ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, সচেতনতামূলক মহড়া
কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা
কালীগঞ্জে চাকরি মেলায় ১১১ তরুণীর চাকরি, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ ১৮ জনের
কালীগঞ্জে চাকরি মেলায় ১১১ তরুণীর চাকরি, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ ১৮ জনের
গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্কুল বহির্ভূত তরুণীদের পেশাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১১ জন তরুণী চাকরি পেয়েছেন। পাশাপাশি ১৮ জন তরুণীকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শুরু হাওয়া দিনব্যাপী কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাদার্ত্তী গ্রামের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ইএসডিও আয়োজিত কর্মসূচিটি বাস্তবায়িত হয় ইউনিসেফ এবং কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা)-এর যৌথ অর্থায়নে। মেলায় ইএসডিও থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ নেওয়া ২৮৬ জন তরুণী অংশগ্রহণ করেন। তারা বিউটি কেয়ার, কম্পিউটার অপারেশন, সুইং অপারেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ফ্রিল্যান্সিং এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন ফর ফ্রিল্যান্সিং ট্রেডে প্রশিক্ষণ নিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আয়োজন সূত্রে জানা যায়, মেলায় গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ১৫টি প্রতিষ্ঠানের চাকরিদাতা প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের মাধ্যমে ১১১ জন তরুণীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী ১৮ জন তরুণীকে বিভিন্ন হারে ঋণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস ও ইএসডিও। অংশগ্রহণকারী তরুণীরা জানান, চাকরি মেলায় নিজেদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা সরাসরি চাকরিদাতাদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তারা। এতে নিজেদের দক্ষতার মূল্যায়নের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে তা প্রয়োগের বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও সমাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন সেফগার্ডিং অ্যান্ড পিএসইএএইচ ম্যানেজার আইরিন আক্তার, ইএসডিও’র হেড অফ টিভেট শাহরিয়ার মাহমুদ, গাজীপুর জেলার সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক এএসএম রাজিউল ইসলাম, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাইফুল ইসলাম সুমনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিদাতা কর্মকর্তা ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।
কালীগঞ্জ পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শ সভা
কালীগঞ্জে পরিচ্ছন্নতার কাজে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, মশক নিধনে একসঙ্গে মাঠে
কালীগঞ্জে মানুষের কাছে পৌঁছে গেল চিকিৎসাসেবা
‘শিক্ষার্থীদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে উন্নয়নে তারা অবদান রাখবে’
প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে ধ'র্ষণ: এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়। সেই ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন এক তরুণীকে নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে থানায়, হয়েছে মামলা। অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় পদও হারিয়েছেন অভিযুক্ত যুবক। গাজীপুরের কালীগঞ্জে জাহিদ মুন্সি (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভুক্তভোগীর স্বজনের অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে কালীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। জাহিদ মুন্সি কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুনশুরপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। মামলার অভিযোগে ১০ সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে কলেজে যাওয়ার পর জাহিদ তরুণীকে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের মিরের বাজার এলাকার একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যান। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর বিকেলে তাকে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের অনার্স ভবনের পেছনে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর বিয়ের জন্য চাপ দিলে তরুণীকে তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। তবে মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত আরও কয়েক মাস আগে। প্রায় তিন-চার মাস আগে তরুণীর বোন কালীগঞ্জের একটি শপিং কমপ্লেক্সে জাহিদ মুন্সির দোকান থেকে ঘড়ি কিনতে গেলে তাদের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ শুরু হয়। ধীরে ধীরে যোগাযোগ ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে জাহিদের সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, সম্পর্কের সময় জাহিদ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হলে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তরুণীর মুখমণ্ডল অশ্লীল ছবির সঙ্গে যুক্ত করে ভয় দেখানো হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এরপর এসব ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। প্রতিবারই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলেও জাহিদ নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর স্বজনরা জাহিদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। সেখানে জাহিদের আগে একাধিক বিয়ে করার তথ্য জানতে পারেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের অভিযোগ, এই তথ্য গোপন রেখেই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জাহিদ মুন্সি ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবেও চাপে পড়েছেন জাহিদ মুন্সি। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এনসিপি গাজীপুর জেলা শাখা তাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব সাংগঠনিক দায়িত্ব ও পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় নোটিশে জাহিদের বিরুদ্ধে গুরুতর দলীয় নীতি, আদর্শ ও নৈতিকতা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদেশে যাওয়া ছেলেটি ফিরল কফিনে

