আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। যাতে চূড়ান্ত প্রার্থী ১ হাজার ৯৮১ জন। এরমধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র এবং ১ হাজার ৭৩২ জন দলীয় মার্কা নিয়ে লড়বেন। এসব প্রার্থীর মধ্যে ৮৯১ জন কোটিপতি এবং তারমধ্যে শতকোটির মালিক ২৭ জন।
প্রার্থীদের দাখিল করা সম্পদের হলফনামা বিশ্লেষণের পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এ তথ্য জানায়।
আইনের মাধ্যমে ঋণ খেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে সংস্থাটি জানায়, প্রার্থীদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে বিএনপির ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ, স্বতন্ত্র ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ, জাতীয় পার্টির ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং জামায়াতের ২২ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত।
প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি পেশায় ব্যবসায়ী। আইনে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ, শিক্ষক ১১ দশমিক ৫৬ এবং রাজনীতি পেশায় আছেন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী। বর্তমানে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা আছে।
বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে এবার ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে বড় আকারে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। তবে, প্রতিবারের মত এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।
এ ছাড়া ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদ বেশি। ১১৮ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের দালান বা ফ্ল্যাট সংখ্যা বেশি এবং ১৬৪ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের জমির পরিমাণ বেশি।
এবারের নির্বাচনে ২১ জন প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিলেও টিআইবির তথ্য অনুযায়ী অন্তত দুজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হলফনামায় সম্পদ গোপনের প্রবণতা থাকলেও তা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ।
একইসঙ্গে ক্ষমতা, অর্থ, পেশিশক্তি এবং ধর্মের কাছে রাজনীতি জিম্মি দশায় পরিণত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন








