ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা উধাও, রেস্তোরাঁর চারজনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ
কারিগর ফুরোচ্ছে, ঘানির ঐতিহ্যও যাচ্ছে ফুরিয়ে
প্রবীণদের মর্যাদা ও নিরাপদ জীবনের আহ্বান, আক্কেলপুরে র‌্যালি-আলোচনা
প্রবীণদের মর্যাদা ও নিরাপদ জীবনের আহ্বান, আক্কেলপুরে র‌্যালি-আলোচনা
জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে মূল্যায়ন এবং তাঁদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পালিত হয়েছে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬। ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।  র‌্যালি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান, আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ।  বিশেষ অতিথি ছিলেন আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা এবং সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী বাদশা,  তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশিদ পিন্টু। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণরা পরিবার ও সমাজের বোঝা নন। তাঁদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ। তাই প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও যত্নের পাশাপাশি তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবীণ ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ডাক্তার তো ওষুধ লিকে দিলো, একন এই রাত্রে পামু কোটে
গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী ​
খালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, এক দিন পর মিলল বেলির মরদেহ ‎ ‎
কালাই জিয়া সাইবার ফোর্সে রবিউল সভাপতি, এমরান সম্পাদক
কালাইয়ে মাদক সেবনের দায়ে দুজনের কারাদণ্ড

জয়পুরহাটের কালাইয়ে মাদক সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ঝামুটপুর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় মো. আহসান হাবীব (৪০) ও মো. শিপন মণ্ডলকে (২৫) গ্রেপ্তার করেন। আহসান হাবীব কালাই উপজেলার হাজিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের ছেলে এবং শিপন মণ্ডল বানদিঘী গ্রামের মো. আবুল কালামের ছেলে। পরে খবর পেয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। মোবাইল কোর্টে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় আহসান হাবীবকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড এবং শিপন মণ্ডলকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কালাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত 

‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’—এই প্রতিপাদ্যে জয়পুরহাটের কালাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, কালাই যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনছুর রহমান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আল-আমিন, কালাই সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ, কালাই থানার উপপরিদর্শক আরিফুল ইসলাম, কালাই মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, থুপসাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক এবং সরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া বেগম। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সাক্ষরতার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার আলোকে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে একটি র‌্যালি বের করা হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ছবির ক্যাপশন: কালাইয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ। 

আক্কেলপুরে ছাউনিহীন প্ল্যাটফর্মে রোদ-বৃষ্টিতে দুর্ভোগ যাত্রীদের

আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলেই শুরু হয় যাত্রীদের ছোটাছুটি। আবার প্রখর রোদেও স্বস্তি নেই। কেউ ছুটছেন টিকিট কাউন্টারের দিকে, কেউ দোকানের নিচে, আবার কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু ট্রেনের ঘোষণা এলেই সেই আশ্রয় ছেড়ে আবার ছুটতে হয় ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। কারণ ট্রেন ক্রসিং হলে বিপরীত দিকের ট্রেনটি দাঁড়ায় সেখানেই। ট্রেন আসার পর গিয়ে ওঠার সুযোগ থাকে না। ফলে ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগেই সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। অথচ প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ এই প্ল্যাটফর্মে নেই কোনো যাত্রী ছাউনি। রোদ-বৃষ্টি নামলেই জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। আবার তীব্র রোদেও ছায়ার অভাবে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। ছাউনিহীন প্ল্যাটফর্মে বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায় যাত্রীদের কাপড়, ব্যাগ, কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী। অন্যদিকে রোদের সময় প্রচণ্ড গরমে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। কোথাও দাঁড়ানোর মতো নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক জায়গা না থাকায় আবহাওয়া যেমনই হোক, অপেক্ষা করতে হয় ট্রেনের জন্য। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীরা। সরেজমিনে দেখা যায়- ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দীর্ঘ অংশজুড়ে যাত্রীদের জন্য কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি শুরু হলে নিরাপদ জায়গার খোঁজে ছুটতে থাকেন যাত্রীরা।  কেউ দোকানের নিচে, কেউ টিকিট কাউন্টারের আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। তীব্র রোদেও অনেকে একই জায়গায় ছায়ার খোঁজ করেন। তবে ট্রেন আসার ঘোষণা হলেই আবার ছুটতে হয় প্ল্যাটফর্মে। ফলে বৃষ্টি কিংবা রোদের মধ্যে শিশু ও রোগীদের নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে তৈরি হয় বাড়তি ভোগান্তি।   রেলওয়ে সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আক্কেলপুর স্টেশন দিয়ে আপ-ডাউন মিলিয়ে প্রতিদিন ২০-২২টি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার যাত্রী এ স্টেশন ব্যবহার করেন। ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে সপ্তাহে গড়ে ২৫ থেকে ২৮ বার ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড়ায়। ওই সময় প্ল্যাটফর্মটিতে যাত্রীদের চাপও বেড়ে যায়।   বৃষ্টি ও রোদের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন অসুস্থ রোগী, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে যাওয়া স্বজনরা। একদিকে রোগী সামলাতে হয়, অন্যদিকে ব্যাগ, চিকিৎসার কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাঁচাতে হয়। দূরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগীদের ভোগান্তি আরও বেশি। বৃষ্টিতে প্রেসক্রিপশন, চিকিৎসার রিপোর্ট, ওষুধ, কাপড় ও সঙ্গে নেওয়া খাবার ভিজে যায়। আবার রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের শারীরিক কষ্ট বেড়ে যায়। ট্রেন আসার সময় ভিড়ের মধ্যে পানি মাড়িয়ে কিংবা প্রচণ্ড গরমে দ্রুত ট্রেনে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।   পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মীর শাহে আলী বলেন, ট্রেন ধরতে ২০-৩০ মিনিট আগে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতে হয়। বৃষ্টি শুরু হলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। আবার রোদেও ছায়া পাওয়া যায় না। ছোট বাচ্চা, বয়স্ক বা রোগী সঙ্গে থাকলে দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বৃষ্টিতে কাগজপত্র, ব্যাগ ও খাবার ভিজে যায়, আর রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হয়।   চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় যাচ্ছিলেন রওশন আরা। তিনি বলেন, রোগী নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্ট হয়। একদিকে রোগী সামলাতে হয়, অন্যদিকে ব্যাগ ও কাগজপত্র বাঁচাতে হয়। রোদের সময়ও রোগী নিয়ে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন। একটা ছাউনি থাকলে এত কষ্ট করতে হতো না।   স্থানীয় বাসিন্দা বকুল সরদার বলেন, যে প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে ট্রেনের অপেক্ষা করেন, সেখানে ছাউনি নেই-এটা মেনে নেওয়া যায় না। বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের ছোটাছুটি করতে হয়। আবার রোদের সময়ও অনেকে ছায়ার জন্য এদিক-ওদিক ছুটছেন। দ্রুত এখানে ছাউনি নির্মাণ করা দরকার।   স্থানীয়দের অভিযোগ, ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছাউনি থাকলেও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের যাত্রীদের জন্য নেই কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা। অথচ ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে নিয়মিত ওই প্ল্যাটফর্মেই ট্রেন দাঁড়ায়। ফলে ছাউনি না থাকলেও যাত্রীদের বাধ্য হয়েই সেখানে আগে থেকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে অন্তত একটি অংশে হলেও দ্রুত ছাউনি নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্ষা ও গরমের সময়ে এ দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।   আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান বলেন, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে জায়গা সংকটের কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশু যাত্রীরা বৃষ্টির সময় ভিজে যান। রোদের সময়ও তাদের কষ্ট হয়। এসব সমস্যা নিয়ে যাত্রীরা প্রায়ই এসে অভিযোগ করেন। তাদের এই দুর্ভোগ দেখে আমাদেরও খারাপ লাগে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বেশ কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চারটি ট্রেন ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ায়।

