ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ভাঙ্গুড়ায় প্রশাসনের তৎপরতা
আমির হামজার মাহফিলে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বন্ধে স্মারকলিপি
ফরিদপুরে ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫, উদ্ধার চাপাতি ‎
ফরিদপুরে ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫, উদ্ধার চাপাতি ‎
‎পাবনার ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫৫০ গ্রাম গাঁজা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার হাদল ইউনিয়নের ধানুয়াঘাটা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ‎ ‎শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ফরিদপুর থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হাসান মাসুদ। ‎ ‎পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধানুয়াঘাটা গ্রামে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুটি লোহার চাপাতি ও হাতলবিহীন একটি লোহার অস্ত্রও জব্দ করা হয়। ‎ ‎গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ফরিদপুর উপজেলার ধানুয়াঘাটা এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে নয়ন প্রামাণিক (৪০), বেড় হাউলিয়া দক্ষিণপাড়ার আব্দুল মজিদ প্রামাণিকের ছেলে মামুন হোসেন (৩০), হাদল মাদরাসাপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে জাব্বার আলী (২১), ধানুয়াঘাটা বাজারপাড়ার বিল্লাল হোসেনের ছেলে কাউছার আলী (১৯) এবং চাটমোহর উপজেলার আলমনগর এলাকার তাজ উদ্দিনের ছেলে সাকিব উদ্দিন (১৯)। ‎ ‎পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় নয়ন প্রামাণিকের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তাঁর বসতঘর থেকে দুটি লোহার চাপাতি ও হাতলবিহীন একটি লোহার অস্ত্র জব্দ করা হয়। ‎ ‎অন্যদিকে, মামুন হোসেন ও জাব্বার আলীর কাছ থেকে ২৫ পিস করে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কাউছার আলীর কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা ও ১৫০ গ্রাম গাঁজা এবং সাকিব উদ্দিনের কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ‎ ‎পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, অভিযানে উদ্ধার করা ১৫৫ পিস ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ৫৫০ গ্রাম গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ২২ হাজার টাকা। ‎ ‎সংবাদ সম্মেলনে ওসি মনজুরুল হাসান মাসুদ বলেন, ফরিদপুর থানায় যোগদানের পর থেকে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ‎ ‎তিনি আরও জানান, এদের মধ্যে নয়ন হোসেন ইয়াবার বড় ডিলার। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পাবনা কারাগারে পাঠানো হবে।
ঈশ্বরদীতে কিশোরী ধর্ষনের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার
পাবনায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, নারীসহ গ্রেপ্তার ৩
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উভয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন
আদালতের হস্তক্ষেপে মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিলেন সেই ছেলে!
পাবনায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত

পাবনায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলোর মধ্যে চেক বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, পাবনার যৌথ আয়োজনে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক খায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উম্মে তাবাসসুম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, পাবনার উপপরিচালক জিলাল উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আলোচনা সভা শেষে নিবন্ধিত কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। সভায় বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মানসম্মত শিক্ষা এবং সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করা সমাজের সবার দায়িত্ব।  কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের মেধা ও সম্ভাবনার বিকাশে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং নারীর ক্ষমতায়নে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।

বেড়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লার সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

পাবনার বেড়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি দোকান বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রবিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত বেড়া পৌর এলাকার নাজিম বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা  ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়া পৌর এলাকার বেড়া বিবি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেশ কিছুদিন ধরে ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল। রবিবার প্রতিযোগিতায় পৌরসভার ২ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে খেলার ফল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম মহল্লার বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাশাপাশি অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে আহত ব্যক্তিদের নাম পরিচয় পাওয়া সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুলান্ট চাকমা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেড়া মডেল থানার পুলিশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া ও সুজানগর থানা এবং পাবনা পুলিশ লাইনসের পুলিশ ও সিআরবি সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে কোন আটকের খবর পাওয়া যায়নি। বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ও সিআরবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।। এলাকায় যাতে নতুন করে সংঘর্ষ না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জমকালো আয়োজনে পাবনায় সেইলর আউটলেটের উদ্বোধন

