ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
কমলগঞ্জে দুর্গোৎসবে শতাধিক দরিদ্র মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ
বাহারি রঙের সৌন্দর্যে মুগ্ধতা ছড়ায় জিনিয়া ফুল
শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৃহস্পতিবার  শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডের হরিজন পল্লিতে এসকেএস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং ম্যাক বাংলাদেশের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার কর।  বিশেষ অতিথি ছিলেন এমসিডার সভাপতি মিজানুর রহমান আলাম ও সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমান কাজল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শিশু ও বয়স্কদের সঠিক পদ্ধতিতে হাত ধোয়ার নিয়ম হাতে-কলমে দেখানো হয়। পাশাপাশি সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরাও এ কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রধান অতিথি অসীম কুমার কর বলেন, সুস্থ থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। অথচ হাতের মাধ্যমে নানা ধরনের জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করার সময় হাতে জীবাণু লেগে যায়। সেই হাত দিয়ে খাবার খাওয়া, খাবার তৈরি করা কিংবা চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করার মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ম্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এ হামিদ বলেন, সঠিক নিয়মে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে অনেক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষ করে খাবার তৈরি ও খাওয়ার আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পর, শিশুকে খাওয়ানোর আগে এবং শিশুর মল পরিষ্কারের পর ভালোভাবে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু হাত পানিতে ভিজিয়ে নিলেই হবে না; হাতের তালু, হাতের পিঠ, আঙুলের ফাঁক, নখের চারপাশ ও আঙুলের ডগাসহ হাতের সব অংশ সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। তাঁরা পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এমসিডা'র সভাপতি মিজানুর রহমান আলম  বলেন, হাত ধোয়া একটি সাধারণ অভ্যাস হলেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস শেখাতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ পানি, সাবান ও স্বাস্থ্যসম্মত হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমান কাজল বলেন, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের মূল উদ্দেশ্য শুধু একটি দিন হাত ধোয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া নয়; বরং সারা বছর নিয়মিত ও সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। এ অভ্যাস ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।  
শ্রীমঙ্গলে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
শ্রীমঙ্গলে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন WHO ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা
শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবের ফল প্রকাশ
শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে বাউল গানে চোখের যত্নের বার্তা
শ্রীমঙ্গলে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পুর্তি উদযাপন

সারাদেশের মতো নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে শ্রীমঙ্গলে আইএফআইসি ব্যাংক শ্রীমঙ্গল শাখার আয়োজনে ৫০ বছর পুর্তি উদযাপিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় এ উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালী শহরের মৌলভীবাজার সড়কস্থ ব্রাঞ্চ ভবন প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে আবারো ব্রাঞ্চ ভবনে এসে শেষ হয়। র‍্যালীতে নেতৃত্ব দেন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার চৌধুরী মোহাম্মদ জিহান ফেদৌস।  এছাড়াও ব্রাঞ্চের বিভিন্ন স্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা র‍্যালীতে উপস্থিত ছিলেন। পরে ব্যাংক ভবনে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আমন্ত্রিত অতিথি, গ্রাহক, ব্যাংকের সকল কর্মকর্তাকে নিয়ে কেক কাটেন। ব্যাংক সুত্র জানায়, সারাদেশে ব্যাংকের ১৮৯ টি ব্রাঞ্চ রয়েছে। এছাড়াও ১২২৪টি উপশাখা ও ৯৩ টি এটিএম বুথ রয়েছে। ১৯৭৬ সালের ৮ অক্টেবর আইএফআইসি ব্যাংক যাত্রা শুরু করে।

হাইল হাওরে জালে আটকা অজগর উদ্ধার, প্রাণ বাঁচল ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টায়

জালের প্রতিটি ফাঁস যেন টেনে আনছিল মৃত্যুকে। রাতের আঁধারে মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে হাইল হাওরের রউয়া বিলে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল একটি অজগর। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে ছুটে যান বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা। প্রায় এক ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় অবশেষে জাল কেটে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অজগরটিকে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের রউয়া বিলে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, রাতে মাছ ধরার একটি জালে অজগরটি আটকা পড়ে। সকালে বিষয়টি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল হক। তিনি দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নৌকায় করে দুর্গম বিলের ওই স্থানে পৌঁছে তারা দেখতে পান, জালের ফাঁসে শক্তভাবে আটকে আছে অজগরটি। জাল থেকে সাপটিকে ছাড়াতে শুরু হয় সতর্ক অভিযান। অজগরটি যাতে আহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রেখে ধীরে ধীরে জালের ফাঁস খুলতে থাকেন উদ্ধারকারীরা। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত মুক্ত হয় অজগরটি। উদ্ধারকারীরা জানান, আরও কিছু সময় জালে আটকে থাকলে অজগরটির মৃত্যু ঘটতে পারত। দীর্ঘ সময় জালে আটকে থাকায় প্রাণীটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় রাজু মিয়ার সহযোগিতাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাজু মিয়া নৌকা চালিয়ে উদ্ধারকারী দলকে বিলের দুর্গম ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। তার সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। উদ্ধারের পর অজগরটিকে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী  বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। শ্রীমঙ্গলের হাওর, বন ও জলাভূমি শুধু মানুষের জীবিকার ক্ষেত্র নয়; এগুলো অসংখ্য বন্যপ্রাণীরও নিরাপদ আবাসস্থল। মাছ ধরার জাল, ফাঁদ কিংবা মানুষের অসচেতনতার কারণে প্রায়ই এসব প্রাণী বিপদে পড়ে। বন্যপ্রাণী জালে আটকা পড়লে বা আহত অবস্থায় পাওয়া গেলে নিজে ঝুঁকি নিয়ে সেটিকে ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত বন্যপ্রাণী বিভাগ অথবা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, সময়মতো একটি খবরই কখনো কখনো একটি বন্যপ্রাণীর জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে।

মৌলভীবাজার জেলার মাধ্যমিকে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক শ্রীমঙ্গলের আল আমিন

মৌলভীবাজার জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০২৬ সালের শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীমঙ্গলের হাজী রাশিদ মিয়া মেহেরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আল আমিন। ৫ অক্টোবর মৌলভীবাজারের এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস, মৌলভীবাজারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীন। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ফজলুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, কারিগরি ও কলেজ পর্যায় মিলিয়ে জেলার আটজন শিক্ষককে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে একমাত্র শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আল আমিন। তিনি জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। মোহাম্মদ আল আমিন এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা পেরিয়ে তিনি ২০২৫ ও ২০২৬ সালে জাতীয় পর্যায়েও অংশগ্রহণ করেছেন। একই শিক্ষক পরপর তিনবার জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় শ্রীমঙ্গলে তাঁর এ অর্জনকে বিশেষ সাফল্য হিসেবে দেখছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

দেশের স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন করে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, দেশের বিদ্যমান জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে বিদ্যমান মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোকে যথাযথভাবে ব্যবহারোপযোগী করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে শ্রীমঙ্গল ক্রিকেট একাডেমির পাশাপাশি মাঠ, ড্রেসিং রুমসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ভলিবল, টেবিল টেনিস, দাবা, শুটিং ও হকিসহ বিভিন্ন খেলার নিয়মিত আয়োজনের সুযোগ তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে সারাদেশের জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্সসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করে স্টেডিয়ামগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরীর ওয়ার্ড পর্যায়েও ছোট মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্যে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী পাঁচ বছরে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মামুনুর রশীদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বিসিবি পরিচালক সরফরাজ আহমদ সরফুসহ ক্রীড়া সংগঠক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে গাছের চারা রোপণ কর

দেশের স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন করে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, দেশের বিদ্যমান জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে বিদ্যমান মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোকে যথাযথভাবে ব্যবহারোপযোগী করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মঙ্গলবার  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত খেলাধুলার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে শ্রীমঙ্গল ক্রিকেট একাডেমির পাশাপাশি মাঠ, ড্রেসিং রুমসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ভলিবল, টেবিল টেনিস, দাবা, শুটিং ও হকিসহ বিভিন্ন খেলার নিয়মিত আয়োজনের সুযোগ তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে সারাদেশের জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়নে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যালারি, ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্সসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করে স্টেডিয়ামগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরীর ওয়ার্ড পর্যায়েও ছোট মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্যে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগামী পাঁচ বছরে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মামুনুর রশীদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বিসিবি পরিচালক সরফরাজ আহমদ সরফুসহ ক্রীড়া সংগঠক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিমন্ত্রী শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে গাছের চারা রোপণ করেন। 

