ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
গলাচিপায় পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের মতবিনিময়
তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ ধরার দায় তার জেলে আটক ও২৪ লাখ টাকার অবৈধ জাল জব্দ 
কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী সীমা বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞা
কুয়াকাটার ঐতিহ্যবাহী সীমা বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞা
পটুয়াখালী কুয়াকাটায় ঐতিহ্যবাহী মিশ্রিপাড়া সীমা বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শনে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়। বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে মারধরের ঘটনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকাল বিকালে এ সিদ্ধান্তের পর বিহার পরিদর্শনে গিয়ে ফিরে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা৷ এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। বিহারের মহাথেরো উত্তম ভিক্ষু বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে বিহার সীমানার মধ্যে একটি দোকানঘর নির্মানের কাজ শুরু করে বিহার কর্তৃপক্ষ। এসময় স্থানীয় নাসির হাওলাদার ও সামসুল আলম বিহারের মধ্যে জমি দাবি করে সভাপতি মংলাচিনকে মারধর করেন। এ ঘটনায় গতকাল মংলাচিন মহিপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন রাখাইন সম্প্রদায়। মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার বলেন, অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ বিহারে স্থাপিত অষ্টধাতুর তৈরী ৩৭ মন ওজনের গৌতম বুদ্ধের ধ্যানমগ্ন মূর্তি পরিদর্শনে প্রতিনিয়ত ভীড় জমায় হাজারো পর্যটক ।
দশমিনায় খালে পরে ২ বছরে শিশুর মৃত
দশমিনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার, ৬ জেলের কারাদণ্ড
গলাচিপায় সমুদ্রগামী জেলেদের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ
তেঁতুলিয়া নদীতে থামছে না জেলেদের দৌরাত্ম্য, ইলিশ শিকারে নেমেছে নারীরাও
দশমিনার তেঁতুলিয়া নদীতে থামছে না জেলেদের দৌরাত্ম্য, নারীরাও ইলিশ শিকারে নেমেছে

তেঁতুলিয়া নদীতে থামছে না জেলেদের দৌরাত্ম্য, নারীরাও ইলিশ শিকারে নেমেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর দশমিনা অংশের তেঁতুলিয়া নদীতে অব্যাহত রয়েছে মা ইলিশ শিকার। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও পুরুষ জেলেদের পাশাপাশি নারী জেলেরাও একাধিক ট্রলার নিয়ে নদীতে মাছ ধরছেন।  প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকলেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে জাল ফেলে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, অর্থের বিনিময়ে কিছু জেলেকে নদীতে জাল ফেলার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, ঢনঢনিয়া, গোলখালী, কাটাখালী, আউলিয়াপুর, রণগোপালদী, পাতারচর ও চরবোরহান এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মা ইলিশ শিকার চলছে। দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে নদীতে বিচরণ করছেন জেলেরা। ধরা পড়া মাছ নদীর তীরে এনে বিক্রিও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকার তেঁতুলিয়া নদীতে সরেজমিনে গিয়ে মাছ শিকারের চিত্র দেখা যায়। এ সময় কয়েকটি স্থানে ট্রলার নিয়ে জেলেদের জাল ফেলতে দেখা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন জেলের অভিযোগ, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে কিছু জেলেকে নদীতে জাল ফেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।  যারা টাকা দিতে পারছেন, তাঁরা দিন-রাতে নির্বিঘ্নে মাছ ধরছেন বলে তাঁরা শুনেছেন। অথচ সাধারণ জেলেরা অভিযানের মুখে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়েক জেলে বলেন, ‘আমরা গরিব জেলে। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। মাছ ধরতে না পারলে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। আমরা আইনের বিরোধিতা করি না, তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।’ অর্থের বিনিময়ে মাছ ধরার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি নদীতে নিয়মিত নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা মৎস্য বিভাগের উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর উত্তর প্রান্ত থেকে কয়েকটি নারী জেলের দল একাধিক ট্রলার নিয়ে তাঁর কর্ম এলাকায় মা ইলিশ শিকার করতে আসে। এসব জেলে মূলত বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বগি বাজার এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় তাঁদের আটক করতে গেলে তাঁরা ছোট ছোট শিশুদের নদীতে ফেলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অভিযানে বাধা সৃষ্টি করেন। এ ছাড়া জেলেদের স্বাধীনভাবে নদীতে মাছ ধরতে বাধা দেওয়ায় আমাদের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’ দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, তিনি নিজেই তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌ-পুলিশ, থানা-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগকে কঠোরভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একাধিক জেলেকে আটক এবং জাল ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মির্জাগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে জেলেদের হামলায় কর্মকর্তা আহত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অভিযানে হামলার শিকার হয়েছে কোস্ট গার্ড ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সহ যৌথ অভিযানিক দল। অভিযানের সময় জেলেদের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটের সামনের কাচ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহম্মদ মাহফুজুর রহমান কিছুটা আহত হন। তবে হামলার মুখেও অভিযান অব্যাহত রেখে নদী থেকে দুটি মাছ ধরার নৌকা ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা প্রায় ১২ হাজার মিটার অবৈধ জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভিকাখালী গ্রামের পাশের পায়রা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৎস্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম নদীতে অভিযান চালায়। এ সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারে ব্যস্ত জেলেরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাছ ধরার জাল নদীতে ফেলে নৌকা নিয়ে দ্রুত তীরে উঠে যান। সেখান থেকে কোস্ট গার্ডের স্পিডবোট ও ট্রলার লক্ষ্য করে শিকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে স্পিডবোটের সামনের গ্লাস ভেঙে যায় এবং মৎস্য কর্মকর্তার মাথায় আঘাত লাগে। ঘটনার পর মৎস্য কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেলকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং বাজারে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানেন। এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল জানান, "যারা এ আক্রমণ করেছে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম উদ্ধার করতে না পারলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য অফিস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পটেনশিয়াল (সম্ভাব্য) ইনফর্মার হিসেবে স্থানীয়দের নাম উল্লেখ করে মামলা করব। তিনি আরো জানান,অভিযানে প্রায় ১২ হাজার মিটার জাল এবং দুটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে জব্দ করা ১২ হাজার মিটার অবৈধ জাল জনসমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