কালাইয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দিনব্যাপী কর্মসূচি  

জয়পুরহাটের কালাইয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা এবং বৃক্ষরোপণ। মঙ্গলবার সকালে কালাই উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু হয়। পরে পাঁচশিরা-মোলামগাড়ী সড়কের কালাই টেকনিক্যাল কলেজ এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। এর আগে কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছেন। প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী তাঁর বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং নারীর শিক্ষা ও অধিকার প্রসারে খালেদা জিয়ার ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কার, উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং খেটে খাওয়া মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আব্দুল বারী বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে। এ সমস্যা সমাধানে সরকার নতুন নীতিমালা প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকের অপতৎপরতা বন্ধ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধে সরকার কাজ করছে। নিজের নির্বাচনী এলাকার ভোটার ও নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সেবার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁর নির্বাচনী এলাকার দুই শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। কালাই থানা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মৌদুদ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক টুকু চৌধুরী, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আনিছুর রহমান তালুকদার এবং কালাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান সোহেল তালুকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা কামনা করেন।

নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম মাছ দেওয়ার অভিযোগ

মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়িসহ ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের মাছ দিয়ে রোগীদের খাবার প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অথচ হাসপাতালের নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী, নাড়িভুঁড়ি বাদ দিয়ে প্রতি পিস মাছের ওজন এক কেজি হওয়ার কথা। এ ঘটনায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শনিবার সকালে সরেজমিনে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের খাবার রান্নার প্রস্তুতি হিসেবে একটি পাত্রে ছোট আকারের মাছ রাখা হয়েছে। রান্নাঘরের পাশে থাকা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে মাছগুলো একে একে ওজন করে দেখা যায়, মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়িসহ প্রতিটি মাছের ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের মধ্যে। সেখানে প্রায় ১২ থেকে ১৪ কেজি মাছ রাখা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজারে নির্ধারিত ওজনের মাছ না পাওয়া গেলে কম ওজনের মাছ দিয়ে দায় সারার সুযোগ নেই। বরং বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত পরিমাণের মাছ পাওয়া না গেলে মেনু পরিবর্তন করে বিকল্প খাবার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব তাৎক্ষণিকভাবে রান্নাঘরে গিয়ে মাছগুলোর ওজন পরিমাপ করেন। ওজন নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম পাওয়ায় তিনি সরবরাহ করা মাছগুলো বাতিল করে দেন এবং মেনু পরিবর্তন করে রোগীদের মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে রান্নাঘরের পাশে সরবরাহ করা মাছগুলো প্যাকেট করতে দেখা যায় ঠিকাদার সাইফুল ইসলামকে। এ বিষয়ে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে উদ্ধত আচরণ করেন। পরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে পারবোনা। আপনারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। আনোয়ারা নামের এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার চাচাকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। হাসপাতালে যে খাবার সরবরাহ করা হয় তা অত্যন্ত নিম্ন মানের। যে দিন মাছ দেওয়া হয় সেগুলো আকারে অনেক ছোট। তাছাড়া মাথা ও লেজ দেওয়ার কথা না থাকলেও তা দেওয়া হয়। এ গুলোর প্রতি সরকারের নজর দেওয়া উচিৎ। এ বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব বলেন, নির্ধারিত ওজনের মাছ না থাকায় মাছগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরে মেনু পরিবর্তন করে মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাছের ওজন কম থাকার কথা স্বীকার করে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ মুঠোফোনে বলেন, আমি ছুটিতে আছি। বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। তাৎক্ষনিকভাবে ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ফোন দিয়ে মেনু পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

জুতাপেটার অভিযোগের দুই মাস পর ছুরিকাহত বিএনপি নেতা

প্রথমে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ, এরপর আদালতে মামলা। সেই ঘটনার দুই মাস না যেতেই এবার ছুরিকাহত হলেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ (৫৫)। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বৃহস্পতিবার রাতে রোয়াইড়-রাজকান্দা সড়কের রাজকান্দা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদের দাবি, রাতে তাঁকে পথরোধ করে কয়েকজন মারধর করেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হারুনুর রশিদ এ ঘটনার জন্য রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান, তাঁর ভাই দারাজ উদ্দিনসহ ৬-৭ জনকে দায়ী করেছেন। হামলাকারীরা তাঁকে মারধরের পর ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করবেন। তবে হারুনুর রশিদের এই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, আমাকে জুতাপেটা করার ঘটনায় করা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন হারুনুর রশিদ। ব্যর্থ হয়ে এখন নিজের ওপর হামলার নাটক সাজিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ থেকেই দুই পক্ষের এই বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, গত ১৫ জুন রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন হয়। এতে দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। পরে সদস্যদের তালিকা পরিবর্তন করে পছন্দের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য হারুনুর রশিদ চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে ২১ জুন বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে বিরোধের একপর্যায়ে হারুনুর রশিদ জুতা খুলে প্রধান শিক্ষককে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন আজাদুর রহমান। পরে হারুনুর রশিদ, শাহনেওয়াজ, আতিকুজ্জামান মুন ও আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি। এরপর বৃহস্পতিবার রাতের হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকায়।  আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের স্যাকমো সুমন হোসেন বলেন, রাত ১১টার দিকে হারুনুর রশিদকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর বাম হাতে লম্বা জখম রয়েছে। ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের কারণে এমন জখম হতে পারে। মাথার নিচের অংশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহাম্মেদ রানা বলেন, হারুনুর রশিদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শুক্রবার সকালে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম সোয়াত থানায় এসে হারুনুর রশিদের মামলা করার কথা জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাম হাতে গোল্ডেন, ইঞ্জিনিয়ারিং স্বপ্নে টাকার বাধা

জন্ম থেকেই ডান হাতের কনুইয়ের নিচের অংশ নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি মো. হুজাইফা মোল্লাকে। বাম হাত দিয়েই লিখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাও দিয়েছেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। ফলাফল নিয়েও আশাবাদী হুজাইফা। তাঁর আশা, এবারও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাবেন। ‎ ‎হুজাইফা আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভানুকান্দা গ্রামের মো. মঞ্জুর রহমানের চার সন্তানের দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়।  দুই ভাই ও দুই বোনের সংসারে বাবাই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।  তিনি ভানুকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন। সামান্য আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাঁকে।  ‎ ‎মেধাবী এই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট। ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ে ভর্তি হতে চান তিনি। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ভর্তি হতে পারছেন না। ‎ ‎সরজমিনে গিয়ে ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি বলতে দেড় শতক বসতভিটা ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই। সংসারের খরচের পাশাপাশি ছেলের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তাই পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। হুজাইফা প্রায় আট বছর ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে এই সামান্য অর্থ দিয়ে উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পরিবার। এর আগে আক্কেলপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম হুজাইফার কলেজে ভর্তির সহযোগীতা করেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সুবিধা থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ করেন হুজাইফা।   ‎ ‎হুজাইফার বাবা মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, ছেলের পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। নিজের কষ্ট হলেও এতদিন যতটুকু পেরেছি, পড়াশোনা চালিয়েছি। কিন্তু এখন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার কোচিং ও পড়াশোনার খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ‎ ‎হুজাইফা বলেন, ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। পড়াশোনায় কোনো সমস্যা নেই। শুধু অর্থের অভাবে কোচিংয়ে ভর্তি হতে পারছি না। সহযোগিতা পেলে ভর্তি পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। ‎ ‎জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদ রানা প্রধান বলেন, হুজাইফার বিষয়টি তাঁর জানা আছে। প্রতিবন্ধী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে জেলা পরিষদের। হুজাইফার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। ‎ ‎জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, হুজাইফার বিষয়ে এখনো তাঁর কাছে কোনো আবেদন আসেনি। আবেদনটি ফ্রন্ট ডেস্কে জমা দেওয়া হয়েছে। সেটি তাঁর কাছে পৌঁছালে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও
X