ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা উধাও, রেস্তোরাঁর চারজনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ
কারিগর ফুরোচ্ছে, ঘানির ঐতিহ্যও যাচ্ছে ফুরিয়ে
প্রবীণদের মর্যাদা ও নিরাপদ জীবনের আহ্বান, আক্কেলপুরে র‌্যালি-আলোচনা
প্রবীণদের মর্যাদা ও নিরাপদ জীবনের আহ্বান, আক্কেলপুরে র‌্যালি-আলোচনা
জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে মূল্যায়ন এবং তাঁদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পালিত হয়েছে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬। ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।  র‌্যালি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান, আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ।  বিশেষ অতিথি ছিলেন আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক মেয়র ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা এবং সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী বাদশা,  তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশিদ পিন্টু। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণরা পরিবার ও সমাজের বোঝা নন। তাঁদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ। তাই প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও যত্নের পাশাপাশি তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রবীণ ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ডাক্তার তো ওষুধ লিকে দিলো, একন এই রাত্রে পামু কোটে
খালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, এক দিন পর মিলল বেলির মরদেহ ‎ ‎
আক্কেলপুরে ছাউনিহীন প্ল্যাটফর্মে রোদ-বৃষ্টিতে দুর্ভোগ যাত্রীদের
নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম মাছ দেওয়ার অভিযোগ
জুতাপেটার অভিযোগের দুই মাস পর ছুরিকাহত বিএনপি নেতা

প্রথমে প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ, এরপর আদালতে মামলা। সেই ঘটনার দুই মাস না যেতেই এবার ছুরিকাহত হলেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ (৫৫)। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বৃহস্পতিবার রাতে রোয়াইড়-রাজকান্দা সড়কের রাজকান্দা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদের দাবি, রাতে তাঁকে পথরোধ করে কয়েকজন মারধর করেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হারুনুর রশিদ এ ঘটনার জন্য রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান, তাঁর ভাই দারাজ উদ্দিনসহ ৬-৭ জনকে দায়ী করেছেন। হামলাকারীরা তাঁকে মারধরের পর ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করবেন। তবে হারুনুর রশিদের এই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছেন প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, আমাকে জুতাপেটা করার ঘটনায় করা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন হারুনুর রশিদ। ব্যর্থ হয়ে এখন নিজের ওপর হামলার নাটক সাজিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ থেকেই দুই পক্ষের এই বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, গত ১৫ জুন রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন হয়। এতে দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হন। পরে সদস্যদের তালিকা পরিবর্তন করে পছন্দের লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য হারুনুর রশিদ চাপ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে ২১ জুন বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে বিরোধের একপর্যায়ে হারুনুর রশিদ জুতা খুলে প্রধান শিক্ষককে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন আজাদুর রহমান। পরে হারুনুর রশিদ, শাহনেওয়াজ, আতিকুজ্জামান মুন ও আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি। এরপর বৃহস্পতিবার রাতের হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকায়।  আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের স্যাকমো সুমন হোসেন বলেন, রাত ১১টার দিকে হারুনুর রশিদকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর বাম হাতে লম্বা জখম রয়েছে। ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের কারণে এমন জখম হতে পারে। মাথার নিচের অংশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফ ইফতেখার আহাম্মেদ রানা বলেন, হারুনুর রশিদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শুক্রবার সকালে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম সোয়াত থানায় এসে হারুনুর রশিদের মামলা করার কথা জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাম হাতে গোল্ডেন, ইঞ্জিনিয়ারিং স্বপ্নে টাকার বাধা

জন্ম থেকেই ডান হাতের কনুইয়ের নিচের অংশ নেই। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি মো. হুজাইফা মোল্লাকে। বাম হাত দিয়েই লিখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাও দিয়েছেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। ফলাফল নিয়েও আশাবাদী হুজাইফা। তাঁর আশা, এবারও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাবেন। ‎ ‎হুজাইফা আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ভানুকান্দা গ্রামের মো. মঞ্জুর রহমানের চার সন্তানের দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়।  দুই ভাই ও দুই বোনের সংসারে বাবাই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।  তিনি ভানুকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন। সামান্য আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাঁকে।  ‎ ‎মেধাবী এই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট। ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ে ভর্তি হতে চান তিনি। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় ভর্তি হতে পারছেন না। ‎ ‎সরজমিনে গিয়ে ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি বলতে দেড় শতক বসতভিটা ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই। সংসারের খরচের পাশাপাশি ছেলের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তাই পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। হুজাইফা প্রায় আট বছর ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে এই সামান্য অর্থ দিয়ে উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পরিবার। এর আগে আক্কেলপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল আলম হুজাইফার কলেজে ভর্তির সহযোগীতা করেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জায়গায় আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সুবিধা থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ করেন হুজাইফা।   ‎ ‎হুজাইফার বাবা মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, ছেলের পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। নিজের কষ্ট হলেও এতদিন যতটুকু পেরেছি, পড়াশোনা চালিয়েছি। কিন্তু এখন ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষার কোচিং ও পড়াশোনার খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ‎ ‎হুজাইফা বলেন, ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। পড়াশোনায় কোনো সমস্যা নেই। শুধু অর্থের অভাবে কোচিংয়ে ভর্তি হতে পারছি না। সহযোগিতা পেলে ভর্তি পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। ‎ ‎জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাসুদ রানা প্রধান বলেন, হুজাইফার বিষয়টি তাঁর জানা আছে। প্রতিবন্ধী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে জেলা পরিষদের। হুজাইফার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। ‎ ‎জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, হুজাইফার বিষয়ে এখনো তাঁর কাছে কোনো আবেদন আসেনি। আবেদনটি ফ্রন্ট ডেস্কে জমা দেওয়া হয়েছে। সেটি তাঁর কাছে পৌঁছালে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও
X