ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
স্বামীকে আটকে রেখে পোশাক শ্রমিককে দলবদ্ধ ধ'র্ষণের অভিযোগ
শ্রীপুরে দূর্গা পূজা উপলক্ষে শাড়ী ও চাল বিতরণ
শ্রীপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন
শ্রীপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন
গাজীপুরের শ্রীপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ক্ষণিকা সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারী, উপজেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য এসএম মাহফুল হাসান হান্নান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাহাউদ্দীন, প্রহলাদপুর  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউএনও মো. নাহিদ ভূঞা। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে শ্রীপুরের প্রহলাদপুর  ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হবে। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, পাইলটিং কার্যক্রমে বরাদ্দ করা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। ইউএনওর লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা প্রদানের জন্য রাখা হয়েছে। কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ করা প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। পিএমটি স্কোর অনুযায়ী, ৮৬০ বা তার কম নম্বর পাওয়া নারী পরিবারপ্রধান ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন; তবে ভাতা পাবেন প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত পরিবারগুলোর নারীপ্রধানেরা। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী একযোগে সব এলাকার পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডার-এর তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের কাজে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন। পরে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত করা হবে। এ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে মোবাইল সিমকার্ড নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশব্যাপী আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেইজে যুক্ত করা হবে। প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পরে পিএমটি পদ্ধতিতে ডেটাবেইজ থেকে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উপকারভোগীদের দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়েল চিপ ও কিউআর কোড থাকবে। এ কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ভাতার টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে তরুণ অপহরণ, তিন অপহরণকারী গ্রেপ্তার
দুর্ঘটনায় বৃদ্ধের মৃত্যু, ১২ বছরের কন্যার দায়িত্ব নিল শ্রীপুর পৌরসভা
শ্রীপুরে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এমপি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু
শ্রীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
সাফারি পার্কে ঘুরতে গিয়ে হামলার শিকার মা-দুই ছেলে

ময়লার প্রতিবাদ, এরপরই মারধর-আটকে রাখার অভিযোগ; ৯৯৯-এ ফোন করে রক্ষা।  গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক নারী ও তাঁর দুই কিশোর ছেলে। গাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকার প্রতিবাদ করায় তাঁদের ওপর হামলা, মারধর এবং পরে একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে পার্কের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শনিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সালমা মোস্তারী, তাঁর দুই ছেলে জারিফ (১৫) ও মাহিন (১৭) এবং গাড়িচালক রাসেল আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পার্কে প্রবেশের পর নির্ধারিত গাড়িতে ওঠেন সালমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পার্কের কর্মীদের জানান তিনি। অভিযোগ, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে কর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। প্রতিবাদ করতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সালমার লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, চন্দন কুমার, মাসুদ রানা ও ধনজয় ধনাসহ আরও ২০ থেকে ৩০ জন তাঁদের ওপর চড়াও হন। এ সময় স্টিলের লাঠি দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়। পরে সালমা, তাঁর দুই ছেলে ও গাড়িচালককে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানেও তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ৯৯৯-এ ফোন, পুলিশের উদ্ধার: আটকে থাকা অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন সালমা। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। পরে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। টাকা, স্বর্ণ ও আইফোন নিয়ে অভিযোগ: শুধু মারধর নয়, ঘটনার সঙ্গে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগও করেছেন সালমা। তাঁর দাবি, হামলার সময় গলায় থাকা প্রায় সাড়ে তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, এবং ব্যাগে থাকা ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ও দুই ছেলের কাছে থাকা তিনটি আইফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া তাঁকে মারধরের পাশাপাশি পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেছেন সালমা। ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: পার্কের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সালমা মোস্তারীর কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টাফ ফরহাদর হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর রাতে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সালমা মোস্তারী। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাফারি পার্কে ঘুরতে গিয়ে হামলার শিকার মা-দুই ছেলে