বিমানবন্দরে তখন অপেক্ষায় স্বজনেরা। অপেক্ষার অবসান হলো সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে। কিন্তু প্রিয় মানুষটির দেখা মিলল কফিনের ভেতর। স্পেনের মাদ্রিদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ নিয়ে বিমানটি ঢাকায় নামতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কফিন পৌঁছায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরগাঁও গ্রামের বাড়িতে। সেখানে বাদ জুমা উত্তরগাঁও উত্তরপাড়া জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ২৫ বছর বয়সী এই তরুণকে। এভাবেই মাত্র দুই মাসের প্রবাসজীবনের সমাপ্তি ঘটল আলিফের। যে বাড়ি থেকে ভবিষ্যৎ বদলের স্বপ্ন নিয়ে স্পেনে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বাড়িতেই ফিরলেন নিথর হয়ে। গাজীপুরের কালীগঞ্জের উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে ইউসুফ হাসান আলিফ। বয়স ২৫ বছর। পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দুই মাস আগে স্পেনে যান তিনি। মাদ্রিদে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে পান কাজের অনুমতিও। অর্থাৎ যে সময়ে নতুন কাজের অনুমতি পাওয়ার আনন্দে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা, ঠিক সেই সময়ই তার জীবনে নেমে আসে মৃত্যুর ছায়া। গত ৩০ আগস্ট (রোববার) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিট। মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা এলাকার পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে কানারিয়াস সড়কের একটি সাইকেল গ্যারেজে আগুন লাগে। গ্যারেজের ভেতরে তখন আটকা পড়েন আলিফ। আগুনের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত ধোঁয়া। শ্বাস নিতে না পেরে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাহায্যের আকুতি জানান তিনি। তার সেই বার্তাটি ছিল-“আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।” এরপর আর কোনো বার্তা আসেনি। খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি গ্যারেজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ করা হয়। আগুন যাতে পুনরায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য সেখানে থাকা অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেলও বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা আলিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বিষাক্ত ধোঁয়া ও শ্বাসনালিতে মারাত্মক দাহ্য ক্ষতের কারণে তার মৃত্যু হয়। আলিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক নেমে আসে। গত ৪ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্যোগে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন প্রবাসী বাংলাদেশিরা কাঁধে করে বহন করেন আলিফের নিথর দেহ। চোখের জলে জানান বিদায়। এরপর শুরু হয় মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা। আইনি সব প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১০ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-১৩৬০ ফ্লাইটে আলিফের কফিনবন্দী মরদেহ ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে টিকে-৭৪২ ফ্লাইটে করে মরদেহ আসে বাংলাদেশের পথে। শুক্রবার সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করে। নির্ধারিত সময়ের ২৩ মিনিট বিলম্বে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায়। তারপর ঢাকা থেকে কালীগঞ্জ। আর কালীগঞ্জ থেকে উত্তরগাঁওয়ের পারিবারিক কবরস্থান-সেখানেই শেষ হলো আলিফের পথচলা। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর উত্তরগাঁও এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা ছুটে আসেন শেষবারের মতো আলিফকে দেখতে। কয়েক মাস আগেও এই বাড়ি থেকেই হাসিমুখে বিদেশের পথে যাত্রা করেছিলেন তিনি। পরিবারের চোখে তখন ছিল স্বপ্ন-ছেলে বিদেশে গিয়ে কাজ করবে, নিজের ভবিষ্যৎ গড়বে, পরিবারের অবস্থার পরিবর্তন করবে। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, সকালে প্রবাসী বাংলাদেশি ইউসুফ হাসান আলিফের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মায়ের অভিযোগে অভিযান, নিজের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় যুবকের কারাদণ্ড

বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগটি করেছিলেন নিজের মা। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে যায় প্রশাসন। পরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মাছুম শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বালুয়াভিটা এলাকায় এ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন হালদার। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আল-আমিন হালদার জানান, মাছুম শেখ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তার মা বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর ঘটনাটি যাচাই করতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। অভিযানের পর মাছুম শেখের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় মামলা করা হয়। ওই মামলায় শুনানি শেষে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আল-আমিন হালদার। দণ্ডপ্রাপ্ত মাছুম শেখ বালুয়াভিটা এলাকার মৃত সফুর উদ্দিন শেখের ছেলে। তার ঠিকানা বালুয়াভিটা, পোস্ট ও ইউনিয়ন জামালপুর, কালীগঞ্জ, গাজীপুর। অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার এএসআই মো. এমারত হোসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।

কালীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ২০৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

গাজীপুরের কালীগঞ্জে পৃথক দুটি অভিযানে ২০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসব ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া কাজীবাড়ি এলাকার মৃত ফুল বক্স কাজীর ছেলে সোহেল কাজী (৩৮) এবং গাজীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকার মৃত বাসির মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (২৫)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে নাগরী বাজার এলাকায় রাত্রীকালীন দায়িত্ব পালন করছিলেন উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া কাজীবাড়ি এলাকায় নিজ বসতঘরে মাদকদ্রব্যসহ অবস্থান করছেন সোহেল কাজী। খবর পেয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সোহেল ঘরের অন্য একটি দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতঘরের বিছানায় থাকা একটি বালিশের কভার তল্লাশি করা হয়। সেখান থেকে ১০১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার সোহেল কাজীর বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক ও অস্ত্র আইনে কালীগঞ্জ ও টঙ্গী পূর্ব থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর-আজমতপুর-ইটাখোলা আঞ্চলিক সড়কে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর-খ-১১-৭৪০২ নম্বরের সবুজ রঙের বাজাজ ব্র্যান্ডের একটি সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় অটোরিকশাটির চালকের পাশের আসনে থাকা যাত্রী জুয়েল মিয়ার দেহ তল্লাশি করা হয়। তার পরনের প্যান্টের সামনের ডান পকেট থেকে একটি জিপারযুক্ত ছোট পলিপ্যাক উদ্ধার করা হয়। পরে ওই প্যাকেটের ভেতর থেকে ১০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় জুয়েল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এবং অপর মামলার বাদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সোহেল কাজী ও জুয়েল মিয়াকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রাইভেট পড়াতে যেতেন জাহিদ, সেই সম্পর্কের সূত্রেই অপহরণ মামলা

