ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
রায়পুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন
রায়পুরায় আন্তর্জাতিক মানের ম্যারাথনে দৌড়েছন এক হাজার দৌড়বিদ
১,৮০০ শ্রমিকের কর্মস্থল এখন নীরব, বিপাকে নারী শ্রমিকরা
১,৮০০ শ্রমিকের কর্মস্থল এখন নীরব, বিপাকে নারী শ্রমিকরা
এক সময় সকাল হলেই শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠত কারখানা প্রাঙ্গণ। ভেতর থেকে ভেসে আসত উৎপাদনযন্ত্রের শব্দ। আশপাশের সড়কেও দেখা যেত কর্মস্থলে ছুটে চলা শ্রমিকদের ভিড়। এখন সেখানে নীরবতা। বিশাল কারখানাটি পড়ে আছে বন্ধ। দিন-রাত শুধু পাহারায় রয়েছেন ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী। এই কারখানার আয়ে একসময় চলত প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিকের সংসার। তাদের কারও স্বামী নেই, কেউ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, কারও আবার সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চলত মাস শেষে পাওয়া সামান্য বেতনে। হঠাৎ কর্মস্থল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেকের ঘরেই এখন নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। পুরুষ শ্রমিকদের কেউ কেউ বিকল্প কাজে যুক্ত হতে পারলেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী শ্রমিকরা। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া এলাকায় অবস্থিত বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১২ সালে উৎপাদনে যায়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের বড় একটি উৎস হয়ে ওঠে। চলতি বছরের ১৫ মে কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ দেওয়ার পর থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কারখানা এলাকায় কথা হয় রহিমা বেগম, সুমি আক্তারসহ অন্তত আরও ১০/১২ জন শ্রমিকের সঙ্গে। তাদের প্রায় সবার গল্পই একই কাজ নেই, আয় নেই; অথচ সংসারের খরচ থেমে নেই। শ্রমিকদের দাবি, কারখানাটি পুনরায় চালু করা গেলে তাদের দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য স্থানীয়ভাবে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় তারা কারখানাটি চালুর দিকেই তাকিয়ে আছেন। একসময় যেখানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে দিন শুরু হতো, সেখানে এখন নীরবতা। কারখানার ফটকের ভেতরে শুধু নিরাপত্তাকর্মীদের আনাগোনা। আর ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক শ্রমিকের চোখে একটাই প্রশ্ন—আবার কবে চালু হবে তাদের সেই কর্মস্থল? সোনাপুর এলাকার শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, “পুরুষ শ্রমিকদের অনেকে অন্যত্র কাজ পেয়েছেন। কিন্তু আমরা মধ্যবয়সী নারীরা কোথাও কাজ পাচ্ছি না। বিসিক শিল্পনগরীতেও যোগাযোগ করেছি, কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বিধবা বা একার আয়ে চলা নারীদের টিকে থাকাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।” শেফালী তারা বানু বেগম মকসুদুন্নেসাসহ ৫/৭ জন নারী শ্রমিকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করায় অনেকেরই অন্য কোথাও কাজের অভিজ্ঞতা বা যোগাযোগ নেই। হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়ায় জমানো সামান্য টাকা দিয়ে কোনো রকমে দিন কাটছে। নতুন কাজ মিললেও মজুরি কম এবং কাজের নিশ্চয়তা নেই। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুম, হাবিবুর রহমান ও মানিক হোসেন বলেন, কারখানাটি চালু থাকাকালে শুধু শ্রমিকরাই নন, আশপাশের ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও এর ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর প্রভাব পড়েছে। চাকরি আছে, নেই আগের মতো কাজ আক্ষেপ করে কারখানার নিরাপত্তা বিভাগের কর্মী মো. শফিক বলেন, বেতন ১২ হাজার টাকা। তিনি নিরাপত্তা সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত থাকলেও কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকায় আগের মতো নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। শফিক বলেন, “এই চাকরির আয়ের ওপরই আমার সংসার চলে। কারখানা কবে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, সেই চিন্তা থাকে। এখন আগের মতো ডিউটিও নেই। তারপরও আশা করি কারখানাটি আবার চালু হবে। একই দুশ্চিন্তা সিকিউরিটি ইনচার্জ অহিদুর রহমানের। প্রায় ১৬ বছর ধরে বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজে কাজ করছেন তিনি। মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা বেতনে স্ত্রী সালেহা বেগম, তিন ছেলে ও তিন মেয়ের সংসার চলে। অহিদুর রহমান বলেন, “এত বছর ধরে এই চাকরির ওপরই সংসার চলছে। এখন কাজ আগের মতো নেই। কখন পুরোপুরি চাকরি চলে যায়, সেই চিন্তায় আছি।” বর্তমানে কারখানাটির ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম না থাকলেও দিন-রাত