ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ভেড়ামারায় বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন।। আটক-২
ভেড়ামারায় রেললাইন থেকে গার্মেন্টস শ্রমিকের লাশ উদ্ধার
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভেড়ামারা কলেজের সাফল্য
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভেড়ামারা কলেজের সাফল্য
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিকসে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সরকারি কলেজ। গোলক ও চাকতি নিক্ষেপে চ্যাম্পিয়নসহ বিভিন্ন ইভেন্টে রানার্সআপ ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে কলেজের শিক্ষার্থীরা। ভেড়ামারা সরকারি কলেজ (ছাত্র) ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলার অংগ্রহন করেন। এ সাফল্যে কলেজের ক্রীড়াঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। বিভাগীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে সোমবার ভেড়ামারা সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ সংবর্ধনার আয়োজন করেন।ভেড়ামারা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুস সাত্তার ও ভেড়ামারা সরকারি কলেজের ক্রীড়া বিভাগের প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েলসহ শিক্ষক মন্ডলী উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে খুলনার সরকারি ব্রজলাল কলেজ মাঠে এ্যাথলেটিক্স গোলক ও চাকতি নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় ২টিতে ভেড়ামারা সরকারি কলেজের ছাত্রী আছিয়া আনান মিথিলা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব আর্জন করেন। এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ৪০০ মিটার দৌড় ও দীর্ঘ লাফে ২টি ভেড়ামারা সরকারি কলেজের ছাত্র ছোটন আহম্মেদ রানার্সআপ অর্জন করেন। এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় ২০০ মিটার দৌড়ে ভেড়ামারা সরকারি কলেজের ছাত্র আল আমিন তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ লাফে ভেড়ামারা সরকারি কলেজের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার  রানার্সআপ অর্জন করেন। ভেড়ামারা সরকারি কলেজ (ছাত্র) ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলার অংগ্রহন করেন।   ভেড়ামারা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের নেতৃত্বে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতি কলেজের এ সাফল্যের পেছনে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্ব, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে তাঁর গুরুত্বারোপ এবং ক্রীড়া কার্যক্রমে ধারাবাহিক উৎসাহ ও দিকনির্দেশনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।  এ ক্ষেত্রে ভেড়ামারা সরকারি কলেজের ক্রীড়া বিভাগের প্রধান জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েলের প্রত্যক্ষ তদারকি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং প্রতিযোগীদের প্রস্তুতিতে ভূমিকা রেখেছে বলে কলেজসংশ্লিষ্টরা জানান।
ভেড়ামারায় দশম শ্রেণির মাদরাসা ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ‎
শুক্রবার ভেড়ামারা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক ডাঃ এ কে এম কাওছার হোসেনের ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী
ভেড়ামারায় বিশ্ব প্রবীণ দিবস পালিত
ভেড়ামারায় নৌকা থেকে পদ্মায় পড়ে নিখোঁজ, ২ দিন পর মিলল লাশ
ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা থেকে ছিটকে পড়ে উজির মণ্ডল ২দিন ধরে  নিখোঁজ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা থেকে ছিটকে পড়ে উজির মণ্ডল (৫৮) নামের এক কৃষক ২দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার রাত ৮টা পর্ষন্ত উজির মণ্ডল কে উদ্ধার করতে পারেনি।  শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বারমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ উজির মণ্ডল ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব নওদাপাড়া (মণ্ডলপাড়া) গ্রামের মৃত খেদের আলী মণ্ডলের ছেলে। নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের ভাষ্য ও আসাদুল মালিথা বলেন, প্রতিদিনের মতো তিনি পদ্মা নদী পার হয়ে ঈশ্বরদীর দাদাপুর চরে চাষাবাদের জন্য যাচ্ছিলেন। মাঝনদীতে হঠাৎ বড় একটি ঢেউ নৌকায় আঘাত করলে সেটি ঘুরে যায়। এ সময় নৌকার হাল ধরে থাকা উজির মণ্ডল ছিটকে নদীতে পড়ে যান। কিছুক্ষণ পর নৌকায় থাকা অন্যরা প্রায় ৫০ হাত দূরে তাকে পানিতে দেখতে পান। তিনি তাঁদের দিকে হাত দিয়ে ইশারাও করছিলেন। কিন্তু নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় নৌকা ঘুরিয়ে তাঁর কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। নৌকায় উজির মণ্ডলের সঙ্গে ৩জন সঙ্গী ছিলেন। তাঁরা হলেন, হযরতুল্লাহ, আসাদুল মালিথা ও আতিয়ার বিশ্বাস। ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান,  খুলনা থেকে ডুবুরি দল আনার পর ২দিনেও উজির মণ্ডল কে উদ্ধার করতে পারেনি। উদ্ধার অভিযান রোববার সকাল থেকে আবার শুরু হবে ।  আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন, আমার ছোট ভাই উজির মণ্ডলসহ কয়েকজন কৃষক দাদাপুর চরে মাসকলাই চাষের জন্য যাচ্ছিলেন । নৌকা থেকে পড়ে যাওয়ার পর ২দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি।। লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে নৌ-পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভেড়ামারা থানার ওসি জাহেদুর রহমান জানান, পদ্মা নদীতে একজন নিখোঁজ হয়েছেন। বিষয়টি লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি বিষয়টি দেখভাল করছে। আমরাও নজর রাখছি।