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘সেইলর’ যাত্রা শুরু করেছে পাবনার অন্যতম মেগা শপিংমল ‘সিটি সেন্টার’ এর তৃতীয় তলায় জমকালো বৃহৎ আয়োজনে। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইপিলিয়ন গ্রুপের এই ফ্যাশন ব্র্যান্ডটির ‘সেইলর’ আউটলেটের উদ্বোধন করেছিলেন সেইলরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সুপারস্টার সিয়াম আহমেদ। এ সময় জমকালো আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ইপিলিয়ন গ্রুপের বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এবং সেইলরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া, অংশগ্রহণ করেছিলেন পাবনার স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সর্বসাধারণ ক্রেতাগণ। সেইলর সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্ল্যাগশিপ ফ্যাশানের সেইলর সিটি সেন্টারের নতুন ৪,৫০০+ স্কয়ার ফিট আউটলেটে পুরুষ, নারী ও শিশুদের পোশাকসহ ফুটওয়্যার এবং লাইফস্টাইল অ্যাক্সেসরিজের বিশাল সমাহার করেছে। উদ্বোধনী আয়োজন উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য ছিল বিশেষ কিছু অফার। প্রতিটি কেনাকাটায় ছিল ‘টোকেন অফ লাভ’ - যার মাধ্যমে গ্রাহকরা পেয়েছিলেন ১৫% থেকে শুরু করে ১০০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট। এছাড়া ২,০০০ টাকার বেশি কেনাকাটা করলেই গ্রাহকেরা পেয়েছিলেন ‘সেইলর ক্লাব কার্ড’, যার মাধ্যমে দেশের যেকোনো সেইলর আউটলেটে আজীবন ১০% ডিসকাউন্ট সুবিধা উপভোগ করা পারবেন। উপরোক্ত অফারগুলো ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। উদ্বোধনের দিন জুড়ে পাবনা জেলার প্রায় ৮,০০০-এরও বেশি মানুষ আউটলেটে এসে কেনাকাটা করেন এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় সুপারস্টার সিয়াম আহমেদকে একনজর দেখতে প্রায় ৩,০০০-এরও বেশি মানুষ ভিড় জমায়। উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে কথা বলার সময় সিয়াম আহমেদ বলেন, পাবনা শহরে এটিই ছিল তাঁর প্রথম আসা এবং মানুষের এত ভালোবাসা ও সাড়া দেখে তিনি অভিভূত। আবেগ ধরে রাখতে না পেয়ে তিনি তার শরীর থেকে কটি খুলে ছুঁড়ে দেন আগত দর্শকদের উদ্দেশ্যে। মুহুর্তে সেটি শতশত অংশে বিভক্ত হয় যায়৷  পাবনাবাসীর এমন একটি অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য তিনি পাবনার সকল শ্রেণির মানুষকে ধন্যবাদের পাশাপাশি ‘সেইলর’ কর্তৃপক্ষকে পাবনায় এমন প্রোগ্রামে আনার জন্য ধন্যবাদ জানান। পাবনাবাসীর এমন অভূতপূর্ব সাড়া দেখে সেইলর টিম তাদের আন্তরিক আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, উন্নত পণ্য ও সেবার মাধ্যমে তারা দীর্ঘমেয়াদে পাবনার মানুষের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান তৈরি করে নিতে পারবেন।  

পাবনায় জেলি-তেলে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, দুই প্রতিষ্ঠানকে লাখ টাকা জরিমানা

দুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল জেলি, সয়াবিন তেল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, অথচ এসব উপকরণ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় এমন দুটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সিলগালা করা হয়েছে একটি ডেইরি ফার্ম। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পুরেন্দরপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুরেন্দরপুর উত্তরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জেলি, সয়াবিন তেল ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ ছিল। তবে প্রশাসনের অভিযানের খবর পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক হয়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে এবার ভিন্ন কৌশল নেয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার ছদ্মবেশে শনিবার বিকেলে এলাকায় প্রবেশ করেন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। পরে রাতে ভেজাল দুধ তৈরির কার্যক্রম শুরু হলে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতেনাতে ধরা হয়। অভিযানে পুরেন্দরপুর উত্তরপাড়ার শামীম হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর দুধে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড উদ্ধার করা হয়। এ অপরাধে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, ‘স্বপ্ন ডেইরি ফার্ম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে জেলি, সয়াবিন তেল ও ব্লেন্ডার মেশিন ব্যবহার করে নকল দুধ তৈরির কার্যক্রম চলছিল। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানীন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়। ঘটনাস্থলে পাওয়া দুই ড্রাম জেলি ও এক ড্রাম পাম অয়েল ধ্বংস করা হয়। ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে রাতে স্বপ্ন ডেইরি ফার্মে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে ভেজাল দুধ উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাবনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, ভেজাল দুধ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত চক্রটি বেশ সতর্ক। এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট প্রবেশের খবর পেলেই তারা উৎপাদন কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলে এবং সতর্ক হয়ে যায়। ফলে তাদের হাতেনাতে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে এবার ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