দশমিনায় সেইন্ট -বাংলাদেশ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

দশমিনা উপজেলায় সেইন্ট-বাংলাদেশ প্রকল্পের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২ ঘটিকার সময় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স হল রুমে সেইন্ট -বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর কবির এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সেইন্ট - বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার নেহার আজমঠ মুহি, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন, মহিলা বিষায়ক কর্মকর্তা  জেসমিন,  প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিটলারুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম,  দশমিনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো.বেল্লাল হোসেন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা,  সংবাদকর্মী,  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সেইন্ট- বাংলাদেশ দশমিনা উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত কর্মীগন। স্বাগত বক্তব্যে,সেইন্ট- বাংলাদেশ প্রকল্প ম্যানেজার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি সভায় অবহিতকরেণ উপজেলয়া দুইটি ইউনিয়নে (রনগোপালদী, বাঁবাড়িয়া) এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও ওয়াটার স্যানিটাইজেশন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। উপজেলায় আরো ব্যাপক পরিসরে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও ওয়াটার স্যানিটাইজেশন নিয়ে কাজ করা হবে। উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা চান। প্রধান অতিথর বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, উপকূলীয় এলাকা দশমিনা।  এই উপজেলায় কয়েকটি চরাঞ্চল রয়েছে। ঐ সকল এলাকার সাধারণ মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও ওয়াটার স্যানিটাইজেশন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য গুরুত্বদানে আরোপ করা হয়।

গলাচিপায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত  

পটুয়াখালীর গলাচিপায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ আয়োজনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে ফিরে আসে। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. গোলাম মোস্তফা, সদস্যসচিব আলতাফ হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইখতিয়ার কবির, গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান ও সাবেক সদস্যসচিব মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় উপজেলা গলাচিপা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও অতিবৃষ্টিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব দুর্যোগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা, প্রস্তুতি ও স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বলেন, দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা যথাসময়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিশু, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। গলাচিপার মতো উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।  

১ হাজার মিটার জালসহ দুই জেলে আটক

কলাপাড়ায় মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে ১ হাজার মিটার জাল ও ১ টি ট্রলারসহ দুই জেলেকে আটক করেছে মৎস্য বিভাগ। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশের সহায়তায রাবনাবাদ নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব জাল, ট্রলার ও জেলেদের আটক করা হয়। পরে মো. রিফাত (১৯) নামের এক জেলেকে ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং জব্দকৃত জাল জনস্মুখ্যে পুড়িয়ে ধ্বংস করে ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে আর মাছ শিকার করবেনা মর্মে মুচলেখা দিলে অপর অপ্রাপ্ত বয়স্ক অপর জেলে ও ট্রলারটি ছেড়ে দেয়া হয়৷ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, মা ইলিশের বাধাহীন প্রজননের জন্য ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সাগর ও নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।

দুমকিতে ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ

পটুয়াখালীর দুমকিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযানে ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও একটি কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরে জালগুলো প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৬টা পর্যন্ত পায়রা নদীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পায়রা নদীর বাহেরচর, পশ্চিম আঙ্গারিয়া, আলগি, রাজাগঞ্জ ও চান্দখালী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় নদী থেকে ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও একটি কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, অভিযানে জব্দ করা কারেন্ট জালগুলো প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে।

দশমিনায় তেতুলিয়া নদীতে ২০ কেজি ইলিশসহ জাল জব্দ

দশমিনা উপজেলায় তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ মিটার নিষিদ্ধ জাল এবং ২০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং জব্দকৃত ইলিশ মাছ দুটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং একই দিন রাত সাড়ে ১০টা থেকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৭টা পর্যন্ত দুই দফায় তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের প্রথম দফায় প্রায় ১০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল ও ২০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং ইলিশ মাছ দুটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় দফার অভিযানে আরও প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। পরে এসব জাল তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী হাজীরাট এলাকায় জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। দশমিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ ফেরদৌস জানান, তেতুলিয়া নদীতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ, ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নদীতে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার পাশাপাশি সকলের সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

আরও
X