ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
রামগতিতে দুর্যোগ বিষয়ে আলোচনা সভা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জামায়াতের জনসচেতনতা লিফলেট বিতরণ 
রামগতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সভার প্রস্তুতিমুলক সম্পন্ন 
রামগতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সভার প্রস্তুতিমুলক সম্পন্ন 
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে সকল ধরণের প্রস্তুতিসহ মঞ্চ প্রস্তুত সম্পন্ন করা হয়েছে।  কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর জলবায়ু সহিষ্ণু ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং কৃষকদের আত্মসামাজিক মর্যাদা ও জীবন মান উন্নয়নের  লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তৈরি করা সভামঞ্চ পরিদর্শন করেন  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ। এর আগে তিনি গতকাল সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিমূলক এক সভার আয়োজন করেন ওই সভায় আজকের অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।  দেশের ৭৭টি উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষক কার্ড় বিতরণের কথা রয়েছে।  আজ বৃহষ্পতিবার (১লা অক্টোবর) প্রথম পর্যায়ে ১০টি উপজেলা মধ্যে রামগতি উপজেলা এর কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় পর্যায়ে ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় উপস্থিত থেকে একযোগে দশটি উপজেলার ভার্চুয়ালি উদ্বোধন যুক্ত হবেন।  বিকাল ৩টা উদ্বোধনের কথা রয়েছে। রামগতিতে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় এমপি ও হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূইয়া এমপি, কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম এমপি, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ আবু তারক, উপ-পরিচালক কৃষিবি জহির আহমেদ উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক এবং সামাজিক গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  ভার্চুয়াল এ সভার সভাপতিত্ব করবেন জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান। উল্লেখ্য যে রামগতির ৬ নম্বর চর আলগী রামদয়াল বাজার সংলগ্ন ব্লকের ৩টি ওয়ার্ডে ৬৫৮ জন কৃষক পরিবারের মাঝে এ কার্ড বিতরণ করা হবে। প্রতি কার্ডে ২৫০০ টাকা করে পাবেন কৃষকরা।  
রামগতিতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৪
আ. স. ম রব সরকারি কলেজে বুক সেলফ উদ্বোধন
রামগতিতে বিএনপি ও জেএসডির অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
রামগতিতে সীরাত (সঃ) আলোচনা সভা
বিএনপিতে যোগ দিলেন জামায়াতের দুই শতাধিক নেতাকর্মী

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে জামায়াতে ইসলামীর দুই শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।  শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধা ৬ টার দিকে রামগতি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিএনপিতে যোগদান করেন। এসময় তাদেরকে বরণ করে নেন রামগতি পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি সাহেদ আলী পটু। জানা যায়, রামগতি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হাসান উদ্দিন রাসেলের নেতৃত্বে ইউনিট সভাপতি মাস্টার আজিজুল হক চৌধুরী, মো. ইসমাইল, নুরুল আমিন, মো. বেলাল, আ. করিম, আবুল কালাম, হাফিজ উল্লাহ, ইউনুছ, মো. হোসেন, সেলামত মিয়া, ইউছুফ ও মো. জবিউল্লাহ সহ প্রায় দুইশতাধিক জামায়াত নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপিতে যোগদেন। যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে রামগতি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হাসান উদ্দিন রাসেল বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। বর্তমান কমিটির ওয়ার্ড সেক্রেটারি হিসেবে আছি। আজ শনিবার জামায়াতের কর্মী, সদস্য ও সমর্থক মিলে প্রায় দুই শতাধিক জামায়াত নেতাকর্মী নিয়ে আমরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। বাকী জিবনটা বিএনপির সাথে থেকে জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাবো।   শনিবার রাত ৮ টার দিকে মুঠোফোনে রামগতি পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র সাহেদ আলী পটু বলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন- অগ্রযাত্রায় অনুপ্রাণিত হয়ে দুইশতাধিকের বেশী জামায়াতের নেতাকর্মী বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সবাইকে স্বাগত জানিয়ে আমি বরণ করে নিয়েছি।

রামগতিতে জোড়া খুনের মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে জোড়া খুনের মামলা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চর কলাকোপা গ্রামের চৌরাস্তার মোড়ে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকার কয়েক শ নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাশেদার মা আংকুরি বেগম, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আসলাম, আতাউর রহমান হেলাল ও হাজী আব্দুল মালেক। এ সময় বক্তারা রাশেদার স্বামী জাকির হোসেন সুমনের পরিবারের উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে অপহরণের নাটক সাজিয়ে দায়ের করা ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মুক্তির দাবি করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং খুনির ফাঁসির দাবি জানান তাঁরা। ২০২৩ সালের আলোচিত ঘটনায় স্ত্রী রাশেদা ও শ্বশুর আবুল বাশার নিজ ঘরে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের শিকার হন। এ ঘটনায় রাশেদার বড় ভাই মো. জুয়েল বাদী হয়ে ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রামগতি থানায় জাকির হোসেন সুমনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় সুমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। প্রায় দুই বছর পর সুমনের বাবা জয়নাল আবদীন বাদী হয়ে জুয়েল, তাঁর ভাই হারুনসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রামগতি থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩২৩, ৩২৫, ৩৭৯, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করেন। ওই দিন রাতেই বাদী জুয়েল ও তাঁর ভাই হারুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও জয়নাল আবদীনকে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার এলাকার জয়নাল আবদীনের ছেলে সৌরভ হোসেন গত ২৭ আগস্ট তাঁর মেজো ভাইয়ের কাছ থেকে ব্যবসা করার জন্য নগদ ১ লাখ টাকা এবং সিটি ব্যাংকের লক্ষ্মীপুর শাখার হিসাবের ২ লাখ টাকার একটি চেক নেন। ওই চেক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জয়নাল আবদীন ২৮ আগস্ট লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় ১৫৭১ নম্বরে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন ২৯ আগস্ট ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে একটি ফোনকলের মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, সৌরভ বিমর্ষ অবস্থায় রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের ভোলার বাপের মসজিদসংলগ্ন একটি বিলে পড়ে আছেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হওয়ার পর সৌরভ জানান, তিনি ওই টাকা নিয়ে রামগতির চর বাদাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর খালার বাড়িতে যান। গরু কিনতে এসেছেন বলে খালাকে জানান। ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে খালার বাড়ির পাশের কলোনি বাজারে চা খেতে যান তিনি। চা খাওয়ার পর কলোনিপোলসংলগ্ন সড়কের ওপর এক সহপাঠীর সঙ্গে বসে মুঠোফোন ব্যবহার করছিলেন। এ সময় জুয়েল, হারুনসহ চার ব্যক্তি অটোরিকশায় এসে তাঁর চোখ-মুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে তাঁকে মারধর করে সঙ্গে থাকা ৩ লাখ টাকা, রেডমি ১৩ প্রো মডেলের মুঠোফোনসহ অন্যান্য জিনিস নিয়ে তাঁকে ফেলে যাওয়া হয়। সৌরভের খালার বাড়ির পাশেই জুয়েল ও হারুনদের বাড়ি। তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক বিরোধ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে হুঁশ ফেরার পর সৌরভ বুঝতে পারেন, তাঁর কাছে থাকা টাকা ও মুঠোফোন নেই। এ ঘটনায় সৌরভের বাবা জয়নাল আবদীন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রামগতি থানায় জুয়েল-হারুনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় হারুন ও জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার এলাকার জাকির হোসেন সুমনের সঙ্গে রামগতি উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল বাশারের মেয়ে রাশেদার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। পারিবারিক কলহ ও যৌতুকের দাবিসহ নানা কারণে ২০২৩ সালের আগস্টে রাশেদা সুমনকে তালাক দেন। পরে তিনি অন্যত্র বিয়ে করেছেন—এ খবর শুনে সুমন ক্ষিপ্ত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুমন রামগতিতে এসে ধারালো ছুরি নিয়ে গোপনে রাশেদার ঘরে ঢুকে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। তাঁর চিৎকার শুনে বাবা আবুল বাশার এগিয়ে এলে তাঁকেও উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় রাশেদার মা আংকুরি বেগম তাঁকে ধরতে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে সুমন পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাশেদা ও তাঁর বাবা আবুল বাশার ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসীর সহায়তায় ছুরিসহ সুমনকে গ্রেপ্তার করে। জুয়েল ওই সময় বাড়িতে ছিলেন না। পরদিন বাড়িতে এসে ঘটনা জানতে পেরে তিনি বাদী হয়ে রামগতি থানায় সুমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুনের মামলা করেন। জুয়েলের মা আংকুরি বেগম জানান, গত কিছুদিন ধরে সুমনের পরিবারের লোকজন ৫ লাখ টাকা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করে তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এতে তাঁরা রাজি হননি। সুমনকে জামিন করাতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজিয়ে তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আংকুরি বেগম বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে বলব, এ ধরনের মিথ্যা সাজানো নাটকের ফাঁদে পা না দিয়ে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করে খুনির শাস্তির ব্যবস্থা করুন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলায় হয়রানি না করে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।’ রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর জয়নাল আবদীন বাদী হয়ে জুয়েল-হারুনসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি জুয়েল ও হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ তদন্তে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব মোরশেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে আদালতে সার্চিট (চার্জশিট) দেওয়া হবে।

রামগতিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ১এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ৪৬পিচ ইয়াবা, গাঁজা সেবনকারী এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ৬জনকে গ্রেপ্তার করেছ পুলিশ। এসময় গাঁজা সহ আটক মনির হোসেন নামে এক অপরাধীকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেন্বর) রাতে উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।  গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হচ্ছে জিআর ১৩৪/২৩ মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চরনেয়ামত গ্রামের আবদুল হাফেজে ছেলে মোঃ হেলাল (৩৫), একই গ্রামের আবদুল আলীর ছেলে মোঃ মনির হোসেন তাকে গাঁজা ও গাঁজা বিক্রি নগদ ৮১১০ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ এহসান উদ্দীনের কার্যালয়ে নেওয়া হয় সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অপরাধ স্বীকার করায় আসামিক ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অপর আসামিদের সাধারণ ডায়েরি ভুক্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।  তারা হচ্ছে চর টবগী গ্রামের মোঃ জসিম উদ্দিন ছেলে মোঃ মিলন(৩২), একই এলাকার আজাদের ছেলে মোঃ রিপন (৩১), এবং চর নেয়ামত গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে আবুল কালাম (২৯), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০১৮ ৩৬ (১)সারণী ১০ এর (ক) ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার সকালে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।  রামগতি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি লিটন দেওয়ান জানান, মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদে খবর পেয়ে উপজেলার  বিভিন্ন এলাকা থেকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং ইয়াবা, গাঁজা ও ওয়ারেন্ট ভুক্তসহ ৬ জন  আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক নির্মুলে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।   

রামগতিতে দূর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রামগতিতে দূর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে প্রতিযোগীতায় ৪টি স্কুল তাদের পক্ষে বিপক্ষের দুর্নীতি ও এর প্রতিরোধ বিষয়ে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দূর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় চাঁদপুর ও উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির যৌথ  উদ্যোগে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আজিজুল ইসলাম, অনুষ্ঠানের মডারেটর উপজেলা আ ই সি টি অফিসার বেনজির আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ এহসান উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা হোসেন, সহকারী পরিদর্শক দূর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় চাঁদপুর অভিজিৎ দে, রামগতি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন মিজান, সহ-সভাপতি গোলাম কবির, রামগতি প্রেসক্লাব সভাপতি রেজাউল হক ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করেন আলেকজান্ডার মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চরসীতা তোরাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়, চর মেহার আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,এবং বিবিরহাট রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,  প্রথম ধাপের প্রতিযোগীতায় চর মেহার আজিজিয়া উচ্চ এবং বিবিরহাট রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় দলকে পেছনে ফেলে আলেকজান্ডার মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং চরসীতা তোরাব আলী উচ্চ বিদ্যালয় দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে আসে। দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিযোগিতায় বিতর্ক শেষে আলেকজান্ডার মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিযোগী দলকে পরাজিত করে চরসীতা তোরাব আলী উচ্চ বিদ্যালয় দল চ্যাম্পিয়ন হয়।  তিনজন বিচারক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রতিযোগিতার নাম্বার নির্ণয় করেন তারা হলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ, সহকারি পরিদর্শক দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা চাঁদপুর অভিজিৎ দে এবং কমলনগর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানিক। প্রতিযোগিতায় সেরা বিতার্কিক হন চরসীতা তোরাব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অর্ণি মজুমদার, সভা শেষে প্রধান অতিথির হাত থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট সার্টিফিকেট বই উপহার গ্রহণ করেন বিজয়ী বিজিত সহ সকল প্রতিযোগিরা।

রামগতিতে জেলা পরিষদ মার্কেটের দোকান দখল-বেচাকেনার হিড়িক

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মার্কেট দখল ও চড়া দামে বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে দখলদারদের বিরুদ্ধে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানার মতো ব্যাবহার, ভাড়া দেওয়া, হাতবদল ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রাজস্ব ফাঁকি ও সরকারের অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে ওই মার্কেট জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি দখলবাজদের কবজায় রয়েছে। অভিযোগ ওঠেছে , জেলা পরিষদের নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করে দোকানগুলো অন্যের কাছে হস্তান্তর, স্ট্যাম্পে চুক্তি করে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকায় দখলস্বত্ব অন্যের কাছে বিক্রি, দোকানগুলোর মালিকানায় একাধিক হাত বদল, নামে-বেনামে দখলে নেওয়ায় সহ নানান অভিযোগ ওঠে। এতে প্রকৃত ইজারাদার নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কাগজপত্রকে পাশ কাটিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মার্কেট দখলে নেন। এ যেন, সরকারি সম্পদ দখলের এক মহোৎসবে মেতে উঠেছে। জেলা পরিষদ মার্কেট এখন লুটের কদু। লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ সুত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে রামগতি পৌর আলেকজান্ডার বাজারে শতবর্ষী পুকুর দখল করে দোতলা ও টিনসেট বিশিষ্ট দুইটি মার্কেট নির্মাণ করে। পাকা ভবনে ৫৩, টিনশিট মার্কেটে ৩২ টি মিলে মোট ৮৫ টি দোকান  তৈরী করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষে পরিষদের নীতিমালা উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পছন্দের লোকজনের মাঝে দোকানগুলো বন্টন করা হয়। এ ক্ষেত্রে দোকান বরাদ্দের কোন নীতিমালা মানা হয়নি। যে কারণে একজনের নামে একাধিক দোকান, আবার এক পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, ভাই- বোন ও ছেলের নামেও দোকান রয়েছে। নীতিমালায় বলা হয় , দোকান বরাদ্দ দেওয়ার আগে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বরাদ্দের জন্য দরপত্রের আহবান করবে। পরে যাচাই বাচাই করে প্রকৃত অসহায় ও গরিব ব্যবসায়ীদেরকে মাসিক ১ হাজার ২৫০ টাকা ইজারা ফি পরিশোধ করে এক বছরের জন্য (একসনা) বন্দোবস্ত দিবেন।  প্রতি বছর বন্দোবস্ত নবায়ন করতে হবে। এসব নীতিমালার কোন তোয়াক্কা না করে সম্পুর্ন রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রভাবশালীদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে স্টাম্পের মাধ্যমে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা ওই দোকান বেশী দামে অন্যের কাছে বিক্রি করে। এতে একেকটি দোকান কয়েকবার বিক্রি করা হয়। জেলা পরিষদের একাধিক সুত্র ও স্থানীয়রা জানান, মার্কেট নির্মাণ ও দোকান বরাদ্দের সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন জেলা পরিষদের তৎকালীন সদস্য ও আলেকজান্ডার ইউনিয়ন আ. লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন। তিনি মার্কেট নির্মাণ ও দোকান বরাদ্দের নামে সাধারণ মানুষ থেকে অন্তত ৫ থেকে ৮ কোটি টাকার বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ উঠে। কয়েকটি দোকানের ভাড়া নিচ্ছেন আমজাদের স্ত্রী নাজনে আরা রিতাও।  সরেজমিনে মার্কেট ঘুরে দেকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমজাদ হোসেনকে ঘিরে জেলা পরিষদের দোকান দখল, নামে-বেনামে বরাদ্দ, কথিত ভুয়া কাগজপত্র তৈরি, স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দোকান হস্তান্তর ও তৃতীয় পক্ষের কাছে দোকান বিক্রির অভিযোগ এখন সবার মুখে মুখে। মার্কেটের ৮৫ দোকানের মধ্যে প্রায় ৮০  দোকান হাতবদল হয়ে একাধিকবার বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। একজনের দখলে একাধিক দোকান, একজনের দোকান অন্যজনে ভাড়া তোলারও অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ওই মার্কেট এখন জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি দখলবাজদের কবজায় চলে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। এদিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে মার্কেট নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যায়ের কাগজপত্র থাকলেও দোকান ইজারা (বরাদ্দ) নেওয়া ব্যবসায়ীদের কোন তালিকা সংরক্ষিত নেই। ফলে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তদের নামের তালিকাও জানা যায়নি। যে কারণে ৫ আগস্টের পর ২ বছরের বেশী জেলা পরিষদের ফান্ডে মার্কেট থেকে কোন রাজস্ব জমা হয়নি বলে জানা গেছে। আলেকজান্ডার বাজারের অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ী জানান, জেলা পরিষদের নীতিমালা উপেক্ষা করে আমজাদ হোসেন স্ট্যাম্পের মাধ্যমে পজিশনভেদে প্রতিটি দোকান থেকে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। জেলা পরিষদের রসিদ ছাড়াই নগদে টাকা নিয়েছেন আমজাদ। মার্কেটের ৮৫ দোকান থেকে প্রায় ৫ থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। যদিও আমজাদের দাবি, এসব টাকা তিনি মার্কেট নির্মাণে ব্যয় করেছেন।  