দিয়ে। আনাদোলুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পানি দেউলিয়াত্ব’ শব্দটি শক্তিশালী হলেও এটি কোনো ফাঁপা শব্দ নয়। এটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা জরুরি। তার ব্যাখ্যায়, আর্থিক দেউলিয়াত্বের মতোই এটি ব্যর্থতার একটি অবস্থা যেখানে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে আর কোনো ভারসাম্য থাকে না। ‘সংকট’ শব্দটি সাময়িক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু বাস্তবে বিশ্বের বহু অঞ্চলে পানিসমস্যা এখন স্থায়ী বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। তার মতে, বিশ্ব ধীরে ধীরে ভূ-পৃষ্ঠের পানি ও ভূগর্ভস্থ পানির উভয় উৎসই নিঃশেষের পথে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পানি দেউলিয়াত্ব ধনী–গরিব নির্বিশেষে সব দেশকেই প্রভাবিত করতে পারে। বিষয়টি দেশের সম্পদের পরিমাণ নয়, বরং পানি ব্যবহারের সঙ্গে বিদ্যমান পানির বাজেটের ভারসাম্য। এ কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি-দেউলিয়াত্বের সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পানি দেউলিয়াত্বের যুগে বিশ্ব, জাতিসংঘের সতর্কতা
কর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য ‘মানুষ’ খুঁজছে এআই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের অধীনে এখন থেকে কর্মী হিসেবে কাজ করবে মানুষ। এমনই এক নতুন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে হাজির হয়েছে ‘রেন্ট আ হিউম্যান’। প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম মূলত ফ্রিল্যান্সভিত্তিক শ্রমবাজার নিয়ে হলেও এখানে কর্মীর ‘বস’ কোনো মানুষ নয়, বরং রোবট বা এআই এজেন্ট। যেসব কাজ এআই শারীরিকভাবে করতে পারে না, যেমন পার্সেল সংগ্রহ বা কাউকে উপহার পৌঁছে দেওয়া— সেসব কাজের জন্য এআই এজেন্টরা প্ল্যাটফর্মে টাস্ক পোস্ট করবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা এসব কাজ করে পারিশ্রমিক হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাবেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেদের ‘এআইয়ের জন্য মিটস্পেস লেয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রেন্ট আ হিউম্যান ডট এআই নামক সাইটটি প্রযুক্তি বিশ্বে ভূতুড়ে ও নেতিবাচক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট গিজমোডো জানায়, প্ল্যাটফর্মটির দাবি অনুযায়ী, তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে এরই মধ্যে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। তবে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিবন্ধিতদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যকই অর্থ পরিশোধের জন্য তাদের ক্রিপ্টো ওয়ালেট যুক্ত করেছেন। রেন্ট আ হিউম্যানের প্রতিষ্ঠাতা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আলেকজান্ডার লিটেপলো বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে এআই এজেন্টরা বাস্তব জগতের কায়িক শ্রমের জন্য মানুষ খুঁজে নেওয়া, বুকিং দেওয়া এবং পারিশ্রমিক পরিশোধ এসব কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারবে। গত সপ্তাহে প্লাটফর্মটি চালুর সময় লিটেপলো দাবি করেছিলেন, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে একজন অনলিফ্যানস মডেল এবং একজন এআই স্টার্টআপের প্রধান নির্বাহী (সিইও) রয়েছেন। তবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটি কেবল একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ, নাকি এর পেছনে বড় কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ব্যবস্থায় শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অর্থ লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের জায়গা রয়ে গেছে। প্রচলিত শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে এআই দ্বারা পরিচালিত এমন শ্রমবাজার শেষ পর্যন্ত কর্মীদের কতটা নিরাপত্তা দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
কর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য ‘মানুষ’ খুঁজছে এআই
নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার যুগে বিশ্ব
রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি)। শেষ মুহূর্তে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় অর্ধশতাব্দীর মধ্যে প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে দুই পরাশক্তির দেশে এই অস্ত্রের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ফলে বিশ্ব নতুন এক নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোতে পারে। এই শঙ্কা ঘনীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করেছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখছে মস্কো। ক্রেমলিন বলেছে, চুক্তি শেষ হওয়ায় পারমাণবিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাশিয়া দায়িত্বশীল অবস্থানই নেবে। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বরাতে বলেছেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে সত্যিকারের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ অর্জনের জন্য চীনকে অন্তর্ভুক্ত না করে এমন কিছু করা অসম্ভব।’ কারণ হিসেবে তিনি বেইজিংয়ের বিশাল অস্ত্র ভান্ডার ও দ্রুত বর্ধনশীল মজুত নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলে আরও এক বছর চুক্তির সীমা মানতে প্রস্তুত রাশিয়া। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি বাড়ানো নিয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি বরং চীনকে নতুন কোনো চুক্তির অংশ করতে চান, যা বেইজিং প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, পুতিন সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র মেয়াদ বাড়ানোর রুশ প্রস্তাবে কোনো সাড়া দেয়নি। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, মস্কো চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিকে ‘নেতিবাচক’ হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, ‘যাই হোক না কেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাশিয়া তার দায়িত্বশীল ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থান ধরে রাখবে। অবশ্যই, এ ক্ষেত্রে রাশিয়া তার জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।’ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে গত বুধবার রাতে জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির পক্ষগুলো আর চুক্তির মূল বিধান বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বাধ্যবাধকতার আওতায় নেই। ফলে তারা নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ বেছে নিতে স্বাধীন। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ নিউ স্টার্ট চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশকে ৭০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র, বোমারু বিমান এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত পারমাণবিক ওয়ারহেড রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। চুক্তিটির মূল মেয়াদ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়। চুক্তি অনুযায়ী পারস্পরিক সম্মতি যাচাইয়ের জন্য সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থা ছিল। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২০ সালে এসব পরিদর্শন বন্ধ হয়ে যায়, আর শুরু হয়নি। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুতিন ঘোষণা দেন, রাশিয়া ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিতে অংশগ্রহণ স্থগিত করছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার ন্যাটো মিত্ররা যখন প্রকাশ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার পরাজয় চাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে মস্কোর পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। একই সময়ে ক্রেমলিন জানায়, রাশিয়া পুরোপুরি চুক্তি থেকে সরে যাচ্ছে না এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নির্ধারিত সীমা মানার প্রতিশ্রুতি বহাল থাকবে। গত সেপ্টেম্বরে পুতিন প্রস্তাব দেন, ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় পাওয়ার জন্য নিউ স্টার্টের মেয়াদ আরও এক বছর মানা যেতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। একইসঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার বাড়িয়ে তুলতে পারে। ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত নিউ স্টার্ট ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র হ্রাস সংক্রান্ত দীর্ঘ চুক্তির ধারাবাহিকতার অংশ। তবে আগের বেশ কয়েকটি চুক্তি ইতোমধ্যেই বাতিল হয়ে গেছে। তবে কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো ড. টং ঝাও বলেন, ‘নিউ স্টার্ট চুক্তি ধরে রাখার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের তেমন আগ্রহ নেই। প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ খোলা রাখতেই এখন বেশি মনোযোগ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলোর পারমাণবিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলকভাবে কম উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, মস্কোর পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বড় আকারে বাড়ানোর মতো পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকায় এই উদ্বেগ আরও কমেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তবে নতুন কোনো চুক্তিতে চীনকেও যুক্ত করতে চান। গত মাসে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার দৃঢ়ভাবে মনে হয়, যদি আমরা নতুন করে চুক্তি করি, তাহলে চীনকে এর অংশ হওয়া উচিত।’ চীন তাদের তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ মানতে রাজি নয়। অর্থাৎ এই মুহূর্তে কোনো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় অংশ নেবে না। একইসঙ্গে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বৃহস্পতিবার বলেন, ‘চীনের পারমাণবিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমান নয়। তাই বর্তমান পর্যায়ে চীন পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় অংশ নেবে না।’ তিনি আরও বলেন, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চীন দুঃখ প্রকাশ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যে, রাশিয়ার সঙ্গে দ্রুত পারমাণবিক সংলাপ পুনরায় শুরু করতে ও আপাতত চুক্তির মূল সীমাগুলো মেনে চলতে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড নিয়ন্ত্রণ করে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, চীনের কাছে কমপক্ষে ৬০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। এটি নিউ স্টার্টের অধীনে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ৮০০টি করে ওয়ারহেডের সীমাবদ্ধতার চেয়ে অনেক কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে থাকা আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটছে। এতে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ধরনের চুক্তির গুরুত্ব শুধু অস্ত্রের সংখ্যার ওপর সীমা আরোপেই নয়, বরং একটি স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ কাঠামো তৈরির মধ্যেও নিহিত, যা অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ঠেকাতে সাহায্য করে। থিঙ্কট্যাঙ্ক র‍্যান্ড করপোরেশনের বিশেষজ্ঞ কিংস্টন রিফ এক অনলাইন আলোচনায় বলেন, ‘চুক্তির মাধ্যমে যে ভবিষ্যতের পরিণতি নির্ধারণ হয়, তা না থাকলে প্রতিটি পক্ষ সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। এতে তারা নিজেদের দৃঢ়তা ও শক্তি দেখাতে মোতায়েন করা অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াতে পারে, অথবা কৌশলগত সুবিধা আদায়ের জন্য আলোচনার পথ খুঁজতে পারে।’ ওয়াশিংটনের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক ড্যারিল কিমবল বিশ্বাস করেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া মানে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, ‘এই মেয়াদোত্তীর্ণ চুক্তি শুধু রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই নয়, বরং চীনকেও যুক্ত করে অবাধ ও বিপজ্জনক ত্রিমুখী অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি করবে। চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও, তারা অত্যন্ত বিধ্বংসী অস্ত্রভাণ্ডার ক্রমেই বাড়াচ্ছে।’ ড. ঝাও বলেন, চুক্তিটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেলে রাশিয়া পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার পানির নিচে চলা পারমাণবিক টর্পেডোর মতো নতুন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে এগিয়ে যেতে পারে। তার মতে, এসব ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রচলিত ও বিশেষভাবে বিপজ্জনক। এমনকি এগুলোর উন্নয়ন ও পরীক্ষার সময়ও বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নজিরবিহীন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে ওয়াশিংটন তার বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীতে অতিরিক্ত পারমাণবিক ওয়ারহেড বসানোর ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বাধীনতা পাবে। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, রাশিয়া তার নিরাপত্তার জন্য যে কোনো নতুন হুমকির জবাব দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে দেবে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা যদি শোনা না হয়, তাহলে সমতা ফিরিয়ে আনতে আমরা আনুপাতিক পদক্ষেপ নেব।’ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (গোল্ডেন ডোম) সম্ভাব্য অস্থিতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেন। মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলার এই পরিকল্পনা মস্কোর জন্য উদ্বেগের কারণ। এতে পারস্পরিক দুর্বলতার নীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এই নীতিই এতদিন পারমাণবিক প্রতিরোধমূলক সংলাপের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। ড্যারিল কিমবল বলেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা রাশিয়া ও চীনকে উদ্বিগ্ন করেছে। তিনি বলেন, ‘তারা সম্ভবত গোল্ডেন ডোমের জবাবে এমন ব্যবস্থা নেবে, যাতে তারা এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করতে পারে এবং নিশ্চিত করতে পারে যে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা তাদেরও আছে।’ তিনি আরও বলেন, আক্রমণাত্মক অস্ত্র ব্যবস্থা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার তুলনায় অনেক দ্রুত ও কম খরচে তৈরি করা যায়। সূত্র: অ্যাসোসিয়েট প্রেস, সিএনএ
নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার যুগে বিশ্ব
মেলবোর্ন থেকে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি চুরি
মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান ইন্ডিয়ান কমিউনিটি সেন্টারে রাখা মহাত্মা গান্ধীর ব্রোঞ্জ মূর্তিটি চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং দোষীদের আটকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। খবর এনডিটিভির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘মেলবোর্নের রোভিলায় অবস্থিত গান্ধীর মূর্তিটি ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষকে জোরালভাবে বলেছি, নিখোঁজ মূর্তিটি উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ চুরি হওয়া মূর্তিটি নয়াদিল্লির ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। এটি অস্ট্রেলিয়ার ভারতীয় সম্প্রদায়ের জন্য সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং প্রতীকী গুরুত্ব বহন করত। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মূর্তিটি ভিত্তি থেকে কেটে নেওয়ার জন্য অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করে। মূর্তিটির ওজন ছিল ৪২৬ কেজি। ভিক্টোরিয়ার নক্স ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট ঘটনার তদন্ত করছে। পুলিশ সতর্ক করেছে, কেউ যদি স্ক্র্যাপ মেটাল বিক্রির উদ্দেশ্যে মূর্তিটি ব্যবহার করতে চায়, তা নিয়মিত নজরদারিতে রাখতে হবে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা গেলে অবিলম্বে রিপোর্ট করতে হবে। এই ঘটনা নতুন নয়, ২০২১ সালের নভেম্বরে উদ্বোধনের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অজ্ঞাত ব্যক্তি গান্ধীর মূর্তিটি ভাঙচুর করেছিল। অনেকেই বলছেন, অস্ট্রেলিয়ায় ভারতবিরোধী মনোভাবের বৃদ্ধির মধ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে খালিস্তান-সম্পর্কিত কট্টরপন্থিরা পূর্বেও ভারতীয় কূটনৈতিক মিশন এবং উপাসনালয়সহ সম্প্রদায়ের স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
মেলবোর্ন থেকে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি চুরি
এপস্টেইন বর্বরতা: দাজ্জালীয় সভ্যতার গোপন জাহান্নাম
এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নতুন এই তথ্যভান্ডার বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন কীভাবে বছরের পর বছর ক্ষমতা ও অর্থের জোরে নিজের অপরাধের জাল বিছিয়ে রেখেছিলেন, তার এক ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে এই দলিলগুলোতে। এসব নথিতে লুকিয়ে আছে বিশ্বখ্যাত রাজনীতিক, বিলিয়নিয়ার এবং এমনকি রাজপরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন অপরাধকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইনের তদন্ত সম্পর্কিত এসব নথি প্রকাশ করেছে। নথিগুলোতে এপস্টেইন চক্রের মানুষ হত্যার পর মাংস খাওয়ার মতো পৈশাচিক বর্ণনা উঠে এসেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি লেখা আলোড়ন ফেলেছে। ‘সাওতুল যিলযাল’ নামে একজন লেখাটি পোস্ট করেন। এশিয়া পোস্টের পাঠকদের জন্য হুবহু লেখাটি তুলে ধরা হলো- কল্পনা করেন আপনার আদরের ছোট্ট মেয়েটির কথা। বয়স ১২ কিংবা ১৩। ফুলের মতো পবিত্র, চোখে একরাশ স্বপ্ন। একদিন তাকে বলা হলো, তাকে একটি বিশেষ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বলা হলো, সে বিশ্বের সবচেয়ে জ্ঞানী, ধনী এবং প্রভাবশালী মনীষীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবে। সরল বিশ্বাসে মেয়েটি প্লেনে উঠল। কিন্তু সে জানত না, চকচকে ওই প্লেনটির নাম ‘ললিটা এক্সপ্রেস’ (Lolita Express)। সে জানত না, এই প্লেনটি তাকে স্বপ্নের দেশে নয়, বরং দাজ্জালিক সভ্যতার এক গোপন জাহান্নামে নিয়ে যাচ্ছে। যার গন্তব্য প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’। দ্বীপটি দেখতে দুনিয়াবি জান্নাতের মতো। চারদিকে নীল সমুদ্র, মাঝখানে রাজকীয় প্রাসাদ। কিন্তু প্রাসাদের ভেতরে ঢুকতেই মেয়েটির স্বপ্ন কাচের মতো চুরমার হয়ে গেল। সে দেখল, টিভির পর্দায় যাদের সে হিরো হিসেবে দেখেছে, নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী, বিশ্বনেতা, হলিউড সুপারস্টার তারা সেখানে বসে আছে। কিন্তু তাদের চোখে মমতা নেই, আছে এক আদিম, পৈশাচিক ক্ষুধা। মেয়েটি চিৎকার করে বলেছিল, ‘আমি মায়ের কাছে যাব!’ কিন্তু তার কান্না চাপা পড়ে গিয়েছিল প্রশান্ত মহাসাগরের গর্জনে আর শ্যাম্পেনের বোতল খোলার শব্দে। তাকে বলা হতো, ‘চুপ থাকো! এরা এই পৃথিবীর ঈশ্বর। এদের সেবা করাই তোমার কাজ।’ দিনের পর দিন, এই নিষ্পাপ শিশুদের ছিঁড়ে খেয়েছে তারা, যাদের পোস্টার আপনারা ঘরের দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখেন। আপনারা হয়তো ভাবছেন, এত বড় বড় রুই-কাতলারা জড়িত, তাহলে এই খবর বের হলো কীভাবে? জেফ্রি এপস্টেইন ছিল অত্যন্ত চতুর। সে তার ক্লায়েন্টদের নাম এবং কন্টাক্ট ডিটেইলস লিখে রাখত একটি ছোট কালো ডায়েরিতে, যা ‘দ্য ব্ল্যাকবুক’ (The Black Book) নামে পরিচিত। এটি ছিল তার ইনস্যুরেন্স পলিসি। সে ভাবত, এই রাঘববোয়ালদের নাম তার কাছে আছে বলে কেউ তাকে ছোঁবে না। কিন্তু পাপ বাপকেও ছাড়ে না। ‘ভার্জিনিয়া জুফরে’ (Virginia Giuffre) নামের এক সাহসী নারী, যে ছোটবেলায় এই পিশাচদের শিকারে পরিণত হয়েছিল, সে এপস্টেইনের সহযোগী এবং রক্ষিতা ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়। সেই মামলার সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশে হাজার হাজার পৃষ্ঠার সিলড ডকুমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার আদেশ দেওয়া হয়। বিশ্ববাসী অবাক হয়ে দেখল, এতদিন তারা যাদের ভদ্রলোক ভেবে এসেছে, আদালতের নথিতে তাদের নামগুলো জ্বলজ্বল করছে জঘন্য সব অপরাধের সঙ্গে। কাদের নাম নেই সেখানে? তালিকাটি দেখলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। ১. বিল ক্লিনটন: আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট, গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা। তিনি এই দ্বীপে এবং এপস্টেইনের প্লেনে চড়েছেন বহুবার। নথিতে তাকে নিয়ে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে। ২. প্রিন্স এন্ড্রু: ব্রিটিশ রাজপরিবারের অহংকার। যার আভিজাত্যের গল্প শুনে আপনারা বড় হয়েছেন, সেও ছিল এই দ্বীপের নিয়মিত খদ্দের। ৩. স্টিফেন হকিং: যার বিজ্ঞান আর কসমোলজি নিয়ে আপনারা মুগ্ধ। তিনিও গিয়েছিলেন সেই পাপের দ্বীপে। নথিতে তার নামও উঠে এসেছে মাইনরদের সঙ্গে সম্পর্কিত এক প্রসঙ্গে। ৪. বিল গেটস: বিশ্বের সেরা ধনী এবং ফিলানথ্রোপিস্ট। আফ্রিকায় শিশুদের টিকা দেয় (যদিও মহামারী ছড়িয়ে দেওয়ার টিকা, বিভিন্ন ভাইরাস টেস্ট করার টিকা) তারও ঘনিষ্ঠতা ছিল এই শিশু পাচারকারীর সঙ্গে। ৫. ডোনাল্ড ট্রাম্প: বিশ্ব রাজনীতির আরেক মোড়ল। ৬. হলিউড ও গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড: কেভিন স্পেসি থেকে শুরু করে নামকরা সব মডেল ও অভিনেতারা, যারা আপনাদের আইডল, তারা অনেকেই ছিলেন এই চক্রের অংশ। জেফ্রি এপস্টেইন কি কেবল একজন বিকৃতকামী ধনী ছিল? না। সে ছিল মোসাদ (ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা) এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি হানি ট্র্যাপ প্রজেক্টের এজেন্ট। তার কাজ ছিল বিশ্বনেতাদের এই দ্বীপে নিয়ে এসে তাদের নোংরা কাজের ভিডিও রেকর্ড করে রাখা যাকে গোয়েন্দা ভাষায় বলা হয় ‘কমপ্রোম্যাট’। পরবর্তীতে এই ভিডিওগুলো দিয়েই তাদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো। আপনার প্রিয় নেতারা যখন টিভিতে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বা অদ্ভুত সব সেকুলার এজেন্ডার পক্ষে কথা বলে, তখন তাদের গলার দড়িটা আসলে জায়নবাদীদের হাতে থাকে। তারা জানে, মুখ খুললেই তাদের ওই গোপন ভিডিও ফাঁস হয়ে যাবে। বাংলাদেশে কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক যদি শরিয়া নিয়ে কথা বলে, নারীদের ঘরমুখী করার কথা বলে, অল্প বয়সে বিয়ে নিয়ে কথা বলে তখন এই দেশের সুশীলরা, নারীবাদীরা চিৎকার করে আকাশ-বাতাস ভারী করে ফেলে, ‘মোল্লারা সব শিশুকামী!’ কিন্তু আজ যখন শত শত প্রমাণ সামনে আসছে যে, তাদের স্বপ্নের আমেরিকা, তাদের সভ্যতার ধারক-বাহকরা একেকজন জঘন্য লেভেলের প্রোফাইল তখন তারা মুখে কুলুপ এঁটেছে। কেন? কারণ এই পিশাচরা টাই পরে, ইংরেজিতে কথা বলে এবং দামি পারফিউম মাখে। তাদের কাছে সাদা চামড়ার অপরাধ কোনো অপরাধ না, ওটা লাইফস্টাইল। যত সব ভন্ড হিপোক্রিটের দল, সবগুলোকে আমেরিকান হাই-হিল দিয়ে পিটানো দরকার। এই দাজ্জালিক বা নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার-এর মূলমন্ত্রই হলো পারিবারিক প্রথা ধ্বংস করা এবং বিকৃত যৌনতাকে নরমাল করা। এই এপস্টেইন চক্র কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, এটা সেকুলার পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পচে যাওয়া কলিজার বাস্তব ছবি। আপনার রব কি বলেননি, ‘ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর’? ইসলাম ছাড়া, শরিয়াহ ছাড়া এই পিশাচদের থামানোর কোনো আইন দুনিয়াতে নেই। কারণ আইন যারা বানায় (ল্যান্ডমাকার্স), তারাই আজ এই অপরাধের হোতা। কান্না করেন। শুধু ওই নির্যাতিত শিশুদের জন্য না, নিজের ইমানের অবস্থার জন্য কান্না করেন। আপনি কাদের ফলো করছেন? হাশরের মাঠে এই পেডোফাইলরা যখন জাহান্নামে যাবে, আপনাকে যেন তাদের ফ্যান বা সাপোর্টার হিসেবে তাদের পেছনে লাইনে দাঁড়াতে না হয় সেই মোনাজাত করেন! এখন সিদ্ধান্ত আপনার।
এপস্টেইন বর্বরতা: দাজ্জালীয় সভ্যতার গোপন জাহান্নাম
জুলাইয়ের মধ্যে ফতুর হয়ে যাবে জাতিসংঘ
সদস্য রাষ্ট্রগুলো বকেয়া ফি পরিশোধ না করায় আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ‌‌জাতিসংঘ ‘আসন্ন আর্থিক পতনের’ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করছেন বিশ্ব সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, জাতিসংঘ বড় আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এই ঝুঁকি ‘ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য হুমকিস্বরূপ’। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বকেয়া পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। চিঠিতে বিশ্ব সংস্থাটির আর্থিক পতন ঠেকাতে তাদের বাধ্যতামূলক ফি পরিশোধ করে আর্থিক নিয়মাবলি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আর্থিক অবদানকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত বাজেট ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তাদের নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ‘করদাতাদের অর্থের অপচয়’ উল্লেখ করে তারা জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, আরও কয়েকটি সদস্যরাষ্ট্রের অর্থ বকেয়া রয়েছে অথবা তারা অর্থ পরিশোধ করতে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। যদিও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালের শেষ দিকে সংস্থাটির আর্থিক ব্যবস্থায় আংশিক সংস্কারের অনুমোদন দিয়েছিল, তবুও সংস্থাটি এখনো তীব্র নগদ সংকটে ভুগছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে এমন একটি নিয়ম, যার ফলে একবার প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ জাতিসংঘের নেই। এই আর্থিক সংকটের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে। সর্বত্র টাঙানো রয়েছে সতর্কবার্তামূলক সাইনবোর্ড। ব্যয় কমাতে নেওয়া প্রায় মরিয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে এসকেলেটর বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং ভবনের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সদস্যরাষ্ট্রগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, অতীতেও সংস্থাটি আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’। চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও গুতেরেস বলেন, ‘অনুমোদিত নিয়মিত বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের অর্থায়নকারী মূল্যায়নকৃত ফি পরিশোধ না করার সিদ্ধান্ত এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পুরো ব্যবস্থার অখণ্ডতা’ নির্ভর করে জাতিসংঘ সনদের অধীনে দেশগুলোর ‌‘মূল্যায়িত অবদান’ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার উপর। ২০২৫ সালে মোট বকেয়ার ৭৭ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছে, ফলে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ অপরিশোধিত রয়ে গেছে। জাতিসংঘ বাজেট বাস্তবায়ন করতে না পারলে নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অব্যয়িত অর্থ সদস্যদের কাছে ফেরত দিতে হবে। এই নিয়ম ‘দ্বিগুণ আঘাত’ তৈরি করেছে, যেখানে ‘অস্তিত্বহীন নগদ অর্থ ফেরত দেওয়ার আশা করা হয়েছিল’। আর্থিক সংকটের কারণে বিভিন্ন দেশে পরিচালিত মিশন বন্ধ কিংবা সীমিত করতে শুরু করেছে জাতিসংঘ। ইতোমধ্যেই আফগানিস্তানে ইউএনও উইমেন মা ও শিশু ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটিতে বিশ্বের সর্বোচ্চ মাতৃমৃত্যুর হার রয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সুদানের সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের জন্য রেশন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
জুলাইয়ের মধ্যে ফতুর হয়ে যাবে জাতিসংঘ