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারি পার্কে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক নারী ও তাঁর দুই কিশোর ছেলে। গাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকার প্রতিবাদ করায় পার্কের কয়েকজন কর্মী তাদের মারধর করেন এবং পরে একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। শনিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সালমা মোস্তারী, তাঁর দুই ছেলে জারিফ (১৫) ও মাহিন (১৭) এবং গাড়িচালক রাসেল আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পার্কে প্রবেশের পর নির্ধারিত গাড়িতে ওঠেন সালমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পার্কের কর্মীদের জানান তিনি। অভিযোগ, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে কর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। প্রতিবাদ করতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সালমার লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, চন্দন কুমার, মাসুদ রানা ও ধনজয় ধনাসহ আরও ২০ থেকে ৩০ জন তাঁদের ওপর চড়াও হন। এ সময় স্টিলের লাঠি দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়। পরে সালমা, তাঁর দুই ছেলে ও গাড়িচালককে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানেও তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আটকে থাকা অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন সালমা। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। পরে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। শুধু মারধর নয়, ঘটনার সঙ্গে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগও করেছেন সালমা। তাঁর দাবি, হামলার সময় গলায় থাকা প্রায় সাড়ে তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, এবং ব্যাগে থাকা ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ও দুই ছেলের কাছে থাকা তিনটি আইফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া তাঁকে মারধরের পাশাপাশি পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেছেন সালমা। পার্কের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সালমা মোস্তারীর কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টাফ ফরহাদর হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর রাতে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সালমা মোস্তারী। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শ্রীপুরে নদীতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরের সুতিয়া নদীর পানিতে সাঁতার কাটতে নেমে রাব্বী (১১) ও মুত্তাসীন (১১) নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরের সুতিয়া নদীর পানিতে সাঁতার কাটতে নেমে রাব্বী (১১) ও মুত্তাসীন (১১) নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরের সুতিয়া নদীর পানিতে সাঁতার কাটতে নেমে রাব্বী (১১) ও মুত্তাসীন (১১) নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রাব্বী বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং মুত্তাসীন একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তারা দুজনই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার জানান, বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী ও মুত্তাসীন কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পাশের সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। একপর্যায়ে সাঁতারে অনভিজ্ঞ একজন পানিতে বিপদে পড়ে অপরজনকে আঁকড়ে ধরে। এ সময় দুজনই পানির গভীরে তলিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করে বিষয়টি স্বজন ও স্থানীয়দের জানায়। খবর পেয়ে তারা দ্রুত নদীর পাড়ে ছুটে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে দুই শিশুকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

শ্রীপুরে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ  

গাজীপুরের শ্রীপুরে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. ইমরানের (৩০) বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন কিশোরীর বাবা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুরের ভাংনাহাটি এলাকার একটি মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন গোলাঘাট এলাকার বাসিন্দা ইমরান। একপর্যায়ে কথাবার্তার সূত্র ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই কিশোরীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান ইমরান। কিশোরীর বাবার লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২০ আগস্ট ২০২৫ সকালে বিয়ের কথা বলে মেয়েকে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার একটি অজ্ঞাত বাসায় নিয়ে যান অভিযুক্ত। সেখানে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরে বিভিন্ন সময় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে অন্যত্র নিয়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঘটনার সময় কিশোরীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নিজের মোবাইলে সংরক্ষণ করেন অভিযুক্ত। গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ সকালেও সাতখামাইর এলাকার একটি রিসোর্টের ভাড়া করা কক্ষে নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কিশোরী জানতে পারে, অভিযুক্ত ইমরান বিবাহিত। এরপর ওই কিশোরী অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। কিশোরীর বাবার অভিযোগ, সম্পর্ক ছিন্ন করার পর তার মেয়ের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমুর মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনের কাছেও কথিত ছবি-ভিডিও পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, গত ৩১ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তার বড় মেয়ের দেবর শফিকুল ইসলাম বিষয়টি তাকে জানান। পরে মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনা জানার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এরপর মেয়ের নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় শ্রীপুর মডেল থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিশোরীর পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া কথিত ছবি-ভিডিও অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ইমরানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “এ ঘটনায় আমি এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।” অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা ও প্রকৃত কারণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীপুরে গজারি বনে চোলাই মদের কারবার, আটক ৩

গাজীপুরের শ্রীপুরে সংরক্ষিত গজারি বনের ভেতর অভিযান চালিয়ে ছয় ড্রাম চোলাই মদ জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পোষাইদ গ্রামে এ অভিযান চালায় শ্রীপুর থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন-মায়া রানী বর্মণ, জোনাকি বর্মণ ও সুকুমার চন্দ্র বর্মণ। পুলিশ জানায়, তারা বনের আশপাশে বসবাস করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পোষাইদ এলাকার গহিন বনের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র দেশীয় পদ্ধতিতে চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি করে আসছিল। এতে এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ার পাশাপাশি নানা ধরনের অপরাধের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার পুলিশকে অবহিত করেন। শ্রীপুর থানার এসআই আবুল বাশার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বনের ভেতরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ছয় ড্রাম চোলাই মদ উদ্ধার করা হয় এবং তিনজনকে আটক করা হয়। থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুল আলম বলেন, আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মেয়ের কান্না শুনে ছুটে গিয়েছিলেন বাবা, ফিরলেন লাশ হয়ে

গাজীপুরের শ্রীপুরে মেয়ের দাম্পত্য কলহের খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন বাবা। কথা ছিল মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করবেন। কিন্তু সেই যাওয়াই হলো তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা। জামাতার লাঠির আঘাতে নিহত হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন (৬০)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড দারোগারচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত জামাতা ফিরোজ (২৫) পালিয়ে গেছেন। স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, রাতে স্ত্রীকে নিয়ে ফিরোজের ঝগড়া হলে তিনি বিষয়টি বাবাকে জানান। মেয়ের কান্নার খবর পেয়ে হাফিজ উদ্দিন তাঁর ভাড়া বাসায় ছুটে যান। সেখানে জামাতার সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ফিরোজ বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন হাফিজ উদ্দিন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান ফিরোজ। শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

আরও
X