নভেম্বরের শেষে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা

চলতি বছরের নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা চলছে। রোববার (১১ অক্টোবর) রোসাটমের গণমাধ্যম বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়া সফরকালে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ। লিখাচেভ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা প্রকল্পটি সম্প্রসারণের আগ্রহও তৈরি করেছে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে লিখাচেভ বলেন, আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু করে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট চালুর প্রক্রিয়ায় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত আন্তসরকারি চুক্তির ভিত্তিতে রোসাটম বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। কেন্দ্রটিতে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এর আগে লিখাচেভ জানিয়েছিলেন, আগামী বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে চালুকরণ কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা করছে রোসাটম। এদিকে, রোসাটমের অন্যান্য প্রস্তাবের প্রতিও বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান লিখাচেভ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সম্ভাব্য প্রস্তাব সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। অন্যান্য দেশের জন্য রোসাটমের সমন্বিত প্রস্তাবের মধ্যেও এসব প্রযুক্তি রয়েছে।

সাঁথিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লুটপাট প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে  বাড়িতে আগুন

পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভার সৈয়দপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। এ সময় হামলাকারিরা ব্যাপক লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। উল্টো প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেদের বাড়ির গরু, ছাগল সরিয়ে ও নিজেদের বাড়ির পাট খড়িতে আগুন দিয়ে অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ। জানা যায়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গত ১০ অক্টোবর রাতে বাড়ির বাহিরের পাট খড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন সাঁথিয়া উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের কদু সরদার ও শামসুর সরদারের স্বজনরা। এর আগে প্রতিপক্ষের আহত রোগীর মৃত্যু হতে পারে এমন ভয়ে তারা নিজ বাড়ির গরু, ছাগল ও পেয়াজ, ধানসহ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যান সরদার পরিবার। নিজেদের সম্পদ সরিয়ে নিয়ে ও আগুন জ্বালিয়ে পাল্টা মামলার চেষ্টা করছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সরেজমিন সৈয়দপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর দুলাল ও হাশেম গংদের সাথে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় কদু সরদার ও শামসুর সরদার পরিবারের। একপর্যায়ে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে সরদার পরিবার  দুলাল, হাশেম, কাশেম,  মান্না ও রফিকের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় দুলাল, হাশেম, কাশেম,  মান্না ও রফিক আহত হয়। এসময় এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে সরদার পরিবার দ্বিতীয় বার হামলা চালিয়ে স্বর্ণালংকার ও অর্থ লুটপাট করে।   দুলাল জানান, সৈয়দপুর গ্রামের মাদু ব্যাপারীর ছেলে ইউসুব মাস্টারের নির্দেশে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। আমার বড় ভাই রফিক এতে গুরুত্বর আহত হয়। তাকে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার শরীরের  অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমান বলেন, আগুন দেওয়ার ঘটনা আমাকে মোবাইল ফোনে  জানিয়েছে। লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। 

পাবনায় বসতবাড়িতে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ বন্দুক-গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

‎পাবনা সদর উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, অবৈধ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও ৩৬ বোতল মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের বাড়ি থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি শুটার গান, ২২ বোরের আট রাউন্ড তাজা গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অন্যজনের কাছ থেকে ৩৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। ‎শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে পাবনা সদর থানা চত্বরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন তথ্য জানান, পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাখাওয়াত হোসেন। ‎এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরীডাঙ্গি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। একই দিন উপজেলার চক ছাতিয়ানী এলাকায় পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। ‎ গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন -চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরী ডাঙ্গি গ্রামের শাহের মোল্লার ছেলে তমসের মোল্লা এবং ছাতিয়ানী মধ্যপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে বাপ্পি (২৬)। ‎পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী ও খুলনা রেঞ্জের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফের দিকনির্দেশনায় পাবনা সদর থানা এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। ‎অভিযানে পাবনা সদর থানার পুলিশ, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম ও পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহার সমন্বয়ে পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। ‎ পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরীডাঙ্গি গ্রামের আকাশ মোল্লা ও তমসের মোল্লার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তমসের মোল্লার দেখানো মতে আকাশ মোল্লার শয়নকক্ষ এবং তমসের মোল্লার ঘর থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি শুটার গান, ২২ বোরের আট রাউন্ড তাজা গুলি ও অবৈধ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ‎অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে তমসের মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে অভিযানের আগেই মূল অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা দড়জায় তালা ঝুলিয়ে শটকে পড়েন বলে জানা গেছে।  ‎অন্যদিকে, একই দিন পাবনা সদর উপজেলার চক ছাতিয়ানী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৬ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য হেফাজতে রাখার অভিযোগে বাপ্পি নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‎পাবনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সঞ্জয় সাহা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আগামীকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও
X