মিলিয়ে ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রমিকদের কোলাহলের জায়গায় এখন তাদেরই পদচারণা। বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিজের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বিপ্লব পাল বলেন, “এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমরা লে-অফে গিয়েছিলাম। তখন স্টাফসহ প্রায় ৯৬৫ জন কর্মী ছিল। তার আগে ছিলো ১৮০০ জন শ্রমিক। তিনি আরো বলেন, প্রথমে ৪৫ দিনের লে-অফ দেওয়া হয়। পরে ১৫ দিন করে সময় বাড়ানো হয়। প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস পর্যন্ত কর্মীদের বেতন দেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা স্থায়ীভাবে ছাঁটাই করিনি এবং পুরোপুরি বন্ধও করিনি। প্রতিষ্ঠানটি আবার চালুর চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অনেক শ্রমিক অন্য কারখানায় চলে গেছেন। আমরা চালু করতে পারলে যারা ফিরে আসবেন, তাদের বিষয়টি হিসাব-নিকাশ করে দেখা হবে।”
রায়পুরে সেচ্ছাসেবক দল নেতার নেতৃত্বে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম
রায়পুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ
রায়পুরে জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৩২ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা
রায়পুরে নারিকেল গাছ থেকে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ বছর ধরে অস্ত্রোপচার বন্ধ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অজ্ঞানকারী ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে প্রায় ২ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ানসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। ফলে এখানে গর্ভবতী মায়েরা প্রসবকালীন জরুরি ও জটিল সময়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। শুধু গাইনি নয়, এই হাসপাতালে সার্জারিই, মেডিসিন, শিশুসহ বিশেষজ্ঞের ১১ পদই শূন্য। কার্যক্রম চালু না থাকায় অস্ত্রোপচার কক্ষে থাকা কোটি টাকার সরঞ্জামও পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।   জানা যায়, রায়পুর উপজেলার ৪ লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যার সরকারি এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার অপারেশনের জন্য আছে অপারেশন থিয়েটার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। কিন্তু এখানে প্রায় ২ বছর ধরে  গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অজ্ঞানকারী ডাক্তার না পারায় এ হাসপাতালটিতে বন্ধ রয়েছে মায়েদের প্রসবকালীন জটিল ও জরুরি সময়ের সিজারিয়ান অপারেশন।  রোগী আসছেন-যাচ্ছেন। এর মধ্যেই  অস্ত্রোপচার কক্ষের দরজায় বড় তালা ঝুলছে। ২ বছর পূর্বে এখানে নিয়মিত সিজার অপারেশন হতো। বর্তমানে এটি বন্ধ থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে প্রাইভেট ক্লিনিকে। এছাড়াও নার্সসহ কর্মকর্তা–কর্মচারীর সংকটও প্রকট।  চিকিৎসক, কর্মকর্তা–কর্মচারী, চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটসহ নানা সমস্যায় এখানে এসে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। ফলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বলেন, ২ বছর ধরে গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় জরুরি সময়ে এখানে অপারেশন করানোর সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়তি খরচও হচ্ছে। সিজারিয়ানসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তো দূরের কথা, দক্ষ নার্সও নেই।  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ ও অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক না থাকায় সিজারিয়ানসহ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল পাওয়া গেলে দ্রুতই অপারেশন কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রায়পুরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবার পেল সহায়তা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার  সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিকালে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে দুই বান্ডিল করে টিন, নগদ অর্থ ও দুটি করে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. আবুল খায়ের ভূইয়া এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে এসব সহায়তা বিতরণ করা হয়। সম্প্রতি ওই এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনে তাদের বসতঘর ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে তাদের জরুরি সহায়তা হিসেবে টিন, নগদ অর্থ ও কম্বল দেওয়া হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান। সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সংসদ সদস্য মো. আবুল খায়ের ভূইয়া, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  

