আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ থেকে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও পথসভার মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠ গরম করবেন প্রার্থীরা। টানা ২০ দিনের এই প্রচার-প্রচারণায় বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রচারণা চালাতে হবে। প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
জনসভা করার ২৪ ঘণ্টা আগে দিন-তারিখ এবং সময়-স্থান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে জানাতে হবে লিখিতভাবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সড়ক, মহাসড়কে কিংবা জনপথে জনসভা বা পথসভা করলে কার্যকরী ব্যবস্থা নিবে ইসি। প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনের সুযোগ নেই।
নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিন ব্যবহার করা যাবে না। একজন প্রার্থী তার আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড (দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুট) ব্যবহার করতে পারবে।
নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হতে হবে। ব্যানারের ক্ষেত্রে আয়তনে অনধিক ১০ ফুট × ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল আয়তনে অনধিক এ-ফোর সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি × ১১.৬৯ ইঞ্চি) এবং ফেস্টুন আয়তনে অনধিক ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চিতে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না। প্রার্থীর ছবি পোর্টেট আকারে হতে হবে। প্রচারণায় ব্যবহার করা সাধারণ ছবির (প্রোট্রেট) আয়তন হতে হবে ৬০ সেন্টিমিটার × ৪৫ সেন্টিমিটার।
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। কোনো প্রার্থীর নির্বাচনি প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৩ (তিন) মিটারের বেশি হতে পারবে না। মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখবিহীন কোনো ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থী, দল বা সংশ্লিষ্ট পেজের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য জমা দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। ঘৃণাত্মক, মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রচার করা যাবে না। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক, উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না, সব প্রচার কনটেন্ট প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি বা শেয়ার করা যাবে না।
এছাড়া নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন সহকারে কোনো মিছিল, জনসভা কিংবা কোনোরূপ শোডাউন করা যাবে না। প্রচারে যানবাহন সহকারে কিংবা যানবাহন ব্যতীত কোনো ধরনের মশাল মিছিলও করা যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না। প্রচারে তোরণ নির্মাণ কিংবা আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ।
কোনো প্রার্থী বা দল নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডই দেওয়া হতে পারে। দলের ক্ষেত্রেও এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে।
মন্তব্য করুন








