ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আমির হামজার মাহফিলে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বন্ধে স্মারকলিপি
ঈশ্বরদীতে কিশোরী ধর্ষনের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার
নভেম্বরের শেষে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা
নভেম্বরের শেষে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা
চলতি বছরের নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা চলছে। রোববার (১১ অক্টোবর) রোসাটমের গণমাধ্যম বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়া সফরকালে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ। লিখাচেভ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা প্রকল্পটি সম্প্রসারণের আগ্রহও তৈরি করেছে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের। রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে লিখাচেভ বলেন, আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু করে রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট চালুর প্রক্রিয়ায় এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত আন্তসরকারি চুক্তির ভিত্তিতে রোসাটম বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। কেন্দ্রটিতে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এর আগে লিখাচেভ জানিয়েছিলেন, আগামী বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে চালুকরণ কার্যক্রম শুরুর প্রত্যাশা করছে রোসাটম। এদিকে, রোসাটমের অন্যান্য প্রস্তাবের প্রতিও বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান লিখাচেভ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য সম্ভাব্য প্রস্তাব সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। অন্যান্য দেশের জন্য রোসাটমের সমন্বিত প্রস্তাবের মধ্যেও এসব প্রযুক্তি রয়েছে।
রূপপুর প্রকল্পের বর্জ্যবাহী ট্রাক ছিনতাইয়ের অভিযোগ 
তোকে মেরে সতর্ক করলাম, মেম্বারকে মেরে ফেলব
ঈশ্বরদীতে শিম চাষে অনাগ্রহ বাড়ছে, কমেছে লক্ষমাত্রা
ঈশ্বরদীতে তীব্র সার সংকট, শঙ্কায় কৃষক
ঈশ্বরদীতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিন ব্যাপী নানা অয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পারন করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা মহিলা দলের নেত্রীসহ বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর দিক নির্দেশনা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের তত্ত্বাধানে দিন ব্যপী আয়োজনের মধ্যে সকালে শহরের রেলগেটস্থ বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।  পরে বিকাল সাড়ে ৫ঘটিকায় ঈশ্বরদী খাইরুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল হতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি নিয়ে শহরের স্টেশন রোড প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়।  দিনব্যাপী আয়োজনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলনেত্রী নুসরাত জাহান মৌসুমী।  এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য সচিব মোঃ শাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদার, যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম কেনেডি, যুগ্ম আহ্বায়ক আক্কাস আলী খাঁন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ইসলাম হোসেন জুয়েল, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন জনি, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান, মহিলাদল নেত্রী সুমাইয়া ইসলাম উর্মি, স্মৃতি আক্তার, সোনিয়া আক্তার, সানজিদা রহমান, লিমা খাতুন, লিজা খাতুন, সন্ধ্যা, মিলি প্রমূখ। এসময় বক্তারা দেশ গঠনে নারীদের নানা ভূমিকার কথা তুলে আলোচনা করেন। তারা বলেন, নারীদের এগিয়ে নিতেই মূলত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মহিলা দল গঠন করে ছিলেন। বাংলার আপোষহীন নারী নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া দেখিয়ে গেছেন। কিভাবে নারী নেতৃত্ব দিতে হয়। আমরা চাই আপনারাও বেগম জিয়ার দেখানো পথ ধরেই দেশকে এগিয়ে নেবেন।   

ঈশ্বরদীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

পাবনার ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ ঘটিকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির রেলওয়ে গেটস্থ দলীয় কার‌্যালয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আয়োজন করেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু অনুসারী নেতাকর্মীরা। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে আয়োজিত দিবসটি উপলক্ষে সকালে দলীয় কার‌্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মী ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্ব ও পৌর বিএনপির সদস্য সচীব আনোয়ার হোসেন জনির সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম (কেনেডি মালিথা), আক্কাস আলী খান, জাহাঙ্গীর হোসেন খান, আবু বক্কর সিদ্দিক (তুফান), মজিবর রহমান, সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদার, সদস্য আবু তালেব ফকির, মনিরুজ্জামান টুটুল সরদার, জাহাঙ্গীর হোসেন, কবির আহম্মেদ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ইসলাম হোসেন জুয়েল, যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রী বিষ্টু সরকার, আমিনুল ইসলাম স্বপন, নান্নু রহমান, ইলিয়াস হোসেন এলবাস, আবু বক্কর সিদ্দিক (বেল্টু) সদস্য ওয়াহিদ মুরাদ, আক্তারুজ্জামান (কবু) রবিউল ইসলাম রবি, মনিরুল ইসলাম প্রমূখ। এসময় বক্তারা পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান সোনামনি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।  তারা বলেন, আওয়ামীলীগ থেকে অনুপ্রবেশ করে বিএনপিকে ধ্বংসের রাজনীতি যারা করছেন তাদের এই উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না। কেননা দলের প্রকৃত নেতা কর্মীরা আপনার মনোবাসনা বুঝতে পেরে তারা জাকারিয়া পিন্টুতেই আস্থা খুঁজছে। তাই যেসকল নেতা কর্মীরা এখনো পথভ্রষ্ট হয়ে আওয়ামীলীগের দোসর হাবিবের  সাথে রয়েছেন তারা অনতিবিলম্বে পিন্টুর ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে বিএনপিকে রক্ষা করুন। হাবিব বিএনপিকে ধ্বংষ করার মিশনে নেমেছে।

পাটকাঠির বিনিময়ে মজুরি, ঈশ্বরদীতে সোনালি আঁশ সংগ্রহে ব্যস্ত কৃষাণীরা

আদর্শ জ্বালানি, ঘরের চাল বা বেড়া তৈরী, পানের বরজ বা শিমের মাচানসহ নানাবিধ ব্যবহারে পাটকাঠির জুড়ি মেলা দায়। গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে এটি মূলত পাটখড়ি বা পাটকাঠি নামেই বহুল পরিচিত। তবে অনেকের কাছে এটি শোলা বলেও পরিচিত। গৃহস্থালি বিশেষ প্রয়োজন হওয়ায় এই পাটকাঠির চাহিদা থাকে আকাশ চুম্বী। মৌসুমী ফসল হওয়ায় সারা বছরে একবারই আহরণ করা যায় এই পাটকাঠি। তাই দৈনিক মজুরি নয় বরং পাটকাঠির বিনিময়েই আশ ছাড়িয়ে এই পাটকাঠি সংগ্রহ করেন গ্রামাঞ্চলের কৃষক এবং কৃষানীরা। ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের পতিরাজপুর, বালিয়াডাঙ্গা, বাঘহাছলা, সড়াইকান্দি, আরপি বাজার, দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মারমী, সুলতানপুর, হাতিগাড়া, কালিকাপুর, দিকশাইল, সলিমপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া, ভাড়ইমারী, মিরকামারী, জগন্নাথপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে সোনালী আঁশ সংগ্রহের ধুম। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদী উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা ছিলো ৩৫৯ হেক্টর। কিন্তু  গেল বছর প্রত্যাশার চাইতেও ভালো বাজার দর পাওয়ায় এ বছর কৃষক পর্যায়ে পাটের চাষ বেড়ে হয়েছে ৩৬৫ হেক্টর। এছাড়াও কৃষকদের পাট চাষে উদ্বূদ্ধ করতে কৃষি অফিস থেকে বিনা মূল্যে পাটের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত তোষা ও দেশী (সাদা) এই ২ জাতের পাটের চাষ হয় সবচেয়ে বেশী । বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) বর্তমানে অনেক উচ্চ ফলনশীল পাটের নতুন জাত উদ্ভাবন করলেও বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী চাষ হয় তোষা জাতের পাট। যা শতকরা  ৮০% শতাংশ বলেও জানা গেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামীন সড়কের দুপাশ ও খোলা মাঠে এমনই এক দৃশ্যের দেখা মিলেছে। যেখানে সারি বদ্ধ হয়ে কৃষাণীরা সোনালী আঁশ ছড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষানীদের ছাড়ানো সোনালী আঁশ পাশের মজা পুকুরে ধুয়ে পরিষ্কার করছে কৃষক। পরিষ্কার করা সেই পাট রোদে শুকানোর জন্য বাড়ির আঙ্গিনায় ও খোলা মাঠে ( সে র‌্যের আলো লাগে এমন স্থানে) বাঁশ দিয়ে তৈরী করা আড়ে মেলে দেওয়া হচ্ছে। কেউবা সদ্য শুকানো পাট হাতা বেধে বাজারে বিক্রি ও ঘরে মজুদের কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। কৃষাণী বিলকিস বানু (৫৫) বলেন, মাটির চুলা জ্বালানোর জন্য এই পাটকাঠি খুব কাজে দেয়। কারন অন্যান্য খড়ি প্রথমে জ্বলতে সমস্যা করলেও পাটখড়ি দ্রুত জ্বলে যায়। তাই আমরা সারা বছরের জন্য এই পাটখড়ি সংগ্রহ করতে এসেছি। এখানে মজুরিতে নয়, আমরা কাজ করছি পাটখড়ির বিনিময়ে। সফুরা বেগম (৫০) বলেন, প্রতি বছরই আমার ঘরের বেড়া নষ্ট হয়ে যায়। গরীব মানুষ তাই এই পাটখড়ি দিয়েই ঘরের বেড়া দেই। টাকার বিনিময়ে কাজ করলে পাটখড়ি দেবেনা মালিক। তাই পাটখড়ির বিনিময়েই কাজ করছি। কৃষক আতাউল ইসলাম বলেন, পাট চাষে আসলে ভোগান্তিটা অনেক বেশী। এখানে পাটের পরিচর‌্যা থেকে শুরু করে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আশ সংগ্রহ শুকানো সব মিলিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এই মৌসুমে কাজের মজুরি গুনতে হয় অনেক বেশী। তবে ভালো মূল্য পেলে সব কষ্ট লাঘব হয়ে যায়। গত কয়েক দিনের তুলনায় পাটের দাম কমেছে (প্রতি মনে) ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এভাবে কমতে থাকলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হব। তাই সংশ্লিটরা যদি পাটের বাজার মনিটরিং করেন এবং সিন্ডিকেট তৈরীতে বাধা দেন তাহলে আমরা কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পাব।  ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, এবার অনেক বৃষ্টি হয়েছে বলে মাঠ ঘাটসহ ছোট ছোট খালেও পানি জমেছে। যেটা পাট চাষীদের জন্য ভীষণ উপকারী হিসেবে কাজ করছে। তবে পাটের আঁশ সংগ্রহের পর রোদে শুকানোর জন্য ভালো জায়গা নির্নয় করতে হবে। এছাড়া শুকাতে দেওয়া অবস্থায় পাট না ভেজানোই ভালো। এতে করে পাটের গুনগত মান নষ্ট হয়। বাজার মূল্য বর্তমানে ওঠানামা করছে। এটা ভরা মৌসুমে করবেই । তবে মজুদ করে কিছুদিন রেখে বিক্রি করলে বেশ ভালো দাম পাওয়া যায়।