বিএনপি নেতাদের হেয় করতেই ‘মিথ্যা মামলা’: রায়পুরে সংবাদ সম্মেলন

দোকানের মালিক নিজেই দোকানে তালা লাগানোর পর বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে আদালতে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। এ মামলায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সুজন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রায়পুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল বলেন, দোকানের মালিক নিজেই দোকানে তালা লাগিয়েছেন—এর ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও ওই ঘটনায় বিএনপি নেতাদের আসামি করা হয়েছে। গত ১০ জুলাইয়ের বিভিন্ন ভিডিওতে রায়পুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল ও মামলার বাদীকে শাহী হোটেলে তালা লাগাতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। শাহরিয়ার ফয়সালের প্রশ্ন, ‘‘যে ঘটনায় আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সেখানে আমাদের নাম কেন এলো?’’ তাঁর দাবি, দোকান নিয়ে বেলাল, জামাল ও বাপ্পির মধ্যে চুক্তির বিষয় থাকলেও বিএনপি নেতাদের সেখানে সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিকভাবে বিএনপির নেতাদের হেয়প্রতিপন্ন করতেই তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুলের ভাই-ভাতিজা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের ইন্ধনে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করে মুকুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কথিত ‘শাহী হোটেল’ দখলের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাদের জড়ানো হলেও এ ঘটনার সঙ্গে কাগজপত্র অনুযায়ী বিএনপির কোনো নেতার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি নজরুল ইসলাম লিটন বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অপরাধ বা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্দোষ নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে নেওয়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে রায়পুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন আরমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম আলমাছসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা, পৌর ও তৃণমূল বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে শাহরিয়ার ফয়সাল ও সুজন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের পাশাপাশি মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়। তবে মামলার বাদী বা অভিযুক্ত অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

দোকানের মালিক নিজেই দোকানে তালা লাগানোর পর বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে আদালতে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করা হয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। এ মামলায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সুজন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রায়পুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল বলেন, দোকানের মালিক নিজেই দোকানে তালা লাগিয়েছেন—এর ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও ওই ঘটনায় বিএনপি নেতাদের আসামি করা হয়েছে। গত ১০ জুলাইয়ের বিভিন্ন ভিডিওতে রায়পুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল ও মামলার বাদীকে শাহী হোটেলে তালা লাগাতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। শাহরিয়ার ফয়সালের প্রশ্ন, ‘‘যে ঘটনায় আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, সেখানে আমাদের নাম কেন এলো?’’ তাঁর দাবি, দোকান নিয়ে বেলাল, জামাল ও বাপ্পির মধ্যে চুক্তির বিষয় থাকলেও বিএনপি নেতাদের সেখানে সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিকভাবে বিএনপির নেতাদের হেয়প্রতিপন্ন করতেই তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুলের ভাই-ভাতিজা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাদের ইন্ধনে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করে মুকুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কথিত ‘শাহী হোটেল’ দখলের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাদের জড়ানো হলেও এ ঘটনার সঙ্গে কাগজপত্র অনুযায়ী বিএনপির কোনো নেতার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি নজরুল ইসলাম লিটন বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অপরাধ বা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্দোষ নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে নেওয়া হবে না। সংবাদ সম্মেলনে রায়পুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন আরমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম আলমাছসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা, পৌর ও তৃণমূল বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে শাহরিয়ার ফয়সাল ও সুজন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের পাশাপাশি মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়। তবে মামলার বাদী বা অভিযুক্ত অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

রায়পুরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন, মাদকাসক্তের আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকাসক্ত এক ব্যক্তির দেওয়া আগুনে ১১টি বসতঘর পুড়ে গেছে। আজ রোববার ভোররাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারসংলগ্ন আশহক ব্যাপারি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে। আগুন দেওয়ার অভিযোগে মো. সোহেল (৪০) নামের ওই ব্যক্তিকে স্থানীয় লোকজন ধরে গণধোলাই দেন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। স্থানীয় লোকজন জানান, ভোররাতে সোহেলের ঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরানোরও সুযোগ পাননি কেউ। ক্ষতিগ্রস্ত ছিদ্দিক উল্যাহ গ্রামে কৃষি কাজ করে সংসার চালান। তার পুরো ঘর পুড়ে গেছে।  তিনি বলেন, ‘বাড়ির সবাই তখন ঘুমিয়ে ছিল। আনুমানিক ভোর সাড়ে চারটার দিকে সোহেল পেট্রোল ছিটিয়ে ঘরে আগুন দেয়। পেট্রোল ছিটানোর কারণে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমার ঘরে থাকা সব মালামাল ও টাকা-পয়সা পুড়ে গেছে। এক মুঠো চাল, এমনকি একটি কাপড়ও ঘর থেকে বের করতে পারিনি। এই ঘটনা সব হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় হয়ে গেছি’ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই আগুনে ১১টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘরগুলোর আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, টাকা-পয়সাসহ প্রয়োজনীয় মালামালও পুড়ে গেছে। সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বি এম শাহজালাল কিসমত বলেন, ‘নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মো. সোহেল পেট্রোল দিয়ে প্রথমে নিজের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১১টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুন দেওয়ার পর সোহেলের পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হয়ে যান।’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বা স্বজনদের আশ্রয়ে রয়েছে। রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ সৈয়দ  আহমেদ বলেন, ‘খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ফায়ার সার্ভিস এর রায়পুরের দুইটি ও লক্ষীপুরের একটি ইউনিট এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর গুলো টিনের তৈরি ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে অধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘আগুনে বাড়ির ১১টি ঘর পুড়ে গেছে। সোহেলকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকার রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আইপিএস নষ্ট- জেনারেটর আছে, নেই তেল বরাদ্দ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও আইপিএস থাকলেও মিলছে না এর সুফল। দুটি আইপিএস দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। আর জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় সেটিও চালানো হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বন্ধ হয়ে যায় যন্ত্রনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সেবা। এক্স-রে, প্যাথলজি পরীক্ষা ও নেবুলাইজারের মতো জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছেছে। সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কখনো কখনো এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় শতাধিক। তবে বিদ্যুৎ চলে গেলেই চরম বিপাকে পড়তে হয় রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের। পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের অন্ধকারেই থাকতে হয়। গরমে একটু স্বস্তির আশায় অনেক রোগী ও স্বজনকে বারান্দায় বসে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসকষ্ট কমাতে নেবুলাইজার অত্যন্ত জরুরি হলেও বিদ্যুৎ না থাকলে সময়মতো এ সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জেনারেটরের জ্বালানি তেলের বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নষ্ট আইপিএস মেরামতের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারি হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকার পরও কার্যত কোনো কাজে আসছে না এসব যন্ত্র। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীরা। ভর্তি রোগীরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে আসা স্বজনদের দুর্ভোগ বেশি। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইলের আলোই একমাত্র ভরসা। প্রচণ্ড গরমে শিশুরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোশারফ হোসেন বলেন, “দৈনিক চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি পৌর শহর ও হাসপাতালে লোডশেডিং কম দেওয়ার জন্য।” ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে চিকিৎসাসেবায় সমস্যা হয়। রোগীদের দুর্ভোগও বাড়ে। হাসপাতালে জেনারেটর আছে। কিন্তু জেনারেটর চালানোর জন্য জ্বালানি প্রয়োজন। জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা রোগীদের সেবা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