শতবর্ষে ভেড়ামারা সাতবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জীর্ণতায় ন্যুব্জ

একশ বছর ধরে মানুষের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষের সুখ-দুঃখের নীরব সাক্ষী এই প্রতিষ্ঠানটি শতবর্ষে এসে জীর্ণতা, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি সংস্কার করে ১০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নীত করা হোক। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া এলাকায় হিসনা নদীর তীরে, হিসনা ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থিত উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। ১৯২৬ সালে এস. জে. যোগেন্দ্র নাথ ব্যানার্জি এটি নির্মাণ করেন। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও সাতবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ। ভেড়ামারা উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলার একাংশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে ১৬ দাগ এলাকায় অবস্থিত। সেখানে যেতে হলে ভেড়ামারা দক্ষিণ ও উত্তর রেলগেট অতিক্রম করতে হয়। ট্রেন চলাচলের সময় রেলগেট বন্ধ হয়ে গেলে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সাধারণ রোগীদের জন্য এই অপেক্ষা সহনীয় হলেও মুমূর্ষু রোগী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি কিংবা জরুরি প্রসূতি রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের বিলম্বও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত সাতবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির গুরুত্ব অনেক বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে রয়েছে দুটি পুরোনো ভবন। এর দক্ষিণ পাশের ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের চারপাশে গজিয়ে উঠেছে আগাছা ও ঝোপঝাড়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন প্রাণীর উপদ্রব রয়েছে। অপর ভবনটিতেও কোনো রকমে চলছে চিকিৎসাসেবা। শত বছরের পুরোনো স্থাপনাটিতে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধারও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চারপাশে নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত হলে সেখানে চোর ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বর্তমানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিশান চাঁদ বিশ্বাস ও ফার্মাসিস্ট মনিরুল ইসলাম—এই দুজন কর্মী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এত বড় একটি এলাকার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার ভরসাস্থল হিসেবে জনবল ও অবকাঠামোর এই সীমাবদ্ধতা দ্রুত দূর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ১০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র চান এলাকাবাসী এলাকাবাসীর দাবি, সাতবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে ১০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হোক। নতুন ভবন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ওষুধ সরবরাহ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হলে ভেড়ামারার পশ্চিমাঞ্চল, দৌলতপুর ও মিরপুরের একাংশের বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। ধরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সেলিম হোসেন বলেন, ‘সাতবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ১০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উন্নীত করা হোক। প্রতিদিন এই কেন্দ্রে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী সেবা নেন। ইতিপূর্বে এখানে একজন মেডিকেল অফিসার কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। ১০ শয্যার একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য আমরা জোরালো সমর্থন জানাচ্ছি।’ ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘সাতবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে উন্নত করার দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বর্তমানে জীর্ণতা, অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার ভারে ন্যুব্জ। ইতিপূর্বে একাধিকবার বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে।’ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার শীল বলেন, সাতবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য নতুন বরাদ্দের বিষয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। কিছু জমি বেদখল হয়ে গেছে। বেদখল জমি উদ্ধার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সাতবাড়িয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পদ্মা নদীতে নৌকা থেকে পড়ে কৃষক নিখোঁজ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে নৌকা থেকে ছিটকে পড়ে উজির মণ্ডল (৫৮) নামের এক কৃষক নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বারমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ উজির মণ্ডল ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব নওদাপাড়া (মণ্ডলপাড়া) গ্রামের মৃত খেদের আলী মণ্ডলের ছেলে। প্রতিদিনের মতো তিনি পদ্মা নদী পার হয়ে ঈশ্বরদীর দাদাপুর চরে চাষাবাদের জন্য যাচ্ছিলেন। নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের ভাষ্য ও আসাদুল মালিথা বলেন,  মাঝনদীতে হঠাৎ বড় একটি ঢেউ নৌকায় আঘাত করলে সেটি ঘুরে যায়। এ সময় নৌকার হাল ধরে থাকা উজির মণ্ডল ছিটকে নদীতে পড়ে যান। কিছুক্ষণ পর নৌকায় থাকা অন্যরা প্রায় ৫০ হাত দূরে তাকে পানিতে দেখতে পান। তিনি তাঁদের দিকে হাত দিয়ে ইশারাও করছিলেন। কিন্তু নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় নৌকা ঘুরিয়ে তাঁর কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। নৌকায় উজির মণ্ডলের সঙ্গে ৩জন সঙ্গী ছিলেন। তাঁরা হলেন, হযরতুল্লাহ, আসাদুল মালিথা ও আতিয়ার বিশ্বাস। হযরতুল্লাহ বলেন, নৌকাটি কাঠের তৈরি এবং প্রায় ৩৩ হাত লম্বা। প্রথমে তিনিই নৌকা চালাচ্ছিলেন। পরে উজির মণ্ডল নৌকার হাল ধরেন। মাঝনদীতে যাওয়ার পর একটি বড় ঢেউ নৌকায় আঘাত করলে নৌকাটি ঘুরে যায়। পরে পেছনে তাকিয়ে তাঁরা উজির মণ্ডলকে নৌকায় দেখতে পাননি। হযরতুল্লাহ আরো বলেন, প্রায় ৫০ হাত দূরে উজির ভাইকে পানিতে দেখতে পাই। তিনি আমাদের দিকে ইশারা করছিলেন। কিন্তু নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নৌকা ঘুরিয়ে তাঁর কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে নিখোঁজ কৃষকের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে । ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধার অভিযান চলছে। খুলনা থেকে ডুবুরি দল আনার জন্য খবর পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে খুলনা থেকে ডুবুরি দল আনা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য কারিবুল ইসলাম রনি বলেন, উজির মণ্ডলসহ কয়েকজন কৃষক দাদাপুর চরে মাসকলাই চাষের জন্য যাচ্ছিলেন । নৌকা থেকে পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে নৌ-পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভেড়ামারা থানার ওসি জাহেদুর রহমান জানান, শুনেছি পদ্মা নদীতে একজন নিখোঁজ হয়েছেন। বিষয়টি লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি বিষয়টি দেখভাল করছে। আমরাও নজর রাখছি।