ঈশ্বরদীতে বিএনপির পদবঞ্চিত নেতাদের কমিটি ঘোষণা

পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সদ্য ঘোষনা করা ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে প্রহসন ও রাতের অবৈধ কমিটি আখ্যা দিয়ে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন সমুন্নত রাখতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি ঘোষণা করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় ঈশ্বরদী উপজেলা রোডস্থ জাকারিয়া পিন্টুর নিজস্ব কার‌্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। এ সময় এসময় উপজেলা,পৌরসভা, ইউনিয়ন সহ সর্বস্তরের বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। কমিটিতে মো: জাহাঙ্গীর আলমকে ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মো: সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদারকে সদস্য সচীব করে ২৪ সদস্যের একটি আহ্বাবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।  এছাড়া ইসলাম হোসেন জুয়েলকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এবং আনোয়ার হোসেন জনিকে সদস্য সচিব করে ২২ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত ২২ আগস্ট রাতে জেলা বিএপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান খন্দকার মাসুদ মো: জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার কে ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বা্য়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্য সচিব এবং মাহবুবুর রহমান পলাশ কে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এবং ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্য সচিব রেখে আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক ইসলাম হোসেন জুয়েল বলেন, ঈশ্বরদীতে বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য হাবিবুর রহমান হাবিব ২২ তারিখে ঘোষিত কমিটি দেখিয়েছে ১৬ তারিখের। এখান থেকেই পরিষ্কার যে তার কোন কাজই স্বচ্ছ না। তার এই রাতের কমিটিতে তৃণমূল বিএনপিকে অবহেলা করা হয়েছে। তিনি নাম মাত্র ৪ জনকে দিয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করেছেন। যেটা ইতোমধ্যে হাস্য রসাত্নক গল্প হিসেবে ঈশ্বরদীতে স্থান পেয়েছে। কেননা বিএনপির মত সংখ্যা গরিষ্ঠ্য একটি দলে তিনি কমিটি করার মত কর্মীই খুঁজে পাননি। এতেই নিশ্চিত হয় যে তিনি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেউলিয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া পিন্টু বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলের দীর্ঘ ১৭ বছর যারা রাজপথে থেকে দলের জন্য রক্ত দিয়েছে। হামলা মামলার শিকার হয়েছে। সেই নেতাকর্মীদের অনুরোধেই তৃণমূল বিএনপির উপজেলা ও পৌর বিএনপির এই কমিটি করা হলো।  বিএনপির মত এত বৃহৎ একটি দলের কমিটি রাতের আধারে করা হয়েছে বলেই মাত্র ৪ জনের নাম ঘোষণা করেছে হাবিবুর রহমান হাবিব হয়েছে। তারা তৃণমূলের রাজনীতি কখনো করেনি তাই কর্মী খুঁজে পায়নি কমিটি দেওয়ার মত। এসময় আগামী এক মাসের মধ্যে পৌরসভা ও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষনার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