রায়পুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৫০ তরুণের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ

বেকারত্বকে দক্ষতায়, আর দক্ষতাকে আয়ে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একসঙ্গে ২৫০ জন তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, দেশের মধ্যে রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এত সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীকে একসঙ্গে এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এ উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার। তাঁর পরিকল্পনা ও উদ্যোগে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের অনলাইনভিত্তিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান। সভাপতিত্ব করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার। এর আগে এ কার্যক্রমের আওতায় ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্রও বিতরণ করা হয়। নতুন করে আরও ২৫০ জন যুক্ত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ জনে। প্রশিক্ষণার্থী তিন্নি আক্তার বলেন, এই প্রশিক্ষণ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি এবং বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়ও করছি। এরই মধ্যে লোকাল মার্কেট থেকে বিভিন্ন কাজ করে ৭ হাজার ১৬৬ টাকা আয় করেছি। প্রশিক্ষণটি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এখন আমি আরও দক্ষতা অর্জন করে নিয়মিতভাবে অনলাইনে কাজ করতে চাই। নিজের পাশাপাশি পরিবারেরও সহযোগিতা করতে চাই। আরেক প্রশিক্ষণার্থী জয়া নাথ বলেন, আগে অনলাইনে কাজ করার বিষয়ে আমার তেমন ধারণা ছিল না। প্রশিক্ষণে এসে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছি। এখন বুঝতে পারছি, দক্ষতা থাকলে ঘরে বসেও নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। প্রশিক্ষণার্থী ইয়াসিন মুন্সী বলেন, একজন তরুণ হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল। এই প্রশিক্ষণ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য ঘরে বসে কাজ করে আয় করার যে সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে নিজেকে একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। অপর এক প্রশিক্ষণার্থী লিজা আক্তার বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করার সুযোগ তৈরি করতে চাই। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মার্কেটপ্লেসে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ক্লায়েন্ট তৈরি করার বিষয়ও শিখছি। উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ আমাদের মতো তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অনলাইনভিত্তিক কাজের পরিধি দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটি অংশ শিক্ষিত হলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। তাই প্রচলিত চাকরির পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। প্রশিক্ষণের পর প্রশিক্ষণার্থীরা যেন বাস্তবে কাজ পেয়ে আয় করতে পারেন, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। আমাদের তরুণদের যদি প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে তারা শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। একসঙ্গে ২৫০ জন তরুণ-তরুণীকে ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল দক্ষতার প্রশিক্ষণের আওতায় আনা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমরা চাই, প্রশিক্ষণ শেষে তারা বাস্তবে কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আয় করুন এবং নিজেদের পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখুন। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাওছার বলেন, তরুণদের শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; প্রশিক্ষণ শেষে তারা যেন বাস্তবে কাজ করতে পারেন এবং আয় করতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। রায়পুরের তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে স্থানীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে যুক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা শুভ্রজিত রায়সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রশিক্ষণার্থীরা।

আরও
X