অভিযোগ রয়েছে, হাতিয়ে নেওয়া টাকা আমজাদ ও জেলা পরিষদের তখনকার কর্তাব্যক্তিরা ভাগাভাগির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। জেলা পরিষদ মার্কেট সরকারি সম্পত্তি হলেও বর্তমানে কিছু ব্যক্তি নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৩ জুলাই লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নব নিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু সরেজমিনে এসে আলেকজান্ডার বাজারের ওই মার্কেটটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ী ও ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পান তিনি। তখন ব্যবসায়ীদেরকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে ভাড়া না দিতে নির্দেশনা দেন তিনি। স্ট্যাম্পে দোকান বেচাকেনার অভিযোগ:সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্ট্যাম্পে দোকান বেচাকেনা নিয়ে। ভাড়াটিয়ারা জানান, সরকারি দোকানের মালিকানা হস্তান্তরের সুযোগ না থাকলেও ৮০ টির মত দোকান স্টাম্পের মাধ্যমে একাধিকবার হাত বদল (বিক্রি) হয়েছে। এতে মুল মালিক চিহ্নিত করা যাচ্ছেনা। সরকারি সম্পত্তির দখল পরিবর্তন হলেও জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি নেই। এতে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে। ভাড়া তুলছেন অন্যরা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার?:অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু দোকান মালিক পালিয়ে গেলে অন্যরা এসে দোকানগুলো দখলে নিয়ে কেউ ব্যবসা করছেন, কেউ অন্যজনের কাছে ভাড়া দিয়েছে। বর্তমানে ওই মার্কেটের প্রতিটি দোকানের ভাড়া ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। ৫ আগস্টের পর থেকে ২ বছরের বেশী মার্কেট থেকে জেলা পরিষদের ফান্ডে কোন টাকা জমা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন পরিষদ সংশ্লিষ্টরা। এতে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি মার্কেটের দোকানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন, ভাড়া আদায় ও বরাদ্দের শর্ত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন না করলে সরকারি সম্পত্তি ধীরে ধীরে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার হবে। কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি:স্থানীয়রা বলছেন, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন এ মার্কেটের মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, বর্তমান দখলদার, ভাড়াটিয়া, মাসিক ভাড়া, বকেয়া ভাড়া, দোকান হস্তান্তরের অনুমতি এবং স্ট্যাম্পে কোনো ধরনের লেনদেন হয়েছে কি না-এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরেজমিন পরিদর্শন করে বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়। আলেকজান্ডার বাজারের বিসমিল্লাহ ফার্মেসীর মালিক তসলিম জানান, তিনি ১৩ লাখ টাকা দিয়ে আমজাদ থেকে স্টাম্পের মাধ্যমে ২ টি দোকান নিয়েছেন। মোস্তফা মিয়া জানান, তিনিও আমজাদ থেকে স্টাম্পের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে দুটি দোকান কিনেছেন। জেলা পরিষদের সাবেক মহিলা সদস্য রোফেনা আক্তার জানান, তিনিও আমজাদ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্প চুক্তির মাধ্যমে ১ টি দোকান ক্রয় করেছেন। তবে বাজারের একমাত্র সরকারি পুকুর দখল করে দোতলা ভবন নির্মাণের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন বলেন, তখনকার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি মার্কেট নির্মাণের দায়িত্ব নেন। জনগন থেকে নেওয়া টাকা দিয়ে মার্কেট নির্মাণ করেছেন। লুটপাটের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে এবিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে এ প্রতিবেদককে ম্যানেজের লোভ দেখান। এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আশরাফুন নাহার বলেন, তিনিও এসব অভিযোগের কথা শুনেছেন। ইতিমধ্যে প্রশাসক মহোদয় মার্কেট পরিদর্শন করে এসেছে।  আমরা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নতুন করে টেন্ডারের মাধ্যমে দরপত্র আহবান করে দোকান বরাদ্দের ব্যবস্থা করবো। জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু বলেন, এ মার্কেটটি জেলা পরিষদের বলা যাচ্ছেনা। কারণ: জেলা পরিষদের ফাইলে মার্কেটের বিস্তারিত কাগজপত্র নেই। বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে অবৈধ ভাবে মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কোন ধরনের স্টিমেট, টেন্ডার, নকশা ও মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন।নেওয়া হয়নি। সম্পুর্ন নিয়মবহির্ভূত এটি করা হয়। দোকান ঘর দেওয়ার কথা বলে লোকজন থেকে কয়েক কোটি  টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আমরা পেয়েছি। একেকজনের দখলে ৫ থেকে ১০ টি পর্যন্ত দোকান রয়েছে। এটা কোনো নিয়মের ভিতরে পড়ে?। যারা এ মার্কেট নির্মাণের সাথে জড়িত থেকে এ ধরনের মহা বাণিজ্য করেছে, দোকান বিক্রি করেছে, তাদেরকে আইনের আওতা আনা হবে। এখন যারা মার্কেট দখল করে আছে, তাদের সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি কিছুদিন আগে মার্কেটটি পরিদর্শনে গিলে এসব অনিয়মের কথা শুনে অবাক হয়েছি। অনিয়ম বা লুটপাটেরও একটা সীমা থাকা উচিত। 

রামগতিতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন 

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ আলোচনা সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর  সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে বর্ণাঢ্য র‍্যালী শেষে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এ উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।  রামগতি স্কাউট কমিশনার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আবু সায়েদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ এহসান উদ্দীন।  এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সৌরভ উজ জামান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত মোঃ ইউসুফ, উপজেলা আইসিটি অফিসার বেনজির আহমেদ, রামগতি পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল খায়ের, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আব্বাস সুমন। এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন আলেকজান্ডার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আকতার, চর ডাক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশাররফ হোসেন, রামগতি স্টেশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হেলান।  প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ এহসান উদ্দীন উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন আমরা এতো দিন যে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু এখন পৃথিবী বদলেছে শুরু হয়ে গেছে প্রযুক্তিগত শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে যেখানে ছোট্ট একটি শব্দ AI artificial intelligence  অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এটি আমাদের অনুধাবন করতে হবে এর মধ্যে দিয়েই আগামী প্রজন্ম এগিয়ে যাবে।

রামগতিতে মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড ও সড়কে জরিমানা 

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মোবাইল কোর্টে ৫ মাদকসেবীর কারাদণ্ড এবং সড়কে ৬টি ড্রামট্রাকের জরিমানা করা হয়েছে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ এহসান উদ্দীন ওই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।  গত এক সপ্তাহের অভিযানে তিনি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর বিভিন্ন ধারায় এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর বিভিন্ন ধারায় এসব অপরাধের আইনের আওতায় এনে দন্ড কার্যকর করেন।   গত একমাস ধরে আলেকজান্ডার - সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের রামগতি অংশের সড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে সড়কের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ১০-১৫ টন বেশি লোড নিয়ে বালুসহ বিভিন্ন পণ্য  পরিবহন করে আসছিল। এতে সড়কে দূর্টঘনা বৃদ্ধি সহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাছাড়া সড়কে এ জাতীয় ভারী যান চলাচলের  কোন ধরনের অনুমতি ছিল না। তাই ঝুকিপূর্ণ পরিবহনের দায়ে ৬টি ড্রামট্রাক আটক করে মোট ২১,হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।  এছাড়া পুলিশে অভিযানে আটক মাদক কারবারি ও মাদক সেবনের অপরাধে ৫ জনকে ১৫- ৩০ দিনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।   দন্ডপ্রাপ্ত মাদক কারবারিরা হচ্ছে চর নেয়ামত গ্রামের শাহজাহান পাটোয়ারীর ছেলে মোঃ বেলাল (৩৫), চর রমিজ গ্রামের নাসির উদ্দীনের ছেলে মাহবুবুর রহমান রাসেল (৪৫), চর সেকান্দর গ্রামের অজিউল্লার ছেলে  আবুল কালাম (৫০), চর ডাক্তার গ্রামের দীজেন্দ্র লাল দাসের ছেলে সুজন চন্দ্র দাস (৫২), এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেয়ারীগঞ্জের লোকমানের ছেলে মোঃ  বাবুল (২৯)। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)  শেখ এহসান উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে অপরাধী যে-ই হোক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, আলেকজান্ডার - সোনাপুর আঞ্চলিক সড়কের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনে সড়ক ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে যায় এবং এসমস্ত ভারী যান বাহন অনুমোদন ছাড়াই চলছিল। অনুমোদন হীন অবৈধ এসব যানবাহন সড়কে চলতে দেওয়া হবে না।

আরও
X