রমজান শুরু হতে আর বেশি দিন নেই। আর মাত্র ৩ দিন। চিকিৎসকরা বলছেন, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন বা দিনে কয়েক কাপ কফি পান করেন, তারা যেন হঠাৎ করে রোজার প্রথম দিন থেকে সব বন্ধ না করেন।
এতে মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, দুর্বলতা ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানকে শুধু এক মাসের সংযম হিসেবে না দেখে এটিকে খারাপ অভ্যাস বদলের দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করে নিকোটিন ও ক্যাফেইন বন্ধ করলে শরীর ও মনে চাপ পড়ে। অনেকেই রোজার প্রথম কয়েক দিন তীব্র মাথাব্যথা, বিরক্তি, মাথা ঘোরা, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, হজমে গোলমাল ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা পান।
যারা আগে থেকে প্রস্তুতি নেন না, তাদের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। মেজাজের ওঠানামা ও দৈনন্দিন রুটিন বদলে যাওয়ার কারণে কর্মক্ষেত্রেও উৎপাদনশীলতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে রোজায় কষ্ট কম হবে এবং স্থায়ীভাবে ধূমপান বা অতিরিক্ত কফি ছাড়ার পথ তৈরি হবে।
- প্রতিদিনের সিগারেটের সংখ্যা প্রথমে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমিয়ে দিন।
- খাবারের পর বা গাড়ি চালানোর সময়ের মতো নির্দিষ্ট অভ্যাসগত সময়ে ধূমপান বন্ধ করুন।
- ঘুম থেকে উঠে প্রথম সিগারেট খাওয়ার সময় দেরি করুন।
- ধীরে ধীরে দিনের বেলা ধূমপান বন্ধ রেখে কেবল সন্ধ্যার পর সীমিত রাখার অভ্যাস করুন।
- প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি ব্যবহার করা যেতে পারে।
- কফির পরিমাণ কয়েক দিন পরপর প্রায় ২৫ শতাংশ করে কমান।
- বেশি গাঢ় কফির বদলে হালকা বা আংশিক ক্যাফেইনমুক্ত কফি বেছে নিন।
- বিকেলের পর ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলুন, এতে ঘুম ভালো হবে।
- প্রতিদিন ২ থেকে আড়াই লিটার পানি পান করার অভ্যাস করুন, যাতে ডিহাইড্রেশন ও মাথাব্যথা কমে।
পারিবারিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, যারা দিনে দুই কাপের বেশি কফি পান করেন, তারা যদি হঠাৎ বন্ধ করেন তাহলে মস্তিষ্কের রক্তনালী প্রসারিত হয়ে তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারণত এই উপসর্গ তিন থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হয়।
অন্যদিকে, নিকোটিন বন্ধ করলে বিরক্তি, ঘুমের সমস্যা ও মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে আগেভাগে ধীরে ধীরে কমালে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা ধূমপানের ইচ্ছা কমাতে সহায়ক। রমজানের আগে দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা সিগারেট না খেয়ে থাকার অনুশীলন করা যেতে পারে। শেষ কয়েক দিনে সিগারেটের সংখ্যা শূন্য থেকে তিনটির মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা ভালো।
শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ধূমপান বন্ধ করলে প্রথম দিকে কাশি ও কফ বেড়ে যেতে পারে। এটি শরীর সুস্থ হওয়ার ইতিবাচক লক্ষণ হলেও রোজার সময় কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে।
যাদের অ্যাজমা বা দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ আছে, তারা রমজানের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধ ও ইনহেলার ব্যবহারের পরিকল্পনা ঠিক করে নেওয়া উচিত।
অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন এলে উদ্বেগ, ক্লান্তি ও মেজাজের ওঠানামা হতে পারে। তাই রমজানের আগে থেকেই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত পানি পান শরীরকে নতুন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।
রমজান শুধু আধ্যাত্মিক সাধনার সময় নয়, এটি সুস্থ জীবনের নতুন সূচনা করারও সুযোগ। হঠাৎ করে সব অভ্যাস বন্ধ না করে পরিকল্পিত ও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনলে রোজা রাখা সহজ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন নির্ভরতা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হবে। সচেতন প্রস্তুতি, চিকিৎসকের পরামর্শ ও দৃঢ় মনোভাবই পারে এই রমজানকে স্বাস্থ্যকর জীবনের মোড় ঘোরানো সময় হিসেবে গড়ে তুলতে।
সূত্র: গল্ফ নিউজ
মন্তব্য করুন








