বাংলা সংগীতের ‘যুবরাজ’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। রাজত্বটা ফিতার ক্যাসেটের যুগে শুরু হয়েছিল। ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবাম দিয়ে তিনি পরিচিতি পান। শুধুই পরিচিতি নয়, প্রথম অ্যালবাম দিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরি করেন। তারপর কেটে গেছে লম্বা সময়। ভক্ত-অনুরাগীদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য গান। দর্শকমহল থেকে পেয়েছেন ভালোবাসা।
সংগীতের পাশাপাশি রাজনীতি কিংবা খেলাধুলা নিয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায় সময়ই নিজের মতামত প্রকাশ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি মন্তব্য করেছেন রাজনীতি নিয়ে।
পুরোনো ধারার রাজনৈতিক অচলায়তনের ভিড়ে তাসনিম জারা, হাবিবুর রশীদ এবং ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজীর মতো এমপি প্রার্থীরা আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশের উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন আসিফ আকবর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। একই আসনের বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিব এবং ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মইন ফিরোজীর ছবি প্রকাশ করে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত রাজনীতির প্রভাবে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন পরীক্ষিত এবং যোগ্য প্রার্থীরা। গুণগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনো লক্ষণই দৃশ্যমান নয়। জুলাই বিপ্লবোত্তর তারুণ্যের রাজনীতিতেও ক্যারিশমা দেখা যায়নি। নির্বাচনি রাজনীতি চলছে সেই পুরোনো স্টাইলেই।
তিনি যোগ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফসল ডাক্তার তাসনীম জারা (ফুটবল) দলছুট হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন ঢাকা-৯ আসনে। জারার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক জনপ্রিয় সংগ্রামী ছাত্রনেতা হাবিবুর রশীদ হাবিব (ধানের শীষ)। এই দুজন নির্বাচনি কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে রাজনৈতিক মূল্যবোধের সর্বোচ্চ সংস্কৃতি প্রদর্শন করছেন (কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি নেই)। তাদের রাজনীতি ভবিষ্যতের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আসিফ আরও লেখেন, অনেক মেধাবী এবং যোগ্য প্রার্থীকে নমিনেশন দেয়নি দলগুলো। একজন টেস্ট কেস হিসেবে ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মঈন ফিরোজী (হাঁস) আলোচনায় আসতে পারেন। তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী, নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ব্যারিস্টার মইন একটি বড় দলের নমিনেশন চেয়ে পাননি। কারণ তিনি বড় রাজনীতিক নন। অথচ পার্লামেন্টে এ ধরনের আইন প্রণয়নকারী প্রয়োজন। তবুও তিনি দমে যাননি, টপিক্যাল অধিকার আদায়ের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে চান।
সবশেষে সংগীতশিল্পী লিখেছেন, তারপরও বহুদিন পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় জাতি। রাতারাতি কোনো কিছু পরিবর্তন হবে না সেটা জানি। তবে নিশ্চয়ই একদিন ব্যারিস্টার মঈন, ডাক্তার জারা, রাজনীতিক হাবিবুর রশীদরা উদাহরণ হিসেবে সফল হবেন। জাতির দেশপ্রেমের শপথ, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা আর জং ধরা অচলায়তন ভেঙে নতুন দিনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ভালোবাসা অবিরাম।
মন্তব্য করুন