ঈশ্বরদীতে লিফট থেকে পড়ে আহত যুবকের মৃত্যু

ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের লিফট থেকে পড়ে গুরুতর আহত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে প্রকল্পের অভ্যন্তরের নিকিমথ কোম্পানিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত উজ্জল খন্দকারকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে চিকিৎসা রত অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। নিহত উজ্জল খন্দকার (৪০) ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড় এলাকার আব্দুস সবুর খন্দকারের ছেলে। সে প্রকল্পের নিকিমথ কোম্পানির অধীনে MTU-2-তে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রকল্প ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে প্রকল্পের OOUKS ভবনের ম্যান লিফটে কাজ করছিল উজ্জ্বল। এসময় অসাবধানতা বশত আনুমানিক ২০ ফুট উপর থেকে সে নিচে পড়ে যায়। এতে তার তাঁর ঘাড়ের মাংসপেশি ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি হাত ও পা ভেঙ্গে যায়। দুর্ঘটনার পর সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধার করে প্রকল্প এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, ‘দুর্ঘটনার বিষয়টি সাংবাদিক মারফত জানতে পেরেছি। তবে প্রকল্প সংশ্লিস্টরা এ বিষয়ে থানায় কোন প্রকার যোগাযোগ করেন নি। তারা জানালে বিস্তারিত জানাতে পারব। 

বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলোনা দুই শিশুর

সদ্য পৃথিবীতে আসা ছোট বোনকে দেখে বাবার মোটর সাইকেলে চড়েই বাড়ি ফিরছিলো ২ শিশু। কিন্তু পথিমধ্যেই ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিলো বাবার প্রাণ। তাই বাবার নিথর প্রাণহীন দেহটি রেখেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ীতে বাড়ী ফিরতে হলো অবুঝ দুই শিশুকে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে এমনই এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের ঈশ্বরদীস্থ ঢুলটি বাজার এলাকায়। নিহত যানবাহন শ্রমিক বাহারুল (৪৫) ঈশ্বরদী পৌরসভার মাহাতাব কলোনী এলাকার  মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা সদর থানাধীন আট মাইল এলাকায় শ্বশুরালয়ে ১১ দিন বয়সী শিশু কন্যা ও স্ত্রীকে দেখতে মোটর সাইকেল যোগে যান বাহারুল। সেখান থেকে ২ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই ঢুলটি বাজার এলাকায় আসলে পাশাপাশি দুই মোটর সাইকেলের ধাক্কা লাগলে ছিটকে পরেন তারা।   এ সময় দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা একটি ট্রাকের সাথে বাহারুলের ধাক্কা লাগলে সে মাথায় চোট পায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যু হলেও দুই শিশু প্রায় অক্ষতই রয়ে যায়। পরে শিশু দুটিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। ঘাতক ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।  

ঈশ্বরদীতে গুলি করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে হত্যা চেষ্টা

প্রাইভেট কারের গতি রোধ করতে প্রথমে এলোপাথারি গুলি বর্ষণ করেন দূর্বৃত্তরা। পরে হত্যার উদ্দেশ্যে যত্রতত্র কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২ টার দিকে উপজেলার জয়নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় গুরুতর আহত শরীফকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শরিফুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চালিয়ে জয়নগর নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার গাড়ীর গতিরোধ করতে চেষ্টা করে। ব্যর্থহয়ে তারা গাড়ীতে এলাপাথারি গুলি চালায়। হামলায় দিকবিদিক হারিয়ে গাড়িটি থামিয়ে দিলে শরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে শরিফের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর অবস্থায় শরিফকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আহত শরিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। শরিফ ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে অন্য একজন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দেশ্য করে ‘কত টাকায় সভাপতির পদ বেচলেন’ এমন মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দেন বলে জানা যায়। এ ছাড়া শরিফসহ উপজেলা বিএনপির ছয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দেন। এরপর থেকেই হাবিবপন্থীদের সঙ্গে শরিফের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয় বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে শরিফের ওপর হামলার সঙ্গে ওই রাজনৈতিক বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

আরও
X