একটি পরিবারের দরজা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত ছিল স্থানীয় যুবক জাহিদ হাসান রাজের। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে কিশোরীকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিচিত সেই যাতায়াতের সম্পর্কের মধ্যেই ৩১ আগস্ট হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় ১৩ বছর ১১ মাস বয়সী এক কিশোরী। সেদিন বিদ্যালয়ে পরীক্ষা ছিল। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্কুলের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। কিন্তু পরীক্ষা শেষে আর বাড়ি ফেরেনি। এরপর পরিবারের খোঁজাখুঁজি, অপহরণের অভিযোগ এবং থানায় মামলা। অবশেষে সাত দিন পর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পূর্বাচল এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। একই অভিযানে মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ হাসান রাজকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন। গ্রেপ্তার জাহিদ হাসান রাজ কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের দক্ষিণ পানজোড়া গ্রামের জামান রাজের ছেলে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৩১ আগস্ট সকালে নাগরী ইউনিয়নের পানজোড়া এলাকায় কিশোরী নিখোঁজ হয়। কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, তার মেয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করত। স্থানীয় যুবক জাহিদ হাসান রাজ প্রতিদিন তাদের বাড়িতে গিয়ে তাকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরীক্ষার দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্কুলের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হয় কিশোরী। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও আর ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেন। পরে তারা জানতে পারেন, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের পাকা সড়ক থেকে জাহিদ হাসান রাজসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। এটি কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ; ঘটনার পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। মেয়ের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা জাহিদ হাসান রাজের বাড়িতে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, সেখানে কিশোরীকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তারা জানেন বলে জানানো হয়। কিন্তু তার অবস্থান কোথায়, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে ফেরত দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে মারপিটে উদ্যত হওয়া এবং দরবার বা সালিশ করলে কিশোরীর জান-মালের ক্ষতি ও পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মামলায়। ঘটনার রাতেই কিশোরীর মা কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। জাহিদ হাসান রাজকে প্রধান করে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকেও আসামি করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ১ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় অপহরণ মামলা রুজু করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। মামলার পর থেকেই কিশোরীকে উদ্ধারে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। অবশেষে রোববার দিবাগত রাতে পূর্বাচল এলাকায় অভিযান চালায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় কিশোরীকে। একই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার প্রধান অভিযুক্ত জাহিদ হাসান রাজকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই অপূর্ব কুমার বাইন বলেন, মামলা রুজুর পর থেকেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। একপর্যায়ে পূর্বাচল এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং একই অভিযানে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিশোরী উদ্ধার এবং প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের পর মামলাটি ঘিরে নতুন অভিযোগ উঠেছে। মামলাটি আপস-মীমাংসার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষ বাদীকে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এ ধরনের মামলায় স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার সুযোগ নেই। কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হওয়ার পর থানায় কিংবা অন্য কোথাও বসে আপস-মীমাংসার সুযোগ নেই। বিষয়টির সিদ্ধান্ত আদালতেই হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা হয়েছে। কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাহিদ হাসান রাজকে সোমবার সকালে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিশোরীর সঙ্গে জাহিদ হাসান রাজের পরিচয় ও প্রাইভেট পড়ানোর সম্পর্ক, বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, এক সপ্তাহের অবস্থান এবং পূর্বাচল থেকে উদ্ধারের ঘটনাপ্রবাহ—সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায়। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীকে কীভাবে, কার মাধ্যমে এবং কোন পরিস্থিতিতে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। পরিচিত একটি সম্পর্ককে ঘিরে শুরু হওয়া অভিযোগ এখন গড়িয়েছে অপহরণ মামলায়। কিশোরী উদ্ধার হলেও সেই সম্পর্কের আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল-তার উত্তর মিলবে তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে।

কালীগঞ্জে ‘তিন অনিয়মের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৫৬ হাজার

এক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি, আর দুই ওষুধের দোকানে অনিয়ম-এ তিন ঘটনায় গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মোট ৫৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার খলাপাড়া ও বাসাইর বাজার এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযানে সবচেয়ে বেশি জরিমানা গুনতে হয়েছে সিয়াম বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে। বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের খলাপাড়ায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে ওজন ও পরিমাপ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ৫২ ধারায় মামলা করা হয়। এ মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওষুধ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪০(খ) ও (গ) ধারায় দুটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে সবুজ মেডিকেল হলের তাপস ধরের (৩৩) বিরুদ্ধে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল জাতীয় ওষুধ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রদর্শনের অভিযোগে ৩ হাজার টাকা এবং ভাই ভাই মেডিকেল হলের জামিল আহম্মেদের (৩৯) বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন হালদার। অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আল-আমিন হালদার জানান, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় আইন ও বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) গাজীপুরের পরিদর্শক মহিউদ্দীন ওয়ারেছী এবং গাজীপুরের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক তানজিনা আফরিন। বেঞ্চ সহকারীর দায়িত্বে ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।