ক্ষণিকের ফুল, দীর্ঘস্থায়ী মুগ্ধতা—ভোরের রানী মর্নিং গ্লোরির গল্প

ভোরের আলো ফুটতেই ছাদবাগানের লতাজুড়ে ফুটে ওঠে নানা রঙের ফুল। নীল, বেগুনি, গোলাপিসহ বিভিন্ন রঙের ফুলে তখন নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরে ওঠে চারপাশ। তবে সেই সৌন্দর্য থাকে অল্প সময়ের জন্য। সকাল ১০টার দিকে ফুলগুলো ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ে। এমনই এক আকর্ষণীয় লতানো ফুল হলো মর্নিং গ্লোরি—ভোরের রানী। মৌলভীবাজার শহরের ফরেস্ট অফিস রোডের বাসিন্দা কল্লোল দেবের ছাদবাগানে দেখা মিলেছে এই ফুলের। শখের বসে অনলাইন থেকে মর্নিং গ্লোরির বীজ সংগ্রহ করে টবে রোপণ করেছিলেন তিনি। পরিচর্যায় গাছটি এখন বেশ বড় হয়ে লতিয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ধরেছে অসংখ্য ফুল। কল্লোল দেব জানান, তাঁর ছাদবাগানের গাছটিতে নিয়মিত ফুল ফোটে। ভোরের দিকে ফুল ফুটতে শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে ফুলগুলো নেতিয়ে যায়। গাছের লতা ও পাতার বিস্তার যত বাড়ে, ফুলের সংখ্যাও তত বাড়তে থাকে। ফলে একটি গাছেই একসঙ্গে অনেক ফুল ফুটে ছাদবাগানের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। মর্নিং গ্লোরি মূলত ওঢ়ড়সড়বধ গণের বিভিন্ন লতানো ফুলগাছের প্রচলিত নাম। এটি ঈড়হাড়ষাঁষধপবধব পরিবারের উদ্ভিদ। আকর্ষণীয় ফুল এবং দ্রুত বেড়ে ওঠা লতানোর কারণে শখের বাগানিদের কাছে এ ধরনের গাছ বেশ জনপ্রিয়। ভোরে ফুল ফোটা এবং দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের সৌন্দর্য কমে যাওয়া মর্নিং গ্লোরিকে অন্য অনেক ফুলের তুলনায় আলাদা করে তুলেছে। সূর্যের আলো তীব্র হওয়ার আগেই তার রঙিন পাপড়ি যেন দিনের প্রথম সৌন্দর্যের বার্তা দিয়ে যায়। শহরের ব্যস্ত জীবনে ছাদবাগান এখন অনেকের কাছেই প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরির একটি মাধ্যম। আর সেই ছাদবাগানে মর্নিং গ্লোরির মতো লতানো ফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ভোরের একটি স্বল্পস্থায়ী অথচ মনোমুগ্ধকর দৃশ্যও উপহার দেয়। ভোরে ফুটে সকালেই নেতিয়ে পড়া এই ফুল যেন মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির সৌন্দর্য কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার জন্য নয়; অল্প সময়ের মধ্যেও সে মানুষকে মুগ্ধ করে যেতে পারে।

চা শ্রমিকদের ওয়াশ অধিকার নিশ্চিতে শ্রীমঙ্গলে সংলাপ

চা বাগানের শ্রমিকদের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গলের মহসিন অডিটোরিয়ামে ‘Rising for Rights for Strengthening Civil Society Network to Achieve SDG 6’ প্রকল্পের আওতায় ‘Dialogue on WASH Rights for Tea Garden Workers’ শীর্ষক এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাক বাংলাদেশ (MAC Bangladesh) এ সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম এবং ম্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এ হামিদ ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব।  অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ম্যাক বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী আরমান খান। প্রেজেন্টেশনে চা বাগানের শ্রমিকদের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। সংলাপে উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানের নারী চা শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি, হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা চা শ্রমিকদের নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।  

আরও
X