প্রতিবন্ধী আব্দুর রহমানের পাশে ভেড়ামারার ইউএনও, দিলেন হুইলচেয়ার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের প্রতিবন্ধী ছেলে আব্দুর রহমান। বাবা অন্যের জমিতে দিনমজুর খাঁটে, মা গৃহিনী। জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী আব্দুর রহমান এতোদিন পরিবারের কাঁধে বোঝা হয়েই চলছিল। সম্প্রতি বিষয়টি নজরে আসে ভেড়ামারার ইউএনওর। তিনি এই প্রতিবন্ধীর কষ্ট লাঘবে একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন। আজ সকালে উপজেলা কার্যালয়ে হুইলচেয়ারটি হস্তান্তর করা হয় তাকে। হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানান। আব্দুর রহমানের মা খাতনা বলেন, “আমাদের অসহায় অবস্থার কথা শুনে ইউএনও স্যার যেভাবে আন্তরিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা আমরা কখনো ভুলবো না। তাঁর এই সহমর্মিতা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় সহায়তা হয়ে এসেছে। এখন হুইলচেয়ারে বসে আমার ছেলে নিজে নিজেই চলতে পারবে। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল আরাফাত বলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের সহযোগিতায় প্রশাসন সবসময় আন্তরিক রয়েছে। বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম ইউএনও’র এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল এমন কর্মকাণ্ড প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।