ভাগ্য ফেরাতে স্পেনে, ‘আমাদের বাঁচান’ বলে চিরবিদায় ইউসুফের

পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে গত জুন মাসে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জের তরুণ ইউসুফ হাসান আলিফ (২৭)। নতুন দেশে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্বপ্ন পূরণের পথে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর অবশেষে অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পেয়েছিলেন কাঙ্ক্ষিত কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট)। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হলো না। মাদ্রিদের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর আগমুহূর্তে সহকর্মীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাঁচার আকুতি জানিয়ে ইউসুফ লিখেছিলেন, “আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।” এটিই হয়ে রইল তাঁর জীবনের শেষ বার্তা। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আরগানসুয়েলা জেলার মেট্রো পালোস দে লা ফ্রন্তেরা এলাকার কাইয়ে কানারিয়াস সড়কের একটি বাইসাইকেল গ্যারেজে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহত ইউসুফ হাসান আলিফ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকার আব্দুল মোতালিব ও রহিমা খাতুন দম্পতির ছেলে। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর A14584713। পেশায় তিনি ছিলেন ফুড ডেলিভারি রাইডার। স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় গত জুন মাসে স্পেনে যান ইউসুফ। নতুন দেশে গিয়ে কাজের অনুমতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন তিনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে তাঁর হাতে আসে ওয়ার্ক পারমিট। নতুন কর্মজীবন নিয়ে যখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রোববার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো ফুড ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সাইকেল আনতে ওই গ্যারেজে যান ইউসুফ। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা একটি ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তের মধ্যে গ্যারেজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সঙ্গে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাস। এতে ইউসুফসহ তাঁর দুই সহকর্মী গ্যারেজের ভেতরে আটকা পড়েন। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে প্রাণ বাঁচানোর জন্য সহকর্মীদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা পাঠান ইউসুফ। “আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে।” জীবনের শেষ মুহূর্তে বাঁচার এই আকুতি জানানোর পর আর কোনো বার্তা পাঠাতে পারেননি তিনি। খবর পেয়ে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি গ্যারেজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস অপসারণ করেন। নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা এড়াতে গ্যারেজে থাকা অন্যান্য ইলেকট্রিক বাইসাইকেলও বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসকরা ইউসুফ হাসান আলিফকে মৃত ঘোষণা করেন। আগুনে দগ্ধ তাঁর অপর দুই সহকর্মীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউসুফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার উত্তরগাঁও এলাকায় শুরু হয়েছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এমন আকস্মিক মৃত্যু। যে তরুণটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে গেল। মাত্র দুই দিন আগে পাওয়া কাজের অনুমতিও আর কাজে লাগাতে পারলেন না ইউসুফ। পরিবারের জন্য কিছু করার আগেই প্রবাসের মাটিতে তাঁকে হারাতে হলো স্বজনদের। এদিকে ইউসুফের মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনও অবগত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। তবে পরিবারটি বর্তমানে শোকের মধ্যে থাকায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনকে বিষয়টি জানায়নি। তারা প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ইউসুফের মামাতো ভাই ও বার্সেলোনা প্রবাসী শফিকুল ইসলাম রাসেল তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাত্র দুই মাস আগে স্বপ্ন নিয়ে স্পেনে যাওয়া ইউসুফের জীবন থেমে গেল একটি গ্যারেজের আগুনে। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, একদিন তিনি সফল হয়ে দেশে ফিরবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন আর জীবিত অবস্থায় হলো না। এখন স্বজনদের অপেক্ষা শুধু প্রিয় মানুষটির মরদেহ দেশে ফেরার। যে ইউসুফ পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের জীবনটাই হয়ে গেল এক অপূর্ণ গল্প। আর মৃত্যুর আগে পাঠানো সেই কয়েকটি শব্দ-“আমাদের বাঁচান ভাই, দম বন্ধ হয়ে আসছে”-হয়ে রইল তাঁর জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক শেষ স্মৃতি।

আরও
X