ভেড়ামারায় মাছ আবাদি খাল থেকে অজ্ঞাত মহিলার মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মাছ আবাদি খাল থেকে অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অজ্ঞাত মহিলার বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। ভেড়ামারা থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে,  ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে রেললাইনের পূর্ব পাশে বামনপাড়ায় একটি মাছ আবাদি খাল থেকে অজ্ঞাতনামা এক মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ১১টার দিকে স্থানীয়রা খালে ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখতে পেয়ে ভেড়ামারা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে। ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, লাশটি শনাক্তকরণ ও পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও অন্যান্য তথ্য জানতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে ভেড়ামারা থানা পুলিশ উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভেড়ামারায় গৃহবধূ তমা হত্যার রহস্য উদঘাটন: সাবেক স্বামীসহ গ্রেফতার-২

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় চাঞ্চল্যকর ফারহানা ইয়াসমিন তমা (১৮) হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত তমার সাবেক স্বামীসহ দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে। একই সাথে ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। নিহত ফারহানা ইয়াসমিন তমা ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। ভেড়ামারা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ফারহানা ইয়াসমিন তমা ভেড়ামারার ফকিরারবাদ গ্রামের তোজাম্মেল হকের মেয়ে গত ১৫  সেপ্টেম্বর বিকালে তমা গোলাপনগর বাজারের একটি বিউটি পার্লারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি এবং তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার আউড়ের বিলের মোড় এলাকায় রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারকে খবর দেয়। তমাকে প্রথমে স্থানীয় বাজার ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ১৯শে সেপ্টেম্বর রাত ২টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তমার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ভেড়ামারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ও ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং নিবিড় তদন্তের পর পুলিশ ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে এবং এজাহারনামীয় দুই আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—তমার সাবেক স্বামী আবু বকর সিদ্দিক (২৮) এবং তাদের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার মধ্যস্থতাকারী  রাসেল আলী (৩০)। পুলিশি তদন্তে আরো জানা যায়, ৩ মাস পূর্বে আবু বকর সিদ্দিকের সাথে তমার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের জন্য রাসেল আলী মধ্যস্থতা করতে আসেন এবং একপর্যায়ে রাসেলের সাথে তমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন রাতে রাসেলের ডাকে সাড়া দিয়ে তমা ফকিরারবাদ বাজারে দেখা করতে যান। পরে রাসেলের মোটরসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় আউড়ের বিলের মোড়ে তমা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামী রাসেল তাকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, ভিকটিমকে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা তা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হতে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

অ'পহরণের পর সংঘবদ্ধ ধ'র্ষণ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃ'ত্যু

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠা তমা খাতুন চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তমা ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে গোলাপনগর এলাকা থেকে তাঁকে অপহরণ করা হয়। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে কয়েকজন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গোলাপনগর বাজারের একটি পার্লার থেকে সেজেগুজে নিজ বাড়ি ফকিরাবাদ বখশীপাড়ার উদ্দেশে ফিরছিলেন তমা। পথে মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের ধারণা, সেখানে ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল তাঁর ওপর নির্যাতন চালায়। রাত ১২টার দিকে তাঁকে বখশীপাড়ার কাছাকাছি একটি নির্জন মোড়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চলে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার পর পরিবারের সদস্যরা তমাকে উদ্ধার করেন। রাত ১টার দিকে তাঁকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা ওই রাতেই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন তমার মা কাজলী খাতুন ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে গোলাপনগর এলাকার আবু বক্করের সঙ্গে তমার বিয়ে হয়েছিল। প্রায় দেড় মাস আগে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তমাকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় আবু বক্করের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। এই অভিযোগের পর আবু বক্করকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তমার মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর গোলাপনগর বাজার থেকে তমাকে অপহরণ করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের পর তমাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান। ঘটনাটিতে এখন পর্যন্ত পুলিশ যে তথ্য দিয়েছে, তাতে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে তমাকে অপহরণ করা হয়েছিল এসব বিষয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে নির্যাতনের সম্পর্ক চিকিৎসা ও তদন্তসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় রয়েছে। তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আরও
X